Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:১১ পূর্বাহ্ণ

ঢোল সমুদ্র দিঘি নিয়ে কিছু কথা

ঢোল সমুদ্র দিঘি নিয়ে কিছু কথা


গত শুক্রবার গিয়েছিলাম ঢোল সমুদ্র দিঘিতে। ঝিনাইদহ শহর থেকে একটু দূরে, পাগলাখানা ইউনিয়নের বারীবাথান এলাকায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক দিঘিটি। শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের এই বিশাল জলাধারটি প্রায় ৫২ বিঘা জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।

ধারণা করা হয়, এই দিঘিটির সঙ্গে রাজা মুকুট রায়ের নাম জড়িয়ে আছে। মূলত এলাকার মানুষের পানির সংকট দূর করার জন্যই নাকি দিঘিটি খনন করা হয়েছিল। বহু শ্রমিক দিনরাত বিভিন্নভাবে কাজ করেও যখন দিঘিতে পানি উঠাতে পারছিলেন না, তখন এ নিয়ে একটি লোককথার প্রচলন হয়।

লোককথা অনুযায়ী, রাজা এক রাতে স্বপ্নে জানতে পারেন—রানী দিঘিতে নেমে কিছু করলে তবেই দিঘিতে পানি উঠবে। রানী দিঘিতে নামার পরই নাকি দিঘিতে পানি উঠতে শুরু করে। সেই থেকেই দিঘিটিকে ঘিরে নানা গল্প ও কিংবদন্তি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

দিঘিটির নাম ঢোল সমুদ্র হওয়ার কারণ নিয়েও স্থানীয় মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা মত ও গল্প। ইতিহাসের সঙ্গে লোককথা, রাজা-রানির গল্প আর মানুষের বিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে এই দিঘিটি যেন হয়ে উঠেছে এক অনন্য ঐতিহ্যের অংশ।

তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে, তা হলো দিঘিটির চারপাশের অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ। বিশাল জলরাশি, চারপাশের সবুজ আর নিরিবিলি আবহ—সব মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই অসাধারণ। ইতিহাস জানতে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঢোল সমুদ্র দিঘি নিঃসন্দেহে দেখার মতো একটি স্থান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ