সহকারী অধ্যাপক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ
নারীর মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য মোঃ মুজিবুর রহমান
নারীর মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
পরম করুণাময়ের নামে আজ করি শুভ সূচনা,
তাঁরই বিধান জীবনজুড়ে—তাঁরই দয়া কামনা।
নারী-পুরুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টির সুন্দর ধারা,
ন্যায়-ভালোবাসায় গড়ুক জীবন, ফুটুক শান্তির তারা।
এক প্রাণ হতে সৃষ্টি মানব—কুরআনেরই বাণী,
নারী-পুরুষ উভয়েই তো আল্লাহর বান্দা জানি।
কেউ নয় কারও দাসী, কেউ নয় কারও প্রভু,
তাকওয়ার পথে যে এগিয়ে যায়—আল্লাহর কাছে সে প্রিয়।
নারী মানে মায়ের মমতা, বোনের স্নেহধারা,
নারী মানে কন্যার হাসি, স্ত্রীর ভালোবাসা।
তবু শুধু সম্পর্ক নয়—নারী নিজেও মানুষ,
ঈমান, জ্ঞান, চরিত্র দিয়ে গড়ে নিজের মান-মর্যাদার আবাস।
নারী কোনো ভোগের বস্তু—এ শিক্ষা ইসলাম দেয় না,
অন্যায়, জুলুম, অবমাননাকে কখনো বৈধ বলে না।
সম্মান দিয়ে রাখতে হবে, দিতে হবে অধিকার,
ন্যায়ভিত্তিক আচরণেই ফুটে মর্যাদার দ্বার।
সৌন্দর্য দিয়ে মর্যাদা নয়, সম্পদে নয় মান,
বংশগৌরব, বাহ্যিক সাজে নয় মানুষের সম্মান।
ঈমান, তাকওয়া, সৎকর্ম, চরিত্র যার সুন্দর,
আল্লাহর কাছে মর্যাদা তার—জীবন হয় পবিত্র।
মুমিন নারী, সৎকর্মশীলা—আল্লাহর কাছে মান,
সত্য, ধৈর্য, ইবাদতে মেলে মহাপুরস্কার দান।
পুরুষ যেমন সৎকর্ম করে পেতে পারে নাজাত,
নারীও তেমনি আল্লাহর রহমতে পেতে পারে জান্নাত।
নারীর আছে ন্যায্য অধিকার—এ কথা ভুল নয়,
অধিকার কেড়ে নেওয়া কখনো ন্যায়সঙ্গত নয়।
শিক্ষার দ্বার খুলে দিতে হবে জ্ঞানের আলোর পথে,
সত্য ও নৈতিক শিক্ষা হোক জীবনের সাথে।
নিজের সম্পদ নিজেরই সম্পদ—ন্যায়ের বিধান তাই,
অন্যায়ভাবে দখল করে নেওয়ার অধিকার কারও নাই।
উত্তরাধিকারে নারীর অংশ কুরআন করেছে স্থির,
সে অধিকার নষ্ট করা অন্যায়—অত্যন্ত গুরুতর।
কন্যা বলে বঞ্চিত কেন? বোন বলে কেন ক্ষতি?
নারীর হক ফিরিয়ে দাও—এটাই ন্যায়ের গতি।
সামান্য হোক, অধিক হোক—যা নির্ধারিত হক,
অন্যায় করে কেড়ে নিলে জুলুম হবে প্রকট।
কন্যাশিশু আল্লাহর দান—মমতায় তাকে গড়ো,
অবহেলার অন্ধকার নয়, জ্ঞানের আলোয় ধরো।
কন্যা মানে ঘরের আলো, মায়ের স্নেহছায়া,
ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনা, স্বপ্নভরা মায়া।
কন্যাকে ভালোবাসো তুমি, দাও নিরাপদ স্থান,
শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলো, দাও সুন্দর জ্ঞান।
পুত্র-কন্যার ভেদাভেদে হৃদয় যেন না যায়,
ন্যায় ও মমতার আচরণেই পরিবার সুখ পায়।
কন্যার হাসি ঘরকে ভরে, কন্যার চোখে স্বপ্ন,
তারও আছে জ্ঞান অর্জনের অধিকার অমূল্য রত্ন।
মানবিকতা, শালীনতা, ঈমানের শিক্ষা দাও,
দুনিয়া ও আখিরাতের পথে তাকে এগিয়ে নাও।
মা যে শিশুর প্রথম শিক্ষক, প্রথম ভালোবাসা,
মায়ের কোলে শিশুর গড়ে জীবনের প্রত্যাশা।
মায়ের মুখে প্রথম ভাষা, মায়ের হাতে যতন,
মায়ের আদরেই জাগে শিশুর মানবিক চেতন।
মা শুধু সন্তান জন্ম দেন—এটুকু নয় পরিচয়,
তাঁর মমতায় শিশুর মনে সত্যের আলো হয়।
সন্তানকে নামাজ শেখান, সত্যের পথে চালান,
আমানতদারি, শিষ্টাচারে সুন্দর করে গড়েন।
মায়ের স্নেহ, মায়ের দোয়া—জীবনজুড়ে ছায়া,
মায়ের ত্যাগের তুলনা কোথায়, বলো পৃথিবী-মায়া?
তাই মাকে দাও সম্মান, দাও ভালোবাসার স্থান,
মায়ের প্রতি সদাচরণে পূর্ণ হোক ঈমান।
বোন সে শুধু ঘরের মানুষ নয়—অধিকার তারও আছে,
ন্যায়ের পথে পাশে থেকো সুখে-দুঃখের পাশে।
তার প্রাপ্য সম্পদ দিও, রেখো না কোনো ক্ষোভ,
বোনের হক নষ্ট করে কেমন করে হবে কল্যাণ-সৌভাগ্য?
ভাই যদি হয় আপনজন, বোনও তেমনি আপন,
তার সম্মান রক্ষা করাই মানবতার লক্ষণ।
লোভের কাছে হেরে গিয়ে সম্পর্ক কোরো না ক্ষয়,
ন্যায় ও মমতার বন্ধনেই পরিবারে শান্তি হয়।
স্ত্রী শুধু ঘরের মানুষ নয়, জীবনসঙ্গী প্রিয়,
দুঃখে-সুখে পাশে থাকে, করে জীবন নির্মল-ময়।
তাকে দাও সম্মান, ভালোবাসা, সুন্দর ব্যবহার,
দাম্পত্যের বন্ধনে ফুটুক শান্তির অপরূপ বাহার।
কুরআন বলে সদ্ভাবে স্ত্রীর সাথে বাস করো,
অন্যায় রাগ-অভিমানে হৃদয় তার ভেঙো না।
কথার আঘাত অনেক সময় গভীর ক্ষত করে,
তাই মধুর ভাষা বেছে নাও ভালোবাসার তরে।
স্বামী যেমন দায়িত্বশীল, স্ত্রীও তেমনি সহচর,
দুজন মিলে গড়ে তোলে সংসার সুন্দরতর।
অধিকার যেমন স্ত্রীর আছে, স্বামীরও আছে হক,
পারস্পরিক ন্যায় ও মমতায় সংসার হোক দৃঢ় ও পোক্ত।
বিবাহ কোনো জোরের বন্ধন—ইসলাম এমন বলে না,
নারীর ইচ্ছা, সম্মতিকে উপেক্ষা করা চলে না।
জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া গুরুতর এক বিষয়,
সম্মতি ছাড়া সম্পর্ক হলে শান্তি থাকে না নিশ্চয়।
পরিবারের পরামর্শ থাকবে—থাকবে সবার মত,
তবু নারীর সম্মতিকেও দিতে হবে যথাযথ গুরুত্ব।
বিবাহ হোক দায়িত্ব, অঙ্গীকার, ভালোবাসার সেতু,
দুজন মিলে আল্লাহর পথে গড়ুক জীবনের ঋতু।
অধিকার যেমন আছে, দায়িত্বও আছে সাথে,
জীবন চলে ভারসাম্যে—ন্যায় ও সত্যের পথে।
আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো, নামাজ পড়ো নিয়মে,
রোজা রাখো, সৎকর্ম করো অন্তরেরই প্রেমে।
সততা হোক জীবনের সাথী, পবিত্র হোক মন,
শালীনতা, লজ্জাশীলতা হোক জীবনের ভূষণ।
পিতা-মাতার সেবা করো, রাখো তাদের মান,
আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীর প্রতি রাখো সম্মান।
সন্তান যদি থাকে ঘরে, দাও তাকে সঠিক শিক্ষা,
ঈমান, আদব, সত্যবাদিতা—হোক তার জীবনের দীক্ষা।
পরিবারে শান্তি আনো, বাড়াও ভালোবাসা,
রাগের বদলে ধৈর্য ধরো, দূর করো হতাশা।
জ্ঞান হলো আলোর প্রদীপ, অজ্ঞতা ঘোর আঁধার,
নারীর জীবন আলোকিত হোক জ্ঞানের আলোয় আবার।
ঈমান, ইবাদত, নৈতিকতা—শিখুক জীবনভর,
উপকারী জ্ঞান অর্জনে হোক মন উদার।
জ্ঞানী নারী মা হলে গড়ে জ্ঞানী প্রজন্ম,
শিক্ষিত নারী সমাজে ছড়ায় আলোর মর্ম।
শিক্ষক হলে জ্ঞান বিলান, সেবায় হন নিয়োজিত,
বৈধ কর্মে সততা রাখেন, থাকেন সদা নীতিনিষ্ঠ।
শিক্ষা যেন শুধু চাকরি পাওয়ার সিঁড়ি না হয়,
চরিত্র গঠনের মাধ্যম হয়ে মানবিকতা বয়ে যায়।
জ্ঞান যদি চরিত্রে না আসে, কী তার মূল্য বলো?
জ্ঞান-নৈতিকতা একসাথে জীবনকে করে ভালো।
নারী চাইলে বৈধ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন,
সততা ও দায়িত্ব নিয়ে মানুষের কল্যাণে দাঁড়াতে পারেন।
জ্ঞান, শিক্ষা, সেবা, দক্ষতা—যে ক্ষেত্রে সুযোগ মেলে,
ন্যায় ও শালীনতা রেখে কাজ করুন সৎ মনের তলে।
তবে কর্মের ব্যস্ততায় যেন ইবাদত না হারায়,
পরিবারের ন্যায্য দায়িত্ব যেন অবহেলায় না যায়।
জীবনের সব ক্ষেত্রজুড়ে চাই ভারসাম্যের আলো,
ইহকাল ও পরকালের জন্য চলুক পথটি ভালো।
ঘর সামলানো ছোট কাজ নয়—এ কথা মনে রেখো,
সন্তানের চরিত্র গড়া মহান দায়িত্ব—ভুলে যেও না।
পরিবারের শান্তি রক্ষাও মূল্যবান অবদান,
মমতা দিয়ে গড়া সংসারই সুখের প্রধান স্থান।
নারীর নিরাপত্তা শুধু নারীর একার দায়িত্ব নয়,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সবার দায়িত্ব এতে রয়।
অপমান, নির্যাতন, জবরদস্তি—হোক সব দূর,
অন্যায় থেকে নিরাপত্তা পাক নারী, হোক জীবন নূর।
পুরুষ নিজের দৃষ্টি রাখুক সংযত, পবিত্র,
নারীও শালীনতায় রাখুক নিজের জীবন চরিত্র।
উভয়েরই নৈতিকতা—উভয়েরই দায়,
পবিত্র সমাজ গড়ার পথে সবাই এগিয়ে যায়।
নারীকে দোষী করে অন্যায় ঢেকে রাখা নয়,
অন্যায়কারী যে-ই হোক, ন্যায়বিচার তারই হয়।
জুলুম কখনো গ্রহণযোগ্য নয় কোনো মানুষের তরে,
ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক পৃথিবীর ঘরে ঘরে।
নারী-পুরুষ শত্রু নয়, নয় পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী,
সহযোগিতার পথেই গড়ে পরিবার শান্তিময় ও সমৃদ্ধশালী।
একজনের শক্তি অন্যজনের পাশে দাঁড়ায়,
পারস্পরিক সহযোগিতায় জীবন সুন্দর হয়ে যায়।
স্বামী যদি দায়িত্ব নেন, স্ত্রীও দেন সহযোগিতা,
দুজন মিলে গড়ে তোলে ভালোবাসার গৃহকথা।
মতভেদ হলে ধৈর্য ধরো, শুনো পরস্পরের কথা,
অহংকারে ভেঙো না ঘর—বাঁচাও ভালোবাসা।
নারীর অধিকার মানে পুরুষকে অপমান নয়,
পুরুষের দায়িত্ব মানে নারীর অধিকার ক্ষয় নয়।
ন্যায় যেখানে মূলনীতি, সেখানেই শান্তির বাস,
পারস্পরিক সম্মানেই মুছে যায় অভিমান-হতাশ।
শুধু অধিকার চাইলে কি সমাজ সুন্দর হয়?
শুধু দায়িত্ব চাপালেও কি ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
অধিকার আর দায়িত্ব দুটো পাশাপাশি চলে,
একটির সাথে অন্যটি জীবনপথে মিশে চলে।
স্ত্রীর যেমন অধিকার আছে, স্বামীরও আছে হক,
সন্তানের যেমন দাবি আছে, পিতামাতারও হক।
ভাইয়ের যেমন দায়িত্ব আছে, বোনেরও আছে মান,
সবাই যদি ন্যায় বুঝে চলে—সুন্দর হয় সংসারপ্রাণ।
অধিকার দাও, দায়িত্ব শেখাও—দুটিই থাকুক সাথে,
ইসলামের ন্যায়নীতি জাগুক মানুষের জীবনে।
কাউকে যেন জুলুম করে কেউ না রাখে দমিয়ে,
সত্য-ন্যায়ের আলো জ্বালো ভালোবাসা দিয়ে।
নিজের মর্যাদা নিজে বোঝো—হীনমন্যতা নয়,
আল্লাহর বান্দি তুমি—এ পরিচয়ই বড় পরিচয়।
জ্ঞান অর্জন করো, চরিত্র গড়ো, ঈমানে হও দৃঢ়,
পাপের পথ ছেড়ে দিয়ে সত্যের পথে হও স্থির।
বাহ্যিক রূপ ক্ষণিকের, যৌবনও যায় ক্ষয়ে,
চরিত্র থাকে মানুষের মনে—সময় পেরিয়ে যায় বয়ে।
সৌন্দর্যের চেয়ে সুন্দর সৎ ও পবিত্র প্রাণ,
তাকওয়ার আলোয় আলোকিত হোক তোমার জীবনপ্রাণ।
অন্যের অনুকরণ নয়—নিজের মূল্য বুঝে চলো,
আল্লাহর বিধান আঁকড়ে ধরে সত্যের পথে রও।
সম্মান চাও, সম্মান দাও—এ নীতিটি মনে রেখো,
নিজের হক ও অন্যের হক—দুটিই তুমি বুঝে দেখো।
নারী শুধু ঘরের মাঝে সীমাবদ্ধ এক নাম নয়,
সমাজ গঠনের কাজে তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হয়।
শিক্ষা, সেবা, মানবকল্যাণ—বৈধ পথে যত কাজ,
সততা দিয়ে অংশ নিলে বাড়ে সমাজের সাজ।
একজন শিক্ষক জ্ঞান বিলান, একজন মা গড়েন প্রাণ,
একজন সেবিকা মানুষের পাশে দেন সেবার দান।
যে নারী নৈতিকতার আলো ছড়ান চারিধার,
তাঁর অবদান সমাজজুড়ে হয়ে ওঠে উপকার।
পরনিন্দা, অপবাদ, হিংসা—দূরে রাখো মন,
শান্তির কথা বলো সদা, বাড়াও মানবিক গুণ।
অশ্লীলতা, অহংকার ছেড়ে হও বিনয়ী,
মানুষের কল্যাণে হও সত্যপথের সহযাত্রী।
বাবা কন্যার সম্মান রাখুক, ভালোবাসুক প্রাণে,
ভাই যেন বোনের হক দেয় ন্যায়ের বিধান মেনে।
স্বামী যেন স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ করেন,
সন্তান যেন মায়ের প্রতি ভালোবাসা অর্পণ করেন।
নারীর সম্মান শুধু কথার ফুল নয়,
আচরণে তার প্রমাণ দিতে হয়।
কন্যার শিক্ষা, বোনের অধিকার, স্ত্রীর প্রতি মান,
মায়ের সেবা—এসবই তো পুরুষেরও সম্মান।
নারীর দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া নয় কোনোদিন,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো—এই হোক জীবনের ঋণ।
জুলুম করে কেউ কখনো সত্যিকারের বড় নয়,
ক্ষমা, মমতা, ন্যায় ও দায়িত্বেই মানুষের জয়।
যে ঘরে নারী সম্মানিত, পুরুষ দায়িত্ববান,
সন্তান পায় সঠিক শিক্ষা—সেই ঘর হয় মহান।
যেখানে নেই অপমান, নেই জুলুমের ভার,
সেই ঘরেই ভালোবাসা করে সুখের বিস্তার।
কন্যা সেখানে নিরাপদ, স্ত্রী পায় সম্মান,
মায়ের মুখে হাসি ফুটে, জাগে শান্তির গান।
ভাই-বোনে থাকে মমতা, আত্মীয়তায় টান,
এমন ঘরেই গড়ে ওঠে সুন্দর মানবপ্রাণ।
রাগ এলে থামো আগে, ভেবে বলো কথা,
একটি কঠিন বাক্য দিতে পারে হৃদয়ে ব্যথা।
মধুর ভাষা সম্পর্ক গড়ে, কঠিন ভাষা ভাঙে,
ভালোবাসার একটি কথা অশান্তি দূরে টানে।
নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য ঈমানের আলোয় জ্বলে,
চরিত্র যখন নির্মল থাকে, মর্যাদা তখন ফলে।
জ্ঞান যদি থাকে সাথে, বিবেক যদি জাগে,
সত্যের পথে দৃঢ় পদে জীবন সামনে ভাগে।
লজ্জাশীলতা দুর্বলতা নয়—এ এক মহৎ গুণ,
পবিত্রতা মানুষের জীবনে করে হৃদয় পূর্ণ।
তাকওয়া হলো অন্তরের সেই আলোকিত প্রহরী,
গোপনেও যে আল্লাহকে ভয় করে—সে সত্যিকারের ধনী।
নিজেকে শুদ্ধ করো তুমি, রাখো মন পবিত্র,
হিংসা, অহংকার, পরনিন্দা করো চিত্তবিচ্ছিন্ন।
সত্য বলো, আমানত রাখো, অন্যায় থেকে ফেরো,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবনভরই চলো।
নারীকে দিও সম্মান, দিও তার ন্যায্য অধিকার,
বোনের হক, কন্যার মর্যাদা, স্ত্রীর সম্মানের ভার।
মায়ের সেবা, কন্যার শিক্ষা, স্ত্রীর প্রতি সদাচার,
ন্যায়ের পথে গড়ে তোলো ভালোবাসার সংসার।
নারীও নিজের দায়িত্ব বুঝে ঈমান নিয়ে চলো,
শালীনতা, জ্ঞান ও চরিত্রে জীবনটাকে গড়ো।
আল্লাহর হুকুম মেনে থেকো, সত্যের পথে স্থির,
তাকওয়ার আলোয় আলোকিত হোক জীবন সমগ্র নীর।
নারীর মর্যাদা রক্ষা হোক, দূর হোক সব জুলুম,
অন্যায়ের অন্ধকার ভেঙে উঠুক ন্যায়ের আলোকধারা নির্মল।
কন্যার মুখে হাসি ফুটুক, মায়ের চোখে শান্তি,
স্ত্রীর হৃদয় ভালোবাসায় ভরে উঠুক দিন-রাতি।
বোনের হক ফিরুক ঘরে, স্ত্রী পাক সম্মান,
জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে উঠুক নবপ্রাণ।
পরিবার থেকে সমাজজুড়ে ন্যায় হোক প্রতিষ্ঠিত,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় জীবন হোক আলোকিত।
হে আল্লাহ, নারী-পুরুষ সবার হক বুঝে নিতে দাও,
জুলুম, অন্যায়, অহংকার থেকে আমাদের রক্ষা করো।
মর্যাদা দাও, দায়িত্ব দাও, সত্যপথে রাখো,
ঈমান, তাকওয়া, উত্তম চরিত্রে জীবনটাকে সাজাও।
পরিবারে দাও শান্তি, সমাজে দাও ন্যায়,
ভালোবাসা ও মমতায় ভরে উঠুক হৃদয়-মহিমায়।
দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতে দাও নাজাত,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের শেষ প্রার্থনা ও প্রভাত।
হে আল্লাহ—তোমার বিধান মেনে চলার তৌফিক দাও,
নারী-পুরুষ সবার ন্যায্য অধিকার রক্ষার তৌফিক দাও।
ন্যায়, মমতা, তাকওয়া দিয়ে জীবন সাজানোর তৌফিক দাও—
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
১৪
২৪ মন্তব্য