সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
এমপি‘র ডিও লেটার আসলে উপায় থাকে না: কমিটি প্রসঙ্গে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের পাঁচ দিনের মাথায় সভাপতি পরিবর্তন করে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমনকাণ্ড। আগের কমিটি বাতিল বা সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়ে প্রথম আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের হিতৈষীদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শুধুমাত্র এই স্কুলটির কমিটিই নয়, বরিশালের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি এমন ডিও লেটারের প্রেক্ষিতেই হয়ে থাকে বলে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব না দেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে মো. মামুন হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ মার্চ পর্যন্ত।
এর পাঁচ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা বোর্ড থেকে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে আগের সভাপতি মো. মামুন হোসেনকে বাদ দিয়ে সায়েস্তা ইয়াসমিনকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে কমিটির অন্য তিন সদস্য—শিক্ষক প্রতিনিধি মো. এমরান হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব পদাধিকারবলে প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দীনকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গাছুয়া আবদুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়
বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমি একটু বাইরে আছি এ ব্যাপারে ফাইল না দেখে বলতে পারবো না।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমি অফিসে গিয়ে বলতে পারবো। পরে তিনি বলেন, স্থানীয় এমপির ডিও লেটারের জন্য হয়েছে কিনা। উনি রিকোয়েস্ট করেছেন।
সব কমিটিই কি ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে হয়- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সব ডিও লেটারে হয় না কোনো-কোনাটাতে হয়। ডিও লেটার আমাদের ইমেইলে পাঠায়, আমাদের রিসিভ না করে তো উপায় নেই। পরে তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল জাতীয় সংসদের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠন করা বর্তমান সরকারের নীতি নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত প্রবিধানমালা, পরিপত্র এবং নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কমিটি গঠন করতে হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত প্রচলিত বিধানে যেভাবে নির্ধারিত রয়েছে, সেভাবেই বিবেচিত হবে; তবে কোনো একক ব্যক্তি বা পক্ষের মতামত কমিটি গঠনের একমাত্র নির্ধারক নয়।


৭
৭ মন্তব্য