সহকারী অধ্যাপক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০২ অপরাহ্ণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নৈতিক দায়িত্ব
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নৈতিক দায়িত্ব
ডঃ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
আলহাজ্ব আহেদ আলী বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ, পাবনা।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে Digitalization করার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমস্ত বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ডিজিটাল ক্যাম্পাসে রূপান্তর এবং শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অর্জনে দক্ষ করে তোলা শিক্ষায় নেতৃত্বে নিয়োজিতর ভূমিকা পালনকারীদের জন্য আবশ্যক। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করে ডিজিটাল ক্যাম্পাসে রুপান্তর করা সম্ভব। ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে শিক্ষা প্র তিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষায় নেতৃত্বে (Educational leadership) দায়িত্ব কেবল প্রযুক্তির কেনা বা ব্যবহার নিশ্চিত করায় নয় বরং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রাখা আবশ্যক। কারণ এই নৈতিকতার মাধ্যমেই ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার এবং সমস্ত শিক্ষার্থীর ডিজিটালাইজেশনে প্রবেশ অধিকার নিশ্চিত হয় এবং সকলের সমভাবে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সততা, ন্যায় পরায়নতা, এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া কর্তব্য। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নেতৃত্বের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব গুলো হলো-
১. ডিজিটাল সমতা ও প্রবেশাধিকার-
একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বা শিক্ষার নেতৃত্বকে অবশ্যই নৈতিকতার সাথে বিবেচনা করতে হবে যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী ডিজিটাল সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজ প্রবেশাধিকার (easy excess) পায়। তিনি অবশ্যই এক্ষেত্রে অর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষার্থীর ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। তারা যেন ডিজিটাল প্রযুক্তির উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটের ব্যবহার করার সুযোগ পায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত, দুর্গম এলাকায় বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত না হয় তা তিনি নিশ্চিত করবেন। এক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা কম্পিউটার সেটিং বা বিশেষ ধরনের টেবিল সেটিং এর ব্যবস্থাও তিনি করবেন জেন সহজেই তারা নির্দ্বিধায় প্রযুক্তি গুলি ব্যবহার করতে পারে।
২. ডাটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা-
একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষায় নেতৃত্ব অবশ্যই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য, একাডেমী রিপোর্ট এবং ডিজিটাল কার্যক্রমের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। তথ্য পাচার বা ভুল ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে কঠোর নীতিমালার প্রয়োগ করবেন।
৩. ডিজিটাল প্র যুক্তি ব্যবহারের দায়িত্বশীলতা-
এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কেবল প্রযুক্তি ব্যবহার নয় বরং এটি কীভাবে দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করতে হবে (যেমন সাইবার পুলিং প্রতিরোধ, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই, জেন্ডার সংবেদনশীলতা) তা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের শেখাবেন।
৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নৈতিক ব্যবহার-
প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষার নেতৃত্বের অবশ্যই শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অন্যান্য ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের সময় পক্ষপাতিত্বহীনতা দূর করা উচিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন শিক্ষার্থীদের চিন্তা ভাবনা কমিয়ে না দেয় বরং তাদের মেধার বিকাশ সহজ হয় সেই বিষয়ে নজর রাখবেন এবং সেভাবে ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ নিজের মেধা শক্তি না ব্যবহার করে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে করিয়ে প্রবণতা বাড়ছে।
৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা-
Digital রূপান্তরের পেছনে কী লক্ষ্য? প্রযুক্তি নির্বাচনের ভিত্তি কী? এবং এর ফলাফল কী? এসব বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছে স্বচ্ছ থাকা। যেন কোনভাবে এতে নীতিবাচক প্রভাব বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয়। এ কারণে ডিজিটাল রূপান্তরে প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৬. ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন-
শিক্ষকরা যেন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে ওঠেন সেজন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে তারা যত বেশি প্রযুক্তিভিত্তিক বা ডিজিটালাইজেশনের প্রশিক্ষণ লাভ করবে বা সম্পৃক্ত হতে পারবেন, তাদের এক্ষেত্রে পজিটিভ ভূমিকা আসবে। ফলে সার্বিকভাবে সকল সময় সহযোগিতায় এই ডিজিটালাইজেশন এর প্রক্রিয়া চলমান এবং সাফল্য লাভ করবে।
মূলত শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সততা ও সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বজায় রাখায় ডিজিটাল যুগে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষার নেতৃত্বের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব।
২
২ মন্তব্য