বিজ্ঞানীদের দুনিয়ায় স্যার আইজ্যাক নিউটন সাহেব লোকটা বড় সুবিধার ছিলেন না। সাধারণ মানুষ গাছ থেকে আপেল পড়তে দেখলে কী করে? ধুয়ে-মুছে টপ করে মুখে পুরে দেয়। কিন্তু নিউটন সাহেব তেমন পাত্র নন। তিনি আপেলটা চিবিয়ে না খেয়ে, উল্টো মাথা চুলকে বসলেন—আপেলটা নিচে পড়ল কেন? আসমানে উঠে গেল না কেন? আহা, এই একখানা আপেল খাওয়ার আলসেমি আর বিলাসিতা থেকে যে সূত্র বেরুল, তা আজ আমাদের মতো নিরীহ ছাত্রদের পিঠে মহাকর্ষের চেয়েও ভারী বোঝা হয়ে চেপে বসেছে।
সূত্রখানা শুনতে ভারী মিষ্টি। দুনিয়ার নাকি প্রতিটা বস্তু একে অপরকে নিজের দিকে টানছে। এই মহাবিশ্বের যেখানে যা আছে—সবাই সবার প্রেমে আকুল! চিলকার চিলির সাথে নাকি কামচাটকার কাঁকড়ার এক গোপন পীরিত চলছে, কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারছে না। তবে এখানে আবার এক প্যাঁচ আছে। আকর্ষণ নাকি ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, আর দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক!
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাবু যত ভারী হবেন, তার টান তত বেশি। আর দূরত্ব একটু বাড়লেই প্রেম একদম জলসাঘরের বাঈজির মতো ফিকে হয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে বড় ভেলকিটা লুকিয়ে আছে ওই ‘G’ নামক এক ধ্রুবকের মধ্যে। মহাকর্ষীয় ধ্রুবক! এর মান নাকি \(6.673 \times 10^{-11}\)। ভাবুন একবার, দশমিকের পর এগারোটা শূন্য! এতসব শূন্যের চক্করে পড়ে খাতার পাতায় আমাদের মার্কসগুলোও ওই মহাকর্ষের টানে সোজা জিরো হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে।
পরীক্ষার হলে বসে যখন মহাকর্ষ আর অভিকর্ষের ফারাক মেলাতে যাই, তখন মগজের ভেতর কান্দাহারের আঙুর আর কাবুলের খুবানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। পৃথিবীর কেন্দ্রে গেলে নাকি অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g’-এর মান শূন্য! তা বাপু, আমরা তো আর পাতাল ফুঁড়ে পৃথিবীর পেটের ভেতর যাচ্ছি না, তবে কেন পরীক্ষার খাতায় আমাদের মান শূন্য করে দেওয়ার এই রাজকীয় আয়োজন?
চাঁদে গেলে নাকি মানুষের ওজন ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়। ভাবছি, ফিজিক্স পরীক্ষার আগে চাঁদের দেশে একখানা পাড়ি জমাব। সেখানে গেলে অন্তত ফেল মার্কের ওজনটাও কিছুটা হালকা ঠেকবে!
হে নিউটন সাহেব, আপেলটা যদি সেদিন আপনার মাথায় না পড়ে সোজা মুখে ঢুকে যেত, তবে দুনিয়ার মানুষ শান্তিতে একটু ফলমূল খেতে পারত, আর আমরাও ফিজিক্সের এই মহাকর্ষীয় টানের চোটে পরীক্ষার হলে এমন বেঘোরে মারা পড়তুম না!
১৪
২৪ মন্তব্য