প্রধান শিক্ষক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
👉 এক ক্লিকে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সার্কুলার দেখুন
👉 প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ আবেদন করুন এক ক্লিকে
👉 প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ আবেদন যোগ্যতা দেখতে ক্লিক করুন
👉 প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬: যোগ্যতা, আবেদন ও পরীক্ষা প্রস্তুতি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাংলাদেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারি চাকরিগুলোর একটি। প্রতি বছর লাখ লাখ প্রার্থী প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ১০,২১৯ পদের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে। এই পোস্টে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬-এর সার্কুলার, যোগ্যতা, বেতন স্কেল, আবেদন নিয়ম, পরীক্ষা পদ্ধতি, মানবণ্টন, সিলেবাস, প্রস্তুতি কৌশল, এডমিট কার্ড, ফলাফল দেখার নিয়ম এবং পরবর্তী সার্কুলার সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য এক জায়গায় দেওয়া হলো।
বিষয় | তথ্য |
প্রতিষ্ঠান | প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) |
পদের নাম | সহকারী শিক্ষক (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) |
মোট শূন্যপদ | ১৪,৩৮৫টি (প্রথম ধাপ ১০,২১৯ + দ্বিতীয় ধাপ ৪,১৬৬) |
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | ৫ নভেম্বর ২০২৫ |
আবেদন মাধ্যম | অনলাইন — dpe.teletalk.com.bd |
আবেদনের সময়সীমা | ৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৫ |
আবেদন ফি | ১১২ টাকা (টেলিটক চার্জসহ) |
বেতন গ্রেড | ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেড |
লিখিত পরীক্ষা | ৯ জানুয়ারি ২০২৬ |
লিখিত ফলাফল | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (৬৯,২৬৫ জন উত্তীর্ণ) |
মৌখিক পরীক্ষা | ২৮ জানুয়ারি – ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
চূড়ান্ত ফলাফল | ৭–১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (১৪,৩৮৪ জন নির্বাচিত) |
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরদিন জাতীয় দৈনিকগুলোতেও বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ — এই ছয় বিভাগের শূন্য পদের বিপরীতে ১০,২১৯টি পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই নিয়োগের বাইরে ছিল।
দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আরও ৪,১৬৬টি পদের বিজ্ঞপ্তি আসে। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪,৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন — প্রথম ধাপে ৭৩ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৮০ জনেরও বেশি।
এই নিয়োগ পরিচালিত হয় নতুন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর আলোকে। বিধিমালাটি প্রথমে ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হয়, পরে কিছু সংশোধন শেষে ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। নতুন বিধিমালায় যোগ্যতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে — এখন বিজ্ঞান বিষয়ের প্রার্থীরাও সরাসরি নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নিম্নরূপ:
শর্ত | বিবরণ |
শিক্ষাগত যোগ্যতা | স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি |
সিজিপিএ | ৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫, ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮ |
তৃতীয় বিভাগ | শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য নয় |
নাগরিকত্ব | বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে |
নিয়োগ এলাকা | উপজেলা বা থানাভিত্তিক — প্রার্থী যে উপজেলা/থানার স্থায়ী বাসিন্দা, সেই এলাকার শূন্য পদের জন্য বিবেচিত হবেন |
মেয়েদের যোগ্যতা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকে। এই সার্কুলারে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রযোজ্য ছিল — স্নাতক ডিগ্রিতে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি। বিবাহিত নারী প্রার্থীরা আবেদনে স্বামী অথবা বাবার স্থায়ী ঠিকানার যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পেরেছিলেন, তবে যে ঠিকানা দিয়েছেন সেই উপজেলা বা থানার শূন্য পদের জন্যই তার প্রার্থিতা বিবেচিত হয়েছে।
আবেদনে নিজ জেলা, থানা বা উপজেলা ভুল করলে প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হয় — এটা বিজ্ঞপ্তির কঠোর শর্তগুলোর একটি। আরেকটি উল্লেখযোগ্য শর্ত ছিল: ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থীকে নিজ উপজেলা বা থানায় চাকরি করতে হয় এবং বদলি নিজ উপজেলা বা থানার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীমিত থাকে।
প্রাইমারি শিক্ষক বেতন কত — এটা জানতে চান প্রায় সবাই। সহকারী শিক্ষক পদে বেতন হয় ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে। প্রাইমারি শিক্ষক বেতন স্কেল সম্পর্কে সংক্ষেপে:
মূল বেতন শুরু ১৩তম গ্রেড অনুযায়ী, এর সাথে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা যুক্ত হয়
চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা
পদোন্নতির সুযোগ: সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়া যায়
নিজ উপজেলায় পোস্টিং — বদলি নিজ এলাকার মধ্যেই সীমিত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো নিজ এলাকায় থেকে সম্মানজনক পেশায় কাজ করার সুযোগ এবং চাকরির নিরাপত্তা।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করা যায়। আবেদনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dpe.teletalk.com.bd। আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো:
dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে সহকারী শিক্ষক পদের আবেদন ফরম খুলুন
সতর্কতার সাথে সব তথ্য পূরণ করুন — নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
সম্প্রতি তোলা রঙিন ছবি ও স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি নির্ধারিত মাপে আপলোড করুন
ফরম সাবমিট করলে একটি User ID পাবেন — এটা সংরক্ষণ করুন
Applicant Copy ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন
আবেদন করার পর প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। মনে রাখবেন, ফি পরিশোধ না করলে আবেদন চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় না।
২০২৫ সালের সার্কুলারে আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ টাকা। টেলিটকের ১২ টাকা সার্ভিস চার্জসহ মোট ১১২ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। টেলিটক SMS-এর মাধ্যমে ফি দেওয়ার নিয়ম:
প্রথম SMS: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন DPE <স্পেস> User ID — পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে। ফিরতি SMS-এ একটি PIN নম্বর পাবেন।
দ্বিতীয় SMS: লিখুন DPE <স্পেস> YES <স্পেস> PIN — পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে।
পেমেন্ট সফল হলে কনফার্মেশন SMS আসে। User ID বা PIN ভুলে গেলে dpe.teletalk.com.bd সাইটের রিকভারি অপশন থেকে পুনরুদ্ধার করা যায়। আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরটি সচল রাখা জরুরি, কারণ পরীক্ষা সংক্রান্ত সব নোটিশ এই নম্বরেই SMS-এর মাধ্যমে জানানো হয়।
লিখিত পরীক্ষার আগে dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) ডাউনলোড করতে হয়। ডাউনলোডের নিয়ম:
dpe.teletalk.com.bd সাইটের Admit Card মেনুতে যান
User ID ও Password দিয়ে লগইন করুন
প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে রঙিন প্রিন্ট নিন
পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্রের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নকল সামগ্রী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
যারা Applicant Copy হারিয়ে ফেলেছেন, তারা User ID ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইট থেকে পুনরায় ডাউনলোড করতে পারেন। এডমিট কার্ডে পরীক্ষার তারিখ, সময় ও কেন্দ্রের ঠিকানা দেওয়া থাকে।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে হয় — লিখিত পরীক্ষা (MCQ) এবং মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ মানবণ্টন ২০২৫ অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার কাঠামো:
বিষয় | নম্বর |
বাংলা | ২০ |
ইংরেজি | ২০ |
গণিত | ২০ |
সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) | ২০ |
মোট | ৮০ |
প্রতিটি প্রশ্ন MCQ ধরনের, প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর। ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায় (নেগেটিভ মার্কিং), তাই আন্দাজে উত্তর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণত ২০ নম্বর থাকে, যেখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যাচাই করা হয়।
২০২৫ সালের সার্কুলারের লিখিত পরীক্ষা প্রথমে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় ৯ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার)।
৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দেশের ৬১টি জেলার ১,৪০৮টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১১ লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কঠোর নিরাপত্তা ও নকল প্রতিরোধ ব্যবস্থার মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
২১ জানুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। ফলাফলে ৬৯,২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৬টি শর্তে এই নির্বাচনের কথা জানানো হয়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ রেজাল্ট দেখার নিয়ম:
dpe.gov.bd ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে যান
‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল’ শীর্ষক নোটিশ খুলুন
জেলাভিত্তিক PDF ডাউনলোড করে নিজের রোল নম্বর মিলিয়ে দেখুন
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে SMS-এর মাধ্যমেও ফলাফল জানানো হয়
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ডেও ফলাফল পাওয়া যায়
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯,২৬৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, দেশের ৬১টি জেলায়। ভাইভায় প্রার্থীদের মূল সনদপত্র, NID, নাগরিকত্ব সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
ভাইভা শেষে ৭ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্তভাবে ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিতদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
ভাইভার জন্য প্রস্তুতির টিপস: নিজের বিষয় (স্নাতকের বিষয়) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন, প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান (ডিপিই, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা) পড়ুন, এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সংক্ষেপে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস করুন।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সিলেবাস মূলত চারটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সাজানো। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল:
বাংলা (২০ নম্বর): ব্যাকরণ অংশে সন্ধি, সমাস, কারক, প্রত্যয়, বাগধারা ও এককথায় প্রকাশ থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীনসহ প্রধান কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও রচনা পড়ুন। বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ব্যাকরণ থেকেই বেশিরভাগ নম্বর তোলা সম্ভব।
ইংরেজি (২০ নম্বর): Parts of speech, tense, voice, narration, preposition, synonym-antonym ও spelling থেকে প্রশ্ন হয়। প্রতিদিন ১০টি করে নতুন শব্দ শিখুন এবং বিগত সালের প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্ন সমাধান করুন।
গণিত (২০ নম্বর): পাটিগণিতের শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদ, অনুপাত, গড় এবং বীজগণিতের মান নির্ণয়, উৎপাদক থেকে প্রশ্ন আসে। সূত্র মুখস্থের পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের শর্টকাট টেকনিক শিখুন, কারণ সময় খুব কম থাকে।
সাধারণ জ্ঞান (২০ নম্বর): বাংলাদেশ বিষয়াবলি (মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, ভূগোল, অর্থনীতি), আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে প্রশ্ন হয়। নিয়মিত পত্রিকা পড়া ও মাসিক সাম্প্রতিক ঘটনার সংকলন পড়ুন।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কোন বই ভালো — এ প্রশ্নের উত্তরে: বাজারে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ গাইড হিসেবে বেশ কিছু প্রকাশনীর বই আছে। যেকোনো একটি মানসম্মত গাইডের পাশাপাশি অবশ্যই বিগত সালের প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান করুন। ২০২৩, ২০২৪ সালের ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপের প্রশ্ন এবং ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারির প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে বারবার প্র্যাকটিস করুন। প্রশ্নের ধরন বুঝতে বিগত সালের প্রশ্নের বিকল্প নেই।
প্রস্তুতির সাজেশন: প্রতিদিন কমপক্ষে ৪-৫ ঘণ্টা পড়ুন, সপ্তাহে অন্তত ২টি মডেল টেস্ট দিন, ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো নোট করে রাখুন এবং পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে থেকে OMR শিটে প্র্যাকটিস করুন। নেগেটিভ মার্কিং থাকায় নিশ্চিত না হলে উত্তর না দেওয়াই ভালো।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে কাট মার্ক নির্দিষ্ট নয় — এটা নির্ভর করে শূন্যপদ, প্রার্থীর সংখ্যা ও প্রশ্নের কঠিনতার উপর। ২০২৫ সালের সার্কুলারে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ৭৫ জন প্রার্থী ছিলেন। সাধারণত লিখিত পরীক্ষায় ৮০-এর মধ্যে ৬০-এর উপরে পেলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে এটা উপজেলাভিত্তিক মেধাতালিকার উপর নির্ভর করে।
নিয়োগ উপজেলা বা থানাভিত্তিক হওয়ায় আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু নিজ উপজেলার প্রার্থীরা। তাই নিজ উপজেলায় শূন্যপদ বেশি থাকলে সুযোগও বেশি। মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত কোটা এবং পোষ্য কোটা বিধিমালা অনুযায়ী প্রযোজ্য হয়।
অনেকেই জানতে চান প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সার্কুলার কবে দিবে বা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬ কবে হবে। ২০২৫ সালের সার্কুলারের নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। নতুন সার্কুলার কবে আসবে তা নির্ভর করে শূন্যপদ সৃষ্টি ও সরকারের সিদ্ধান্তের উপর।
সাধারণত প্রতি ২-৩ বছর পরপর বড় আকারের প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। যারা পরবর্তী সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করছেন, তারা এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন — সিলেবাস, বিগত সালের প্রশ্ন ও নিয়মিত মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে রাখুন। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাথে সাথে dpe.gov.bd ও dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়।
dpe.gov.bd — প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট; নোটিশ, ফলাফল ও বিজ্ঞপ্তি এখানে প্রকাশ হয়
dpe.teletalk.com.bd — অনলাইন আবেদন, এডমিট কার্ড ডাউনলোড ও ফি পেমেন্টের সাইট
mopme.gov.bd — প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
মনে রাখবেন, dpe result 2026 বা যেকোনো ফলাফল শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করবেন। ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো ফলাফলের তালিকা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬-এর সার্কুলার কবে প্রকাশ হয়েছিল?
৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ১০,২১৯ পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আরও ৪,১৬৬টি পদ যোগ হয়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এ আবেদনের শেষ তারিখ কবে ছিল?
আবেদন করা গেছে ৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত, শুধুমাত্র dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্যতা কী?
স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএসহ (৪ স্কেলে ২.২৫, ৫ স্কেলে ২.৮) স্নাতক ডিগ্রি। শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রাইমারি শিক্ষক বেতন কত?
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে বেতন হয়, এর সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা যুক্ত হয়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কবে হয়েছিল?
লিখিত পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) বিকাল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ২ জানুয়ারি তারিখ ছিল, রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে স্থগিত করে ৯ জানুয়ারি নেওয়া হয়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত কেন হয়েছিল?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় ২ জানুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ রেজাল্ট ২০২৬ কবে প্রকাশ হয়?
লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২১ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় প্রকাশ হয় — ৬৯,২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ রেজাল্ট দেখার নিয়ম কী?
dpe.gov.bd ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড থেকে জেলাভিত্তিক PDF ডাউনলোড করে রোল নম্বর মিলিয়ে দেখুন। উত্তীর্ণদের মোবাইলে SMS-ও পাঠানো হয়।
মৌখিক পরীক্ষা কবে হয়েছিল?
২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ৬১টি জেলায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চূড়ান্ত ফলাফলে কতজন নির্বাচিত হয়েছেন?
৭–১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন।
dpe.teletalk.com.bd-তে আবেদন ফি কত ছিল?
১০০ টাকা ফি + ১২ টাকা টেলিটক চার্জসহ মোট ১১২ টাকা, টেলিটক মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়েছিল।
এডমিট কার্ড কীভাবে ডাউনলোড করবো?
dpe.teletalk.com.bd সাইটের Admit Card মেনু থেকে User ID ও Password দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যায়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সিলেবাসে কী কী আছে?
বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ২০ ও সাধারণ জ্ঞান ২০ — মোট ৮০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা। ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়।
মেয়েদের জন্য যোগ্যতা কি আলাদা?
না, এই সার্কুলারে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রযোজ্য ছিল। বিবাহিত নারীরা স্বামী বা বাবার ঠিকানায় আবেদন করতে পেরেছিলেন।
পরবর্তী প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সার্কুলার কবে দিবে?
এখনো ঘোষণা আসেনি। সাধারণত ২-৩ বছর পরপর বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়। dpe.gov.bd-তে নজর রাখুন এবং আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।
User ID বা PIN ভুলে গেলে কী করবো?
dpe.teletalk.com.bd সাইটের রিকভারি অপশন থেকে User ID ও PIN পুনরুদ্ধার করা যায়।
এক উপজেলার প্রার্থী কি অন্য উপজেলায় আবেদন করতে পারবে?
না। নিয়োগ উপজেলা/থানাভিত্তিক — নিজের স্থায়ী ঠিকানার উপজেলা/থানার শূন্য পদের জন্যই আবেদন করা যায়। ভুল তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল হয়।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে কাট মার্ক কত?
নির্দিষ্ট কাট মার্ক নেই; শূন্যপদ ও প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করে। ২০২৫ সালের সার্কুলারে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে ৭৫ জন প্রার্থী ছিলেন।
primary teacher circular-এর অফিসিয়াল সাইট কোনটি?
dpe.gov.bd (বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফল) এবং dpe.teletalk.com.bd (অনলাইন আবেদন ও এডমিট কার্ড)।
ভাইভায় কী কী কাগজপত্র লাগে?
মূল শিক্ষাগত সনদ, NID, নাগরিকত্ব সনদ, আবেদনের Applicant Copy, প্রবেশপত্র ও ছবি। সব কাগজের ফটোকপিও সাথে রাখুন।
১৭
২৮ মন্তব্য