সহকারী অধ্যাপক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঈমানের আলোয় বিশ্বস্ত পার্টনারশীপ
|
|
ঈমানের আলোয় বিশ্বস্ত পার্টনারশীপ
(তাকওয়া, সততা, আমানত ও ন্যায়ের বন্ধনে গড়ে উঠুক কল্যাণময় অংশীদারিত্ব)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
পরম করুণাময়ের নামে শুরু পরম দয়াময়,
যাঁর হুকুমে জীবন জাগে, মুছে মনের ভয়।
সকল সৃষ্টির রব যে আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়,
তাঁরই পথে চলুক জীবন, হোক হৃদয় পবিত্রময়।
ঈমান যদি অন্তরজুড়ে সত্য আলো জ্বালে,
তাকওয়া যদি পথ দেখায় জীবনেরই কালে,
আল্লাহভীতি, আনুগত্য আর আখিরাতের জ্ঞান,
মানুষকে দেয় সত্য পথে চলার দৃঢ় প্রাণ।
মানুষ একা পথ চলে না, লাগে সবার হাত,
কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা, জীবনে নানা সাথ।
কেউ হয় বন্ধু, কেউ বা সাথি, কেউ হয় অংশীদার,
সৎ নিয়তে মিললে দুজন—সমৃদ্ধ হয় সংসার।
বন্ধুত্ব যদি সত্য হয় আর অন্তর থাকে সাফ,
অংশীদারত্ব হতে পারে কল্যাণময় পথ।
ঈমান কোনো বাধা নয়, তাকওয়া নয় ভার,
বরং এগুলোই হতে পারে আস্থার অঙ্গীকার।
যে জানে তার রব আছেন, দেখেন সবই তিনি,
গোপন কথা, গোপন কাজ—কিছুই নয় যে ঋণী।
মানুষ যদি না-ও দেখে, আল্লাহ দেখেন সব,
এই বিশ্বাসে সৎ হয় মানুষ, পবিত্র হয় রব।
অন্যের ধন আমানত হলে নিজের মতো মানে,
অন্যের হক ফিরিয়ে দেয় ন্যায়নীতির টানে।
লোভ এসে ডাক দিলেও নত হয় না প্রাণ,
আখিরাতে দিতে হবে—এই থাকে জ্ঞান।
আমানত হলো ঈমানেরই উজ্জ্বল পরিচয়,
সততারই পথ ধরে মানবজীবন ধন্য হয়।
যে রাখে হক, যে রাখে কথা, যে রাখে বিশ্বাস,
তারই হাতে গড়ে ওঠে শান্তিময় সুবাস।
অংশীদারিত্ব মানে শুধু লাভের হিসাব নয়,
দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়া—এটাই সত্য হয়।
কার কতটা মূলধন আছে, দায়িত্ব কার কত,
সবকিছুই স্পষ্ট থাকুক, থাকুক সঠিক মত।
লাভের কথা আগে লিখি, ক্ষতির কথাও লিখি,
কে কী করবে, কোন পথে যাবে—থাকুক বিষয় ঠিকই।
মৌখিক কথায় আবেগ থাকে, স্মৃতি থাকে ক্ষীণ,
লিখিত চুক্তি রক্ষা করে উভয় পক্ষের ঋণ।
লিখে রাখা অবিশ্বাস নয়—স্বচ্ছতারই দিশা,
ভবিষ্যতের ভুল বোঝাবুঝি কমায় তারই আশা।
আল্লাহ দিয়েছেন নির্দেশ—লেনদেন করো লিখে,
ন্যায়বিচারের পথে চলো, সত্যকে রেখো শিখে।
বন্ধু বলে হিসাবহীন—এমন কথা নয়,
বরং বন্ধুত্ব আরও পবিত্র স্বচ্ছতায় সুন্দর হয়।
ভালোবাসা থাকুক মনে, হিসাব থাকুক ঠিক,
অধিকার যেন নষ্ট না হয়—এই হোক নীতির দিক।
সরল হও, সত্য বলো, কিন্তু থেকো সচেতন,
বিশ্বাস রাখো, পাশাপাশি রাখো সঠিক লিখন।
অন্ধ বিশ্বাস নয় তো ইসলাম, দায়িত্বশীল হও,
ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে কল্যাণটুকু লও।
কেউ যদি বলে—“বন্ধু তুমি, হিসাব কেন চাই?”
উত্তর হবে—“স্বচ্ছ থাকুক সম্পর্ক, সংশয় যেন নাই।”
হিসাব মানে অবিশ্বাস নয়, সম্পর্ক রক্ষার ঢাল,
স্বচ্ছ পথে চললে কমে বিরোধ, মুছে যায় জঞ্জাল।
যে ব্যবসায়ে মিথ্যা থাকে, সে ব্যবসায় ক্ষয়,
যে লেনদেনে খিয়ানত থাকে, তাতে শান্তি নয়।
হারাম পথে যতই বাড়ুক বাহ্যিক ধন-মান,
বরকতহীন সেই সম্পদে কোথায় শান্তির প্রাণ?
মিথ্যা দিয়ে লাভ করলে লাভ থাকে না চির,
অন্যের চোখে গোপন হলেও আল্লাহর কাছে প্রকাশিত স্থির।
আজ যে টাকা অন্যায় পথে নিজের ঘরে আনে,
কাল সে হিসাব দিতে হবে রবেরই দরবারে।
হক নষ্ট করে ধন বাড়ানো সফলতার নাম নয়,
অন্যায় লাভে বাহ্যিক হাসি, অন্তরে শান্তি নয়।
হালাল পথে অল্প রিজিক বরকতময় হয়,
আল্লাহভীরু সৎ উপার্জনেই জীবনের জয়।
তাকওয়া মানে শুধু নয় মুখে কিছু কথা,
তাকওয়া হলো কাজে সত্য, অন্তরে আল্লাহভীতি যথা।
নামাজে যে রবকে ডাকে, লেনদেনেও মানুক তাঁকে,
সত্যবাদী হোক সে মানুষ, ন্যায় থাকুক কাজে।
আল্লাহর আনুগত্য যদি জীবনেরই মূল,
তবে কেন অন্যের হক নেব অন্যায় করে ভুল?
কেন তবে অংশীদারের গোপন ধন হরণ?
কেন তবে মিথ্যা হিসাব? কেন প্রতারণা-চরণ?
মুমিন জানে—রিজিকদাতা একমাত্র মহান রব,
হালাল পথে থাকলে তিনি দেন উত্তম সব।
হারাম পথে ছুটে গিয়ে কেন হবে অস্থির?
সবর করে হালাল চাওয়া—মুমিনেরই নীতি ধীর।
আখিরাতের বিশ্বাস মানুষকে থামায়,
অন্যায় পথে পা বাড়ালে বিবেক তাকে নামায়।
দুনিয়ার আদালত এড়িয়ে গেলেও যদি,
আল্লাহর আদালত থেকে পালানোর পথ নেই কোনোদিনই।
সেদিন থাকবে না বন্ধুত্ব, থাকবে না পরিচয়,
থাকবে শুধু কর্মের হিসাব—কী ছিল সত্য, কী ছিল ক্ষয়।
কার হক রেখেছি, কার হক নিলাম, কী ছিল মনের ভাব,
সবকিছুরই একদিন হবে ন্যায়ভিত্তিক হিসাব।
তাই আজই হোক সততার পথে দৃঢ় অঙ্গীকার,
অন্যের হক ফিরিয়ে দেব—এটাই হোক অহংকার।
প্রতিশ্রুতি দিলে রাখব কথা, করব না বিশ্বাসঘাত,
বন্ধুত্ব হবে সম্মানের, অংশীদারত্ব হবে সুপ্রভাত।
যদি কোনো দিন মতভেদ আসে দুজনেরই মাঝে,
রাগ না করে সত্য খুঁজি শান্ত সংলাপ সাজে।
হিসাব দেখি, দলিল দেখি, শুনি উভয় পক্ষ,
ন্যায় যেখানে প্রতিষ্ঠিত—সেখানেই হোক লক্ষ্য।
অপমান নয়, প্রতিশোধ নয়, চাই না কারও ক্ষতি,
ন্যায়ের পথে সমাধানই হোক মুমিনের গতি।
অধিকার যে যার প্রাপ্য, ফিরিয়ে দিই তা,
ক্ষমা যদি কল্যাণ আনে—ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ পথটা।
কখনো যদি ভুল হয়ে যায়, স্বীকার করি ভুল,
সংশোধনের দরজা খুলি, মুছে দিই সেই ধূল।
ভুল মানুষ করতেই পারে, ভুলে যেন না থাকি,
তাওবা করে সৎ পথে ফিরে রবের দিকে তাকাই।
বন্ধুত্ব হবে হৃদয়ের, ব্যবসা হবে নিয়মে,
দুয়ের মাঝে ন্যায় থাকবে সুন্দর সুষম ভূমে।
আবেগ থাকবে সম্পর্কজুড়ে, দায়িত্ব থাকবে পাশে,
স্বচ্ছতারই সেতু গড়ে বন্ধন হবে হাসে।
অংশীদারের সম্পদ মানে নিজের নয় তো সব,
নিজের অংশটুকু নাও, অন্যেরটুকু রবেরই রব।
কারও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে লাভের হিসাব নয়,
ন্যায়ের পথে চলার মাঝেই প্রকৃত সাফল্য হয়।
যে বন্ধু সত্য বলে, সে-ই সত্যিকার বন্ধু,
বিপদ এলে পাশে থাকে, নয় কথারই ইন্দু।
যে অংশীদার হক বোঝে, আমানত রাখে ঠিক,
তার সঙ্গে পথ চলাতে থাকে কল্যাণের দিক।
বন্ধুত্বে যদি ঈমান থাকে, থাকে আল্লাহভীতি,
তবে সে বন্ধুত্ব হতে পারে কল্যাণেরই নীতি।
অংশীদারে যদি থাকে সততা ও বিশ্বাস,
তবে যৌথ উদ্যোগে ফুটতে পারে সফলতার সুবাস।
তবে মানুষ দেখে শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়,
চরিত্র, কর্ম, সততা—এসবেই মূল্য হয়।
কথায় সবাই ভালো হতে পারে, কাজে পরিচয়,
আমানত এলে বোঝা যায় কে সত্য, কে অভিনয়।
তাই কাউকে শুধু কথায় নয়, কাজে চিনে নাও,
চুক্তির শর্ত স্পষ্ট করে দায়িত্ব বুঝে নাও।
মূলধন আর হিসাব রাখো সুশৃঙ্খল নিয়মে,
তবেই সম্পর্ক টিকে থাকবে আস্থারই ভূমে।
ঈমান হবে অন্তরের আলো,
তাকওয়া হবে পথ;
সততা হবে ব্যবসার প্রাণ,
ন্যায় হবে তার রথ।
আমানত হবে দৃঢ় প্রাচীর,
স্বচ্ছতা হবে সেতু;
বন্ধুত্ব হবে মধুর বন্ধন,
আখিরাত হবে লক্ষ্য।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকেরই, রঙ বদলায় কাল,
আজ যে আছে সম্পদের মাঝে, কাল সে নিঃস্ব কাল।
তাই সম্পদ নয় জীবনের সব, নয় সাফল্যের মান,
হালাল পথে অর্জিত ধনেই পায় মর্যাদা প্রাণ।
অল্প হলেও হালাল রিজিক হৃদয় করে তৃপ্ত,
অন্যায় ধনের পাহাড় থেকেও সে জীবন হয় মুক্ত।
বরকত হলো আল্লাহর দান, শুধু সংখ্যা নয়,
সৎ উপার্জন, শান্ত হৃদয়—এতেই প্রকৃত জয়।
যে অংশীদার আল্লাহভীরু, সে রাখবে হিসাব ঠিক,
গোপন করে লাভ বাড়াবে না, থাকবে স্বচ্ছ দিক।
যে অংশীদার আখিরাতকে সত্য বলে মানে,
অন্যের হক নষ্ট করতে ভয় জাগে তার প্রাণে।
তাই অংশীদারত্ব গ্রহণে বাধা নয় ঈমান,
তাকওয়া নয় দুর্বলতা, নয় সরলতা অপমান।
বরং সৎ মানুষের সঙ্গে মিলুক কর্মের হাত,
ন্যায়ের পথে গড়ে উঠুক সুন্দর জীবনের প্রভাত।
আল্লাহর নামে শুরু হোক প্রতিটি উদ্যোগ,
হালাল পথে চলুক জীবন, দূরে থাকুক দুর্ভোগ।
পরামর্শে হোক সিদ্ধান্ত, সত্য হোক মূলমন্ত্র,
অন্যের হক রক্ষা করাই হোক সবারই অন্তর।
বন্ধু যখন অংশীদার, সম্পর্ক রাখো পবিত্র,
স্বার্থের টানে যেন না হয় হৃদয় কখনো ক্ষুদ্র।
লাভ এলে ভাগ করে নাও ন্যায়ের নির্ধারিত মানে,
ক্ষতি এলে দায়িত্ব নাও সত্য ও চুক্তির টানে।
কারও প্রাপ্য আটকে রেখে নিজের সুখ না চাই,
অন্যের চোখের অশ্রু দিয়ে নিজের প্রাসাদ নাই।
মানুষের হক মানুষেরই—এ সত্য মনে রাখি,
রবের কাছে জবাব দিতে হবে—এই চেতনায় থাকি।
হে আল্লাহ, দাও আমাদের সত্যের পথে চলার শক্তি,
দাও আমানত রক্ষার সাহস, দাও ন্যায়ের ভক্তি।
দাও তাকওয়া, দাও সততা, দাও পবিত্র প্রাণ,
হারাম থেকে দূরে রেখে হালাল করো জীবনের দান।
বন্ধুত্বে দাও বিশ্বস্ততা, সম্পর্কে দাও মায়া,
অংশীদারে দাও আমানত, মুছে দাও সব ছায়া।
হিংসা, লোভ, প্রতারণা থেকে রাখো আমাদের দূর,
সত্য-ন্যায়ের আলোয় ভরাও জীবন ভরপুর।
যে হাতে থাকবে হিসাবখাতা, সে হাতে থাকুক ভয়,
আল্লাহ দেখেন—এই বিশ্বাসে অন্যায় যেন ক্ষয়।
যে মুখে থাকবে অঙ্গীকার, সে মুখ সত্য বলুক,
যে হৃদয়ে ঈমান আছে, সে হৃদয় হক রাখুক।
দুনিয়াতে হোক কর্ম আমাদের ন্যায়ভিত্তিক,
আখিরাতে হোক সফলতা—এই হোক চূড়ান্ত দিক।
সম্পদ, বন্ধুত্ব, অংশীদারি—সবই হোক সৎ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের পরম লক্ষ্য।
ঈমানের আলোয় গড়ি জীবন,
তাকওয়ায় রাখি মন,
সততার পথে চলুক সবার
কর্ম ও আয়োজন।
বন্ধুত্ব হোক বিশ্বাসভরা,
অংশীদারত্ব ন্যায়,
আমানতের হক রক্ষা করে
জীবন হোক ধন্যপ্রায়।
যে পথে আল্লাহ সন্তুষ্ট, সেই পথেই চলি,
সত্যকে বুকে ধারণ করে মিথ্যাকে দিই বলি।
মানুষের হক ফিরিয়ে দিয়ে রাখি অন্তর শুদ্ধ,
ঈমান-তাকওয়া-সততায় হোক জীবন সমৃদ্ধ।
শেষে শুধু এই প্রার্থনা—হে দয়াময় রব,
আমাদের সব কর্ম করো তোমার কাছে কবুল।
সততার পথে রাখো মোদের, হক আদায়ে দাও,
বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বে ন্যায়ের দীপ জ্বালাও।
হে আল্লাহ, অন্তরে দাও ঈমানের আলো,
তাকওয়ার পথে রাখো মোদের, করো জীবন ভালো।
আমানত ও সততায় দাও অটুট থাকার দাও,
হালাল পথে রিজিক দাও, সত্যের তাওফিক দাও।
দুনিয়াতে শান্তি দাও, আখিরাতে নাজাত দাও—
তোমার সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দাও।
আমিন।
১৬
২৬ মন্তব্য