সহকারী শিক্ষক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিগ্রি ৩য় বর্ষ বোর্ড চ্যালেঞ্জ ২০২৬: খাতা পুনঃমূল্যায়ন (Recheck) আবেদনের নিয়ম, ফি ও শেষ তারিখ | Degree 3rd Year Board Challenge 2026
📌 এক ক্লিকে ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করুন
📌 ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম দেখতে ক্লিক করুন
📌 Degree 3rd year Board Challenge
ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ফলাফল নিয়ে যাদের মনে খটকা রয়ে গেছে, তাদের জন্য বড় সুখবর — খাতা পুনঃমূল্যায়নের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে গেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, আর আবেদনের শেষ তারিখ রাখা হয়েছে ১০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা পর্যন্ত। অর্থাৎ আপনার হাতে সময় আছে মাত্র ১২ দিনের মতো। যারা মনে করছেন পরীক্ষা ভালো দিয়েও কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাননি, তাদের জন্য এটাই ফলাফল সংশোধনের একমাত্র অফিসিয়াল সুযোগ।
অনেকে একে degree board challenge নামে খোঁজেন, আবার অনেকে বলেন খাতা রিচেক বা পুনঃনিরীক্ষণ — নাম যেটাই হোক, প্রক্রিয়া একটাই। এই পোস্টে ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম, প্রতি সাবজেক্টে কত টাকা লাগে, ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি, পেমেন্টের নিয়ম এবং আবেদনের পর কী হবে — সবকিছু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো, যাতে একবার পড়েই আপনি নিশ্চিন্তে আবেদন করতে পারেন।
বিষয় | তথ্য |
আবেদন শুরু | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
আবেদনের শেষ তারিখ | ১০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা |
আবেদন ফি | প্রতি সাবজেক্ট ১,০০০ টাকা |
আবেদন মাধ্যম | অনলাইন — NU PAMS পুনঃনিরীক্ষণ (re-scrutiny) পোর্টাল |
যা যা লাগবে | রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মোবাইল নম্বর, পুনঃমূল্যায়ন চাওয়া সাবজেক্টের কোড |
পেমেন্ট মাধ্যম | বিকাশ, নগদ, রকেট (মোবাইল ব্যাংকিং) |
কলেজে কাগজপত্র জমা | প্রয়োজন নেই |
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ কী? খাতা পুনঃমূল্যায়ন আসলে কীভাবে কাজ করে
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ বলতে বোঝায় পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনঃমূল্যায়ন (re-scrutiny/recheck)-এর জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা। সহজ ভাষায়, আপনি যদি মনে করেন আপনার উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়নি, তাহলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করতে পারেন যেন আপনার খাতাটি আবার যাচাই করা হয়। অনেকে একে nu recheck 2026 বা degree re-scrutiny apply নামেও খোঁজেন — সবগুলো একই প্রক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন নাম।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা জরুরি — বোর্ড চ্যালেঞ্জ মানে খাতা নতুন করে দেখা বা নতুন পরীক্ষা নেওয়া নয়। পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত যাচাই করা হয় উত্তরপত্রের সব অংশ মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, এবং ফলাফল প্রস্তুতের সময় নম্বর এন্ট্রিতে কোনো গরমিল আছে কি না। অর্থাৎ এটি মূলত প্রক্রিয়াগত ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা, পুরো খাতা আবার নতুন দৃষ্টিতে মূল্যায়নের ব্যবস্থা নয়।
তাই বাস্তব প্রত্যাশা রাখুন। পুনঃমূল্যায়নে নম্বর বাড়তেও পারে, কমতেও পারে, আবার একদম অপরিবর্তিতও থাকতে পারে। কেউ যদি আপনাকে নিশ্চয়তা দেয় যে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলেই নম্বর বাড়বে, তাহলে বুঝবেন সেটি ভুল তথ্য। তারপরও যাদের ফলাফলের সঙ্গে নিজের প্রত্যাশার বড় ব্যবধান আছে, তাদের জন্য এটি ফল সংশোধনের একমাত্র বৈধ পথ — এই সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে — বোর্ড চ্যালেঞ্জ আর ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা কি এক? উত্তর হলো না, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা। বোর্ড চ্যালেঞ্জে আপনি ইতিমধ্যে দেওয়া পরীক্ষার খাতাই পুনরায় যাচাই করান, নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হয় না। আর ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা হলো পরের বছর আবার পরীক্ষা দিয়ে গ্রেড উন্নত করার সুযোগ। দুটির উদ্দেশ্য এক হলেও পদ্ধতি, খরচ ও সময় — সবই আলাদা। যারা দ্রুত ফল সংশোধন চান, তাদের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জই প্রথম পদক্ষেপ।
কারা ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে পারবে
২০২৬ সালের ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেকোনো পরীক্ষার্থী, যিনি প্রকাশিত ফলাফলে সন্তুষ্ট নন, তিনি খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন। ফেল করা সাবজেক্ট হোক বা পাস করা সাবজেক্টে প্রত্যাশার চেয়ে কম গ্রেড — যেকোনো সাবজেক্টের জন্যই আবেদন করা যায়।
একটি সুবিধা হলো, আপনি চাইলে একাধিক সাবজেক্টের জন্যও আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি সাবজেক্টের জন্য আলাদা করে ১,০০০ টাকা ফি দিতে হবে। অর্থাৎ দুটি সাবজেক্টে চ্যালেঞ্জ করলে মোট ফি দাঁড়াবে ২,০০০ টাকা। কোন সাবজেক্টগুলোতে আবেদন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তব কৌশল নিচের একটি সেকশনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মনে রাখবেন, আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করা যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করতে হবে। ১০ অক্টোবর রাত ১১টার পর পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেলে আর কোনোভাবেই আবেদনের সুযোগ থাকবে না। তাই শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রেখে হাতে সময় থাকতেই আবেদন সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদনের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে পোর্টালের সঠিক লিংক, ফি জমা দেওয়ার নিয়ম এবং কোনো বিশেষ শর্ত থাকলে তা উল্লেখ থাকে। বিজ্ঞপ্তি না পড়ে আবেদন করতে গেলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে — মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে পুরো নির্দেশনা পড়ে নেওয়াই নিরাপদ।
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম: ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম একদম সহজ রাখা হয়েছে — পুরো প্রক্রিয়াটাই অনলাইনে, ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে করা যায়। কলেজে যাওয়ার বা কোনো কাগজপত্র জমা দেওয়ার দরকার নেই। নিচে ধাপে ধাপে পুরো পদ্ধতি দেওয়া হলো:
প্রথম ধাপে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে NU PAMS পুনঃনিরীক্ষণ (re-scrutiny) পোর্টালের লিংকে প্রবেশ করুন। সতর্ক থাকবেন — শুধুমাত্র অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া লিংকই ব্যবহার করবেন, অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
দ্বিতীয় ধাপে পোর্টালে আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিন। মোবাইল নম্বরটি সঠিকভাবে দিন, কারণ পরবর্তী যোগাযোগ ও পেমেন্ট কনফার্মেশন এই নম্বরের মাধ্যমেই হবে।
তৃতীয় ধাপে যেসব সাবজেক্টের খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে চান, সেগুলোর সাবজেক্ট কোড সিলেক্ট করুন। সাবজেক্ট কোড নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন — ভুল কোড সিলেক্ট করলে ভুল সাবজেক্টের জন্য ফি কেটে যাবে।
চতুর্থ ধাপে সব তথ্য আরেকবার মিলিয়ে নিয়ে Submit বাটনে ক্লিক করুন। সাবমিট করার পর আপনি পেমেন্ট পেইজে চলে যাবেন।
পঞ্চম ও শেষ ধাপে পেমেন্ট পেইজ থেকে Online payment অপশন সিলেক্ট করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পেমেন্ট সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে। পেমেন্টের কনফার্মেশন মেসেজ বা ট্রানজেকশন রেকর্ডটি সংরক্ষণ করে রাখুন — ভবিষ্যতে প্রয়োজনে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।
পুরো প্রক্রিয়া শেষে আর কোনো কাগজপত্র কলেজে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই — এ বিষয়টি অফিসিয়াল নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। অর্থাৎ অনলাইন আবেদন ও পেমেন্টই চূড়ান্ত।
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কত টাকা লাগে: ফি ও পেমেন্টের বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো — ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কত টাকা লাগে? উত্তর একদম স্পষ্ট: প্রতি সাবজেক্টের জন্য পুনঃমূল্যায়ন ফি ১,০০০ টাকা। আপনি যতগুলো সাবজেক্টে আবেদন করবেন, ফি তত গুণ হবে। একটি সাবজেক্টে ১,০০০ টাকা, দুটিতে ২,০০০ টাকা, তিনটিতে ৩,০০০ টাকা — হিসাবটা এভাবেই।
পেমেন্ট করতে হবে অনলাইনে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। বিকাশ, নগদ বা রকেট — এই তিনটি মাধ্যমের যেকোনো একটি দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে। পোর্টালের পেমেন্ট পেইজে Online payment সিলেক্ট করলেই এই অপশনগুলো পেয়ে যাবেন। পেমেন্ট সফল না হওয়া পর্যন্ত আবেদন চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে না, তাই পেমেন্টের পর কনফার্মেশন অবশ্যই যাচাই করে নিন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ — পেমেন্ট করার সময় নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই পেমেন্ট করুন এবং ট্রানজেকশন আইডি বা কনফার্মেশন এসএমএস সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে এই রেকর্ডই আপনার প্রমাণ। আর কারো কথায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে "ভেতর থেকে কাজ করিয়ে দেওয়ার" প্রলোভনে পড়বেন না — বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টালেই জমা হয়, অন্য কোনো মাধ্যমে নয়।
খরচের পরিকল্পনা আগে থেকে করে রাখুন। ধরুন আপনি তিনটি সাবজেক্টে আবেদন করতে চান — তাহলে মোট লাগবে ৩,০০০ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে এই পরিমাণ টাকা আগে থেকে রেখে দিন, যাতে পেমেন্টের সময় ব্যালান্সের অভাবে আবেদন আটকে না যায়। পেমেন্টের সময় নেটওয়ার্ক স্থিতিশীল রাখুন এবং একই পেমেন্ট দুবার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন — পেমেন্ট বাটনে একবার ক্লিক করে কনফার্মেশনের জন্য অপেক্ষা করুন। পেমেন্ট সফল হলে যে রসিদ বা ট্রানজেকশন নম্বর পাবেন, সেটি লিখে রাখুন বা স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন; ফল প্রকাশ পর্যন্ত এটি আপনার কাছে থাকা জরুরি।
কোন সাবজেক্টে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবেন? সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাস্তব কৌশল
প্রতি সাবজেক্টে ১,০০০ টাকা ফি হওয়ায় অন্ধভাবে সব সাবজেক্টে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোন সাবজেক্টে চ্যালেঞ্জ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিন ঠান্ডা মাথায়, নিচের বাস্তব কৌশলগুলো মাথায় রেখে।
প্রথমে প্রতিটি সাবজেক্টে আপনার প্রত্যাশিত নম্বর আর প্রাপ্ত গ্রেডের ব্যবধান মিলিয়ে দেখুন। যে সাবজেক্টে পরীক্ষা দিয়ে আপনি নিশ্চিত ছিলেন যে ভালো নম্বর আসবে, অথচ ফলাফলে এসেছে তার চেয়ে অনেক কম — সেই সাবজেক্টগুলোই পুনঃমূল্যায়নের জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পছন্দ।
দ্বিতীয়ত, ফেল করা সাবজেক্ট বনাম পাস করা সাবজেক্টের মধ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করুন। যে সাবজেক্টে ফেল এসেছে অথচ আপনি পাস করার মতো পরীক্ষা দিয়েছিলেন বলে মনে করেন, সেখানে চ্যালেঞ্জের যৌক্তিকতা সবচেয়ে বেশি — কারণ একটিমাত্র সাবজেক্টের ফেল পুরো ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়া আটকে দিতে পারে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে ভালো গ্রেড পাওয়া সাবজেক্টে সামান্য গ্রেড বাড়ানোর আশায় ফি খরচ করা সাধারণত লাভজনক হয় না।
তৃতীয়ত, বর্ডারলাইন কেসগুলো বিবেচনা করুন। যেমন — কোনো সাবজেক্টে আপনি ফার্স্ট ক্লাসের খুব কাছাকাছি আছেন, বা CGPA-তে একটি গ্রেডের পার্থক্য আপনার ভবিষ্যৎ (চাকরির আবেদন, মাস্টার্সে ভর্তি) বদলে দিতে পারে, সেখানে পুনঃমূল্যায়ন যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখবেন, পুনঃমূল্যায়নে নম্বর কমতেও পারে। তাই যে সাবজেক্টে ফলাফল নিয়ে আপনার কোনো সন্দেহই নেই, সেখানে শুধু কৌতূহলের বশে আবেদন না করাই ভালো।
সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা হলে সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টের শিক্ষক বা সিনিয়রদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। অনেক সময় অভিজ্ঞ শিক্ষকরা উত্তরপত্রের ধরন ও ফলাফলের প্যাটার্ন দেখে বলে দিতে পারেন কোন সাবজেক্টে পুনঃমূল্যায়নে লাভের সম্ভাবনা বেশি। আর নিজের পরীক্ষার খাতার কথা মনে করে ভাবুন — কোন প্রশ্নের উত্তর আপনি নিশ্চিতভাবে সঠিক লিখেছিলেন, অথচ নম্বর এসেছে অস্বাভাবিক কম। এই আত্মবিশ্লেষণই সঠিক সাবজেক্ট বাছাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
আবেদনের পর কী হবে: ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ রেজাল্ট ২০২৬
আবেদন ও পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার কাজ শেষ — এরপর প্রক্রিয়াটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে। পুনঃনিরীক্ষণের কাজ শেষ হলে ফলাফল প্রকাশ করা হবে, এবং সেটি জানানো হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। degree 3rd year recheck result কবে প্রকাশ হবে, সেই নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি — অফিসিয়াল ঘোষণার জন্য নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে নজর রাখুন।
পুনঃনিরীক্ষণের ফলে তিনটি সম্ভাবনার যেকোনো একটি ঘটতে পারে। প্রথমত, খাতায় নম্বর গণনায় ভুল বা কোনো উত্তরের মূল্যায়ন বাদ পড়ার মতো ত্রুটি ধরা পড়লে আপনার নম্বর বাড়তে পারে এবং গ্রেড পরিবর্তন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো ত্রুটি না পাওয়া গেলে ফলাফল অপরিবর্তিত থাকবে। তৃতীয়ত, বিরল হলেও পুনঃযাচাইয়ে নম্বর কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। পরিবর্তিত ফলাফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
একটি বিষয় নিশ্চিত থাকুন — পুনঃমূল্যায়নের জন্য আপনাকে নতুন করে পরীক্ষা দিতে হবে না, নতুন প্রবেশপত্রও লাগবে না। এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা বিশ্ববিদ্যালয় নিজে সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করবে। ফল প্রকাশের পর সংশোধিত ফলাফল অনুযায়ী আপনার একাডেমিক রেকর্ড আপডেট হবে।
সংশোধিত ফলাফলের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ফলাফল আপনার চূড়ান্ত CGPA নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, আর এই CGPA-ই পরবর্তীতে মাস্টার্সে ভর্তি বা সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একটি সাবজেক্টের গ্রেড পরিবর্তনেও অনেক সময় সামগ্রিক CGPA-তে লক্ষণীয় পার্থক্য আসে। তাই ফলাফল নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ থাকলে পুনঃনিরীক্ষণের এই সুযোগকে হালকাভাবে নেবেন না — ১০ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করে রাখুন, পরে আফসোস করার চেয়ে এটাই ভালো।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা: আবেদনের আগে যা জানা জরুরি
বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদনে ছোট একটি ভুল আপনার ১,০০০ টাকা নষ্ট করে দিতে পারে। নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলুন:
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো ভুল সাবজেক্ট কোড সিলেক্ট করা। সাবমিট বাটনে ক্লিক করার আগে প্রতিটি সাবজেক্ট কোড আরেকবার মিলিয়ে নিন। একবার পেমেন্ট হয়ে গেলে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে না বললেই চলে।
দ্বিতীয় সতর্কতা — ভুয়া লিংক ও প্রতারণা থেকে সাবধান। আবেদনের মৌসুমে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে অনেক ভুয়া লিংক ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা বিকাশ পিন চাওয়া হয়। মনে রাখবেন, আসল পোর্টালে কখনোই আপনার বিকাশ পিন বা ওটিপি চাওয়া হবে না; পেমেন্ট হয় অফিসিয়াল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে। শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া লিংক ব্যবহার করুন — প্রয়োজনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞপ্তিটি নিজে খুঁজে নিন।
তৃতীয়ত, পেমেন্ট না করে আবেদন অসম্পূর্ণ রাখবেন না। শুধু সাবজেক্ট সিলেক্ট করে সাবমিট করলেই আবেদন সম্পন্ন হয় না — পেমেন্ট সফল হওয়াটাই চূড়ান্ত ধাপ। পেমেন্টের কনফার্মেশন না পেলে আবার চেষ্টা করুন।
চতুর্থত, "কলেজে কাগজ জমা দিতে হবে" — এই ধরনের গুজবে কান দেবেন না। অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনের পর কলেজে কোনো কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ যদি কাগজপত্রের নামে টাকা চায়, সেটি প্রতারণা।
সবশেষে, শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা করবেন না। ১০ অক্টোবর রাত ১১টার আগে শেষ মুহূর্তে সার্ভারে চাপ বাড়ে, পেমেন্ট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। হাতে সময় থাকতেই আবেদন সেরে ফেলুন।
আর একটি জরুরি সতর্কতা — আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মোবাইল নম্বর কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এই তথ্য দিয়ে অন্য কেউ আপনার নামে ভুল আবেদন করে দিতে পারে, বা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। আবেদনের পুরো কাজটি নিজে করুন, বা একান্ত বিশ্বস্ত কারো সাহায্য নিন।
ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পুনঃনিরীক্ষণ: আবেদনের চেকলিস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে গিয়ে যেন কিছু বাদ না পড়ে, সেজন্য নিচের চেকলিস্টটি হাতের কাছে রাখুন। আবেদন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শেষ ১০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা — এই সময়সীমার মধ্যে সব ধাপ শেষ করতে হবে।
আবেদনের আগে যাচাই করুন: আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি হাতের কাছে আছে কি না, যে মোবাইল নম্বর দেবেন সেটি সক্রিয় আছে কি না, এবং কোন কোন সাবজেক্টে আবেদন করবেন সেই তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে কি না। প্রতিটি সাবজেক্টের সাবজেক্ট কোড আলাদা কাগজে লিখে রাখুন, যাতে পোর্টালে সিলেক্ট করার সময় ভুল না হয়।
পেমেন্টের জন্য বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স রাখুন — যতগুলো সাবজেক্টে আবেদন করবেন, তার জন্য ১,০০০ টাকা করে। পেমেন্টের পর কনফার্মেশন মেসেজটি স্ক্রিনশট নিয়ে সংরক্ষণ করুন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — আবেদন করার পর পোর্টালে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস যাচাই করে নিন। পেমেন্ট সফল হলে আবেদন "সম্পন্ন" হিসেবে দেখাবে। যদি কোনো কারণে স্ট্যাটাস অসম্পূর্ণ দেখায়, তাহলে দেরি না করে আবার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ১০ অক্টোবর রাত ১১টার পর কোনো অভিযোগ বা অতিরিক্ত সুযোগের ব্যবস্থা নেই।
ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করতে কত টাকা লাগে?
প্রতি সাবজেক্টের জন্য পুনঃমূল্যায়ন ফি ১,০০০ টাকা। যতগুলো সাবজেক্টে আবেদন করবেন, ফি সেই অনুযায়ী গুণ হবে — দুটি সাবজেক্টে ২,০০০ টাকা, তিনটিতে ৩,০০০ টাকা।
২. ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
আবেদন চলবে ১০ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা পর্যন্ত। এরপর পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাবে এবং আর আবেদনের সুযোগ থাকবে না।
৩. আবেদন কীভাবে করবো?
NU PAMS পুনঃনিরীক্ষণ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রবেশ করে পুনঃমূল্যায়ন চাওয়া সাবজেক্টগুলোর কোড সিলেক্ট করে Submit করুন। এরপর পেমেন্ট পেইজে Online payment সিলেক্ট করে বিকাশ, নগদ বা রকেটে ফি পরিশোধ করলেই আবেদন সম্পন্ন।
৪. আবেদনের পর কলেজে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হবে কি?
না। অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন আবেদন ও পেমেন্টের পর কলেজে কোনো কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫. পেমেন্ট কীভাবে করবো?
বিকাশ, নগদ বা রকেট — মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন চূড়ান্ত হয়।
৬. ডিগ্রি বোর্ড চ্যালেঞ্জ রেজাল্ট ২০২৬ কবে প্রকাশ হবে?
পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফল প্রকাশ হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসিয়াল নোটিশ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে — নিয়মিত নোটিশ বোর্ডে নজর রাখুন।
৭. বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি নম্বর অবশ্যই বাড়বে?
না, কোনো নিশ্চয়তা নেই। পুনঃমূল্যায়নে নম্বর বাড়তেও পারে, কমতেও পারে, আবার অপরিবর্তিতও থাকতে পারে। এটি খাতার প্রকৃত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
৮. একাধিক সাবজেক্টে কি আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, চাইলে একাধিক সাবজেক্টে আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি সাবজেক্টের জন্য আলাদা করে ১,০০০ টাকা ফি দিতে হবে।
৯. পেমেন্ট সফল না হলে কী হবে?
পেমেন্ট সফল না হলে আবেদন সম্পন্ন বলে গণ্য হবে না। সেক্ষেত্রে পুনরায় পেমেন্টের চেষ্টা করুন এবং কনফার্মেশন যাচাই করে নিন।
১০. ভুল সাবজেক্ট কোড সিলেক্ট করে ফেললে কী করবো?
সাবমিট করার আগেই কোডগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে নিন, কারণ পেমেন্ট হয়ে গেলে সাধারণত সংশোধনের সুযোগ থাকে না।
১১. ফেল করা সাবজেক্টেও কি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যায়?
হ্যাঁ। ফেল বা পাস — যেকোনো সাবজেক্টের খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করা যায়।
১২. degree re-scrutiny আর বোর্ড চ্যালেঞ্জ কি একই জিনিস?
হ্যাঁ, একই প্রক্রিয়ার দুটি নাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষায় এটি "খাতা পুনঃনিরীক্ষণ" (re-scrutiny), আর সাধারণভাবে সবাই একে বোর্ড চ্যালেঞ্জ বা রিচেক বলে থাকেন।
ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ফলাফল আপনার ভবিষ্যতের — চাকরি, মাস্টার্সে ভর্তি, এমনকি আত্মবিশ্বাসের — বড় অংশ নির্ধারণ করে। ফল নিয়ে সন্দেহ থাকলে ১০ অক্টোবরের মধ্যে পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করে ফেলুন। সঠিক নিয়মে, সঠিক সাবজেক্টে, সময়মতো আবেদনই আপনাকে দেবে মানসিক শান্তি — ফল যাই হোক, আপনি জানবেন চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি। আবেদনের পেমেন্ট রসিদ ও ট্রানজেকশন রেকর্ড পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করুন — এটাই আপনার আবেদনের একমাত্র লিখিত প্রমাণ।
৮
৮ মন্তব্য