Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০৯ পূর্বাহ্ণ

অবশ্যম্ভাবী সত্যের ডাক (সূরা আল-হাক্কাহর আলোকে কিয়ামত, হাশর, আমলনামা ও আখিরাতের চূড়ান্ত পরিণতির কাব্যগাথা) মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                অবশ্যম্ভাবী সত্যের ডাক

(সূরা আল-হাক্কাহর আলোকে কিয়ামত, হাশর, আমলনামা ও আখিরাতের চূড়ান্ত পরিণতির কাব্যগাথা)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যাঁর হুকুমে জীবন জাগে, মুছে মনের ভয়,
যাঁর দানে ধরার বুকে প্রাণের সুরে জয়,
সেই মহান রবের নামে নত করি শির,
তাঁরই বাণী কুরআন জুড়ে সত্যের আলোর নীড়।

আল-হাক্কাহ! সত্য সে দিন—অবশ্যম্ভাবী কাল,
যে দিনের নেই কোনো সন্দেহ, নেই তো কোনো জাল।
“
কী সেই সত্য? কী তার রূপ?”—জাগে প্রশ্ন মনে,
কুরআনেরই সতর্ক বাণী বাজে ক্ষণে ক্ষণে।

সে দিন আসবে, আসবেই তো—নেই তার কোনো ক্ষয়,
মৃত্যু পেরিয়ে উঠবে মানুষ, হবে সবার হশর-ময়।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন থাকবে না আর চির,
প্রভুর সামনে দাঁড়াবে সবাই—বাদ যাবে না কেহ ফির।

আল-হাক্কাহ—সত্যের ডাক, সুনিশ্চিত সে দিন,
মিথ্যার যত প্রাসাদ ভাঙে, মুছে যাবে ঋণ।
যে দিনটির কথা শুনে কাঁপে মুমিন প্রাণ,
সে দিনটির আগেই করো আমল-ভরা দান।

দুনিয়ার যত হাসি-খেলা, যত অহংকার,
সময় গেলে সবই হবে স্মৃতির অন্ধকার।
যে প্রাসাদে গর্ব করে বলি—“আমি রাজা”,
মাটির নিচে সবাই শেষে এক ঠিকানায় সাজা।

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, ক্ষমতারই বল,
কিয়ামতের কঠিন দিনে কোনোটাই নয় ঢাল।
সেদিন শুধু ঈমান থাকবে, থাকবে নেক আমল,
সত্য পথে যে জীবন কাটায়, তারই হবে সফল।

আদ জাতি ছিল শক্তিশালী, গর্বে ছিল ভরা,
সত্যের পথে ডাকলে তারা ফিরল না তো ধরা।
সামূদেরও অবাধ্যতা বাড়ল দিনে দিনে,
রাসূলেরই সতর্ক বাণী গেল তাদের ঋণে।

তারপর এলো আল্লাহরই কঠিন শাস্তির কাল,
মুছে গেল তাদের দম্ভ, নিভল শক্তির জ্বাল।
প্রচণ্ড বায়ু আদকে দিল ধ্বংসেরই স্বাদ,
সামূদেরও শাস্তি এলো—শেষ হলো সব সাধ।

সাতটি রাত আর আটটি দিন ঝড়ের তাণ্ডব চলে,
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে ধুলোর সাথে মিশে।
খেজুরগাছের কাণ্ডের মতো পড়ে রইল দেহ,
ক্ষমতার সেই বড়াই কোথায়? কোথায় তাদের গেহ?

তাই ইতিহাস শুধু নয় যে পুরোনো কোনো কাহিনি,
মানুষ যেন শিক্ষা নেয়—এটাই তার বাণী।
অন্যায় পথে যতই শক্তি, যতই থাকুক বল,
রবের বিধান অমান্য করলে পরিণতি হয় ছল।

ফেরাউনও ক্ষমতার নেশায় ভুলেছিল রবের নাম,
অহংকারে ভেবেছিল সে—চিরদিনই তারই দাম।
তারও আগে কত জাতি গেছে অবাধ্যতার পথে,
আজ তারা নেই, শিক্ষা শুধু রয়ে গেছে পৃথিবীর রথে।

লূতের জাতি পাপের পথে সীমা করেছিল পার,
অন্যায় যখন সীমা ছাড়ে, আসে রবের বিচার।
তাই তো বলি, মানুষ জাগো, সত্য পথে চলো,
পাপের কালো মেঘ সরিয়ে ঈমান-আলো জ্বালো।

ক্ষমতা যদি পেয়ে যাও, করো না অহংকার,
দুর্বলের হক ফিরিয়ে দাও, ন্যায় করো সবার।
সম্পদ যদি বাড়ে তোমার, শোকর করো মনে,
রবের দানকে রবের পথে বিলিয়ে দাও ক্ষণে।

নূহ (আ.)-এর যুগে যখন প্লাবনের পানি এলো,
অবাধ্যতার অন্ধকারে সত্য যেন হারিয়ে গেল।
রবের হুকুমে নৌকা হলো মুমিনদেরই ত্রাণ,
বিশ্বাসীদের রক্ষা করল মহান রবের দান।

ঢেউ উঠেছিল আকাশছোঁয়া, ভয় ছিল চারিধার,
তবু রবের ওপর ভরসা ছিল মুমিনের অটল ভার।
এ শিক্ষা আজও আমাদের—বিপদ যতই ঘোর,
আল্লাহরই ওপর ভরসা রাখো, হাল ছেড়ো না কভু ভোর।

তাওয়াক্কুল মানে নয় যে বসে থাকা চুপ,
সাধ্যমতো চেষ্টা করে রবের ওপর নির্ভর হোক রূপ।
নৌকা যেমন বানাতে হয়েছিল, নিতে হয়েছিল পথ,
তেমনি মুমিন কর্মে জাগে—আল্লাহর ওপর ভরসা যথার্থ।

একদিন হঠাৎ শিঙ্গায় হবে এক মহা ফুঁকার ধ্বনি,
কেঁপে উঠবে বিশ্বভুবন, স্তব্ধ হবে ধরণী।
পৃথিবী আর পর্বত তখন উঠবে ভেঙে চূর্ণ,
চেনা পৃথিবী থাকবে না আর, হবে দৃশ্য নতুন।

আকাশ হবে বিদীর্ণ, বদলাবে তার রূপ,
কাঁপবে সৃষ্টির অন্তর তখন, থামবে সব কূপ।
যে মানুষ আজ ব্যস্ত হয়ে দুনিয়ার পিছে ছুটে,
সেদিন বুঝবে—সময় কত দ্রুত গেছে ফুরিয়ে।

সেদিন আর ফিরবে না তো যৌবনের সেই কাল,
ফিরবে না হারানো সময়, মুছবে না কোনো জ্বাল।
তাই তো আজই প্রস্তুত হও, সময় থাকতে ভাই,
কাল যে আসবে—তার কোনোই নিশ্চয়তা নাই।

সেদিন সবাই উপস্থিত হবে রবের সামনে এসে,
কেউ থাকবে না গোপন তখন পর্দার আড়াল ভেসে।
রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব জন,
একই ময়দানে দাঁড়াবে তারা—একই হবে ক্ষণ।

দুনিয়ার যত পরিচয়, পদ-পদবি, মান,
কোনোটাই আর হবে না তো সেদিন নিরাপদ স্থান।
যে অহংকারে মাথা তুলে বলেছিল—“আমি বড়”,
সেদিন বুঝবে মানুষ কত ক্ষুদ্র, কত জড়।

সেদিন কোনো মিথ্যা কথা কাজে দেবে না আর,
নিজের আমল নিজের সামনে হবে প্রকাশিত সবার।
গোপন রাতের গোপন কাজ, গোপন দিনের পাপ,
সবই হবে প্রকাশিত—থাকবে না কোনো চাপ।

যার আমলনামা ডান হাতে আসবে সেদিন ভাই,
আনন্দে সে বলবে—“দেখো, আমার খাতা পাই!”
“
এসো, আমার আমলনামা তোমরা পড়ে দেখো,
হিসাব হবে জানতাম আমি—সত্য ছিল সে শেখো।”

তার মুখে থাকবে আনন্দ, অন্তরে থাকবে নূর,
দুনিয়াতে রবের পথে ছিল তারই সুর।
সালাত, সিয়াম, সত্য, দান, ন্যায় আর আমানত,
মানুষের হক রক্ষা করে গড়েছিল সে জীবন।

তার জন্য আছে জান্নাত—সুখের অপরূপ ঘর,
নাগালের মাঝে ফলের ডালি, শান্তির নির্মল ঝর।
তাকে বলা হবে—“খাও ও পান করো তৃপ্ত হয়ে,
দুনিয়াতে যে আমল করেছ, তারই প্রতিদান লয়ে।”

কিন্তু যার বাম হাতে আমলনামা আসবে,
আহাজারিতে তার বুক যেন ভেঙে যাবে।
বলবে সে—“হায়! যদি আমার খাতাটি না আসত,
হায়! যদি আমার হিসাব জানার দিনটি না হতো!”

“হায়! যদি সেই মৃত্যুই হতো আমার শেষ ঠিকানা,
হায়! আমার ধন-সম্পদ কেন দিল না সান্ত্বনা?”
“
আমার শক্তি, আমার ক্ষমতা কোথায় গেল আজ?
যে গর্বে আমি মত্ত ছিলাম, কোথায় সে সব সাজ?”

কিন্তু তখন অনুতাপে কী-ই বা হবে ফল?
সময় তো আর ফিরবে না, শেষ হয়ে গেছে চল।
তাই তো আজই ফিরে এসো, তাওবার দরজা খোলা,
রবের রহমত চেয়ে নাও—অন্তর করো ভোলা।

ধন যদি থাকে, শোকর করো—ধন তো রবের দান,
হালাল পথে অর্জন করে করো কল্যাণ দান।
সম্পদ যেন হৃদয়জুড়ে প্রভু না হয় ভাই,
সম্পদের মালিক আল্লাহ—এ কথা ভুলো নাই।

ক্ষমতা যদি আসে হাতে, ন্যায় করো সবার,
দুর্বলের হক ফিরিয়ে দাও, মুছে দাও অন্ধকার।
পদ যদি দেয় মর্যাদা, বিনয় রেখো মনে,
আজ যে তুমি সম্মানিত, কাল মাটি নেবে টেনে।

জীবন যত সুন্দর হোক, মৃত্যু আসবে শেষে,
সবাই যাবে রবের কাছে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে।
সঙ্গে যাবে না সোনা-রূপা, বাড়ি কিংবা গাড়ি,
সঙ্গে যাবে ঈমান-আমল—এই সত্যটি ধরি।

যে ক্ষুধার্ত, তার ক্ষুধা কি কেবল তারই ব্যথা?
মুমিন হৃদয় কাঁদে শুনে অসহায়ের কথা।
যে দরিদ্র, তার পাশে দাঁড়াও সামর্থ্য যতটুকু,
দান-সদকা ভালোবাসায় করো মনকে নতটুকু।

মিসকিনকে খাবার দেওয়া শুধু দানের কাজ নয়,
এটি মানবতার শিক্ষা, ঈমানেরও পরিচয়।
অসহায়ের চোখের পানি মুছে দিলে ভাই,
রবের সন্তুষ্টির আশায় তার পাশে দাঁড়াই।

এতিম শিশু, বিধবা নারী, পথের অসহায়,
দুর্বল মানুষ, মজলুম যারা—তাদের ভুলে যেয়ো না হায়।
মানুষ মানুষের জন্য হবে সহমর্মী প্রাণ,
দয়া, মায়া, ভালোবাসায় গড়বে সুন্দর সমাজ-প্রাণ।

কুরআন কোনো কবির কথা নয়—সত্যের বাণী পবিত্র,
কোনো গণকের কথা নয়—এ বাণী নির্মল, পবিত্র।
জগতসমূহের প্রতিপালক যিনি মহান রব,
তাঁরই পক্ষ থেকে এসেছে কুরআনের এই শব্দ।

কুরআন হলো পথের আলো, আঁধার রাতে দিশা,
ভুলের মাঝে সত্যের ডাক, অন্তরজুড়ে আশা।
যে হৃদয়ে কুরআন জাগে, সে হৃদয় হয় নূর,
অন্যায়ের আঁধার সরে, সত্য হয় ভরপুর।

শুধু তিলাওয়াত নয়—বোঝো, জীবনে করো মান,
কুরআনেরই আদর্শ হোক আমাদের পরিচয় মহান।
বাড়ি, সমাজ, শিক্ষা, কর্ম—সবখানে তার আলো,
কুরআনের পথ অনুসরণে জীবন হবে ভালো।

আল্লাহর রাসূল সত্যের পথে ছিলেন অটল,
আমানতদার, সত্যবাদী, চরিত্র ছিল নির্মল।
আল্লাহর যে বাণী পেলেন, পৌঁছে দিলেন তাই,
নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বানিয়ে বলেন নাই।

ওহির প্রতি বিশ্বস্ত থেকে পালন করলেন দায়,
মানবজাতির পথ দেখালেন সত্যের পরিচয়।
তাঁর সুন্নাহ আমাদের জন্য জীবনপথের দিশা,
সুন্দর চরিত্র, ন্যায় ও দয়া—তাঁর জীবনেই শিক্ষা।

তাই তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকুক অন্তরে,
তাঁর দেখানো সত্যপথে চলি জীবনভরে।
সুন্নাহর আলোয় চরিত্র গড়ি, দূর করি সব পাপ,
তাঁর আদর্শ অনুসরণে জীবন হোক নিষ্কলুষ সাফ।

তাকওয়া মানে অন্তরে রবের ভয় ও ভালোবাসা,
তাঁর বিধান মেনে চলা, তাঁরই রহমতের আশা।
মানুষ না দেখলেও যখন আল্লাহ দেখেন সব,
গোপন পাপ থেকে বাঁচায় মুমিনের সেই রব।

একাকী রাত, নিঃশব্দ ঘর—কেউ তো দেখে নাই,
তবু মুমিন পাপ ছাড়ে—“আমার রব তো দেখেন ভাই।”
এটাই হলো তাকওয়ার আলো, এটাই ঈমানের জোর,
এই আলোয় মানুষ পায় সত্য জীবনের ভোর।

অন্যের দোষ গুনতে গিয়ে নিজের দোষ ভুলে যেয়ো না,
নিজের আমল দেখার আগে অন্যের বিচার কোরো না।
প্রতিদিনই নিজেকে জিজ্ঞেস—“আজ কী করলাম আমি?
কতটা সত্য, কতটা ভালো, কতটা হলো নামি?”

কাউকে কি কষ্ট দিয়েছি? কারও হক কি খেয়েছি?
মিথ্যা কথা, অন্যায় পথে কখনো কি গিয়েছি?
সালাত কি ঠিক রেখেছি? কুরআন কি পড়েছি?
আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য কতটুকু করেছি?

যদি ভুল হয়, তাওবা করো—রহমতের দরজা খোলা,
গুনাহ যত বড়ই হোক, রবের দয়া অপরিসীম ভোলা।
অহংকার ছেড়ে ফিরে এসো সত্যের পবিত্র ঘরে,
রবের রহমত পেতে হলে বিনয় রাখো অন্তরে।

পনেরো. সময়ের মূল্য

সময় নদীর স্রোতের মতো যায় যে বয়ে বয়ে,
ফিরে আসে না হারানো ক্ষণ, যতই কাঁদি হায় রে।
যে সময় আজ হাতে আছে, কাল তা থাকবে না,
জীবনের এই অমূল্য ধন অবহেলায় হারিও না।

আজকের নেক আমল কালকে দেবে ফল,
আজকের পাপ কালকে হবে অনুতাপের দল।
তাই সময়কে কাজে লাগাও ঈমান-সত্য ধরে,
নেক আমলের ফুল ফুটাও জীবনেরই ঘরে।

কিয়ামতের সেই মহাদিন আসবেই একদিন,
আজ যে মানুষ ভুলে আছে, সেদিন হবে চিন্তামগ্ন।
আজই তবে প্রস্তুতি নাও, আজই গড়ো পথ,
সত্য, তাকওয়া, ন্যায় ও দয়া হোক জীবনের রথ।

হারাম ছেড়ে হালাল ধরো, মিথ্যা ছেড়ে সত্য,
জুলুম ছেড়ে ন্যায়কে ধরো—এটাই মুমিনের ব্রত।
হিংসা ছেড়ে ক্ষমা শেখো, অহংকার করো ক্ষয়,
মানুষকে ভালোবাসো, তাতেই জীবনের জয়।

সূরা আল-হাক্কাহ ডাকে—“জাগো মানবজাতি,
দুনিয়ার মায়া ক্ষণিক, সামনে অনন্ত গতি।”
আদ-সামূদের কাহিনি শোনো, ফেরাউনের পরিণাম,
অবাধ্যতার পথ যে কাঁটায় ভরা—এই তারই বার্তা নাম।

হাশরের সেই ময়দানে যখন দাঁড়াবে প্রাণ,
কোথায় তখন দুনিয়ার সেই গর্বিত পরিচয়-জ্ঞান?
থাকবে শুধু ঈমান আর আমলের হিসাব,
তাই তো আজই সংশোধন করো জীবনের সব খাতাব।

ডান হাতে যে খাতা পাবে—সেই আনন্দ চাই,
রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথেই চলতে চাই।
বাম হাতে যে খাতা পেলে আফসোস হবে ভার,
সে আফসোসের জীবন যেন না হয় আমাদের আর।

হে আল্লাহ, সত্যের পথে রাখো আমাদের প্রাণ,
কুরআনের আলোয় ভরাও আমাদের অন্তর-প্রাণ।
কিয়ামতের মহাদিনে দিও নিরাপদ স্থান,
ঈমান দিয়ে শেষ করো আমাদের জীবন-প্রাণ।

মিথ্যা, পাপ, জুলুম থেকে রাখো আমাদের দূর,
তাকওয়া দিয়ে আলোকিত করো অন্তরের নূর।
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর দাও শক্তি ও মান,
দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটানো হোক আমাদের দান।

অমানত রক্ষা করার দাও আমাদের বল,
সত্য কথা বলার শক্তি দাও নির্মল ও অটল।
হারাম থেকে বাঁচিয়ে রেখো, হালাল পথে চালাও,
তোমার সন্তুষ্টির জন্য জীবনটাকে সাজাও।

যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক হবে, কাঁপবে বিশ্বভূমি,
সেদিন যেন ঈমান নিয়ে দাঁড়াই তোমারই ভূমি।
যেদিন আমলনামা খুলবে, হবে হিসাব শুরু,
ডান হাতে যেন খাতা পাই—এই প্রার্থনা গুরু।

হে মহান রব, কুরআনের আলোয় জীবন করো ধন্য,
তোমার প্রেমে ভরে দাও অন্তর অতি পবিত্র ও পূণ্য।
দুনিয়ার পথ পেরিয়ে যেন জান্নাতের দ্বার পাই,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ চাওয়া ভাই।

আল-হাক্কাহ—সত্য সে দিন, আসবেই অবশেষে,
মানুষ যাবে রবের কাছে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে।
আজই তবে জেগে উঠি, আজই হোক প্রস্তুতি,
ঈমান, আমল, সত্য, তাকওয়ায় হোক জীবনের গতি।

মহান রবের পবিত্র নামের মহিমা করি গান,
তাঁরই পথে জীবন দিই—তাঁরই হোক সম্মান।
আখিরাতের চূড়ান্ত দিনে দিও নাজাত-আলো,
হে আল্লাহ, তোমার রহমতে করো আমাদের ভালো।

আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ