Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:০৭ অপরাহ্ণ

বিদ্যালয় ও কমিউনিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ: আমাদের করণীয়

বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এডিস মশার কামড়ে সৃষ্ট এই ভাইরাসজনিত রোগটি থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একটি সচেতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের নিজ নিজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।


১. মশার বংশবৃদ্ধি রোধে পদক্ষেপ

এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বিদ্যালয়ের চারপাশে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে:

  • জমে থাকা পানি অপসারণ: স্কুলের ফুলের টব, নালা, ড্রেন, অব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল বা ডাবের খোসায় যেন পানি জমে না থাকে।

  • নিয়মিত ছাদ ও উঠান পরিষ্কার: বিদ্যালয়ের ছাদ, কার্নিশ এবং পেছনের উঠান নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

  • পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: ভবনের আশেপাশে যেন জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা প্রয়োজন।

২. মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষা

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয় চলাকালীন এবং ঘরে মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতন হতে হবে:

  • উপযুক্ত পোশাক: শিক্ষার্থীরা যেন হাত ও পা ঢাকা পোশাক পরিধান করে স্কুলে আসে, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের উৎসাহিত করা।

  • মশারি ও অ্যারোসল ব্যবহার: দিনের বেলা ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে দিনে নিরাপদ মশক নিধন স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক করণীয়

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ:

  • প্রাথমিক লক্ষণ: তীব্র জ্বর, চোখ ও মাথাব্যথা, শরীরে বা জয়েন্টে অতিরিক্ত ব্যথা থাকলে ডেঙ্গু হয়েছে বলে সন্দেহ করা যেতে পারে।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ: লক্ষণ দেখা মাত্রই কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ও রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

  • পর্যাপ্ত পানীয় গ্রহণ: রোগীকে প্রচুর পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল খাবার প্রদান করতে হবে।

বিদ্যালয়ের ভূমিকাঃ

বিদ্যালয় অ্যাসেম্বলিতে প্রতিদিন ডেঙ্গু সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা যেতে পারে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি "পরিচ্ছন্নতা টিম" গঠন করে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে স্কুল প্রাঙ্গণ তদারকি করা হলে ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতাই পারে ডেঙ্গু থেকে আমাদের সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ