Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:১১ পূর্বাহ্ণ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে অস্পষ্ট অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার ধারা বাতিলের দাবি ব্লাস্টের

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে অস্পষ্ট অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার ধারা বাতিলের দাবি ব্লাস্টের

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত “মানহানি”, “হেয়প্রতিপন্ন করা”, “বুলিং”, “গুজব” ও “অপতথ্য”-সংক্রান্ত বিধান এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণে সরকারের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। স্বাধীন মতপ্রকাশ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনটির বিতর্কিত ধারাগুলো দ্রুত সংশোধনের জোর আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

সোমবার ব্লাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারী, শিশুসহ গুরুতর অনলাইন সহিংসতার ভুক্তভোগীদের অধিকতর সুরক্ষাকে তারা সমর্থন করে। তবে অনলাইন সহিংসতা থেকে জনসাধারণকে রক্ষার বিষয়টি কখনো বৈধ সমালোচনা, সাংবাদিকতা, ব্যঙ্গ, রাজনৈতিক বক্তব্য বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিতর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কারণ হতে পারে না।

পুরোনো দমনমূলক আইনের পুনরাবৃত্তির শঙ্কাসংস্থাটি সতর্ক করে যে, প্রস্তাবিত বিধানগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত ও অনির্দিষ্ট। এর ফলে বাতিল হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (২০০৬), ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন (২০২৩)-এর অধীনে সৃষ্ট নিপীড়ন ও হয়রানির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদী এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে অতীতে কীভাবে এসব আইনের অপব্যবহার হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দেয় ব্লাস্ট।

বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ এবং ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে নতুন আইন হিসেবে 'সাইবার সুরক্ষা আইন' (সিপিএ) পাস হয়। আইনটির মূল উদ্দেশ্যই ছিল মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা। তদুপরি, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও স্বাধীন মতপ্রকাশের সুরক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ব্লাস্টের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও দাবিসমূহ:

ধারা ২৫ (মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করা বাদ): দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি ইতোমধ্যে ফৌজদারি অপরাধ। অনলাইনে মানহানি ও অস্পষ্ট ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করাকে পুনরায় অপরাধ হিসেবে যুক্ত করলে জনপরিচিত ব্যক্তি ও রাজনীতিকদের গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এটি ফৌজদারি অপরাধ থেকে বাদ এবং কারাদণ্ডের শাস্তি রহিত করার সুপারিশ করা হয়।বুলিংয়ের অস্পষ্ট সংজ্ঞা সংশোধন: বর্তমান খসড়ায় বুলিংয়ের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাতে মানসিক পীড়া বা সামাজিক অস্বস্তির অজুহাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক প্রচারণা বা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ বন্ধ হতে পারে। তাই বুলিংকে শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃত, ধারাবাহিক ও গুরুতর হুমকি বা স্পষ্ট শারীরিক/মানসিক নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ধারা ২৬ক (গুজব ও অপতথ্য) সম্পূর্ণ বাতিল: অসংগৃহীত বা অযাচাইকৃত তথ্যকে 'গুজব' আখ্যা দিয়ে অপরাধ গণ্য করা হলে জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগকালে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ব্যাহত হবে। প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তাই ধারাটি পুরোপুরি বাতিল করে ফ্যাক্ট-চেক ও তথ্য প্রকাশ স্বচ্ছ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

তথ্য ব্লকে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা রোধ (ধারা ৮): অনলাইন কন্টেন্ট সরাতে বা ব্লক করতে বিচারিক তদারকি ও সময়সীমা তুলে দিয়ে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে একতরফা ক্ষমতা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি পদক্ষেপের স্বেচ্ছাচারিতা রুখতে বিদ্যমান বিচারিক তদারকি ও স্বচ্ছতার বিধান বহাল রাখার জোর দাবি জানায় ব্লাস্ট।

মন্তব্য করুন