সহযোগী অধ্যাপক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
পেনশন হিসাব করার নিয়ম ২০২৬ | Pension Bangladesh
সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার নাম পেনশন। অবসরের পর প্রতি মাসে নিয়মিত এই ভাতা পান লাখো অবসরভোগী। আর ২০২৬ সালে এসেছে বড় খবর — নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় পেনশনের হারে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলায় পেনশন, পেনশন হিসাব, পারিবারিক পেনশন, আনুতোষিক আর ইংরেজিতে pension bangladesh লিখে প্রতিমাসে হাজারো মানুষ এই তথ্য খোঁজেন।
এই গাইডে পাবেন নতুন ২০২৬-এর পেনশন হার, পেনশন হিসাবের নিয়ম, আনুতোষিকের স্ল্যাব, পারিবারিক পেনশনের আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরকারি পেনশন বনাম সর্বজনীন পেনশনের পার্থক্য — এক জায়গায় সম্পূর্ণ তথ্য।
পেনশন কী?
পেনশন (Pension) হলো অবসরের পর প্রতি মাসে পাওয়া নির্ধারিত ভাতা। সরকারি চাকরিজীবী নির্ধারিত বয়সে (সাধারণত ৫৯ বছর) অবসরে গেলে বা পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ করলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই মাসিক ভাতা পান। একে অবসর ভাতাও বলা হয়।
পেনশন শুধু মাসিক ভাতাই নয় — এর সঙ্গে আছে এককালীন আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), ছুটি নগদায়নের টাকা এবং মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা। অর্থাৎ পেনশন হলো অবসরজীবনের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরাপত্তা কাঠামো।
২০২৬-এ পেনশনে বড় পরিবর্তন: নতুন প্রজ্ঞাপন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি 'চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬'-এর আওতায় পেনশন সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। এতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের নতুন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন — এখন চাকরিকাল বাড়ার সঙ্গে পেনশনের হারও ধাপে ধাপে বাড়বে। আগে পূর্ণ পেনশনের জন্য ২৫ বছর চাকরি বাধ্যতামূলক ছিল; এখন ৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলেই পেনশন পাওয়া যাবে, যদিও হারের পার্থক্য থাকবে। কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে।
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ও পেনশনের হার (২০২৬)
নতুন নিয়মে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে চাকরিকাল অনুযায়ী পেনশনের হার নির্ধারিত হবে:
চাকরিকাল | পেনশনের হার (সর্বশেষ মূল বেতনের) |
৫ বছর | ২১% |
১০ বছর | ৩৬% |
১৫ বছর | ৫৪% |
২০ বছর | ৭২% |
২১ বছর | ৭৫% |
২২ বছর | ৭৯% |
২৩ বছর | ৮৩% |
২৪ বছর | ৮৭% |
২৫ বছর বা তার বেশি | ৯০% (সর্বোচ্চ) |
অর্থাৎ ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরি করলে সর্বশেষ মূল বেতনের ৯০% হারে মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে। পিআরএল বা এলপিআর-এ থাকা কর্মচারীরাও নতুন স্কেল অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণের সুবিধা পাবেন — প্রজ্ঞাপনে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা রাখা হয়েছে।
পেনশন হিসাব করার নিয়ম: উদাহরণসহ
পেনশন হিসাব (pension calculation) আসলে খুব সহজ। সূত্র:
মাসিক পেনশন = সর্বশেষ মূল বেতন × চাকরিকাল অনুযায়ী হার
উদাহরণ — একজন কর্মচারীর সর্বশেষ মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা এবং চাকরিকাল ২৫ বছর:
ধাপ | হিসাব |
সর্বশেষ মূল বেতন | ৫০,০০০ টাকা |
চাকরিকাল | ২৫ বছর → হার ৯০% |
মাসিক পেনশন | ৫০,০০০ × ৯০% = ৪৫,০০০ টাকা |
আরেকটি উদাহরণ — মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা, চাকরিকাল ১৫ বছর হলে মাসিক পেনশন হবে ৩০,০০০ × ৫৪% = ১৬,২০০ টাকা। পেনশন শুরু হয় অবসর গ্রহণের পরের মাস থেকে।
আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) কী ও কীভাবে হিসাব করবেন
আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি হলো অবসরের সময় এককালীন পাওয়া বড় অঙ্কের টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপনে আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে — চাকরিকাল অনুযায়ী প্রতি টাকা পেনশনে:
চাকরিকাল | প্রতি টাকায় আনুতোষিক |
৫ বছর বা বেশি, ১০ বছরের কম | ২৬৫ টাকা |
১০ বছর বা বেশি, ১৫ বছরের কম | ২৬০ টাকা |
১৫ বছর বা বেশি, ২০ বছরের কম | ২৪৫ টাকা |
২০ বছর বা তার বেশি | ২৩০ টাকা |
হিসাবের সূত্র: আনুতোষিক = মাসিক পেনশন × প্রযোজ্য হার
উপরের উদাহরণে (মাসিক পেনশন ৪৫,০০০ টাকা, চাকরিকাল ২৫ বছর): আনুতোষিক = ৪৫,০০০ × ২৩০ = ১,০৩,৫০,০০০ টাকা (এক কোটি তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা)। এই এককালীন টাকা অবসরের সময় পাওয়া যায়।
পারিবারিক পেনশন: কারা পাবেন
পেনশনভোগী মারা গেলে তার পরিবার যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে, সেজন্য পারিবারিক পেনশনের (family pension) ব্যবস্থা আছে। সাধারণত মূল পেনশনের ৫০% হারে পারিবারিক পেনশন নির্ধারিত হয়।
পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য:
মৃত পেনশনভোগীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী
নাবালক সন্তান (নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত)
প্রতিবন্ধী সন্তান (বিশেষ বিধানে)
নির্ভরশীল পিতা-মাতা (শর্তসাপেক্ষে)
স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করলে পারিবারিক পেনশন বন্ধ হয়ে যায় — এজন্য নন-ম্যারিজ সার্টিফিকেট চাওয়া হয়।
পারিবারিক পেনশনের আবেদন পদ্ধতি ও কাগজপত্র
পেনশনভোগী মারা গেলে প্রথম কাজ — তিনি সর্বশেষ যে অফিসে চাকরি করেছেন, সেই অফিসের প্রশাসন বা হিসাব শাখায় যোগাযোগ করা। একাধিক অফিসে ছোটার দরকার নেই; প্রথম গন্তব্য শেষ কর্মস্থল।
আবেদন প্রক্রিয়া:
পারিবারিক পেনশন ফরম ২.২ সংগ্রহ করে প্রথম অংশ পূরণ করুন
মৃত কর্মচারীর শেষ অফিস প্রধানের কাছে দাখিল করুন
অফিস প্রধান প্রয়োজনীয় অংশ পূরণ করে পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন
যাচাই শেষে হিসাবরক্ষণ অফিস PPO জারি করবে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
পারিবারিক পেনশন ফরম ২.২ (পূরণকৃত)
আবেদনকারীর ৪ কপি সত্যায়িত ছবি
৩ কপি উত্তরাধিকার সনদপত্র ও নন-ম্যারিজ সার্টিফিকেট
নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ ৩ কপি (সংযোজনী-৬ ফরমে)
অভিভাবক মনোনয়ন ও ক্ষমতা অর্পণ সনদ ৩ কপি
মৃত্যুসনদ ১ কপি (চিকিৎসক/কাউন্সিলর/মেয়র/চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত)
মৃত পেনশনভোগীর অবসরভাতা মঞ্জুরিপত্র
মৃত পেনশনভোগীর PPO ও D-Half
প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তার নিবন্ধন, পরিচয়পত্র ও মেডিকেল বোর্ডের সনদ অতিরিক্ত লাগতে পারে।
ছুটি নগদায়ন: ১৮ মাসের সুবিধা
অবসরের সময় জমে থাকা অর্জিত ছুটি নগদায়ন (leave encashment) করা যায়। নতুন নিয়মে অবসর গ্রহণের সময় সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যাবে — অর্থাৎ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন পাওয়া যাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্জিত ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যায়। পিআরএল ভোগ না করলেও নির্ধারিত শর্তে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমান পেনশনভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি (২০২৬)
যারা ইতিমধ্যে পেনশন পাচ্ছেন, তাদের জন্যও সুখবর। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে:
বর্তমান নিট পেনশন | বৃদ্ধির হার |
৯,০০০ টাকা পর্যন্ত | ১০০% |
৯,০০১ – ২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
২০,০০১ – ৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
৩০,০০১ – ৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
৪০,০০১ টাকা বা বেশি | ৫৫% |
সর্বোচ্চ নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০,২০০ টাকা। যাদের পেনশন কম, তাদের বৃদ্ধির হার বেশি — অর্থাৎ নিম্ন আয়ের অবসরভোগীরা বেশি সুবিধা পাবেন।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন:
১ জুলাই – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: বাড়তি অংশের ৪০% (২০,০০১+ টাকা পেনশনে) বা ৫০% (২০,০০০ টাকা পর্যন্ত)
১ জানুয়ারি – ৩০ জুন ২০২৭: বাড়তি অংশের ৭০% বা ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ থেকে: নতুন নিট পেনশনের শতভাগ কার্যকর
১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত সময়ের বর্ধিত পেনশনের বকেয়াও পাওয়া যাবে
সরকারি পেনশন বনাম সর্বজনীন পেনশন: পার্থক্য জেনে নিন
অনেকে দুটোকে গুলিয়ে ফেলেন — পার্থক্যটা পরিষ্কার:
বিষয় | সরকারি পেনশন | সর্বজনীন পেনশন |
কাদের জন্য | সরকারি চাকরিজীবী | ১৮-৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক |
ভিত্তি | চাকরিকাল ও মূল বেতন | মাসিক চাঁদা জমা |
পরিচালনা | হিসাবরক্ষণ অফিস/এজি অফিস | জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ |
পোর্টাল | অফিসভিত্তিক প্রক্রিয়া | |
স্কিম | একটাই (সেবা-ভিত্তিক) | প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা, প্রবাসী |
সরকারি চাকরিজীবীরা চাকরির সুবাদে পেনশন পান; আর সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যে কোনো নাগরিক চাঁদা দিয়ে ভবিষ্যতের পেনশন নিশ্চিত করতে পারেন।
সর্বজনীন পেনশনে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন (upension.gov.bd)
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নাম লেখাতে সর্বজনীন পেনশন পোর্টালে যান:
পেনশনার রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন
আপনার জন্য প্রযোজ্য স্কিম বাছাই করুন (প্রগতি/সুরক্ষা/সমতা/প্রবাসী)
এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিন
ক্যাপচা কোড লিখে পরবর্তী পেজে যান
মোবাইলে আসা ৬ ডিজিটের OTP দিন
ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করে পেশা ও বার্ষিক আয় লিখুন
মাসিক চাঁদার পরিমাণ ও জমার ধরন (মাসিক/ত্রৈমাসিক/বার্ষিক) বাছুন
ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও নমিনির তথ্য দিন
ফরম যাচাই করে সাবমিট করুন ও পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
পেমেন্ট শেষে পেনশনার আইডি পাবেন — এটি আপনার ইউজার আইডি। আইডি ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখুন; এগুলো দিয়ে পরে নমিনি, স্কিম বা চাঁদার পরিমাণ পরিবর্তন করা যায়।
পেনশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সরকারি পেনশনের আবেদনে সাধারণত যেসব কাগজ লাগে:
পেনশন আবেদন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত)
জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
চাকরি বই (সার্ভিস বুক)
শেষ বেতনের সনদ (এলপিসি)
অবসর/পিআরএল-এর আদেশের কপি
ব্যাংক হিসাবের তথ্য (পেনশন যেখানে জমা হবে)
নমিনির তথ্য ও ছবি
উত্তরাধিকার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
কাগজপত্রে কোনো ভুল থাকলে প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে — তাই জমা দেওয়ার আগে সব মিলিয়ে নিন।
PPO কী? (Pension Payment Order)
PPO বা Pension Payment Order হলো পেনশন পাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র। হিসাবরক্ষণ অফিস সব যাচাই শেষে PPO জারি করে — এতে পেনশনের পরিমাণ, শুরুর তারিখ ও পরিশোধের মাধ্যম উল্লেখ থাকে।
D-Half হলো PPO-এর পেনশনভোগীর অংশ — পেনশন তোলার সময় এটি দেখাতে হয়। PPO ও D-Half যত্নে সংরক্ষণ করুন; পারিবারিক পেনশনের আবেদনেও এগুলো লাগে।
অবসরের বয়স ও পিআরএল
সরকারি চাকরিতে সাধারণ অবসরের বয়স ৫৯ বছর। ৫৯ বছর পূর্ণ হলে কর্মচারী অবসরে যান, তবে তার আগে ১ বছরের অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল (Post-Retirement Leave) ভোগ করতে পারেন। পিআরএল চলাকালেও পূর্ণ বেতন-ভাতা পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — পিআরএল-এ থাকা অবস্থায় নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে পেনশন নতুন স্কেল অনুযায়ীই পুনর্নির্ধারিত হয়। ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনেও পিআরএলভোগীদের জন্য এই সুরক্ষা স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে, তাই পিআরএল-এ থাকা কাউকে পুরনো হারে পেনশন নেওয়ার চিন্তা করতে হবে না।
পেনশন কবে থেকে পাবেন?
পেনশন শুরু হয় অবসর গ্রহণের পরের মাস থেকে। অর্থাৎ কেউ জুন মাসে অবসরে গেলে জুলাই মাস থেকে তার পেনশন চালু হবে। আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের টাকা অবসর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এককালীন পাওয়া যায়।
পাঁচ বছরের কম চাকরিকালে কোনো কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে বা মারা গেলে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধানও নতুন প্রজ্ঞাপনে রাখা হয়েছে।
৯ম পে স্কেলের পেনশনে প্রভাব: এক নজরে
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পেনশন হার কার্যকর
২৫ বছর+ চাকরিতে মূল বেতনের ৯০% পেনশন (সর্বোচ্চ)
৫ বছর চাকরিতেও পেনশন — ২১% হার থেকে শুরু
আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত (সর্বোচ্চ প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা)
বর্তমান পেনশনভোগীদের পেনশন ৫৫%-১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি
ছুটি নগদায়ন সর্বোচ্চ ১৮ মাস
বকেয়া পেনশন পাওয়ার বিধান
সতর্কতা: প্রতারণা থেকে সাবধান
পেনশন বা আনুতোষিক পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে সেটি প্রতারণা — সরকারি ফি ছাড়া কোনো টাকা লাগে না
PPO নম্বর, ব্যাংক হিসাব বা OTP কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না
শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমেই কাজ করুন
ফেসবুক বা অপরিচিত সাইটের "পেনশন বাড়িয়ে দেওয়া হবে" ধরনের প্রলোভনে পা দেবেন না
পেনশন ২০২৬: সাধারণ জিজ্ঞাসা
পেনশন কী?
অবসরের পর প্রতি মাসে পাওয়া নির্ধারিত ভাতা। সরকারি চাকরিজীবীরা নির্ধারিত বয়সে অবসরে গেলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই ভাতা পান।
২০২৬-এ নতুন পেনশন হার কত?
৫ বছর চাকরিতে মূল বেতনের ২১% থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা বেশি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০% — চাকরিকাল অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাড়ে।
পেনশন হিসাব কীভাবে করবো?
সূত্র: মাসিক পেনশন = সর্বশেষ মূল বেতন × চাকরিকাল অনুযায়ী হার। যেমন ৫০,০০০ টাকা বেতনে ২৫ বছর চাকরি হলে পেনশন ৪৫,০০০ টাকা।
আনুতোষিক কীভাবে হিসাব হয়?
আনুতোষিক = মাসিক পেনশন × প্রযোজ্য হার। ২০ বছর+ চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা। যেমন ৪৫,০০০ টাকা পেনশনে আনুতোষিক ১,০৩,৫০,০০০ টাকা।
পারিবারিক পেনশন কারা পাবেন?
মৃত পেনশনভোগীর বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামী, নাবালক সন্তান, প্রতিবন্ধী সন্তান ও নির্ভরশীল পিতা-মাতা (শর্তসাপেক্ষে)। সাধারণত মূল পেনশনের ৫০% হারে দেওয়া হয়।
পারিবারিক পেনশনের জন্য কোথায় আবেদন করবো?
মৃত পেনশনভোগী সর্বশেষ যে অফিসে চাকরি করেছেন, সেই অফিসের প্রশাসন/হিসাব শাখায় — ফরম ২.২ পূরণ করে।
পেনশন কবে থেকে চালু হয়?
অবসর গ্রহণের পরের মাস থেকে মাসিক পেনশন শুরু হয়।
PPO কী?
Pension Payment Order — পেনশন পাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র, হিসাবরক্ষণ অফিস জারি করে। D-Half হলো এর পেনশনভোগীর অংশ।
সর্বজনীন পেনশন আর সরকারি পেনশন কি এক?
না। সরকারি পেনশন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের; সর্বজনীন পেনশনে (সর্বজনীন পেনশন পোর্টাল) ১৮-৫০ বছর বয়সী যে কোনো নাগরিক চাঁদা দিয়ে অংশ নিতে পারেন।
upension.gov.bd-তে কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবো?
পোর্টালে গিয়ে পেনশনার রেজিস্ট্রেশন → স্কিম বাছাই → NID ও OTP যাচাই → ব্যক্তিগত, ব্যাংক ও নমিনির তথ্য → পেমেন্ট। পেনশনার আইডি সংরক্ষণ করুন।
বর্তমান পেনশনভোগীদের পেনশন কত বাড়বে?
৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের ভিত্তিতে ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি — কম পেনশনে বেশি হার। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ কার্যকর।
ছুটি নগদায়ন কত মাসের পাওয়া যায়?
সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ।
৫ বছরের কম চাকরিতে মারা গেলে কী হবে?
নতুন প্রজ্ঞাপনে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে।
পিআরএল-এ থাকলে নতুন পেনশন হার পাবো?
হ্যাঁ। প্রজ্ঞাপনে পিআরএল/এলপিআর-ভোগীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা আছে — নতুন স্কেল অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণ হবে।
শেষ কথা
পেনশন ২০২৬-এর নতুন নিয়ম অবসরভোগীদের জন্য বড় স্বস্তির। চাকরিকাল অনুযায়ী ২১% থেকে ৯০% হারে পেনশন, অপরিবর্তিত আনুতোষিক সুবিধা, ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন এবং বর্তমান পেনশনভোগীদের জন্য ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি — সব মিলিয়ে এটি একটি যুগান্তকারী সংস্কার। নিজের পেনশন হিসাব করে রাখুন, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন, আর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো প্রলোভনে পা দেবেন না।
১৬
২৬ মন্তব্য