Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০২:১২ অপরাহ্ণ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: যেভাবে পুশ-পুলের ফাঁদে আমাদের তরুণেরা

অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে আমার পরিচিত এক শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থী আছে। একসময় আমরা একই বাসায় থাকতাম। তার দৈনন্দিন জীবন ছিল একটানা ছুটে চলার মতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সে কখনো রেস্তোরাঁয়, কখনো ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করত। এর বাইরে উবারে খাবারও ডেলিভারি দিত। প্রায়ই মাঝরাতের পর বাসায় ফিরত। কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে আবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় উঠে রেস্তোরাঁর কাজে চলে যেত।

একদিন কাজ করতে গিয়ে তার হাত ভেঙে যায়। কয়েক দিন কাজে যেতে না পারায় ম্যানেজার তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেন।

দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করতে সে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে। এই ডিগ্রি অর্জনে বাংলাদেশি মুদ্রায় তার প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হবে। তার বাবা চিকিৎসক। বোন পড়তে গেছে বেলারুশে, সেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে এই তরুণকে যেভাবে টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে, সেটিই আজকের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীজীবনের এক নির্মম বাস্তবতা।

বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতাও খুব ভিন্ন নয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব শহরেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে পড়াশোনার পাশাপাশি কঠিন শ্রমের মধ্য দিয়ে জীবন চালাতে হয়। বিদেশে নিকটজন বা আত্মীয়স্বজন না থাকলে বিপদে পাশে দাঁড়ানোর কিংবা সহযোগিতা পাওয়ার মানুষও সহজে মেলে না। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও অনেকের কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—কীভাবে টিকে থাকা যায়।

মন্তব্য করুন