Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

একাদশ শ্রেণিতে বিষয় ও বিভাগ পরিবর্তনের নিয়ম, আবেদন পদ্ধতি ও আবেদন ফরম ২০২৬

➡️এক ক্লিকে বিস্তারিত পড়ুন

➡️এক ক্লিকে বিস্তারিত পড়ুন

➡️এক ক্লিকে বিস্তারিত পড়ুন






























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































কলেজে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর অনেকেরই মনে হয়, ভুল বিভাগটা নিয়ে ফেলেছি। বিজ্ঞানের গণিত-পদার্থবিজ্ঞান টানতে কষ্ট হচ্ছে, কিংবা ব্যবসায় শিক্ষায় গিয়ে বুঝলেন মানবিকই আসলে ভালো লাগত। কারও আবার শুধু চতুর্থ বিষয়টা বদলানোর দরকার হয়। তখন সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘোরে: একাদশ শ্রেণিতে বিষয় পরিবর্তন কি আদৌ করা যায়?

যায়। তবে যখন ইচ্ছা তখন নয়। প্রতি বছর শিক্ষা বোর্ড একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেয়, আর সেই সময়ের মধ্যেই নিজের কলেজের মাধ্যমে ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। সময় পার হয়ে গেলে সাধারণত আর সুযোগ থাকে না।

এই লেখায় একাদশ শ্রেণিতে বিষয় পরিবর্তনের নিয়ম, বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তনের আবেদন, ফি, সময়সীমা, কাগজপত্র আর বিষয় পরিবর্তনের আবেদন ফরমের নমুনা একসঙ্গে পাবেন। ইংরেজিতে যাকে Class 11 subject change বা HSC group change বলা হয়, এখানে সেটাই আলোচনার বিষয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় বিভাগ পরিবর্তন নিয়ে যা আছে, সেটাও যোগ করা হয়েছে।

এক নজরে (Quick Overview)

বিষয়

তথ্য

কারা আবেদন করতে পারেন

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা

কী কী বদলানো যায়

বিষয়, বিভাগ (গ্রুপ), শিফট, ভার্সন ও ছবি। এর পাশাপাশি ভর্তি বাতিল ও কলেজ পরিবর্তনের কার্যক্রমও চলে

কোথায় আবেদন করবেন

নিজের কলেজে

প্রক্রিয়া কেমন

কলেজ বোর্ডের অনলাইন পোর্টালে আপনার তথ্য সংশোধন করে দেয়। বোর্ড অনুমোদন দিলে পরিবর্তন কার্যকর হয়

ফি (ঢাকা বোর্ড)

প্রতি বিষয় ২০০ টাকা, বিভাগ পরিবর্তন ৮০০ টাকা

আবেদনের সময়

প্রতি বছর বোর্ড ঘোষণা করে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বোর্ডে ছিল ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৫

বোর্ডে যেতে হবে কি

না। ঢাকা বোর্ডে বিটিসি ছাড়া বাকি সব কাজ অনলাইনে হয়

 

ফি ও সময়ের তথ্য মূলত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেওয়া। অন্য বোর্ডে তারিখ ও ফি আলাদা হতে পারে, তাই আবেদনের আগে নিজের বোর্ডের সর্বশেষ নোটিশ দেখে নিন।

একাদশ শ্রেণিতে বিষয়, বিভাগ, শিফট ও ভার্সন পরিবর্তন: পার্থক্য কী?

অনেকে বিষয় পরিবর্তন আর বিভাগ পরিবর্তনকে এক করে ফেলেন। বোর্ডের হিসাবে এগুলো আলাদা কাজ, ফিও আলাদা।

ধরন

মানে কী

উদাহরণ

বিষয় পরিবর্তন

নিজের বিভাগের মধ্যেই এক বিষয়ের বদলে আরেকটি বিষয় নেওয়া

মানবিকে ঐচ্ছিক বিষয় পৌরনীতির বদলে ভূগোল

বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তন

এক শাখা ছেড়ে অন্য শাখায় যাওয়া

বিজ্ঞান থেকে ব্যবসায় শিক্ষা

চতুর্থ বিষয় পরিবর্তন বা বাতিল

অতিরিক্ত বিষয়টা বদলানো বা একেবারে বাদ দেওয়া

চতুর্থ বিষয় বাতিল

শিফট পরিবর্তন

কলেজের এক শিফট থেকে অন্য শিফটে যাওয়া

দিন শিফট থেকে সকাল শিফট

ভার্সন পরিবর্তন

বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের মধ্যে বদল

বাংলা ভার্সন থেকে ইংরেজি ভার্সন

ছবি পরিবর্তন

তথ্যে থাকা ছবি সংশোধন

ভুল ছবি ঠিক করা

 

একাদশ শ্রেণিতে বিভাগ পরিবর্তনের নিয়ম

বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ আসলে দুই জায়গায় আসে। একটি ভর্তির আবেদনের সময়, আরেকটি ভর্তি হওয়ার পর। দুটোর নিয়ম আলাদা।

ভর্তির আবেদনের সময় বিভাগ পরিবর্তন (২০২৬-২৭ নীতিমালা)

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ভর্তি নীতিমালায় এসএসসির বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। মূল নিয়মগুলো এমন:

•        এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা, এই তিন বিভাগের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারেন।

•        মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের বিভাগে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।

•        বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা, যেকোনো বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারেন।

•        বিভাগ পরিবর্তন করে আবেদন করলে নিজ প্রতিষ্ঠানের কোটা কার্যকর হয় না।

•        মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে বিভাগ নির্বাচনের সুযোগ আছে।

একটা কথা মাথায় রাখা ভালো। নীতিমালায় সুযোগ থাকলেও কলেজ নিজের মতো ন্যূনতম জিপিএ ঠিক করতে পারে। যেমন এ বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ৫, ব্যবসায় শিক্ষায় ৪.৫০ আর মানবিকে ৩.৫০ চাওয়া হয়েছে। আপনার পছন্দের কলেজের শর্ত আলাদা হতে পারে। ভর্তির পরবর্তী ধাপ বা নিশ্চায়নের সময়সূচি জানতে ভর্তি পোর্টালের সর্বশেষ নোটিশ দেখুন।

ভর্তি হওয়ার পর বিভাগ পরিবর্তন

ভর্তি হওয়ার পর বিভাগ বদলাতে চাইলে বোর্ডের সংশোধন কার্যক্রমের সময়ে আবেদন করতে হয়। ঢাকা বোর্ডে এর ফি ৮০০ টাকা। আবেদন জমা দিতে হয় নিজের কলেজে, তারপর কলেজ বোর্ডের পোর্টালে সংশোধন করে। নতুন বিভাগে আপনাকে নেওয়া হবে কি না, সেটা অনেকটাই কলেজের আসন ও নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে কলেজের একাডেমিক শাখায় একবার কথা বলে নিন।

বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় যাওয়া তুলনামূলক সহজ। উল্টো পথে, মানে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা থেকে বিজ্ঞানে যাওয়ার সুযোগ ভর্তি নীতিমালায় রাখা হয়নি বলে জানা যায়। আপনার কলেজে ও বোর্ডে ঠিক কী নিয়ম চলছে, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

একাদশ শ্রেণিতে বিষয় পরিবর্তনের নিয়ম

কোন বিষয়গুলো বদলানো যায়

বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি সাধারণত সব বিভাগের জন্যই আবশ্যিক, তাই এসব নিয়ে বদলের প্রশ্ন ওঠে না। বদল হয় বিভাগভিত্তিক নির্বাচনী বা ঐচ্ছিক বিষয়ে, আর চতুর্থ বিষয়ে। মানবিকের কেউ হয়তো পৌরনীতির বদলে ভূগোল নিতে চান, কেউ আবার চতুর্থ বিষয়টাই পাল্টাতে চান।

সব কলেজে সব বিষয় চালু থাকে না। যে বিষয়ে যেতে চান, সেটা আপনার কলেজে পড়ানো হয় কি না আর সেখানে আসন আছে কি না, আগে জেনে নিন। কিছু কলেজে নির্দিষ্ট বিভাগে নির্দিষ্ট বিষয় বাধ্যতামূলকও থাকে। যেমন ভিকারুননিসায় বিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় বা চতুর্থ বিষয় হিসেবে উচ্চতর গণিত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চতুর্থ বিষয় পরিবর্তন বা বাতিল

চতুর্থ বিষয় পরিবর্তনের আবেদনও একই পথে হয়। আর চতুর্থ বিষয় বাতিল করতে চাইলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বোর্ডে কোনো ফি লাগেনি। এইচএসসির ফলাফলে চতুর্থ বিষয়ের ২ এর ওপরের পয়েন্ট মোট জিপিএতে যোগ হয়, তাই বাদ দেওয়ার আগে একবার হিসাব কষে নিন।

আবেদনের সময়সীমা: কখন আবেদন করা যায়

একাদশ শ্রেণির বিষয় ও বিভাগ পরিবর্তনের কোনো একক জাতীয় তারিখ নেই। প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড নিজের বিজ্ঞপ্তিতে সময় জানায়, আর সেটা বছরে বছরে বদলায়। বিগত কয়েক বছরের কিছু উদাহরণ দেখলে ধারণা পাবেন।

শিক্ষাবর্ষ

বোর্ড

আবেদনের সময়

২০২৫-২৬

ঢাকা

বিশেষ বিবেচনায় বর্ধিত সময় ৩ থেকে ১০ জুন ২০২৬। বোর্ড জানিয়েছিল, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না

২০২৪-২৫

ঢাকা

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৫

২০২২-২৩

দিনাজপুর

২৪ এপ্রিল থেকে ১৫ মে ২০২৩

২০২২-২৩

বরিশাল

শাখা পরিবর্তন ২১ মে ২০২৩ পর্যন্ত, বিষয় পরিবর্তন ৬ জুন ২০২৩ পর্যন্ত

 

একটা ধারা চোখে পড়ে। বিজ্ঞপ্তি সাধারণত ক্লাস শুরুর কয়েক মাস পরে আসে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন ব্যাচের ক্লাস সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হচ্ছে। এই লেখা তৈরির সময় এই শিক্ষাবর্ষের বিষয় পরিবর্তনের কোনো বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাইনি। বিজ্ঞপ্তি এলে সেটাই চূড়ান্ত, তাই নিয়মিত বোর্ডের ওয়েবসাইট ও কলেজের নোটিশ বোর্ড দেখতে থাকুন।

আবেদন ফি কত লাগে

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফি এমন:

সেবা

ফি

প্রতি বিষয় পরিবর্তন

২০০ টাকা

বিভাগ বা গ্রুপ পরিবর্তন

৮০০ টাকা

ভর্তি বাতিল

৬০০ টাকা

অনলাইনে কলেজ পরিবর্তন (ইটিসি)

৭০০ টাকা

বোর্ড পরিবর্তন (বিটিসি)

৭০০ টাকা (২০২৪-২৫ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)

ছবি পরিবর্তন

ফি লাগে না (২০২৪-২৫ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)

চতুর্থ বিষয় বাতিল

ফি লাগে না (২০২৪-২৫ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)

 

বিষয় পরিবর্তনের ফি প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা করে গোনা হয়। মানে একসঙ্গে দুটি বিষয় বদলালে ৪০০ টাকা। এটা বোর্ডের ফি, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে অঙ্ক বদলাতেও পারে। কলেজে ফি জমা দিলে অবশ্যই রসিদ নিয়ে রাখুন।

একাদশ শ্রেণিতে বিষয় পরিবর্তনের আবেদন পদ্ধতি: ধাপে ধাপে

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিয়মে প্রক্রিয়াটা এমন। অন্য বোর্ডের ধাপ কাছাকাছি হলেও পোর্টাল আলাদা।

ধাপ ১: বোর্ড ও কলেজের বিজ্ঞপ্তি দেখুন

প্রথমে নিজের বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ দেখুন। আবেদনের শুরু ও শেষ তারিখ, ফি আর কী কী সংশোধন করা যাবে, সব সেখানেই থাকে। কলেজের নোটিশ বোর্ডেও সাধারণত একই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

ধাপ ২: সিদ্ধান্ত পাকা করুন

ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পর পিছিয়ে আসা কঠিন। তাই আগে শিক্ষক বা অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলুন। কলেজের একাডেমিক শাখা থেকে জেনে নিন, নতুন বিষয় বা বিভাগে আসন আছে কি না।

ধাপ ৩: আবেদনপত্র লিখে কলেজে জমা দিন

কলেজের অধ্যক্ষের নামে আবেদন করুন। নিচে দুটি নমুনা দেওয়া আছে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জুড়ে দিন। ঢাকা বোর্ডের এই সংশোধনের জন্য শিক্ষার্থীদের সরাসরি বোর্ডে যোগাযোগ করতে হয় না।

ধাপ ৪: বোর্ডের নির্ধারিত ফি দিন

কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনার কাছ থেকে বোর্ডের ফি নেবে এবং সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেবে। জমার রসিদ বা প্রমাণ নিজের কাছে রাখুন।

ধাপ ৫: কলেজ অনলাইনে সংশোধন করবে

কলেজ বোর্ডের ওয়েবসাইটের OEMS বাটনে গিয়ে কলেজের ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে। এরপর আপনার চাহিদা অনুযায়ী, বিধি মেনে, বিষয় বা বিভাগের তথ্য সংশোধন করে।

ধাপ ৬: বোর্ডের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন

বোর্ড অনুমোদন দিলে তবেই পরিবর্তন কার্যকর হয়। অনুমোদনের পর সংশোধিত তথ্য কলেজ অনলাইনে দেখতে পায়। কয়েক দিন পর কলেজ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার নতুন বিষয় বা বিভাগ সিস্টেমে উঠেছে কি না। রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের আগে এই যাচাইটা খুব দরকারি।

কলেজ পরিবর্তন (ইটিসি) ও বোর্ড পরিবর্তন (বিটিসি) কীভাবে হয়

বিষয় বা বিভাগ নয়, বরং কলেজ কিংবা বোর্ড বদলাতে চাইলে পথটা একটু আলাদা। ঢাকা বোর্ডের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে ইটিসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ই-টিসি বাটনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফি দিয়ে নিজেরাই আবেদন করতে পারতেন। বিটিসির ক্ষেত্রে বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফরম নামিয়ে পূরণ করে ফিসহ বোর্ডের কলেজ শাখায় জমা দিতে হতো। এই দুটো কাজের ফি বিষয় বা বিভাগ পরিবর্তনের ফি থেকে আলাদা।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

কলেজভেদে তালিকা কিছুটা আলাদা হতে পারে। সাধারণত যা লাগে:

•        কলেজের অধ্যক্ষের নামে লেখা আবেদনপত্র

•        ভর্তির রসিদ বা কলেজের পরিচয়পত্রের ফটোকপি

•        এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার মার্কশিট ও প্রবেশপত্রের ফটোকপি

•        বোর্ডের নির্ধারিত ফি

•        কিছু কলেজে অভিভাবকের স্বাক্ষর বা সম্মতিপত্র

•        কিছু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজ ছবি

বিষয় পরিবর্তনের আবেদন ফরম ও নমুনা আবেদন (Subject Change Application Form)

ঢাকা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ফরম পূরণের কথা নেই। শিক্ষার্থী নিজের চাহিদা কলেজকে জানায়, তারপর কলেজ অনলাইনে সংশোধন করে। ফলে বেশিরভাগ কলেজে সাদা কাগজে হাতে বা কম্পিউটারে লেখা আবেদনই চলে। কিছু কলেজ নিজস্ব ছাপানো ফরম দেয়। সেটা পেলে সেটাই পূরণ করুন। শুধু বিটিসির ক্ষেত্রে বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আলাদা ফরম নামাতে হয়।

আবেদনে কী কী তথ্য থাকবে

তথ্য

কী লিখবেন

শিক্ষার্থীর নাম ও পিতার নাম

ভর্তির কাগজ বা এসএসসির সনদে যেমন আছে, হুবহু তেমন

শ্রেণি ও শিক্ষাবর্ষ

একাদশ শ্রেণি, আপনার শিক্ষাবর্ষ (যেমন ২০২৬-২৭)

রোল ও ভর্তি নম্বর

কলেজ থেকে পাওয়া রোল, আর রেজিস্ট্রেশন বা ভর্তি নম্বর থাকলে সেটাও

বর্তমান বিভাগ ও বিষয়

এখন যেটা আছে

পরিবর্তিত বিভাগ ও বিষয়

যেটা নিতে চান

পরিবর্তনের কারণ

এক-দুই লাইনে সহজ ও সৎ কারণ

মোবাইল নম্বর ও স্বাক্ষর

যোগাযোগের নম্বর, তারিখ ও আপনার স্বাক্ষর

 

নমুনা ১: বিষয় পরিবর্তনের আবেদন

তারিখ: [তারিখ]

বরাবর

অধ্যক্ষ

[কলেজের নাম]

[স্থান বা জেলা]

বিষয়: একাদশ শ্রেণিতে বিষয় পরিবর্তনের জন্য আবেদন।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার কলেজের একাদশ শ্রেণির (শিক্ষাবর্ষ: [শিক্ষাবর্ষ]) [বিভাগের নাম] বিভাগের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার রোল নম্বর [রোল]। ভর্তির সময় আমি [বর্তমান বিষয়] বিষয়টি নিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ক্লাস করে বুঝতে পারছি, এই বিষয়ে আমার আগ্রহ ও প্রস্তুতি তুলনামূলক কম। বরং [নতুন বিষয়] বিষয়টি নিয়ে পড়লে আমি আরও মনোযোগ দিয়ে পড়তে এবং ভালো ফল করতে পারব।

অতএব, বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও ফি মেনে আমার [বর্তমান বিষয়] বিষয়টি পরিবর্তন করে [নতুন বিষয়] বিষয়ে পড়ার অনুমতি প্রদান করলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।

বিনীত নিবেদক

[আপনার নাম]

রোল: [রোল নম্বর]

বিভাগ ও শাখা: [বিভাগ ও শাখা]

মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]

স্বাক্ষর: ____________

নমুনা ২: বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তনের আবেদন

তারিখ: [তারিখ]

বরাবর

অধ্যক্ষ

[কলেজের নাম]

[স্থান বা জেলা]

বিষয়: একাদশ শ্রেণিতে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আবেদন।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার কলেজের একাদশ শ্রেণির (শিক্ষাবর্ষ: [শিক্ষাবর্ষ]) [বর্তমান বিভাগ] বিভাগের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার রোল নম্বর [রোল]। ভর্তির সময় আমি [বর্তমান বিভাগ] বিভাগ বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু ক্লাস শুরুর পর বুঝতে পারছি, এই বিভাগের বিষয়গুলো আমার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মিলছে না। আমার লক্ষ্য [আপনার লক্ষ্য], আর সে কারণে [নতুন বিভাগ] বিভাগে পড়াশোনা করা আমার জন্য বেশি উপযোগী। বিষয়টি নিয়ে আমি অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং তাঁর সম্মতি রয়েছে।

অতএব, বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও ফি মেনে আমাকে [বর্তমান বিভাগ] বিভাগ থেকে [নতুন বিভাগ] বিভাগে পরিবর্তনের অনুমতি প্রদান করলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।

বিনীত নিবেদক

[আপনার নাম]

রোল: [রোল নম্বর]

বর্তমান বিভাগ ও শাখা: [বিভাগ ও শাখা]

মোবাইল: [মোবাইল নম্বর]

অভিভাবকের স্বাক্ষর: ____________

শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর: ____________

বন্ধনীর ভেতরের অংশগুলো নিজের তথ্য দিয়ে পূরণ করে নিন। কারণটা নিজের মতো করে লিখুন। আপনার আসল কারণ যত পরিষ্কার হবে, আবেদন তত বিশ্বাসযোগ্য দেখাবে।

বিষয় বা বিভাগ পরিবর্তনের আগে যা ভেবে দেখবেন

আবেদন করা সহজ। কঠিন কাজটা সিদ্ধান্ত নেওয়া। এই পাঁচটা বিষয় ভেবে নিলে পরে আফসোস কম হবে।

•        ভবিষ্যতের পড়াশোনার শর্ত: মেডিক্যাল, প্রকৌশল বা নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটে ভর্তির জন্য এইচএসসিতে নির্দিষ্ট বিভাগ ও বিষয় লাগে। যে লক্ষ্যে যেতে চান, তার ভর্তি শর্ত আগে দেখে নিন।

•        পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি: বিভাগ বদলালে সিলেবাসের প্রথম কয়েক মাস আপনার অজানা থেকে যায়। যত দেরিতে বদলাবেন, ঘাটতি পূরণ তত কঠিন হবে।

•        শুধু কঠিন লাগছে বলে নয়: প্রথম দু-তিন সপ্তাহ যেকোনো বিভাগেই ধাক্কা লাগে। আগে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন, কয়েকটা ক্লাস টেস্ট দিয়ে দেখুন। তারপরও আগ্রহ না এলে তখন বদলানোর কথা ভাবুন।

•        আসন ও কলেজের নিয়ম: নতুন বিভাগে আসন না থাকলে বা কলেজ নির্দিষ্ট জিপিএ চাইলে আবেদন গৃহীত না-ও হতে পারে।

•        সময়সীমা: বোর্ডের সময় শেষ হয়ে গেলে সুযোগ হাতছাড়া হয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে আবেদনটা দেরি না করে জমা দিন।

যেসব ভুলে আবেদন আটকে যায়

•        বিজ্ঞপ্তির সময় পেরিয়ে আবেদন করা। বোর্ড কখনো সময় বাড়ায়, যেমন ২০২৬ সালের জুনে ঢাকা বোর্ড বাড়িয়েছিল। তবে সেটা ধরে নিয়ে বসে থাকা ঠিক নয়।

•        লিখিত আবেদন না দিয়ে শুধু মুখে বলে রাখা।

•        ফি জমার রসিদ না রাখা।

•        রোল, রেজিস্ট্রেশন বা বিষয়ের তথ্যে ভুল লেখা।

•        বোর্ডের অনুমোদন হয়েছে কি না না দেখা। কলেজ আবেদন নিয়েছে মানেই পরিবর্তন হয়ে গেছে, তা নয়। বোর্ডের অনুমোদন লাগে।

•        নিজের বোর্ডের বদলে অন্য বোর্ডের তারিখ ও ফি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

একাদশ শ্রেণিতে কি বিষয় পরিবর্তন করা যায়?

হ্যাঁ। বোর্ডের ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি দিয়ে কলেজের মাধ্যমে আবেদন করলে করা যায়। সময় পার হয়ে গেলে সাধারণত সুযোগ থাকে না।

Class 11 এ subject change করতে কত টাকা লাগে?

ঢাকা বোর্ডের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতি বিষয় পরিবর্তনের ফি ২০০ টাকা। অন্য বোর্ডে ও পরের শিক্ষাবর্ষে অঙ্ক আলাদা হতে পারে।

বিভাগ পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?

একই বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগ বা গ্রুপ পরিবর্তনের ফি ৮০০ টাকা।

বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় যাওয়া যায় কি?

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা, যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারেন। ভর্তির পর বদলাতে চাইলে বোর্ডের সময়সূচি ও কলেজের আসন দেখতে হবে।

মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা থেকে বিজ্ঞানে যাওয়া যায় কি?

ভর্তি নীতিমালায় এই সুযোগ রাখা হয়নি বলে জানা যায়। তবু আপনার কলেজ ও বোর্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

বিষয় পরিবর্তনের জন্য কি বোর্ডে যেতে হবে?

ঢাকা বোর্ডে না। বিটিসি ছাড়া বিষয়, বিভাগ, ছবি পরিবর্তন ও ভর্তি বাতিলের কাজ অনলাইনে হয়, আর শিক্ষার্থী আবেদন করে নিজের কলেজে।

আবেদন করার পর বুঝব কীভাবে যে পরিবর্তন হয়েছে?

বোর্ড অনুমোদন দিলে সংশোধিত তথ্য কলেজ অনলাইনে দেখতে পায়। তাই কিছুদিন পর কলেজের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিন। বোর্ডের নোটিশ বোর্ডও নিয়মিত দেখুন।

চতুর্থ বিষয় বাতিল করতে কি ফি লাগে?

ঢাকা বোর্ডের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে চতুর্থ বিষয় বাতিলের জন্য কোনো ফি ছিল না। নতুন বিজ্ঞপ্তি এলে সেটা আবার দেখে নিন।

সময় শেষ হয়ে গেলে কী করব?

আগে নিজের কলেজের একাডেমিক শাখায় জানান। বোর্ড কখনো সময় বাড়ায়, তবে সেটা নিশ্চিত নয়। ২০২৬ সালের জুনে ঢাকা বোর্ড সময় বাড়িয়ে জানিয়েছিল, বর্ধিত সময়ের পর আর কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো হবে না।

শেষ কথা

একাদশ শ্রেণিতে বিষয় বা বিভাগ পরিবর্তন করা যায়, তবে বোর্ডের সময়, ফি আর কলেজের নিয়ম মেনে। ভুল সিদ্ধান্ত শুধরে নেওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু সেই সুযোগ বছরে সীমিত সময়ের জন্য থাকে। তাই বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন, সিদ্ধান্ত পাকা করুন, কলেজে লিখিত আবেদন দিন, ফি জমার রসিদ রাখুন আর শেষে অনুমোদন হয়েছে কি না নিশ্চিত হোন।

মন্তব্য করুন