সহকারী অধ্যাপক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও টিকিট কাটার নিয়ম ২০২৬
➡️এক ক্লিকে ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী দেখুন
➡️এক ক্লিকে ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া দেখুন
➡️ঢাকা টু কক্সবাজার টিকিট কাটার নিয়ম দেখুন
কক্সবাজারে ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে এই রুটের চেহারাই বদলে গেছে। আগে যেখানে বাসে ১০-১২ ঘণ্টা ধকল সইতে হতো, এখন সেখানে ট্রেনে ৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে পৌঁছানো যায় — তাও নির্দিষ্ট সময়ে, জ্যামের ঝুঁকি ছাড়া।
তবে সমস্যা একটাই: টিকিট। এই রুটে চাহিদা এত বেশি যে সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে না কাটলে সিট পাওয়া কঠিন। এই লেখায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুটি ট্রেনের পূর্ণ সময়সূচী, শ্রেণিভেদে ভাড়া, সাপ্তাহিক বন্ধ, স্টপেজ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন, অন্য জেলা থেকে কীভাবে কানেকশন নেবেন এবং অনলাইনে টিকিট কাটার বাস্তব কৌশল — সব একসঙ্গে দেওয়া হলো।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের নাম ও সময়সূচী
এই রুটে বর্তমানে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে — কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস। দুটিই বিরতিহীন ধাঁচের, মাঝপথে কেবল চট্টগ্রামে (এবং কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে ঢাকা বিমানবন্দরে) থামে।
ট্রেনের নাম | নম্বর | ঢাকা ছাড়ে | কক্সবাজার পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
পর্যটক এক্সপ্রেস | ৮১৫ | সকাল ৬:১৫ | বিকেল ৩:০০ | রবিবার |
কক্সবাজার এক্সপ্রেস | ৮১৪ | রাত ১০:৩০ | ভোর ৬:৪০ | সোমবার |
কোনটা বেছে নেবেন: পর্যটক এক্সপ্রেস দিনের ট্রেন, তাই চট্টগ্রামের পর পাহাড় আর সবুজ দেখতে দেখতে যাওয়া যায়; বিকেলে পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন করে সন্ধ্যাটা সৈকতে কাটানো যায়। কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাতের ট্রেন — ঘুমিয়ে ভোরে পৌঁছে পুরো দিনটাই হাতে পাওয়া যায়, তবে বেশিরভাগ হোটেলের চেক-ইন দুপুরে বলে সকালটা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
ট্রেনের নাম | নম্বর | কক্সবাজার ছাড়ে | ঢাকা পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
কক্সবাজার এক্সপ্রেস | ৮১৩ | দুপুর ১২:৩০ | রাত ৯:১০ | মঙ্গলবার |
পর্যটক এক্সপ্রেস | ৮১৬ | রাত ৮:০০ | ভোর ৪:৩০ | রবিবার |
খেয়াল করুন, যাওয়া ও আসার পথে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বন্ধের দিন আলাদা — ঢাকা থেকে সোমবার, আর কক্সবাজার থেকে মঙ্গলবার। অনেকে এখানেই ভুল করে ফেরার টিকিট কাটতে গিয়ে বিপদে পড়েন।
ট্রেনের স্টপেজ ও স্টেশন লিস্ট
এই দুটি ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এরা লোকাল ট্রেনের মতো সব স্টেশনে থামে না। ফলে সময় কম লাগে, কিন্তু মাঝের জেলাগুলোর যাত্রীদের জন্য সুবিধা কম।
• কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩/৮১৪): ঢাকা কমলাপুর → ঢাকা বিমানবন্দর → চট্টগ্রাম → কক্সবাজার
• পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫/৮১৬): ঢাকা কমলাপুর → চট্টগ্রাম → কক্সবাজার
• চট্টগ্রামে বিরতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট, ইঞ্জিন ও অপারেশনাল কাজের জন্য
জরুরি কথা: কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর বা লাকসামে এই ট্রেন দুটি থামে না। তাই "কুমিল্লা টু কক্সবাজার ট্রেন" বা "ফেনী টু কক্সবাজার ট্রেন" বলতে সরাসরি কোনো সার্ভিস বোঝায় না — আগে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এসে সেখান থেকে ট্রেন বদলাতে হয়।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত
ট্রেনের ভাড়া নির্ভর করে আসনের শ্রেণির ওপর। শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী, আর এসি কেবিন বা বার্থ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। নিচে ভ্যাটসহ প্রচলিত ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।
আসনের শ্রেণি | ঢাকা – কক্সবাজার | চট্টগ্রাম – কক্সবাজার |
শোভন চেয়ার | ৬৯৫ – ৭১৫ টাকা | ১৮৫ – ২৭০ টাকা |
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৩২৫ – ১,৩৪৫ টাকা | ৩৭০ – ৪৯০ টাকা |
এসি সিট / এসি কেবিন | ১,৫৯০ – ১,৭২৫ টাকা | সব ট্রেনে নেই |
এসি বার্থ (ঘুমানোর ব্যবস্থা) | ২,০০০ – ২,৪০০ টাকা | নেই |
• কক্সবাজার এক্সপ্রেসে এসি কেবিন, এসি চেয়ার, শোভন চেয়ার ও এক্সিকিউটিভ চেয়ার — চার ধরনের কোচ থাকে
• পর্যটক এক্সপ্রেসে মূলত শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা, কেবিন নেই
• শিশুর জন্য আলাদা সিট নিলে পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়
• রেলওয়ে ভাড়া সংশোধন করলে এই অঙ্ক বদলায়, তাই টিকিট কাটার সময় স্ক্রিনে দেখানো মূল্যই চূড়ান্ত ধরুন
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুটি আলাদা আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়েছে — সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। এগুলো মাঝের স্টেশনগুলোতেও থামে, তাই চকরিয়া, রামু, দোহাজারী বা সাতকানিয়ার যাত্রীদের জন্য কাজের।
ট্রেন | নম্বর | ছাড়ে | পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
সৈকত এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম → কক্সবাজার) | ৮২১ | ভোর ৫:৫০ | সকাল ৯:২৫ | সোমবার |
প্রবাল এক্সপ্রেস (কক্সবাজার → চট্টগ্রাম) | ৮২২ | সকাল ১০:০০ | দুপুর ২:১০ | সোমবার |
প্রবাল এক্সপ্রেস (চট্টগ্রাম → কক্সবাজার) | ৮২৩ | বিকেল ৩:১০ | সন্ধ্যা ৭:০০ | সোমবার |
সৈকত এক্সপ্রেস (কক্সবাজার → চট্টগ্রাম) | ৮২৪ | রাত ৮:০০ | রাত ১১:৫০ | সোমবার |
এই দুটি ট্রেন যেসব স্টেশনে থামে
• সৈকত এক্সপ্রেস: ষোলশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু
• প্রবাল এক্সপ্রেস: রামু, ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, দোহাজারী, পটিয়া, গোমদণ্ডী, ষোলশহর
• দূরত্ব প্রায় ১৫১ কিলোমিটার, সময় লাগে ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা
আশপাশের দূরত্ব (আনুমানিক)
যাত্রাপথ | দূরত্ব |
ঢাকা – কক্সবাজার (রেলপথে) | প্রায় ৫৫১ কিলোমিটার |
ঢাকা – কক্সবাজার (সড়কপথে) | প্রায় ৪০০ কিলোমিটার |
চট্টগ্রাম – কক্সবাজার (রেলপথে) | প্রায় ১৫১ কিলোমিটার |
চকরিয়া – চট্টগ্রাম | প্রায় ৯০ – ৯৫ কিলোমিটার |
লোহাগাড়া – চট্টগ্রাম | প্রায় ৬৫ – ৭০ কিলোমিটার |
রামু – কক্সবাজার | প্রায় ১৭ কিলোমিটার |
অন্য জেলা থেকে কক্সবাজার: কীভাবে কানেকশন নেবেন
কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন যায় কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। বাকি জেলাগুলো থেকে গেলে এক জায়গায় ট্রেন বদলাতে হয়। কোথা থেকে কীভাবে যাবেন, নিচে দেওয়া হলো।
যেখান থেকে যাচ্ছেন | কীভাবে যাবেন | আনুমানিক মোট ভাড়া |
সিলেট | সিলেট → চট্টগ্রাম (পাহাড়িকা/উদয়ন), এরপর সৈকত বা প্রবাল এক্সপ্রেস | ৬৫০ – ১,২০০ টাকা |
কুমিল্লা / ফেনী | ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনে চট্টগ্রাম, এরপর কক্সবাজারের ট্রেন | ৪৫০ – ৯০০ টাকা |
রাজশাহী / খুলনা | আগে ঢাকা, এরপর ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন | ১,৩০০ – ২,৫০০ টাকা |
চাঁদপুর / লাকসাম | চট্টগ্রাম পর্যন্ত এসে ট্রেন বদল | ৪০০ – ৮০০ টাকা |
কানেকশনের ক্ষেত্রে দুটি ট্রেনের মাঝে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় রাখুন। প্রথম ট্রেন আধা ঘণ্টা দেরি করলেও যেন দ্বিতীয়টি ধরতে পারেন।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
এই রুটের টিকিট পাওয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। নিয়মটা জানা থাকলে সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।
1. যাত্রার ১০ দিন আগে টিকিট ছাড়া হয়, বিক্রি শুরু হয় সকাল ৮টায়।
2. eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে বা Rail Sheba অ্যাপে আগেই রেজিস্ট্রেশন করে রাখুন (এনআইডি ও মোবাইল নম্বর লাগবে)।
3. ৮টার অন্তত ১৫ মিনিট আগে লগ-ইন করে From: Dhaka, To: Cox’s Bazar দিয়ে তারিখ সিলেক্ট করে রাখুন।
4. ঠিক ৮টায় রিফ্রেশ করে ট্রেন ও আসনের শ্রেণি বেছে নিন।
5. বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে পেমেন্ট করুন — এখানে দেরি করলে সিট রিলিজ হয়ে যায়।
6. টিকিট কনফার্ম হলে পিডিএফ ডাউনলোড করে মোবাইলে রাখুন, প্রিন্ট থাকলে আরও ভালো।
টিকিট পাওয়ার কিছু বাস্তব কৌশল
• একটি এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটা যায়, তাই বড় দলে গেলে কয়েকজন একসাথে চেষ্টা করুন
• শোভন চেয়ার সবার আগে শেষ হয়; স্নিগ্ধা বা কেবিনে তুলনামূলক বেশি সময় সিট থাকে
• শুক্র-শনিবারের টিকিট সবচেয়ে দ্রুত শেষ হয়, রবি থেকে বুধবারের দিনগুলোতে সুযোগ বেশি
• সব সিট শেষ হয়ে গেলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার দেখুন — বাতিল হওয়া টিকিট ফিরে আসে
• স্টেশন কাউন্টারেও কোটা থাকে, ঢাকার বাইরে থাকলে স্থানীয় স্টেশনে খোঁজ নিতে পারেন
• কালোবাজারি থেকে টিকিট কিনবেন না — এখন টিকিটে নাম ও এনআইডি মেলানো হয়, না মিললে জরিমানা হতে পারে
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে সৈকতে যাওয়ার উপায়
কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশনটি ঝিলংজা এলাকায়, মূল শহর ও কলাতলী বিচ থেকে বেশ খানিকটা দূরে। ট্রেন থেকে নেমে সরাসরি সৈকতে হেঁটে যাওয়ার সুযোগ নেই।
• সিএনজি বা অটোরিকশায় কলাতলী পর্যন্ত ২০০ – ৩০০ টাকা, সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট
• বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস চলে, ভাড়া অনেক কম
• রাতের ট্রেনে ভোরে নামলে দরদাম বেশি চাওয়া হয়, তাই কয়েকজন মিলে শেয়ার করে নেওয়া ভালো
• স্টেশনটি ঝিনুক আকৃতির, ভেতরে লাগেজ রাখার ব্যবস্থাও আছে — চেক-আউটের পর ব্যাগ রেখে ঘুরে আসা যায়
ট্রেন নাকি বিমান নাকি বাস: কোনটায় যাবেন
কক্সবাজার যাওয়ার তিনটি উপায়েরই আলাদা সুবিধা আছে। খরচ আর সময় মিলিয়ে হিসাব করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
মাধ্যম | সময় | ভাড়া (একদিক) | কাদের জন্য ভালো |
ট্রেন | ৮ – ৯ ঘণ্টা | ৬৯৫ – ২,৪০০ টাকা | পরিবার, বাজেট ভ্রমণ, আরাম |
বাস | ৯ – ১২ ঘণ্টা | ৯০০ – ২,৫০০ টাকা | হুট করে যাওয়া, টিকিট সহজলভ্য |
বিমান | ১ – ১.১৫ ঘণ্টা | ৪,৫০০ – ১২,০০০ টাকা | সময় কম, অফিসিয়াল সফর |
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা ফ্লাইট পরিচালনা করে। আগে টিকিট কাটলে ভাড়া কম পড়ে, আর মৌসুমে (নভেম্বর থেকে জানুয়ারি) দাম দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে।
ট্রেন ভ্রমণের আগে ছোট কিছু প্রস্তুতি
• ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০-৪০ মিনিট আগে কমলাপুরে পৌঁছান, প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে সময় লাগে
• এনআইডি বা তার ফটোকপি সঙ্গে রাখুন, টিটিই টিকিটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন
• দিনের ট্রেনে জানালার পাশের সিট নিলে চট্টগ্রামের পর পাহাড়ি দৃশ্য ভালো দেখা যায়
• রাতের ট্রেনে হালকা চাদর বা জ্যাকেট রাখুন, এসি কোচে ঠান্ডা বেশি লাগে
• ট্রেনে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা ভালো
• ফেরার টিকিট যাওয়ার সময়েই কেটে রাখুন, নইলে কক্সবাজার গিয়ে সিট না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত?
শোভন চেয়ার ৬৯৫ থেকে ৭১৫ টাকা, স্নিগ্ধা প্রায় ১,৩২৫ টাকা, এসি সিট বা কেবিন ১,৫৯০ থেকে ১,৭২৫ টাকা এবং এসি বার্থ ২,০০০ টাকার উপরে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
প্রায় ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট থেকে ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। ক্রসিং বা অপারেশনাল কারণে কিছুটা দেরি হতে পারে।
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ কবে?
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ৮১৪ নম্বর ট্রেনটি সোমবার বন্ধ থাকে, আর কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ৮১৩ নম্বর ট্রেনটি মঙ্গলবার বন্ধ থাকে।
পর্যটক এক্সপ্রেসের বন্ধের দিন কোনটি?
পর্যটক এক্সপ্রেস সাধারণত রবিবার চলাচল করে না।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের দূরত্ব কত?
রেলপথে প্রায় ৫৫১ কিলোমিটার। সড়কপথের চেয়ে বেশি, কারণ ট্রেন চট্টগ্রাম হয়ে ঘুরে যায়।
ট্রেন কি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে থামে?
কক্সবাজার এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে থামে। পর্যটক এক্সপ্রেস সাধারণত সরাসরি চট্টগ্রাম পর্যন্ত যায়।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত?
শোভন চেয়ার ১৮৫ থেকে ২৭০ টাকা এবং স্নিগ্ধা ৩৭০ থেকে ৪৯০ টাকা, ট্রেনভেদে কিছুটা পার্থক্য হয়।
কুমিল্লা বা ফেনী থেকে কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন আছে?
নেই। ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন দুটি এসব স্টেশনে থামে না। আগে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এসে সৈকত বা প্রবাল এক্সপ্রেসে উঠতে হয়।
কক্সবাজারের ট্রেনের টিকিট কত দিন আগে পাওয়া যায়?
যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে, প্রতিদিন সকাল ৮টায় অনলাইনে ছাড়া হয়।
টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
যায়। তবে যাত্রার কত আগে বাতিল করছেন তার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট হারে সার্ভিস চার্জ কেটে রাখা হয়।
কক্সবাজার স্টেশন থেকে সৈকত কত দূরে?
স্টেশনটি ঝিলংজায়, কলাতলী সৈকত থেকে গাড়িতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের পথ। সিএনজি ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
শেষ কথা
ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ চালু হওয়ার পর সমুদ্রে যাওয়াটা আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সস্তা হয়েছে। এখন মূল কাজ একটাই — সময়মতো টিকিট কেটে ফেলা। যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় প্রস্তুত থাকলে সিট পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সময়সূচী ও ভাড়া রেলওয়ে মাঝেমধ্যেই সংশোধন করে। তাই টিকিট কাটার আগে Rail Sheba অ্যাপে বা eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে যাত্রার তারিখটি একবার মিলিয়ে নিন। আপনার সমুদ্রযাত্রা আনন্দের হোক।
৭
৭ মন্তব্য