সহকারী শিক্ষক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জৈব রসায়নের পাচালি.....
রসায়নের বাজারে ‘অর্গানিক’ চ্যাপ্টারটি খাস কাফেরের মতো। বইখানা খুললেই মনে হয়, কোনো এক মায়াবী জাদুকর ফু দিয়ে চার মাথার এক অদ্ভুত ভূত নামিয়ে এনেছে। তার নাম কার্বন। সে আবার যেমন-তেমন পাত্র নয়, চার হাত বাড়িয়ে সে জগতের তাবৎ হাইড্রোজেন সুন্দরীদের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে বসে আছে।আহা, কার্বনের সেই প্রেমলীলা দেখে স্বয়ং মজনুও লজ্জা পেত! কখনো সে বানায় অ্যালকেন, কখনো অ্যালকিন।
মাঝখান থেকে আমাদের মতো নিরীহ ছাত্রদের মগজের ঘিলু ফ্রাই হতে থাকে।তার ওপর আছে এক উৎপাত—নাম তার ‘সমানুতা’। একই চেহারা, একই অবয়ব, অথচ স্বভাবে আকাশ-পাতাল তফাত! এ যেন সেই এক গাছের দুই কামরাঙা—একটি মিষ্টি তো অন্যটি মুখে দিলেই পিত্তি চটে যায়। ল্যাবরেটরিতে গিয়ে যখন ‘আলোক সক্রিয় সমানুতা’র ডি-ফরম আর এল-ফরমের চক্করে পড়ি, তখন মনে হয়—দুনিয়ার সব আলো বুঝি নিভে গেল, বাকি রইল শুধু জমাট অন্ধকার।
আর বিজ্ঞানী বাহাদুরদের নামগুলো শুনলে তো মনে হয় কোনো মোগলাই ডিশের মেনু! ‘মারকনিকভ’, ‘ক্যানিজারো’, কিংবা সেই রসকষহীন ‘উর্টজ’। পরীক্ষার হলে বসে যখন এদের মেকানিজম মেলাতে যাই, তখন পেটের ভেতর কাবুলের কাবাব আর কান্দাহারের আঙুর একসঙ্গে গোলমাল পাকিয়ে ওঠে। মারকনিকভের নীতি পড়তে গিয়ে নিজের দাঁতগুলোই আলগা হয়ে খসে পড়ার উপক্রম হয়।সবচেয়ে খতরনাক চিজ হলো ওই বেনজিন রিং।
দেখতে হুবহু ময়রা দোকানের খাস্তা জিলাপি, কিন্তু মুখে তোলার জো নেই। কামড় দিলেই একদম ডিনামাইট! ফেনল আর টলুইনের গন্ধ শুঁকলে মীরজাফরের মতো বেইমানও সাধু হয়ে যাবে, আর আমড়া কাঠের ঢেঁকি ছাত্রটি সোজা কোমার দিকে রওনা দেবে।হে অর্গানিক, তুমি আর যাই হও, পাস মার্কের দয়াটুকু করো। তোমার এই চার হাতের জাদুখেলা থেকে রেহাই পেলে আমি পুণ্ড্রবর্ধনের মাটিতে গিয়ে আখের গুড় দিয়ে সিন্নি চড়াব!
১৪
২৪ মন্তব্য