Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:০২ পূর্বাহ্ণ

রিটার্ন জমার সময় যে ৫ ভুল বেশি হয়

রিটার্ন জমার সময় যে ৫ ভুল বেশি হয়

 রিটার্ন দিতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করেন। সেই ভুলগুলো কীভাবে সংশোধন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।

১. বেশি সোনার গহনা দেখানো

অনেক করদাতা রিটার্নে অতিরঞ্জিতভাবে সোনা দেখান। যেমন অনেকেই ৪০–৫০ ভরি সোনা দেখান। বর্তমান বাজারদরে এই বিপুল পরিমাণ সোনার গহনার দাম কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এটা পেলেন কীভাবে, এর উৎস নেই।

কী করতে হবে ?

আপনার যতটা সোনার গহনা আছে, ততটা দেখানোই ভালো। কারণ, আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সোনা না থাকলে পরে বিপাকে পড়তে পারেন।

২. বেশি নগদ টাকা দেখানো

রিটার্নে মাত্রাতিরিক্ত নগদ টাকা দেখান অনেকে। এতেও আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকলে এই নগদ টাকা নিয়ে বিপদে পড়বেন।

কী করতে হবে ?

যা নগদ আপনার কাছে আছে, তা–ই দেখাবেন। তবে কিছুটা বেশি দেখান অনেকে। কারণ, অনেকে ব্যাংকে না জমিয়ে নিজেরা বন্ধুবান্ধব মিলে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রতি মাসে নিজেরা সঞ্চয় গড়ে তোলেন। যখন টাকা একসঙ্গে নিজের হাতে আসে, তখন তা একসঙ্গে রিটার্নে দেখানো হলে উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই অনেক করদাতা রিটার্নে আগে থেকেই নগদ টাকা বেশি দেখানোর এই কৌশল করেন।

৩. উপহার

জমি–ফ্ল্যাট, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় না।

কী করতে হবে ?

অবশ্যই রিটার্নে দেখাবেন। মা–বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী–সন্তানদের কাছ থেকে উপহার নিলে কর দিতে হয় না। কিন্তু রির্টানে অবশ্যই দেখাতে হবে।

৪. বিনিয়োগ না দেখানো

করদাতাদের অনেকেই এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও তা আয়কর রিটার্নে দেখান না, যা একটি ভুল কৌশল। এখন অটোমেশনের যুগে কর কর্মকর্তারা সহজেই তা বের করতে পারবেন।

কী করতে হবে ?

এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে তা দেখিয়ে দেবেন। এতে লাভ আছে, কর কমে যাবে। তবে বিনিয়োগযোগ্য খাতেই বিনিয়োগ করবেন।

৫. আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো ঠিক নয়। তাহলে আয় বাদে খরচের বাকি অর্থের উৎস দেখাতে হবে। তা না হলে বিপাকে পড়বেন।

কী করতে হবে ?

মনে রাখবেন, কর বসে আয়ের ওপর। ব্যয়ের ওপর কর বসে না। তাই যা আয় করবেন, তাই রিটার্নে দেখিয়ে করযোগ্য হলে কর দেবেন।

মনে রাখতে হবে

আপনি প্রথমবার আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।

আয়ের উৎসের স্বপক্ষেও যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন। পাশাপাশি বড় ধরনের ব্যয়ের (যেমনঃ আপনি ফ্রিজ, টিভি, মটরবাইক, প্রাইভেটকার, মোবাইল, ল্যাপটপ, এসি ইত্যাদির) ক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ করবেন। কেননা আয়কর নোটিশে বলা হচ্ছে এখন থেকে ৫/৭ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ ফাইল অডিটের আওতায় আনা হবে। অথবা ২/৩ বছর পর দৈবচয়ন পদ্ধিতে আপনার ফাইল নিরীক্ষণে পড়ল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত না থাকলে তখন আয়কর কর্মকর্তাদের কী দেখাবেন। আপনার ফাইল নিরীক্ষণে পড়লে বা আয়কর অফিস থেকে তলব করলে ভয়ের কিছু নেই। আপনি যদি সঠিকভাবে নিয়ম মেনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে থাকেন এবং রিটার্ন সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংরক্ষণ করে থাকেন তাহলে সেগুলোই আয়কর কর্মকর্তাকে দেখাবেন। সে কারনেই রিটার্ন দাখিলের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন তথ্য বাদ না পড়ে, আবার অতিরঞ্জিত, অবাঞ্চিত বা ভুল কোন তথ্য দাখিল না হয়।  

মন্তব্য করুন

ব্লগ