সিনিয়র শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:০৫ অপরাহ্ণ
বাস্তব থেকে ভার্চুয়ালে, সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ও পরে নারী জীবন
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মুঠোফোন হাতে নেওয়া। ঘুম থেকে ওঠার পর ফেসবুকে ঢুঁ মারা, দিনের ব্যস্ততার ফাঁকে ইনস্টাগ্রাম দেখা, আর রাতে ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো টিকটক বা ফেসবুক স্ক্রল করা—এখন অনেকের জীবনেই এটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এক সময় এমন ছিল না। স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আসার আগে নারীর যোগাযোগের পরিসর ছিল অনেক ছোট। পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র কিংবা পরিচিত সামাজিক গণ্ডির মধ্যেই বেশির ভাগ যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকত। নিজের কাজ, প্রতিভা কিংবা মতামত অনেক দূরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও ছিল কম। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। মুঠোফোনের ছোট্ট স্ক্রিনে তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘ভার্চুয়াল জগত’। সেখানে একজন নারী নিজের কথা বলতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন। আবার একই জগতেই তাকে মুখোমুখি হতে হয় তুলনা, কটূক্তি, হয়রানি ও নানা ধরনের অনলাইন ঝুঁকির।
তাই প্রশ্নটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ভালো না খারাপ এমন নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়া নারীর জীবনকে কতটা এগিয়ে দিয়েছে, আর কোথায় তৈরি করেছে নতুন চাপ?
সোশ্যাল মিডিয়ার আগে কেমন ছিল নারী জীবন?
সোশ্যাল মিডিয়ার আগের সময়কে শুধু পিছিয়ে থাকা সময় বলা যাবে না। তখনো নারীরা পড়াশোনা করতেন, চাকরি করতেন, ব্যবসা করতেন এবং নিজেদের মতো প্রকাশ করতেন।
তবে সুযোগের পরিধি ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। ধরা যাক, একজন নারী ঘরে বসে ভালো কেক বানাতেন। আগে তার ক্রেতা হয়তো ছিলেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা পরিচিত কয়েকজন। দোকান না থাকলে নতুন ক্রেতার কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল।
এখন তিনি ফেসবুকে একটি পেজ খুলে নিজের তৈরি কেকের ছবি দিতে পারেন। পরিচিতদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও তার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই জায়গাতেই সোশ্যাল মিডিয়া বড় পরিবর্তন এনেছে। ঘরে বসেই ব্যবসা, আয় ও পরিচিতি নারীর জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হওয়া।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীরা ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পোশাক, খাবারসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন। এই অনলাইন ব্যবসা অনেক নারীকে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর নমনীয়তাও তৈরি করছে।
অর্থাৎ, ব্যবসা করতে সব সময় দোকান বা বড় মূলধনের প্রয়োজন হচ্ছে না। ধরা যাক, ঢাকার একটি বাসায় বসে একজন নারী হাতে তৈরি গয়না বানান। আগে তার ক্রেতা হয়তো ছিলেন পরিচিত কয়েকজন। এখন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে পণ্যের ছবি দিয়ে তিনি আরো বড় বাজারে পৌঁছাতে পারেন।
এতে শুধু আয় হচ্ছে না। তৈরি হচ্ছে নিজের একটি পরিচিতিও। সোশ্যাল মিডিয়া তাই অনেক নারীর জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন পথ তৈরি করেছে।
কণ্ঠস্বরের পরিধিও বেড়েছে
আগে কোনো নারী অন্যায় বা বৈষম্যের শিকার হলে বিষয়টি হয়তো পরিবার, বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেই জায়গাটিও বদলে দিয়েছে।
এখন একজন নারী নিজের অভিজ্ঞতা, মতামত কিংবা প্রতিবাদের কথা অনেক মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক কিংবা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে অনলাইনে আলোচনা হচ্ছে।
একজন নারীর অভিজ্ঞতা অন্য অনেক নারীকে নিজের কথা বলার সাহসও দিতে পারে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি মঞ্চও।
গ্রামীণ নারীর জন্য নতুন জানালা
সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবর্তন শুধু শহরের নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সুযোগ অনেক গ্রামীণ নারীর সামনে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের নতুন জানালা খুলেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরকারি সেবা, কৃষি ও বিভিন্ন অধিকার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এখন আগের তুলনায় সহজ। অনেকে নিজেদের তৈরি পণ্যও অনলাইনে বিক্রি করছেন।
ধরা যাক, একটি গ্রামের একজন নারী হাতে তৈরি নকশিকাঁথা বিক্রি করেন। আগে তাকে স্থানীয় বাজার বা পরিচিত ক্রেতার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনলাইনে সেই পণ্যের ছবি তুলে দিলে দেশের অন্য প্রান্তের মানুষও তা দেখতে পারেন।
তবে সুযোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও আছে। ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি থাকলে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কিংবা ছবি নিয়ে হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শহুরে নারীর সামনে নতুন সুযোগ, নতুন চাপ
শহরের নারীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ক্যারিয়ার, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত পরিচিতি তৈরির বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। চাকরির খবর, পেশাগত যোগাযোগ, ক্যারিয়ার পরামর্শ কিংবা নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়।
কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে অন্য ধরনের চাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সুন্দর ছবি, বিদেশ ভ্রমণ, সফল ক্যারিয়ার কিংবা সাজানো সংসার দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন।
একজন নারী হয়তো সারা দিন অফিস করেছেন, বাসায় ফিরে সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কিন্তু অনলাইনে তিনি দেখছেন অন্য কারো সাজানো, হাসিখুশি জীবন। তখন নিজের জীবনটাকেই হয়তো কম ভালো মনে হতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা সাধারণত জীবনের সুন্দর অংশটিই দেখি। ক্লান্তি, ব্যর্থতা কিংবা দুশ্চিন্তার ছবি সেখানে খুব কমই দেখা যায়।
কর্মজীবী নারীর জীবনেও বদল
কর্মজীবী নারীদের জন্যও সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চাকরির খবর, পেশাগত যোগাযোগ, ক্যারিয়ার পরামর্শ কিংবা নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ এখন অনলাইনে পাওয়া যায়।
একজন নারী কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে অন্য পেশার নারীদের কাছ থেকেও পরামর্শ পেতে পারেন। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের জন্য পথ তৈরি করতে পারেন।
তবে এখানেও তৈরি হয়েছে নতুন চাপ। একজন নারীকে একই সঙ্গে সফল কর্মী, ভালো মা, ভালো স্ত্রী এবং সব দিক থেকে ‘পারফেক্ট’ মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের প্রত্যাশা অনেক সময় মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বাস্তব জীবনের সীমাবদ্ধতা আর সোশ্যাল মিডিয়ার নিখুঁত উপস্থাপনার মধ্যে তখন তৈরি হয় এক ধরনের দূরত্ব।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—অনলাইন হয়রানি
সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরিপে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকা নারীদের মধ্যে ৮ শতাংশের বেশি নারী যৌন ব্ল্যাকমেইল, ছবিভিত্তিক হয়রানি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের মতো নির্দিষ্ট কিছু সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। গত এক বছরে এমন অভিজ্ঞতার হার ছিল ৫ শতাংশের বেশি।
এই ঝুঁকি তরুণ ও শহুরে নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। জরিপে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ ধরনের সহিংসতার হার ১৬ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ যে মাধ্যম নারীর কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করেছে, সেই মাধ্যমেই তার নিরাপত্তার নতুন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
অনলাইন হয়রানি শুধু স্ক্রিনে থাকে না। ডিজিটাল হয়রানির প্রভাব শুধু মুঠোফোনের স্ক্রিনে আটকে থাকে না।
UNFPA-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ওপর সহিংসতার মধ্যে অনলাইন হয়রানি, পরিচয় নকল করা, স্টকিং, ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার মতো ঘটনা রয়েছে। এসবের প্রভাব নারীর নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপরও পড়তে পারে।
ইউএন উইমেন-ও বাংলাদেশে নারীদের অনলাইন হয়রানির অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের একটি প্রতিবেদনে তরুণী ও নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি ও অপমানজনক বার্তা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।
তাই অনলাইন নিরাপত্তাকে এখন আর আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নারীর দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।
লাইক-কমেন্ট কি আত্মমূল্যের মাপকাঠি?
সোশ্যাল মিডিয়ার আরেকটি প্রভাব হলো নিজের সম্পর্কে ভাবার ধরন বদলে যাওয়া। একটি ছবি পোস্ট করার পর কত লাইক হলো? কতজন কমেন্ট করল? ভিডিওতে কত ভিউ হলো?
এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে থাকলে ধীরে ধীরে অন্যের প্রতিক্রিয়াই নিজের মূল্যায়নের অংশ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, লাইক কম হওয়া মানে আপনি কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় না হওয়া মানে বাস্তব জীবনে ব্যর্থ হওয়াও নয়। তাহলে কোন দিক এগিয়ে?
সব কিছু মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে শুধু আশীর্বাদ বা শুধু অভিশাপ—কোনোটিই বলা যায় না। নারীর জীবনে এটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নিজের কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। ব্যবসা ও কাজের সুযোগ বাড়িয়েছে। নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছে। তথ্য পাওয়ার পথ সহজ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের গবেষণাও দেখাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক অনলাইন বাণিজ্য নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
আবার এর সঙ্গে এসেছে অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি, অন্যের সঙ্গে তুলনা এবং ‘পারফেক্ট’ জীবন দেখানোর চাপ। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া নারীর জীবনকে এক দিকে সহজ করেছে, অন্যদিকে জটিলও করেছে।
দরকার ডিজিটাল সচেতনতা
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়া সমাধান নয়। বরং এটি কীভাবে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটি জানা জরুরি।
ব্যক্তিগত তথ্য সবার সামনে না দেওয়া, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে কেউ হয়রানি করলে চুপ করে না থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়াও জরুরি।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, সহিংসতার শিকার অনেক নারী কোথায় অভিযোগ করতে হবে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। তাই সচেতনতার পাশাপাশি সহজে সহায়তা পাওয়ার পথও নারীদের জানা প্রয়োজন।
পরিবারের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের শুধু ‘ফোন ব্যবহার কোরো না’ বললে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং কীভাবে নিরাপদে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হয়, সেটি শেখানো দরকার।
বাস্তব জীবনটাই আসল
সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ যতই আকর্ষণীয় হোক, বাস্তব জীবন তার চেয়ে অনেক বড়। স্ক্রিনে দেখা একজন নারীর হাসির ছবির পেছনে হয়তো রয়েছে সারা দিনের ক্লান্তি। সুন্দর একটি পারিবারিক ছবির পেছনে থাকতে পারে অনেক না বলা গল্প। সফলতার পোস্টের পেছনেও থাকতে পারে দীর্ঘ সংগ্রাম।
তাই অন্যের ভার্চুয়াল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের তুলনা করা ঠিক নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়া জীবনের একটি অংশ, পুরো জীবন নয়।
পরিশেষে
সোশ্যাল মিডিয়ার আগে নারীর পৃথিবী ছিল তুলনামূলক ছোট। এখন সেই পৃথিবীর সীমানা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
একজন গ্রামের নারী তার তৈরি পণ্য দেশের অন্য প্রান্তে বিক্রি করতে পারছেন। একজন শহুরে তরুণী নিজের প্রতিভা দিয়ে পরিচিতি তৈরি করছেন। একজন কর্মজীবী নারী নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন।
এগুলো নিঃসন্দেহে পরিবর্তনের গল্প। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে ঝুঁকিও এসেছে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা নয়। বরং সোশ্যাল মিডিয়াকে নিজের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা, তার ওপর নিজের জীবনকে নির্ভরশীল না করা।
ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের নতুন আকাশ দিয়েছে। কিন্তু সেই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বাস্তব জীবনের মানুষ, সম্পর্ক, অনুভূতি ও নিজের মানসিক শান্তিকে ভুলে গেলে চলবে না। কারণ ভার্চুয়াল জগৎ যত বড়ই হোক, জীবনের আসল গল্পটা এখনো বাস্তব জগতেই লেখা হয়।
কালের কন্ঠ হতে নেয়া।
৪
৪ মন্তব্য