সহকারী অধ্যাপক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬ | লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড আবেদন, ফি, পরীক্ষা, নবায়ন
📌 এক ক্লিকে BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
📌 BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
📌 BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন এক ক্লিকে
বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালাতে হলে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় নামলে জরিমানা তো আছেই, দুর্ঘটনা হলে বীমা দাবিও পাওয়া যায় না। ভালো খবর হলো, এখন আর বিআরটিএ অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় না — পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করা যায় বিআরটিএ সেবা বাতায়ন (BSP) পোর্টালে।
এই গাইডে জানবেন — BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন, লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া, ২০২৬ সালের ফির তালিকা, পরীক্ষার প্রস্তুতি, লাইসেন্স চেক ও ডাউনলোড, আর নবায়নের নিয়ম।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন: কোনটা আপনার জন্য
ড্রাইভিং লাইসেন্স মূলত দুই প্রকার — পেশাদার ও অপেশাদার। এর ভেতর আবার যানের শ্রেণী অনুযায়ী ভাগ আছে।
লাইসেন্সের ধরন | কারা নেবেন | মেয়াদ | ন্যূনতম বয়স |
অপেশাদার (Non-professional) | নিজের মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালানোর জন্য | ১০ বছর | ১৮ বছর |
পেশাদার (Professional) | ভাড়ায় গাড়ি চালানো বা ড্রাইভিংয়ের চাকরির জন্য | ৫ বছর | ২০ বছর |
মোটরসাইকেল শ্রেণী | শুধু মোটরসাইকেল চালানোর জন্য | উপরের নিয়ম অনুযায়ী | ১৮ বছর |
হালকা যান শ্রেণী | প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস | উপরের নিয়ম অনুযায়ী | ১৮ বছর |
চাইলে মোটরসাইকেল ও হালকা যান — দুটোর লাইসেন্স একসাথেও নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আবেদনের সময় দুই শ্রেণীই উল্লেখ করতে হবে।
কে আবেদন করতে পারবেন: যোগ্যতা
বয়স: অপেশাদারের জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর; পেশাদারের জন্য কমপক্ষে ২০ বছর (কিছু ক্ষেত্রে ২১ বছর চাওয়া হতে পারে, তাই আবেদনের আগে BSP পোর্টালে দেখে নিন)
শিক্ষা: কমপক্ষে ৮ম শ্রেণী পাস
স্বাস্থ্য: মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ; রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবে
পরিচয়: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অথবা জন্ম নিবন্ধন/পাসপোর্ট
লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড: ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স। লার্নার ছাড়া পরীক্ষায় বসা যায় না। পুরো প্রক্রিয়া চার ধাপে:
ধাপ ১: অনলাইনে লার্নারের আবেদন
বিআরটিএ সেবা বাতায়ন (bsp.brta.gov.bd) ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। NID নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় — মোবাইলে একটি OTP আসবে, সেটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন। এরপর "লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স" সেবা বেছে নিয়ে ফরম পূরণ করুন: নাম, ঠিকানা, যানের শ্রেণী (মোটরসাইকেল/হালকা যান/উভয়), রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে — NID, মেডিকেল সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত সনদ ও ইউটিলিটি বিলের ছবি যেন পরিষ্কার ও পড়ার মতো হয়, ঝাপসা ছবি আপলোড করলে আবেদন ফেরত আসতে পারে। আবেদন জমা দিলে লার্নার ফরমের প্রিন্ট কপি পাবেন — সেখানে পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্রের নাম লেখা থাকবে। লার্নারের মেয়াদ ৬ মাস, এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে।
ধাপ ২: ফি পরিশোধ
ফি অনলাইনেই দেওয়া যায় — বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে। BSP পোর্টালেই পেমেন্ট গেটওয়ে আছে, আলাদা ব্যাংকে যাওয়ার দরকার নেই। পেমেন্ট সফল হলে রসিদ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন — পরীক্ষার দিন ও স্মার্ট কার্ডের আবেদনের সময় এটি লাগতে পারে। (ফির বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া আছে।)
ধাপ ৩: দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা
লার্নার ইস্যুর সাধারণত ২ মাস পর পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার দিন লার্নারের প্রিন্ট কপি, NID-এর মূল কপি ও ফি জমার রসিদ সঙ্গে নিন। তিনটি অংশে পরীক্ষা নেওয়া হয়:
লিখিত পরীক্ষা — ট্রাফিক আইন, রোড সাইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং সংক্রান্ত প্রশ্ন। সাধারণত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে, নির্দিষ্ট নম্বর পেলেই পাস।
মৌখিক পরীক্ষা — পরিদর্শকের প্রশ্নের উত্তর। বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন বেশি আসে।
ফিল্ড টেস্ট (ব্যবহারিক) — নির্ধারিত মাঠে গাড়ি বা বাইক চালিয়ে দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। নির্দিষ্ট পথে চালানো, পার্কিং, ইউ-টার্ন — এই ধরনের টাস্ক থাকে।
তিনটিতেই পাস করলে তবেই স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। কোনো অংশে ফেল করলে নির্ধারিত ফি (প্রতি শ্রেণী প্রায় ২৩০ টাকা) দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া যায় — তবে লার্নারের ৬ মাস মেয়াদের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হবে, নইলে লার্নার নবায়ন করতে হবে।
ধাপ ৪: বায়োমেট্রিক্স ও স্মার্ট কার্ড ইস্যু
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত ফরমে স্মার্ট কার্ডের আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে। সঙ্গে নিন: পরীক্ষায় পাসের রেকর্ডসহ লার্নার, NID-এর সত্যায়িত কপি, মেডিকেল সার্টিফিকেট, ফি জমার রসিদ ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানার পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনও লাগবে।
অফিসে আপনার ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক্স) নেওয়া হবে, তারপর একটি প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ দেওয়া হবে। কার্ড প্রিন্ট হয়ে গেলে রেজিস্টার্ড মোবাইলে এসএমএস আসবে — নির্ধারিত তারিখে গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করুন। একই ব্যক্তির বায়োমেট্রিক্স দুইবার নেওয়া হয় না।
আবেদনে কী কী কাগজপত্র লাগবে
কাগজপত্র | লার্নারের জন্য | স্মার্ট কার্ডের জন্য |
নির্ধারিত ফরমে আবেদন | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
রেজিস্টার্ড ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
NID-এর সত্যায়িত ফটোকপি (অথবা জন্ম নিবন্ধন/পাসপোর্ট) | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
শিক্ষাগত সনদের কপি (৮ম শ্রেণী বা সমমান) | হ্যাঁ | — |
বিদ্যুৎ বিল বা ইউটিলিটি বিলের কপি (ঠিকানার প্রমাণ) | হ্যাঁ | — |
সদ্য তোলা স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি | ৩ কপি স্ট্যাম্প + ১ কপি পাসপোর্ট | ১–৩ কপি পাসপোর্ট |
ফি জমার রসিদ | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
পেশাদারের জন্য পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন | — | হ্যাঁ |
ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ২০২৬ (BRTA)
ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। নিচের অঙ্কগুলো সর্বশেষ প্রচলিত হার অনুযায়ী (ভ্যাটসহ); আবেদনের আগে BSP পোর্টালে যাচাই করে নিন।
লার্নার ফি
সেবা | ফি |
এক শ্রেণীর যানের লার্নার (বাইক অথবা কার) | ৫১৮ টাকা |
দুই শ্রেণীর যানের লার্নার (বাইক + কার একসাথে) | ৭৪৮ টাকা |
লার্নার নবায়ন (৬ মাস মেয়াদ শেষে) | ২৮৮ টাকা |
পুনঃপরীক্ষা ফি (প্রতি শ্রেণী) | ২৩০ টাকা |
স্মার্ট কার্ড ফি (নতুন লাইসেন্স)
লাইসেন্সের ধরন | মোট ফি (প্রায়) |
অপেশাদার (১০ বছর মেয়াদি) | ৪,৪৯৭ টাকা |
পেশাদার (৫ বছর মেয়াদি) | ২,৭৭২ টাকা |
নবায়ন ফি
লাইসেন্সের ধরন | মোট ফি (প্রায়) |
অপেশাদার নবায়ন (১০ বছর) | ৪,২১২ টাকা |
পেশাদার নবায়ন (৫ বছর) | ২,৪৮৭ টাকা |
মেয়াদ শেষের ১৫ দিন পর আবেদন করলে প্রতি বছরের জন্য প্রায় ৫১৮ টাকা বিলম্ব ফি যোগ হবে।
অন্যান্য ফি
সেবা | ফি (প্রায়) |
ডুপ্লিকেট লাইসেন্স (হারিয়ে গেলে) | ৯৯২ টাকা |
তথ্য সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তন | ১,১০৭ টাকা |
নতুন যানের শ্রেণী সংযোজন | ১,২২২ টাকা |
পরীক্ষার প্রস্তুতি: যেভাবে পাস করবেন
ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। আসলে নিয়মিত প্রস্তুতি নিলে পাস করা কঠিন নয়।
লিখিত পরীক্ষার জন্য: ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং ভালো করে শিখুন — সতর্কতামূলক চিহ্ন (যেমন: বাঁক, স্পিড ব্রেকার), নিষেধাজ্ঞামূলক চিহ্ন (যেমন: নো এন্ট্রি, নো হর্ন) ও নির্দেশনামূলক চিহ্নের অর্থ মুখস্থ রাখুন। বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ব্লগে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরের PDF পাওয়া যায় — সেগুলো অনুশীলন করুন। গতি সীমা, ওভারটেকিংয়ের নিয়ম, পার্কিংয়ের নিয়ম, দুর্ঘটনার সময় করণীয় — এই টপিকগুলো থেকে প্রশ্ন বেশি আসে।
মৌখিক পরীক্ষার জন্য: পরিদর্শক সাধারণত বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন — যেমন, "হঠাৎ সামনে গাড়ি থামলে কী করবেন?" বা "বৃষ্টিতে হেডলাইট কখন জ্বালাবেন?" আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংক্ষেপে উত্তর দিন। ট্রাফিক সিগন্যালের রঙের অর্থ ও জরুরি পরিস্থিতির নিয়ম জেনে রাখুন।
ফিল্ড টেস্টের জন্য: পরীক্ষার আগেই ভালোভাবে চালানো শিখে নিন — ক্লাচ-গিয়ার-ব্রেকের সমন্বয়, সঠিক লেন ধরে চালানো, ইন্ডিকেটর ব্যবহার ও পার্কিং অনুশীলন করুন। অনেকেই ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেন — এতে ফেলের ঝুঁকি অনেক কমে। পরীক্ষার দিন শান্ত থাকুন, তাড়াহুড়ো করবেন না।
বিআরটিএ স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের নমুনা
ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক ও ডাউনলোড
লাইসেন্সের তথ্য যাচাই বা ডাউনলোড করতে বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার দরকার নেই।
অনলাইনে লাইসেন্স চেক: bsp.brta.gov.bd পোর্টালের DL Verification পেজে গিয়ে লাইসেন্স নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলেই তথ্য দেখা যায়। মোবাইল নম্বর দিয়েও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করা যায়।
ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড: স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সই বৈধ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। BSP পোর্টাল বা BRTA Sheba অ্যাপ থেকে QR কোডসহ ই-লাইসেন্স ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন। স্মার্ট কার্ড ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত এটিই আপনার লাইসেন্স।
স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস: কার্ড প্রিন্ট ও ডেলিভারির অবস্থা BSP পোর্টালে ট্র্যাক করা যায়। কার্ড তৈরি হলে রেজিস্টার্ড মোবাইলে এসএমএস আসে।
বিআরটিএ ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের নমুনা
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করুন — দেরি করলে বিলম্ব ফি গুনতে হবে। মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে অতিরিক্ত ফি লাগে না, এরপর প্রতি বছরের জন্য প্রায় ৫১৮ টাকা বিলম্ব ফি মূল ফির সঙ্গে যোগ হয়।
BSP পোর্টালে লগইন করে নবায়নের আবেদন করুন
নির্ধারিত নবায়ন ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন (অপেশাদার প্রায় ৪,২১২ টাকা, পেশাদার প্রায় ২,৪৮৭ টাকা)
প্রয়োজনে নতুন মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিন
নতুন স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হলে এসএমএস পাবেন — সংগ্রহ করুন
মনে রাখবেন, একই ব্যক্তির বায়োমেট্রিক্স দুইবার নেওয়া হয় না — তাই নবায়নের সময় সাধারণত নতুন করে ছবি বা আঙুলের ছাপ দিতে হয় না, যদি না তথ্যে বড় পরিবর্তন থাকে।
ডুপ্লিকেট, সংশোধন ও শ্রেণী সংযোজন
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে প্রথমে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন — জিডির কপি ছাড়া ডুপ্লিকেট আবেদন করা যায় না। তারপর BSP পোর্টালে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন করুন (ফি প্রায় ৯৯২ টাকা)।
নাম, ঠিকানা বা অন্য তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায় (ফি প্রায় ১,১০৭ টাকা) — সঙ্গে সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। আর লাইসেন্সে নতুন যানের শ্রেণী যোগ করতে চাইলে (যেমন বাইকের লাইসেন্সের সঙ্গে কার যোগ করা) আবার লার্নার করে পরীক্ষা দিতে হয়; ফি প্রায় ১,২২২ টাকা। তবে বিদ্যমান লাইসেন্সের মেয়াদ ২ মাসের কম থাকলে এর সঙ্গে নবায়ন ফিও যোগ হবে।
বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড
সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
লাইসেন্স ছাড়া বা লার্নার নিয়ে একা রাস্তায় গাড়ি চালানো — আইনত দণ্ডনীয়
দালালের মাধ্যমে আবেদন করা — এখন সব কাজ অনলাইনে নিজেই করা যায়, দালালকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার দরকার নেই
ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া — ধরা পড়লে আবেদন বাতিল
মেয়াদ শেষের পর নবায়ন না করে চালিয়ে যাওয়া — জরিমানার পাশাপাশি বিলম্ব ফি যোগ হয়
পরীক্ষার তারিখ মিস করা — লার্নারের ৬ মাস মেয়াদের মধ্যে পরীক্ষা দিতে না পারলে আবার ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?
এক শ্রেণীর যানের জন্য লার্নার ৫১৮ টাকা, আর স্মার্ট কার্ডসহ মোট খরচ অপেশাদারের ক্ষেত্রে প্রায় ৪,৪৯৭ টাকা, পেশাদারের ক্ষেত্রে প্রায় ২,৭৭২ টাকা। ফি পরিবর্তনশীল, তাই আবেদনের আগে BSP পোর্টালে দেখে নিন।
লার্নার লাইসেন্স দিয়ে কি গাড়ি চালানো যায়?
লার্নার নিয়ে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করা যায়, কিন্তু একা রাস্তায় চালানো যায় না।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কতদিন লাগে?
লার্নারসহ পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৮০–৯০ দিন লাগে — লার্নারের পর প্রায় ২ মাস পর পরীক্ষা, তারপর বায়োমেট্রিক্স ও কার্ড প্রিন্টিং।
মোবাইল নম্বর দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করা যায়?
হ্যাঁ, BSP পোর্টালের ভেরিফিকেশন পেজে মোবাইল নম্বর বা লাইসেন্স নম্বর দিয়ে চেক করা যায়।
পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্সের পার্থক্য কী?
অপেশাদার লাইসেন্সে শুধু নিজের গাড়ি চালানো যায় (মেয়াদ ১০ বছর), আর পেশাদার লাইসেন্সে ভাড়ায় বা চাকরির গাড়ি চালানো যায় (মেয়াদ ৫ বছর)।
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কী করবো?
প্রথমে থানায় জিডি করুন, তারপর BSP পোর্টালে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন করুন (ফি প্রায় ৯৯২ টাকা)।
ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স কি বৈধ?
হ্যাঁ, স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত QR কোডসহ ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স বৈধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
উপসংহার
BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পাওয়া যায় — লার্নারের আবেদন থেকে ফি পেমেন্ট, পরীক্ষার তারিখ, এমনকি কার্ডের স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং পর্যন্ত সবই bsp.brta.gov.bd পোর্টালে। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে নিজে নিজে আবেদন করলে দালালের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকি থাকে না, খরচও হয় শুধু সরকারি ফি। আজই লার্নারের আবেদন করে প্রক্রিয়া শুরু করুন, আর নিরাপদে রাস্তায় নামুন।
১৮
২৯ মন্তব্য