Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

মক্কা বিজয়ের পরবর্তী সময়
 ছিল ক্ষমা, উদারতা এবং ঐতিহাসিক এক পরিবর্তনের অনন্য মুহূর্ত। [1, 2]
কাবার চত্বরে মূর্তি ভাঙা
  • মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করে কাবার চত্বরে যান।
  • তিনি সেখানে থাকা ৩৬০টি মূর্তি একে একে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
  • এ সময় তিনি তিলাওয়াত করছিলেন: “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।” (সুরা বনি ইসরাইল: ৮১)। [1]
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
  • যে কুরাইশরা তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের নির্যাতন করেছিল এবং দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল, তাদের সামনে তিনি উপস্থিত হন।
  • তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। যাও, তোমরা সবাই মুক্ত ও স্বাধীন।" [1]
সাধারণ মানুষের ঢল ও ইসলামের বিস্তার
  • বিজয়ের পর আসমানের অধিবাসীগণ খুশি হন এবং দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিতে শুরু করে।
  • অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমগ্র আরব উপদ্বীপ ইসলামের পতাকাতলে একীভূত হয়। [1, 2]
মক্কা বিজয়ের পরবর্তী ইতিহাসের আরও জানতে চাইলে বলতে পারেন:
  • আপনি কি সাফা পাহাড়ে নবীজির বায়াত গ্রহণের দৃশ্য সম্পর্কে জানতে চান?
  • নাকি মক্কা বিজয়ের পর মদিনায় ফিরে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান?
 
  • শিক্ষক বাতায়ন
    মক্কা বিজয়ের পর আরবের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন দৃশ্যের ...
    রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবার চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে থাকা ৩৬০টি মূর্তি একে একে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের এই আ...
     
  •   
     মক্কা বিজয়ের পর রাসূল (সা.) যেভাবে জান-মালের নিরাপত্তা ...
    اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّیْتَ عَلَى إِبْرَاهِیمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِیمَ إِنَّكَ حَمِیدٌ...
  • dhakapost.com
    মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) যে উদারতা দেখিয়েছিলেন
    মক্কা বিজয় ছিল ইসলামের ইতিহাসের এক মহান পরিবর্তনের সূচনা। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং ন্যায়বিচার, দয়া ও ক্...
সব দেখুন
 
মক্কা বিজয়ের পর মুসলিম উম্মাহ এবং আরবের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন ও ঘটনা ঘটেছিল। প্রধান ঘটনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দলে দলে ইসলাম গ্রহণ
মক্কা বিজয়ের পর আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে ইসলামের সত্যতা নিয়ে সব সংশয় দূর হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনের সুরা আন-নছর-এ যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে এসে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে।
২. সাফা পাহাড়ে বায়াত (আনুগত্যের শপথ)
মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাফা পাহাড়ে বসেন। সেখানে মক্কার পুরুষ ও নারী উভয়েই তাঁর হাত ধরে ইসলাম ও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ইসলামের চরম শত্রু আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দাও ছিলেন।
৩. মক্কার নতুন গভর্নর নিয়োগ
মক্কার প্রশাসনিক ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মহানবী (সা.) তরুণ সাহাবি আত্তাব বিন আসিদ (রা.)-কে মক্কার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। পাশাপাশি মক্কাবাসীদের কুরআন ও ইসলাম শিক্ষার জন্য মুআজ বিন জাবাল (রা.)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৪. হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধ
মক্কা বিজয়ের পরপরই (হিজরি ৮ম সালের শাওয়াল মাসে) হাওয়াজিন ও সাকিফ গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। এর জবাবে মহানবী (সা.) ১২,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের মুখোমুখি হন, যা হুনাইনের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হন এবং এরপর তায়েফ অবরোধ করা হয়।
৫. মদিনায় প্রত্যাবর্তন
মক্কা বিজয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন মহানবী (সা.) হয়তো তাঁর জন্মভূমি মক্কাতেই স্থায়ীভাবে থেকে যাবেন। কিন্তু তিনি আনসারদের (মদিনার বাসিন্দা) দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। মক্কার সব কাজ গুছিয়ে তিনি পুনরায় মদিনাকেই ইসলামের রাজধানী হিসেবে বহাল রেখে সেখানে ফিরে যান।

পরবর্তী কোন বিষয়টি সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে চান? হুনাইনের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর বিবরণ?
হুনাইনের যুদ্ধের
রোমাঞ্চকর বিবরণ?
  • মহানবী (সা.)-এর মদিনায় ফিরে যাওয়ার আবেগঘন মুহূর্ত?

হুনাইনের যুদ্ধ
হুনাইনের যুদ্ধ (৮ হিজরি / ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) ছিল মক্কা বিজয়ের ঠিক পরপরই সংঘটিত ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম এক অলৌকিক ও শিক্ষণীয় যুদ্ধ. পবিত্র কুরআনে নাম ধরে উল্লেখ করা গুটি কয়েক যুদ্ধের মধ্যে এটি একটি. [1]
নিচে এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, নাটকীয় মোড় এবং ফলাফলের বিবরণ দেওয়া হলো:
১. যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও মুসলিমদের আত্মতৃপ্তি
মক্কা বিজয়ের পর আরবের দুই শক্তিশালী ও যুদ্ধবাজ বেদুঈন গোত্র—হাওয়াজিন ও সাকিফ—মনে করল যে মুসলমানদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তারা। তাই তারা মালিক ইবনে আওফের নেতৃত্বে মুসলমানদের অগ্রিম আক্রমণ করার জন্য মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী হুনাইন উপত্যকায় সমবেত হয়। [1, 2, 3, 4]
মহানবী (সা.) এই সংবাদ পেয়ে ১২,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর মধ্যে ১০,০০০ ছিলেন মদিনার আদি মুসলিম এবং ২,০০০ ছিলেন মক্কার সদ্য ইসলাম গ্রহণ করা নতুন মুসলিম। মুসলিম বাহিনীর বিশাল সংখ্যার কারণে কিছু সৈন্যের মনে অহংকার বা আত্মতৃপ্তি চলে আসে যে, "আজ এত বড় বাহিনীকে কেউ হারাতে পারবে না"। [1, 2, 3, 4]
২. শত্রুদের অতর্কিত আক্রমণ ও মুসলিমদের পিছু হটা
হাওয়াজিন গোত্রের তীরন্দাজরা আগে থেকেই হুনাইন উপত্যকার দুই পাশের পাহাড়ের গিরিপথ ও গোপন জায়গায় ওত পেতে বসে ছিল। মুসলমানরা যখন ভোরের আলো-আঁধারিতে উপত্যকায় প্রবেশ করে, তখন শত্রুরা হঠাৎ চারদিক থেকে অতর্কিত ও তীব্র তীর বৃষ্টি শুরু করে। [1, 2]
এই আকস্মিক ও ভয়াবহ আক্রমণে মুসলিম বাহিনীর অগ্রভাগ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তীব্র বিশৃঙ্খলার কারণে অনেকে প্রাণভয়ে পিছু হটতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ময়দানে মহানবী (সা.)-এর সাথে মাত্র কয়েকজন সাহাবি (যেমন: হযরত আলী, হযরত আব্বাস রা.) অবিচল থেকে যান। [1, 2, 3]
৩. রাসুল (সা.)-এর বীরত্ব ও যুদ্ধের নাটকীয় মোড়
এমন সংকটময় মুহূর্তেও মহানবী (সা.) নিজের খচ্চরের পিঠে চড়ে সামান্যতম পিছু হটেননি। তিনি উচ্চকণ্ঠে ডাক দিয়ে বলতে থাকেন: [1]
"আমি আল্লাহর নবী, এটা মিথ্যা নয়; আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর!"
এরপর তিনি তাঁর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-কে নির্দেশ দেন আনসার ও মুহাজিরদের উচ্চস্বরে ডাকতে। রাসুল (সা.)-এর কণ্ঠ শুনে সাহাবিরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুনরায় ময়দানে ফিরে এসে আল্লাহর রাসুলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। মহানবী (সা.) এক মুঠো ধুলোবালি নিয়ে শত্রুদের দিকে ছুড়ে মারেন, যা অলৌকিকভাবে প্রত্যেক শত্রুর চোখে গিয়ে পড়ে। [1, 2]
৪. আল্লাহর সাহায্য ও চূড়ান্ত বিজয়
আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের এই কঠিন মুহূর্তে অদৃশ্য ফেরেশতা বাহিনী পাঠিয়ে মানসিক প্রশান্তি ও সাহায্য নাজিল করেন। মুসলমানরা নতুন উদ্যমে তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালালে শত্রুপক্ষ টিকতে না পেরে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং তায়েফের দিকে পালিয়ে যায়। [1, 2]
৫. যুদ্ধের ফলাফল ও শিক্ষা
  • বিপুল গনিমত লাভ: যুদ্ধে মুসলমানরা ২৪,০০০ উট, ৪০,০০০ ছাগল এবং বিপুল পরিমাণ রুপা গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে লাভ করে।
  • কুরআনের বাণী: এই যুদ্ধের শিক্ষা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুরা তাওবাহর ২৫-২৬ নম্বর আয়াতে বলেন, যখন মুসলমানরা তাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে গর্ব করেছিল, তখন তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। আল্লাহ স্পষ্ট করে দেন যে, জয়-পরাজয় সংখ্যার ওপর নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। [1, 2]
মন্তব্য করুন

ব্লগ