সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য না আসার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফল উন্নয়নে শিক্ষকসংকট নিরসনের পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে একাডেমিক তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
ড. মিলন বলেন, এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত না হওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। শিক্ষকস্বল্পতা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও শিখনফল অর্জনে প্রভাব ফেলে—এটি সত্য। তবে পরীক্ষার ফল শুধু শিক্ষকস্বল্পতার ওপর নির্ভর করে না, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকঘাটতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিভাবকের তদারকি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ একাধিক বিষয় ফলের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব কারণ পর্যালোচনা করে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
শিক্ষকসংকট নিরসনে সরকারের আশু পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হলো।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ: সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগপ্রস্তাব পাঠানোর লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শূন্যপদে শিক্ষক পদায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ: বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শূন্যপদের তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করে এনটিআরসিএ‘র মাধ্যমে জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যথাসময়ে নির্ভুল শূন্যপদের চাহিদা পাঠানো হলে পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সেসব পদ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জরুরি পদায়ন ও শিক্ষক ব্যবস্থাপনা: যেসব বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষকসংকট বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নবনিযুক্ত শিক্ষকের পদায়ন এবং বিধিবিধান অনুসারে বদলি বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জরুরি ঘাটতি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান: এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে বিশেষ ক্লাস, পুনরুদ্ধারমূলক পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি: সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠদান-পদ্ধতি, মূল্যায়ন, আইসিটি ও ব্লেন্ডেড লার্নিং বিষয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে একাডেমিক তদারকি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা জোরদার করা হবে।
এছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষকসংকট নিরসনে ৪৬তম, ৪৭তম, ৪৮তম, ৪৯তম ও ৫০তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলমান নিয়োগ, পদায়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হলে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, মন্ত্রী ড. মিলন আজ ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’ সেমিনারে প্যারিসে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে শিক্ষাখাতে এ আই-এর ব্যবহারসহ বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে ডিজিটালসহ নানা পদক্ষেপের তথ্য জানান।
১৪
২১ মন্তব্য