Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রাদারফোর্ডের পরমাণুর অন্দরমহল

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় এই পরমাণু চিজটি চিরকালই এক মস্ত ধাঁধা। চোখে তারে দেখা যায় না, অথচ তা নিয়েই দুনিয়ার তামাম পণ্ডিতদের যত মাতামাতি। তা, বিজ্ঞানী লর্ড রাদারফোর্ড সাহেবও একদিন ভাবলেন, এই অদৃশ্য ভূতের পেটের ভেতর কী আছে তা না দেখলে তাঁর ভিয়েনিজ কফি হজম হচ্ছে না। তিনি করলেন কী—একখানা পাতলা সোনার পাত নিয়ে তার ওপর আলফা কণার কামানের গোলা দাগতে লাগলেন। আহা, সোনার পাত দিয়ে পরীক্ষা! এমন রাজকীয় আমীরি চাল কেবল কোনো বিলাতি লর্ডের পক্ষেই সম্ভব!
পরীক্ষার ফল দেখে রাদারফোর্ড সাহেবের তো চোখ চড়কগাছ! তিনি দেখলেন, কামানের গোলার বেশির ভাগই সোনার পাত ফুঁড়ে সোজা ওপারে চলে যাচ্ছে, যেন মাঝখানে কোনো পাহারাদারই নেই। কেবল বিশ হাজারের মধ্যে একটি কণা সোজা গিয়ে কার গায়ে যেন ধাক্কা খেয়ে একদম উল্টো পথে ফিরে এলো। রাদারফোর্ড সাহেব হিসাব কষে বললেন, পরমাণুর ঠিক মাঝখানে একখানা মস্ত ভারী জিনিস বসে আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস। আর পরমাণুর বাকি শরীরটা একদম ফাঁকা—যেন কাবুলের বিশাল মরুভূমি, যেখানে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও একটা জ্যান্ত প্রাণীর দেখা মেলে না!
এই আবিষ্কারের পর রাদারফোর্ড সাহেব একটা মডেল খাড়া করলেন। তিনি আমাদের সৌরজগতের সাথে পরমাণুর তুলনা করে বসলেন। সূর্যকে মাঝখানে রেখে যেমন গ্রহরা ঘুরছে, তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নাকি ইলেকট্রন বাবুরা বনবন করে ঘুরছেন। শুনতে ভারী চমৎকার! কিন্তু রসায়নের বাজারে এই তুলনা দিতেই ম্যাক্সওয়েল সাহেব নামক আরেক পণ্ডিত লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে এলেন।
ম্যাক্সওয়েল বললেন, ‘থামো হে লর্ড! সৌরজগতের গ্রহদের তো কোনো চার্জ নেই, কিন্তু ইলেকট্রন তো চার্জধারী! সে যখন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরবে, তখন তো ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। শক্তি হারাতে হারাতে সে তো একসময় সোজা গিয়ে নিউক্লিয়াসের ওপর আছাড় খাবে! তাহলে তোমার পরমাণুর টিকিটি টিকবে কীভাবে?’
ব্যস! ম্যাক্সওয়েলের এই এক চিমটি নুন রাদারফোর্ড সাহেবের পরমাণুর দুধের পায়েসটিকে একদম ছানা বানিয়ে দিল। পরীক্ষার হলে বসে যখন আমরা এই ‘সৌরজগতের তুলনা’ আর ‘ম্যাক্সওয়েলের সীমাবদ্ধতা’র চক্করে পড়ি, তখন আমাদের মগজের ঘিলুও ওই ইলেকট্রনের মতোই পাক খেতে খেতে সোজা জিরো মার্কসের নিউক্লিয়াসে গিয়ে আছাড় খায়!

হে রাদারফোর্ড সাহেব, পরমাণুর ভেতরটা ফাঁকা কি নিরেট, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে যদি আপনি শান্তিতে ল্যাবরেটরিতে বসে চুরুট ফুঁকতেন, তবে পরীক্ষার খাতায় আমাদের জীবনের এই মস্ত বড় ফাঁকা অংশটা অন্তত নম্বরে নম্বরে নিরেট হয়ে উঠত!
মন্তব্য করুন