Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পড়ো তোমার রবের নামে (সূরা আল-আলাকের আলোকে

পড়ো তোমার রবের নামে

(সূরা আল-আলাকের আলোকে জ্ঞান, ঈমান, বিনয়, তাকওয়া ও সিজদার মহাগাথা)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

বিসমিল্লাহর নামে শুরু, হে দয়াময় মহান,
তোমার দানে জাগে প্রাণ, জাগে জ্ঞানের গান।
অন্ধকারে পথ হারালে তুমি দাও যে আলো,
তোমার হুকুম মেনে চলাই জীবনেরই ভালো।

সৃষ্টি যার, শিক্ষা তাঁর, জ্ঞানের তিনিই দাতা,
তাঁরই নামে খুলুক আজ জ্ঞানের সবই পাতা।
কলম হাতে সত্য লিখি, সত্য হোক পরিচয়,
জ্ঞান যেন মানুষ গড়ে, মুছে মনের ভয়।

 “পড়ো তোমার রবের নামে”—আহ্বান এলো আগে,
জ্ঞান-আলোর দীপ জ্বালাও জীবনেরই ভাগে।
যিনি সৃষ্টি করেছেন সব, তিনিই রব মহান,
তাঁরই নামে জ্ঞান অর্জন—তাঁরই নামে জ্ঞান।

পড়া শুধু শব্দ নয়, সত্য বোঝার পথ,
পড়া মানে চিনতে শেখা, সঠিক করা মত।
পড়া মানে জ্ঞানের আলোয় সত্যটাকে চেনা,
ভুলের পথে না গিয়ে হকের পথে চলা।

জ্ঞান যদি হয় রবের নামে, জ্ঞান হয় যে আলো,
সে জ্ঞান মানুষ গড়ে তোলে, করে জীবন ভালো।
জ্ঞান যদি অহংকার আনে, হারায় সত্যবোধ,
তাই জ্ঞানের সাথে চাই যে ঈমান, নীতি, বোধ।

আলাক থেকে মানুষ সৃষ্টি—কী অপার নিদর্শন,
ক্ষুদ্র শুরু মনে করায় বিনয়েরই দর্শন।
আজকে মানুষ শক্তিমান, জ্ঞানী কিংবা ধনী,
তবু সে তো রবের বান্দা—সত্য এটাই জানি।

দেহ পেয়েছি, প্রাণ পেয়েছি, পেয়েছি চিন্তাশক্তি,
চোখের আলো, কানের শ্রবণ—সবই রবের ভক্তি।
শক্তি, সৌন্দর্য, বুদ্ধি, জ্ঞান—সবই তাঁরই দান,
নিয়ামতের দাতা যিনি, তিনিই পরম মহান।

তাই কেন অহংকার করি, কিসের এত বড়াই?
আজ যে আছে শক্তি হাতে, কাল তা কোথায় পাই?
মাটির মানুষ, মাটির দেহ, ক্ষণিক জীবনের ঘর,
রবের কাছে ফিরতে হবে—ভুলে যেও না পর।

 “পড়ো”—আবার আহ্বান এলো, রব যে মহামান,
দয়ার সাগর, অনুগ্রহে ভরিয়ে দেন প্রাণ।
মানুষ যখন কিছু জানে, তাঁরই দানে জানে,
অজানাকে জ্ঞাত করে তিনি আপন কৃপাদানে।

জন্মের পরে কিছু জানত না মানুষ এই ধরণী,
তাঁরই দানে শেখে মানুষ ভাষা, জ্ঞান ও বাণী।
তাঁরই দানে শেখে শিশু হাসতে, বলতে, চলতে,
তাঁরই দানে জ্ঞানের পথে পারে মানুষ চলতে।

তাই জ্ঞান পেয়ে বলো না, “আমি সবার চেয়ে বড়,”
জ্ঞানী হলে বিনয় ধরো, অহংকার সব ঝরো।
জ্ঞান যতই বাড়বে তোমার, তত বিনয় চাই,
নিজের সীমা বুঝতে শেখো—রবের তুলনা নাই।

কলম দিয়ে জ্ঞান লেখা, কলম দিয়ে শিক্ষা,
কলম বয়ে প্রজন্ম পায় জ্ঞানের নির্মল দীক্ষা।
একটি কলম লিখে যেতে পারে যুগের কথা,
সত্য জ্ঞানের আলো ছড়ায় মুছে মনের ব্যথা।

বইয়ের পাতায় জ্ঞান জমে, থাকে যুগের পরে,
শিক্ষকের মুখে জ্ঞান ছড়ায় শিক্ষার্থীদের ঘরে।
লেখকের কলম সত্য লিখে জাগায় বিবেকবোধ,
জ্ঞান যদি হয় কল্যাণময়, দূর হয় অজ্ঞতাবোধ।

তাই কলম হোক সত্যের সাথী, মিথ্যার নয় বাহন,
কলম হোক ন্যায়ের কণ্ঠ, হোক মানবতার সাধন।
যে জ্ঞান মানুষের কল্যাণে, সে জ্ঞান হোক অর্জন,
রবের সন্তুষ্টির পথে হোক জ্ঞানেরই বিসর্জন।

 “শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”—
এই বাণীতে খুলে যায় জ্ঞানের নতুন জানালা।
মানুষ যত জ্ঞানী হোক, অজানা থাকে ঢের,
রবের জ্ঞান সীমাহীন, তাঁর জ্ঞানের নেই তো শেষ।

তাই জ্ঞানীর মনে থাকা চাই বিনয়েরই ছায়া,
“
আমি জানি”—এই অহংকার যেন না দেয় মায়া।
আজ যে জ্ঞান অর্জন করলে, কালও শিখতে হবে,
সত্য জেনে সত্য পথে চলতে হবে সবে।

জ্ঞান শুধু মুখস্থ করা, এমন নয় শিক্ষা,
জ্ঞান মানে সত্য বোঝা, চরিত্রে তার দীক্ষা।
জ্ঞান মানে ন্যায়কে ধরা, অন্যায় থেকে সরা,
জ্ঞান মানে রবের পথে নিজেকে সমর্পণ করা।

জ্ঞান যদি ঈমানহীন হয়, কোথায় তার কল্যাণ?
আমল ছাড়া জ্ঞান কি তবে পূর্ণতারই দান?
জ্ঞান হবে আলোর মতো, দেখাবে সত্য পথ,
ঈমান হবে হৃদয়ের শক্তি, আমল হবে রথ।

সত্য জেনে সত্য বলি, হক আদায় করি,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে ন্যায়ের পথে চলি।
জ্ঞান যদি চরিত্র গড়ে, জ্ঞান তখনই ধন্য,
মানুষ যদি মানুষ হয়, জ্ঞান তখনই গণ্য।

শুধু বড় ডিগ্রি নয়, বড় হতে হবে মনে,
সত্য, সততা, মানবতা ফুটুক আচরণে।
শিক্ষার সাথে আদব চাই, জ্ঞানের সাথে নীতি,
ঈমান, আমল, উত্তম চরিত্র—সফলতার গীতি।

মানুষ যখন মনে করে—“আমার অভাব নেই,”
তখন তার অন্তর মাঝে অহংকার জাগে সেই।
সম্পদ পেয়ে, ক্ষমতা পেয়ে ভুলে যায় সে রব,
নিজের শক্তি মনে করে সবকিছুরই সব।

“আমি পারি, আমি বড়”—এই যে মিথ্যা গর্ব,
মানুষকে সে ঠেলে দেয় সীমালঙ্ঘনের পথ।
সম্পদ, পদ, ক্ষমতা—সব ক্ষণিকের মায়া,
রবের দান ভুলে গেলে হারায় সত্যের ছায়া।

আজকে যার প্রাসাদ আছে, কাল সে কোথায় যাবে?
আজকে যার ক্ষমতা আছে, কাল তা কার হাতে রবে?
দুনিয়ার সব পরিচয় একদিন হবে ক্ষয়,
রবের কাছে প্রত্যাবর্তন—এটাই সত্য হয়।

নিশ্চয়ই একদিন ফিরতে হবে রবেরই কাছে,
দুনিয়ার সব ব্যস্ততা তখন পেছনে আছে।
ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা, কিছুই যাবে না সাথে,
মানুষ যাবে একাকী তার রবেরই দরবারে।

তাই আজই নিজেকে গড়ো, আজই করো ভাব,
কী নিয়ে রবের সামনে দাঁড়াবে তোমার জবাব?
কথায় ছিল সত্য কত, কাজে ছিল ন্যায়?
কারও হক কি নষ্ট করেছ—ভেবো আপন ঠাঁই।

আজকের সুযোগ কালকে আর নাও তো ফিরে পেতে,
তাই তওবা করো রবের কাছে, সত্য পথে যেতে।
জীবন যতটুকু আছে, কাজে লাগাও তা,
রবের সন্তুষ্টির পথে কাটুক জীবনটা।

 “সে কি জানে না—আল্লাহ দেখেন?”—বাণীটি বড় গভীর,
মানুষের চোখ এড়ালেও রবের নজর স্থির।
ঘন অন্ধকার, নির্জন রাত, বন্ধ ঘরের দ্বার,
আল্লাহর জ্ঞান থেকে গোপন নয় কোনো কারবার।

মানুষকে তুমি ফাঁকি দিতে পারো কখনো হয়,
রবের কাছে গোপন থাকে না তোমার কোনো ভয়।
মনের কথা, গোপন কাজ, নীরব রাতের ক্ষণ,
সবই জানেন সর্বজ্ঞ রব, সবই তাঁর জ্ঞান।

তাই একা হলে অন্যায় কোরো না কোনোদিন,
মানুষ না দেখলেও দেখেন আল্লাহ প্রতিদিন।
এই অনুভব জাগুক মনে—রব আছেন যে সাথে,
তাকওয়ার আলো জ্বেলে দাও জীবনেরই পথে।

তাকওয়া মানে রবের প্রতি গভীর সচেতনতা,
তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে দূরে থাকা সদা।
হালাল পথে জীবন গড়ো, হারাম থেকে ফেরো,
রবের ভয় ও ভালোবাসায় অন্তরটাকে ভরো।

তাকওয়া শুধু মুখের কথা—এমন নয় তা,
কথায়, কাজে, আচরণে প্রকাশ পাবে যা।
বেচাকেনায় সত্য থাক, মাপে রেখো ঠিক,
অন্যের হক নষ্ট কোরো না, এ পথ বড় পবিত্র।

শিক্ষার্থী হোক, শিক্ষক হোক, ব্যবসায়ী কিংবা শ্রমিক,
প্রত্যেকে নিজ দায়িত্বে হোক সত্যেরই পথিক।
রবের নজর মনে রেখে জীবন করো গড়ন,
তাকওয়ার আলোয় সুন্দর হোক প্রতিটি আচরণ।

যে বান্দা সালাত পড়ে, তাকে বাধা দিও না,
রবের ইবাদতের পথে প্রতিবন্ধক হয়ো না।
সালাত হলো বান্দার সাথে রবের বন্ধন,
সালাতে জাগে হৃদয়জুড়ে ঈমানের স্পন্দন।

নিজে সালাত কায়েম করো, পরিবারকেও বলো,
সুন্দর কথা, উত্তম আচরণ, হিকমতের পথে চলো।
কঠোরতা নয়, কোমল বাণী, সুন্দর উপদেশ দাও,
নিজের আমল দিয়ে আগে উত্তম দৃষ্টান্ত হও।

সালাত শুধু দেহের কাজ নয়, হৃদয়েরও ডাক,
রবের সামনে মাথা নত, মুছে অন্তরের ফাঁক।
সালাত মানুষকে শেখায় রবের কাছে থাকা,
অন্যায় থেকে দূরে সরে সত্য পথে চলা।

যে চলে সঠিক পথে, তাকওয়ার কথা বলে,
তার পথে কেন বাধা হবে? কেন তাকে ঠেলে?
সত্য যদি ডাকে তোমায়, সত্যের পথে চলো,
রবের দেওয়া হিদায়াতকে হৃদয় দিয়ে ধরো।

হিদায়াতের পথ যে পবিত্র, সত্য যারই আলো,
সে পথ ধরে জীবন গড়লে পরিণামও ভালো।
তাকওয়ার পথে যে মানুষ নিজেকে রাখে স্থির,
দুনিয়ার ঝড় এলেও তার অন্তর থাকে ধীর।

মিথ্যার ডাকে সাড়া দিও না, অন্যায় থেকে ফেরো,
রবের পথে অবিচল থেকে ঈমানকে দৃঢ় করো।
হকের পথে একা হলেও সত্যকে তুমি ধরো,
রবের ওপর ভরসা রেখে ন্যায়ের পথে চলো।

জ্ঞান যদি অহংকার হয়, সে জ্ঞান নয় আলো,
সম্পদ যদি গর্ব বাড়ায়, সে সম্পদও ভালো?
ক্ষমতা যদি জুলুম আনে, মর্যাদা যদি গর্ব,
তবে সে সব মানুষকে দেয় পতনেরই পথ।

মানুষ নিজের শুরু যদি একবার মনে রাখে,
অহংকারের বিষ তখন আর হৃদয়ে স্থান না রাখে।
যে এসেছে ক্ষুদ্র হয়ে, যাবে একদিন ক্ষয়,
রবের সামনে দাঁড়ানোর কথা ভুলে গেলে সর্বনাশ হয়।

তাই বড় হলে নত হও, জ্ঞানী হলে নম্র,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, হও না কখনো উদ্ধত।
সম্পদ পেলে শুকরিয়া দাও, করো হকের দান,
নিয়ামতের মালিক যিনি, তিনিই পরম মহান।

শেষ বাণী যেন হৃদয় ছুঁয়ে বলে বারবার—
“
সিজদা করো, নৈকট্য চাও রবের দরবার।”
মাথা নত করো তাঁরই সামনে বিনয়ের সাথে,
রবের কাছে ফিরে যাও অন্তরেরই ব্যথাতে।

সিজদাতে মানুষ শেখে—আমি নই স্বাধীন,
আমি রবের বান্দা, তাঁরই দয়া আমার ঋণ।
শক্তি আমার সীমিত, জ্ঞান আমার অল্প,
রবের দয়া ছাড়া আমি অসহায়, অতি দুর্বল।

কপাল যখন মাটিতে রাখি মহান রবের তরে,
অহংকারের দেয়াল তখন ভেঙে পড়ে ঝরে।
সিজদাতে যে শান্তি আসে, দুনিয়া তা কী জানে?
বান্দা তখন রবের কাছে অশ্রুসিক্ত প্রাণে।

সূরার শুরু—“পড়ো”, শেষে—“সিজদা করো”,
এই দুই বাণী জীবনজুড়ে হৃদয়ে ধারণ করো।
পড়ো, যাতে সত্য বোঝো; জেনো, যাতে চলো,
জ্ঞান পেয়ে রবকে ভুলো না, তাঁরই পথে চলো।

জ্ঞান তোমাকে পথ দেখাবে, ঈমান দেবে বল,
আমল তোমার জীবন গড়বে, তাকওয়া রাখবে চল।
তাকওয়ার পথে চলতে চলতে নত হবে শির,
সিজদাতে রবের নৈকট্য চাও অন্তরভর।

এ যেন জীবনের পথে এক পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা,
জ্ঞান-ঈমান-আমল মিলে হোক চরিত্রের দীক্ষা।
অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে সত্যবোধ,
সত্য থেকে তাকওয়া জাগুক—দূর হোক সব গ্লানি-দোষ।

হে শিক্ষার্থী, পড়তে শেখো রবের নামে আগে,
জ্ঞান যেন সত্যের আলো ছড়ায় তোমার ভাগে।
ভালো ফলের সাথে সাথে ভালো মানুষ হও,
শিক্ষার সাথে আদব-নীতি হৃদয়ের মাঝে বও।

নকল করে জ্ঞান নয়, সত্য পথে জ্ঞান চাও,
অসৎ পথে সাফল্য নয়, হালাল পথে যাও।
শিক্ষক, পিতা-মাতা সবার সম্মান করো,
ছোট-বড় সব মানুষেরই অধিকার আদর করো।

ডিগ্রি তোমার পরিচয় নয়, চরিত্র হবে চিহ্ন,
সত্যবাদী, আমানতদার হও—এই হোক মহৎ লক্ষণ।
জ্ঞান তোমার শক্তি হোক, বিনয় হোক ভূষণ,
তাকওয়া হোক পথের আলো, সৎকর্ম হোক সাধন।

হে শিক্ষক, কলম হাতে জ্ঞানের আলো দাও,
শুধু পাঠ নয়, উত্তম চরিত্র গড়ার শিক্ষা দাও।
তোমার কথা, তোমার আচরণ শিক্ষার্থীর কাছে দৃষ্টান্ত,
তাই নিজে সত্য পথে থেকো, হও না কখনো ভ্রান্ত।

শুধু বইয়ের পাতা নয়, জীবন পড়াও সাথে,
সত্যবাদিতা শেখাও তাদের, ন্যায় শেখাও হাতে।
শৃঙ্খলা ও মানবতা, দায়িত্ববোধ শেখাও,
আল্লাহর নজর মনে রেখে সৎ জীবন দেখাও।

একজন শিক্ষক গড়ে দিতে পারেন বহু প্রাণ,
তাঁর হাতে গড়ে ওঠে আগামী দিনের জ্ঞান।
কলম হোক আমানত তাঁর, শিক্ষা হোক ইবাদত,
মানুষ গড়ার মহৎ কাজে থাকুক আন্তরিকতা।

ঘরে যদি মনে রাখি—আল্লাহ দেখেন সব,
তবে কমবে অন্যায় কথা, জুলুম, হিংসা, রব।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দাও সম্মান, দাও মান,
সন্তানের সামনে ফুটুক সুন্দর আচরণ।

কথায় যেন আঘাত না দিই আপনজনের মনে,
রাগের বশে সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না ক্ষণে।
সত্য বলো, নরম বলো, সুন্দর হোক ভাষা,
পরিবারে ভালোবাসাই হোক শান্তিরই আশা।

অন্যের হক নষ্ট কোরো না, আমানত রেখো ঠিক,
ক্ষমা, ধৈর্য, সহনশীলতা হোক আচরণে দীক্ষিত।
রবের নজর মনে রেখে পরিবার সাজাও,
দুনিয়ার সাথে আখিরাতের সফলতাও চাও।

ব্যবসায়ী, মজুর, শিক্ষক, কর্মচারী যে হও,
আল্লাহ দেখেন—এই কথাটি হৃদয়ে ধারণ করো।
ওজনে কম, মাপে কম—এ অন্যায় থেকে ফেরো,
অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে সত্য পথে চলো।

ক্ষমতা পেলে জুলুম নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো,
দুর্বল মানুষ পেলে তাকে আপন করে ধরো।
অন্যের সম্পদ, সম্মান, অধিকার রেখো মান,
মানুষের হক আদায় করাও ঈমানেরই দান।

যে সমাজে সত্য থাকে, সে সমাজ হয় শান্ত,
যে হৃদয়ে তাকওয়া জাগে, সে হৃদয় হয় পবিত্র।
জ্ঞান যদি মানবতার সাথে মিলেমিশে যায়,
সেই সমাজে ন্যায় ও কল্যাণের সুবাতাস বয়।

বিজ্ঞান আজ দূর আকাশে জ্ঞানের দ্বার খোলে,
প্রযুক্তি আজ মুহূর্তে খবর পৌঁছে দেয় বলে।
জ্ঞান বেড়েছে, শক্তি বেড়েছে, বেড়েছে আয়োজন,
তবু চাই ঈমান-তাকওয়া, চাই নৈতিক জীবন।

প্রযুক্তি হোক কল্যাণের, জ্ঞান হোক মানুষের,
কলম হোক সত্যের সাথী, আলো হোক বিবেকের।
জ্ঞান যেন জুলুম না আনে, শক্তি যেন না ভাঙে,
মানবতার কল্যাণে সব অর্জন যেন জাগে।

শিক্ষা হবে এমন শিক্ষা—মানুষ করবে ভালো,
অজ্ঞতার সব অন্ধকারে জ্বালবে জ্ঞানের আলো।
জ্ঞান + ঈমান + নৈতিকতা—জীবনেরই মান,
তাকওয়া, আমল, সৎ চরিত্র—সফলতার প্রাণ।

নিজের দিকে তাকাও এবার, কেমন তোমার মন?
জ্ঞানের সাথে বাড়ছে কি তোমার চরিত্রগুণ?
সালাত কি ঠিক হয়েছে? সত্য কি মুখে রয়?
আল্লাহর ভয় জাগে কি আর অন্যায়ের প্রতি ক্ষয়?

জ্ঞান পেয়েও যদি মানুষ অহংকারে ভরে,
তবে সেই জ্ঞান কী কাজে তার, বলো আপন করে?
সম্পদ পেয়ে যদি মানুষ অন্যের হক খায়,
তবে সে সম্পদ একদিন তার কী কাজে যায়?

ক্ষমতা পেয়ে যদি মানুষ দুর্বলকে দেয় কষ্ট,
একদিন তার ক্ষমতারই হবে অবসান স্পষ্ট।
তাই আজই ফিরে এসো রবের রহমতের দ্বারে,
তওবা করে সত্য পথে চলো অন্তর ভরে।

পড়ো, কিন্তু রবকে ভুলো না,
জানো, কিন্তু গর্বে ভাসো না।
লেখো, কিন্তু মিথ্যা লিখো না,
বলো, কিন্তু অন্যায় বলো না।

জ্ঞান নাও, তবে হক চিনে নাও,
সম্পদ নাও, তবে হক দিয়ে দাও।
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো,
দুর্বলকে তুমি ভালোবাসো।

আল্লাহ দেখেন—মনে রেখো,
প্রতিটি কাজে তাঁকে দেখো।
চূড়ান্ত ফিরে তাঁরই কাছে,
আজই নিজেকে গড়ে নাও কাছে।

সালাত কায়েম, তাকওয়া ধারণ,
সত্য হোক জীবনের সাধন।
অহংকারের পথটি ছাড়ো,
রবের সামনে মাথা নত করো।

যখন দুনিয়ার পথের শেষে ক্লান্ত হবে প্রাণ,
সিজদাতে তখন খুঁজে নিও রবেরই দান।
অশ্রুভেজা চোখে বলো—“হে আমার রব মহান,
তোমার দয়া ছাড়া আমি নই তো কিছুই জান।”

যে জ্ঞান দিয়েছ, তা যেন হক পথে কাজে লাগে,
যে শক্তি দিয়েছ, তা যেন কল্যাণে জাগে।
যে জীবন দিয়েছ, তা যেন নষ্ট না হয় আর,
তোমার সন্তুষ্টির পথে কাটুক দিন-রাত ভার।

অহংকার থেকে বাঁচাও, মিথ্যা থেকে দূরে রাখো,
জুলুম, অন্যায়, পাপের পথ থেকে আমায় সরাও।
সালাতের প্রতি ভালোবাসা অন্তরে দাও জাগিয়ে,
তাকওয়ার পথে রাখো আমায় তোমার রহমত দিয়ে।

পবিত্র সেই আহ্বান আজও হৃদয়ে দেয় ডাক—
“
পড়ো তোমার রবের নামে”—জ্ঞান হোক আলোর পাক।
সৃষ্টি থেকে স্রষ্টাকে চেনো, জ্ঞানে হও সমৃদ্ধ,
অহংকার নয়, বিনয় দিয়ে করো জীবন শুদ্ধ।

জ্ঞান অর্জন করো, তবে ঈমান রেখো সাথে,
সৎকর্ম দিয়ে জীবন সাজাও ন্যায়েরই পথে।
তাকওয়ার আলো হৃদয়ে জ্বালো, আল্লাহকে স্মরণ,
সালাত দিয়ে শক্ত করো রবের সাথে বন্ধন।

মনে রেখো—আল্লাহ দেখেন, গোপন কিছু নাই,
দুনিয়ার সব শেষ হবে, তাঁর কাছেই ঠাঁই।
সম্পদ, ক্ষমতা, জ্ঞান—সবই তাঁরই দান,
ফিরে যেতে হবে একদিন সেই রবেরই স্থান।

তাই হে মানুষ, অহংকারের পথটি ছেড়ে দাও,
সত্য, ন্যায় ও তাকওয়ার পথে জীবনটাকে গড়াও।
কলম হোক সত্যের বাহন, জ্ঞান হোক কল্যাণ,
সিজদাতে নত হয়ে চাও রবের সন্তোষ-দান।

পড়ো—যাতে জ্ঞান আসে,
জানো—যাতে সত্য চেনো,
চলো—যাতে হককে ধরো,
সিজদা করো—রবের নৈকট্য চাও।

জ্ঞান হোক আলো, ঈমান হোক প্রাণ,
সৎকর্ম হোক জীবনের গান।
তাকওয়া হোক পথের দিশা,
সিজদা হোক শান্তির নিশা।

হে আল্লাহ, উপকারী জ্ঞান দাও,
জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দাও।
অহংকার, সীমালঙ্ঘন থেকে আমাদের রক্ষা করো,
সালাত, তাকওয়া ও সত্যের পথে অটল রাখো।

কলমে দাও সত্যের শক্তি,
হৃদয়ে দাও ঈমানের ভক্তি।
জীবন যেন তোমার তরে,
মরণ যেন ঈমান ভরে।

শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
রহমতের দ্বার খুলে দিও।
সিজদাতে নত রাখো প্রাণ,
দাও তোমার সন্তুষ্টির দান।

হে আল্লাহ—আমাদের জ্ঞান দাও, জ্ঞানকে কল্যাণের পথে ব্যবহার করার তৌফিক দাও; অহংকার ও সীমালঙ্ঘন থেকে রক্ষা করো; সালাত, তাকওয়া ও সত্যের পথে অটল রাখো; সিজদার মাধ্যমে তোমার নৈকট্য লাভের তৌফিক দাও।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন