সহকারী শিক্ষক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শুভ দিন। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ইউনিসেফ (UNICEF)-এর যৌথ কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত "সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স"-টি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসছে। তবে প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি অনভিজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে সাইবার জগতে শিক্ষার্থীরা সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ভুয়া খবর বা গুজব এবং নানাবিধ ডিজিটাল ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা আমাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
এই প্রশিক্ষণ কোর্সের অংশ হিসেবে এবং কোর্স নির্দেশিকা অনুযায়ী আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এই শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে:
১. সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ: ইন্টারনেটে অপরিচিত বা পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে মানসিক নির্যাতন বা উত্ত্যক্তকরণের শিকার হলে কীভাবে সাহসের সাথে তা মোকাবেলা করতে হয় এবং প্রতিকারের জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের জানাতে হয়।
২. ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিয়মাবলী, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং কখনোই নিজ বা পরিবারের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য অনলাইনে প্রকাশ না করা।
৩. তথ্য যাচাই ও গুজব রোধ: সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো তথ্য দেখলে বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার উপায়সমূহ।
আজকের এই কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ ও উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেছে। তারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অনলাইন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে এবং ভবিষ্যতে ইন্টারনেটে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ করার অঙ্গীকার করেছে।
শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুরক্ষায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের শিক্ষার্থী তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সচেতন ও ইতিবাচক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
ধন্যবাদ।
১৮
২৮ মন্তব্য