প্রধান শিক্ষক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
📌 অনলাইনে নাম-জন্ম তারিখ ঠিক করার নিয়ম
📌 অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম
📌 এক ক্লিকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করুন
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ২০২৬: অনলাইনে নাম-জন্ম তারিখ ঠিক করার নিয়ম
জন্ম সনদে ভুল তথ্য — নামের বানান ভুল, জন্ম তারিখের গরমিল, পিতা-মাতার নামে ভুল বা ঠিকানার ভুল — ঠিক করার প্রক্রিয়াই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন। সনদ হাতে পাওয়ার পর প্রথম কাজ হলো সব তথ্য NID, শিক্ষাগত সনদের সাথে মিলিয়ে দেখা; অমিল থাকলে দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া। কারণ এই সনদের তথ্যই NID, পাসপোর্ট, বোর্ড রেজিস্ট্রেশন — সব জায়গায় ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সংশোধনযোগ্য | শর্ত |
নিজের নামের বানান (বাংলা/ইংরেজি) | প্রমাণপত্রে সঠিক বানান থাকতে হবে |
পিতা-মাতার নামের বানান | তাদের NID/সনদে সঠিক নাম থাকতে হবে |
জন্ম তারিখ | শক্ত প্রমাণ (এসএসসি/হাসপাতাল রেকর্ড) লাগে |
জন্মস্থান ও ঠিকানা | ঠিকানার প্রমাণ লাগে |
লিঙ্গ/জাতীয়তা | বিশেষ ক্ষেত্রে, প্রমাণ সাপেক্ষে |
যা করা যায় না: পুরো নাম বদলে নতুন নাম রাখা — কেবল বানান ভুল বা নামের অংশ যোগ-বিয়োগ করা যায়। বারবার জন্ম তারিখ বদলানোর আবেদনও গ্রহণ করা হয় না।
সেবা | ফি |
তথ্য সংশোধন (নাম, তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি) | ১০০ টাকা |
সনদের নকল/ডুপ্লিকেট কপি | ৫০ টাকা |
একবারে একাধিক তথ্য সংশোধন করলেও ফি একবারই দিতে হয়। ফি অনলাইনে বা সরাসরি অফিসে পরিশোধ করা যায়।
কী সংশোধন করবেন, তার ওপর কাগজ নির্ভর করে:
নাম সংশোধনে:
বর্তমান জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
শিক্ষাগত সনদ (এসএসসি/এইচএসসি) — নামের সঠিক বানানের প্রমাণ
জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)
পিতা-মাতার NID
পিতা-মাতার নাম সংশোধনে:
পিতা/মাতার NID বা জন্ম সনদ (সঠিক নামের প্রমাণ)
বর্তমান জন্ম সনদের কপি
জন্ম তারিখ সংশোধনে:
বর্তমান জন্ম সনদ
এসএসসি সার্টিফিকেট / হাসপাতালের জন্ম রেকর্ড / ইপিআই কার্ড
প্রয়োজনে স্থানীয় তদন্ত প্রতিবেদন
ঠিকানা সংশোধনে:
হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ বা বিদ্যুৎ বিল
বর্তমান সনদের কপি
ধাপ ১: bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে "জন্ম নিবন্ধন সংশোধন" (Correction Application) অপশন বেছে নিন।
ধাপ ২: আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে তথ্য খুঁজে বের করুন।
ধাপ ৩: সংশোধনের ধরন নির্বাচন করুন — কোন তথ্যটি বদলাতে চান (নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি)।
ধাপ ৪: ভুল তথ্যের জায়গায় সঠিক তথ্য বাংলায় ও ইংরেজিতে লিখুন। প্রতিটি পরিবর্তনের পক্ষে কারণ উল্লেখ করুন।
ধাপ ৫: প্রমাণপত্রের স্ক্যান কপি (PDF/JPG) আপলোড করুন।
ধাপ ৬: সব তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন — একটি সংশোধন আবেদন নম্বর (Application ID) পাবেন, সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৭: ১০০ টাকা ফি পরিশোধ করুন (অনলাইন পেমেন্ট বা সরাসরি অফিসে)।
ধাপ ৮: আবেদন ফরম প্রিন্ট করে কাগজপত্রসহ ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন অফিসে জমা দিন।
ধাপ ৯: যাচাই শেষে সংশোধিত সনদ ইস্যু হবে — অফিস থেকে সংগ্রহ করুন।
মনে রাখবেন: অনলাইনে আবেদন করলেও যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অফিসে যেতেই হয়।
জন্ম তারিখ বদলানো সবচেয়ে কঠিন সংশোধন, কারণ এটা চাকরির বয়সসীমা, ভোটার তালিকা, অবসরের বয়স — সবকিছুর সাথে জড়িত। এজন্য শক্ত প্রমাণ লাগে — এসএসসি সার্টিফিকেটের তারিখ সাধারণত চূড়ান্ত ধরা হয়। একবার সংশোধনের পর বারবার তারিখ বদলানোর আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তাই প্রথমবারই সঠিক তারিখ নিশ্চিত করুন।
bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে "Application Status" অপশনে গিয়ে আপনার Application ID দিলেই আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন — যাচাইাধীন, অনুমোদিত না অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হয়েছে।
সংশোধনের পর everify.bdris.gov.bd-তে নতুন তথ্য যাচাই করে নিন। NID, পাসপোর্ট বা শিক্ষা বোর্ডে কোথাও পুরনো ভুল তথ্য থেকে গেলে সেখানেও আপডেট করুন।
সাধারণ বানান সংশোধন: ৭–১৫ কর্মদিবস
জন্ম তারিখের মতো জটিল সংশোধন: ১৫–৩০ কর্মদিবস বা তদন্ত লাগলে আরও বেশি
আবেদন নম্বর দিয়ে অফিসে নিয়মিত খোঁজ নিন
ভুল: প্রমাণ ছাড়া আবেদন করা। সমাধান: প্রতিটি পরিবর্তনের পক্ষে কাগজ জমা দিন।
ভুল: বাংলা ঠিক করে ইংরেজি ভুল রাখা। সমাধান: দুই ভাষার তথ্য একসাথে মিলিয়ে নিন।
ভুল: একাধিক ভুল আলাদা আলাদা আবেদনে করা। সমাধান: সব ভুল একসাথে এক আবেদনেই ঠিক করুন।
ভুল: আবেদন নম্বর হারিয়ে ফেলা। সমাধান: নম্বর মোবাইলে সেভ রাখুন।
ভুল: ভুয়া কাগজ দেওয়া। সমাধান: ভুয়া কাগজে আবেদন বাতিল + আইনি ব্যবস্থা হতে পারে।
ভুল: দালালকে টাকা দেওয়া। সমাধান: সরকারি ফি মাত্র ১০০ টাকা — নিজে করুন।
ভুল: সাবমিটের আগে তথ্য না মিলিয়ে দেখা। সমাধান: জমার আগে প্রতিটি ঘর দুবার পড়ুন।
১. জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি কত?
১০০ টাকা।
২. অনলাইনে সংশোধন আবেদন কোথায় করবো?
bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে "জন্ম নিবন্ধন সংশোধন" অপশনে।
৩. নামের বানান ভুল হলে কী লাগবে?
শিক্ষাগত সনদ বা NID-তে থাকা সঠিক বানানের প্রমাণ।
৪. জন্ম তারিখ কি বদলানো যায়?
যায়, তবে শক্ত প্রমাণ (এসএসসি সার্টিফিকেট/হাসপাতাল রেকর্ড) লাগে এবং যাচাই হয়।
৫. পুরো নাম বদলে নতুন নাম রাখা যায়?
না — কেবল বানান ভুল বা নামের অংশ যোগ-বিয়োগ করা যায়।
৬. সংশোধনে কতদিন লাগে?
সাধারণত ৭–১৫ কর্মদিবস; জটিল ক্ষেত্রে ১৫–৩০ দিন বা বেশি।
৭. ইংরেজি নামের বানান ঠিক করা যায়?
হ্যাঁ — বাংলা-ইংরেজি দুটোই একসাথে সংশোধন করুন।
৮. পিতার নাম ভুল হলে কী করবো?
পিতার NID/জন্ম সনদ প্রমাণ হিসেবে দিয়ে সংশোধন আবেদন করুন।
৯. অনলাইনে আবেদন করেও কি অফিসে যেতে হয়?
হ্যাঁ — যাচাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অফিসে যেতেই হয়।
১০. সংশোধিত সনদ কীভাবে পাবো?
অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করুন।
১১. আবেদনের অবস্থা কীভাবে জানবো?
ওয়েবসাইটের Application Status অপশনে Application ID দিন।
১২. সংশোধনের পর যাচাই কীভাবে করবো?
everify.bdris.gov.bd-তে নিবন্ধন নম্বর দিয়ে যাচাই করুন।
১৩. ঠিকানা বদলালে কি সংশোধন লাগবে?
স্থায়ী ঠিকানার ভুল থাকলে হ্যাঁ — প্রমাণসহ আবেদন করুন।
১৪. একবার সংশোধনের পর আবার ভুল থাকলে?
পুনরায় আবেদন করা যায়, তবে বারবার মৌলিক তথ্য বদলানো কঠিন হয়।
১৫. ওয়েবসাইট কাজ না করলে কী করবো?
সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা অফিসে গিয়ে আবেদন করা যায়।
৩
৩ মন্তব্য