Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ক্যালকুলাসের কিসসা.....

গণিতের বাজারে পাটিগণিত আর বীজগণিত তো তাও বুঝলুম। তারা যেন পাড়ার চেনা মুদিদোকানি—হিসাব একটু এদিক-ওদিক হলেও ডাল-চালের দরটা অন্তত চেনা যায়। কিন্তু এই ক্যালকুলাস চিজটি একেবারেই আলাদা। এ যেন কাবুলের এক খ্যাপাটে পাঠান, যার মেজাজ বোঝে কার সাধ্য!
শুনেছি স্যার আইজ্যাক নিউটন আর গটফ্রিড লাইবনিজ—এই দুই মস্ত হাকিম মিলে নাকি এই আপদটি দুনিয়ায় এনেছেন। প্লেগের ছুটিতে নিউটন সাহেব ঘরে বসে আপেল পড়া দেখছিলেন, তাতেই রক্ষা ছিল না; তিনি আবার গাছের আপেল থেকে আসমানের চাঁদ পর্যন্ত সবকিছুর গতি মাপতে গিয়ে এই কলকাঠিটি নাড়লেন। আর মাঝখান থেকে আমাদের মতো গোবেচারা ছাত্রদের মগজের পোলাও একদম খিচুড়ি হয়ে গেল।
ক্যালকুলাসের রাজ্যে পা দিতেই প্রথম যে ভূতটি ঘাড় মটকায়, তার নাম ‘লিমিট’। দুনিয়ার সবকিছুর একটা সীমা থাকা ভালো, কিন্তু এদের লিমিটের কোনো মা-বাপ নেই। মানটা নাকি শূন্যের খুব কাছাকাছি (x → 0), কিন্তু কিছুতেই শূন্য নয়! আহা, এ যেন সেই কৃপণ বড়লোকের ডাল ভাতের মতো—পাত্রে ডাল আছে কি নেই, তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া বোঝার জো নেই।
তার পরেই আসে আসল জল্লাদ—‘ডিফারেনসিয়েশন’। এর কাজই হলো আস্ত একটা জিনিসকে কেটে কুচোকুচো করা। যেন এক কসাইয়ের দোকান! একটা সুন্দর আস্ত ফাংশনকে ধরে সে এমনভাবে টুকরো করে যে শেষমেশ চেনার উপায় থাকে না। চলকগুলো সব dx আর dy হয়ে এমনভাবে কান্নাকাটি জুড়ে দেয় যে চোখ ফেটে জল আসে।
আর এর ঠিক উল্টো পিঠে বসে আছেন মিস্টার ‘ইন্টিগ্রেশন’। ইনি আবার জোড়াতালির ওস্তাদ। ওই কুচোকুচো টুকরোগুলোকে আঠা দিয়ে জুড়ে আবার আস্ত বানানোর ফিকির। এর চিহ্নটি দেখতে হুবহু এক ক্ষুধার্ত কেউটে সাপের মতো, যে ফণা তুলে খাতার পাতায় বসে আছে ছাত্রের মার্কস গিলে খাওয়ার জন্য। তার ওপর আবার অংক শেষে একখানা ‘+C’ (ধ্রুবক) বসাতে হবে। ওই লেজুড়টুকু ভুললেই ব্যস, পরীক্ষক মহাশয় খাতার ওপর এমন এক কানাকড়ি বসিয়ে দেবেন যে লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গা থাকবে না।
সবচেয়ে তাজ্জব ব্যাপার হলো, এই ডিফারেনসিয়েশন আর ইন্টিগ্রেশন নাকি একে অপরের পরম শত্রু, অথচ একজন ছাড়া অন্যজন অচল। এ যেন ঘরের সেই ঝগড়াটে বুড়ো-বুড়ি, সারাদিন কামড়াকামড়ি করবে কিন্তু একজন কাশীর মড়া হলে অন্যজন গয়ায় পিণ্ডি দিতে ছুটবে।

পরীক্ষার হলে বসে যখন এই ইন্টিগ্রেশনের গোলকধাঁধায় পড়ি, তখন মনে হয়—হে নিউটন, হে লাইবনিজ, তোমরা তো ক্যালকুলাস আবিষ্কার করে স্বর্গের হুর-পরীদের সাথে আঙুরের শরবত খাচ্ছ, আর আমরা এখানে ডালহৌসি স্কয়ারের কেরানির মতো বুড়ো আঙুলে কালি মেখে মরছি! পাস মার্কটুকু যদি এ যাত্রা জুটে যায়, তবে ওই ক্যালকুলাস বইখানা নিয়ে বুড়িগঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে লখনৌয়ের বিরিয়ানি খেতে যাব!
মন্তব্য করুন