সহকারী শিক্ষক
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬ | Honours 3rd Year Routine 2026
👉অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন প্রকাশের আপডেট পান
👉জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নোটিশ এক জায়গায় দেখুন
👉রুটিন ডাউনলোড করার সহজ নিয়ম জেনে নিন
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬ | Honours 3rd Year Routine 2026
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের সবার চোখ এখন একটাই প্রশ্নের দিকে — অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬ কবে প্রকাশ হবে? ফরম পূরণ শেষ হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রুটিন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী "honours 3rd year routine", "অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার রুটিন" কিংবা "অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা কবে" লিখে খুঁজছেন।
এই পোস্টে আমরা ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাইকৃত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে জানাচ্ছি — রুটিন প্রকাশের বর্তমান অবস্থা কী, রুটিন কোথায় ও কীভাবে দেখবেন, অনার্স ৩য় বর্ষ ফরম পূরণ সংক্রান্ত আপডেট, পরীক্ষা কবে হতে পারে তার সম্ভাব্য সময়রেখা, পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বিভাজন এবং রুটিন প্রকাশের পর আপনার করণীয় সবকিছু। মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতছাড়া না হয়।
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন প্রকাশের সর্বশেষ আপডেট (১ অক্টোবর ২০২৬)
সরাসরি কথায় আসি — ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশ এখনো আসেনি। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইন্টারনেটে "অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬" নামে যেসব তারিখ বা সময়সূচি ঘুরছে, সেগুলো হয় পুরনো পরীক্ষার রুটিন, নয়তো অনুমাননির্ভর তথ্য — সেগুলো দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
তবে আশার খবর হলো, ফরম পূরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রুটিন প্রকাশ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। শিক্ষা-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর ধারণা অনুযায়ী, nu honours routine ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত পরীক্ষাগুলোর ধারা দেখলেও একই চিত্র পাওয়া যায় — ফরম পূরণ শেষ হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে রুটিন চলে আসে।
একটা বিষয় পরিষ্কার করে রাখি, কারণ এটা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। এই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নাম "২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা" — পরীক্ষা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হলেও নামকরণ হয়েছে ২০২৫ সালের নামে। এ কারণে অনেকে "honours 3rd year routine 2025" লিখেও সার্চ করেন। আপনি যে নামেই খুঁজুন না কেন, এই পোস্টের তথ্য ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত এবং অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের আসন্ন পরীক্ষার জন্যই প্রযোজ্য।
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন কোথায় দেখবেন — ধাপে ধাপে নিয়ম
রুটিন প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে দেখে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রুটিন সবসময় প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এ প্রবেশ করুন। হোমপেজে "নোটিশ" বা "Notice" সেকশনে যান। সেখানে "২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি" শিরোনামের নোটিশটি খুঁজুন। নোটিশে দেওয়া পিডিএফ লিংকে ক্লিক করে রুটিনটি ডাউনলোড করে নিন। ডাউনলোডের পর নিজের বিভাগ ও বিষয় অনুযায়ী তারিখগুলো মিলিয়ে নিন।
একটা সতর্কতা: রুটিন প্রকাশের সময় ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ থেকে পুরনো রুটিন নতুন বলে চালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাই শুধুমাত্র nu.ac.bd অথবা আপনার কলেজের অফিসিয়াল নোটিশ বোর্ড থেকে পাওয়া রুটিনই চূড়ান্ত বলে ধরুন। কারো পাঠানো স্ক্রিনশট বা ফরোয়ার্ড করা পিডিএফ দেখে নিশ্চিত না হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির তারিখ ঠিক করবেন না।
রুটিনের পিডিএফ-এ কী কী তথ্য থাকবে — আগেই বুঝে নিন
অনেকে রুটিন হাতে পেয়েও ঠিকমতো পড়তে পারেন না, ফলে ভুল তারিখে ভুল প্রস্তুতি নেওয়ার ঘটনা ঘটে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রুটিনের পিডিএফ-এ সাধারণত যে তথ্যগুলো থাকে, সেগুলো আগেই জেনে রাখুন।
প্রথম কলামে থাকে পরীক্ষার তারিখ ও বার — যেমন "১৫/১২/২০২৬, মঙ্গলবার"। দ্বিতীয় অংশে থাকে বিষয়ভিত্তিক পত্রকোড। এই পত্রকোডটা খুব গুরুত্বপূর্ণ: যেমন বাংলা বিভাগের কোড ২৩ দিয়ে শুরু, আর তৃতীয় বর্ষের পত্রগুলোর কোডে বর্ষ নির্দেশক অংশ থাকে। আপনার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত বিষয়কোডের সঙ্গে রুটিনের কোড মিলিয়ে নিন — একই নামের ভিন্ন বর্ষের পত্রে গুলিয়ে ফেলার ভুল এড়াতে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
রুটিনে আরও উল্লেখ থাকে পরীক্ষা শুরুর সময় (সাধারণত দুপুর ১টা), পরীক্ষার সময়কাল এবং বিশেষ নির্দেশনা। কোনো তারিখে একাধিক বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে থাকলে নিজের বিষয়টি সতর্কভাবে চিহ্নিত করুন। পিডিএফটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিয়ে পড়ার টেবিলে লাগিয়ে রাখুন — মোবাইলে দেখে দেখে তারিখ মনে রাখার চেয়ে এটা অনেক কার্যকর।
অনার্স ৩য় বর্ষ ফরম পূরণ ২০২৬ — সর্বশেষ আপডেট
রুটিনের আগে ফরম পূরণের হিসাবটা পরিষ্কার থাকা জরুরি, কারণ এখান থেকেই পরীক্ষার সময়সূচি আন্দাজ করা যায়। ২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো ছিল নিম্নরূপ:
কার্যক্রম | সময়সীমা |
অনলাইনে ফরম পূরণ ও কলেজে জমা | ৬ সেপ্টেম্বর – ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন (কলেজ কর্তৃক) | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত) |
সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা | ২৯ – ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বিকেল ৪টা পর্যন্ত) |
এই সময়সূচি অনুযায়ী ফরম পূরণের মূল পর্ব শেষ হয়ে গেছে। তবে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে — যারা কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে পারেননি, তাদের জন্য এটা হতে পারে বড় সুযোগ। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার: ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ আমরা খুঁজে পাইনি। তাই বর্ধিতকরণের খবরকে নিশ্চিত ধরে না নিয়ে nu.ac.bd-এর নোটিশ সেকশনে নিয়মিত চোখ রাখুন। বর্ধিত নোটিশ এলে আমরা এই পোস্টটি আপডেট করে দেব।
ফি-সংক্রান্ত তথ্যটাও জেনে রাখুন, কারণ বর্ধিত সময়ে ফরম পূরণ করলেও একই ফি কাঠামো প্রযোজ্য হবে। তত্ত্বীয় পূর্ণ কোর্সে ৩০০ টাকা, অর্ধ কোর্সে ২৫০ টাকা, ব্যবহারিক প্রতি পত্রে ৩০০ টাকা, ইনকোর্স ফি মোট ৪৫০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি (তত্ত্বীয়) মোট ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনিয়মিত, গ্রেড উন্নয়ন ও মনোনয়ন পরীক্ষার্থীদের কোর্সপ্রতি অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিতে হয়।
নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারলে কী করবেন
যদি কোনো কারণে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পেরে থাকেন, তাহলে আতঙ্কিত হবেন না — এখনই কলেজের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করুন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় প্রতিবারই মূল সময়সীমার পর বর্ধিত সময় দেয়, যদিও তার জন্য আলাদা নোটিশ প্রকাশিত হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে বর্ধিত নোটিশ এলে সবার আগে জানতে পারবেন।
মনে রাখবেন, বর্ধিত সময়েও ফরম পূরণ না করলে ওই বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না — ফলে একটা পুরো শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাবে। তাই "সময় বাড়বে" এই আশায় বসে না থেকে সক্রিয়ভাবে খোঁজখবর নিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র — রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি, ছবি ও ফি-র টাকা — আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন, যাতে নোটিশ পাওয়ামাত্র দেরি না হয়।
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা কবে হবে — সম্ভাব্য সময়রেখা
এবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন — অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা কবে শুরু হবে? সরাসরি উত্তর: এখনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা হয়নি। তবে আগের পরীক্ষাগুলোর ধারা বিশ্লেষণ করে একটা সম্ভাব্য সময়রেখা আন্দাজ করা যায়, যা আপনার প্রস্তুতি পরিকল্পনায় কাজে লাগবে।
গত পরীক্ষাটির দিকে তাকান — ২০২৪ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে, আর পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ডিসেম্বরে। ফরম পূরণ শেষ থেকে রুটিন প্রকাশ পর্যন্ত ব্যবধান ছিল প্রায় দেড় থেকে দুই মাস। এবারের ফরম পূরণ শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে। সেই হিসাবে সম্ভাব্য রুটিন প্রকাশ: অক্টোবর ২০২৬ এবং সম্ভাব্য পরীক্ষা শুরু: নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বর ২০২৬।
আবারও বলছি — এটা নিছকই ধারণানির্ভর সম্ভাব্য সময়রেখা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো সময় সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই আনুমানিক হিসাব মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলে হঠাৎ রুটিন প্রকাশিত হলেও আপনি অপ্রস্তুত থাকবেন না। প্রতিদিনের পড়ার রুটিন এমনভাবে সাজান যেন নভেম্বরের মাঝামাঝি আপনার সিলেবাস অন্তত একবার শেষ হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বিভাজন
রুটিনের অপেক্ষায় বসে না থেকে পরীক্ষা পদ্ধতিটা ভালোভাবে বুঝে নিন — এতে প্রস্তুতি অনেক গোছানো হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পরীক্ষায় প্রতিটি পূর্ণ কোর্স ৪ ক্রেডিটের, যার পূর্ণমান ৮০ এবং পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা। অর্ধ কোর্স ২ ক্রেডিটের, পূর্ণমান ৪০, সময় আড়াই ঘণ্টা। তত্ত্বীয় পরীক্ষা সাধারণত দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়।
৩য় বর্ষে আপনার বিভাগভেদে সাধারণত ৮টি পত্র থাকে। প্রতিটি পত্রের প্রশ্নপত্রে ক, খ ও গ — এই তিনটি অংশ থাকে। ক অংশে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, খ অংশে মাঝারি এবং গ অংশে রচনামূলক বড় প্রশ্ন থাকে। পাস করতে প্রতিটি পত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। ইনকোর্স পরীক্ষার ২০ নম্বরও চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে যোগ হয়, তাই ইনকোর্সকে হালকাভাবে নেবেন না — অনেকের ফলাফল এই ২০ নম্বরের ওপর নির্ভর করে ভালো-মন্দ হয়।
ব্যবহারিক (প্রাকটিক্যাল) পরীক্ষা তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আলাদা সূচিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যবহারিকের নম্বর অনেক সময় সিজিপিএ-তে বড় ভূমিকা রাখে।
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি কৌশল
রুটিন হাতে পাওয়ার আগের এই সময়টা প্রস্তুতির সেরা সময়। বিভাগ অনুযায়ী কৌশলটা একটু আলাদা হওয়া উচিত।
মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রস্তুতি
বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, দর্শনের মতো বিষয়গুলোতে ভালো ফলের চাবিকাঠি হলো বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে নির্দিষ্ট কিছু টপিক ঘুরেফিরে আসে — গত পাঁচ বছরের প্রশ্ন একসঙ্গে নিয়ে দেখুন, কোন অধ্যায় থেকে বারবার প্রশ্ন এসেছে। গ অংশের বড় প্রশ্নগুলোর জন্য পয়েন্টভিত্তিক নোট তৈরি করুন; পরীক্ষার হলে পয়েন্ট মনে রাখা সহজ হয়। উদ্ধৃতি ও তথ্যসূত্র ব্যবহার করলে উত্তরের মান বাড়ে, বিশেষ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের (BBA) প্রস্তুতি
হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অঙ্কভিত্তিক পত্রগুলোতে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা অঙ্ক করুন — সূত্র মুখস্থ নয়, বুঝে প্রয়োগ করাই আসল কৌশল। তত্ত্বীয় পত্রগুলোতে সংজ্ঞা, পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য — এই তিন ধরনের প্রশ্নের জন্য আলাদা নোট রাখুন। বিগত বছরের প্রশ্নে যেসব অঙ্ক বারবার এসেছে, সেগুলোকে "মাস্টার লিস্টে" রাখুন।
বিজ্ঞান বিভাগের (BSc) প্রস্তুতি
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সিলেবাসের বিশালতা। প্রতিটি পত্রকে ছোট ছোট মডিউলে ভাগ করে সপ্তাহভিত্তিক টার্গেট ঠিক করুন। চিত্রভিত্তিক প্রশ্নের জন্য নিয়মিত চিত্র আঁকার অনুশীলন করুন — পরীক্ষায় চিত্রসহ উত্তর বেশি নম্বর পায়। ব্যবহারিক খাতা আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন, যাতে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে হয়।
রুটিন প্রকাশের পর করণীয় — চেকলিস্ট
রুটিন প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে কোনো ভুল না হয়, সেজন্য এই চেকলিস্টটি সংরক্ষণ করে রাখুন:
প্রথমে অফিসিয়াল রুটিনের পিডিএফ ডাউনলোড করে নিজের বিষয় ও পত্রকোড মিলিয়ে নিন। প্রতিটি পরীক্ষার তারিখ ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করুন এবং পরীক্ষার মাঝের ফাঁকা দিনগুলোতে কোন পত্রের রিভিশন দেবেন, তার পরিকল্পনা করুন। প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) কবে দেবে, সে খবর কলেজ থেকে জেনে নিন — প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় বসা যায় না। পরীক্ষা কেন্দ্র কোথায় পড়েছে, তা আগেই যাচাই করে রাখুন, বিশেষ করে যাদের কেন্দ্র দূরে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলমসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগের রাতেই গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — রুটিন দেখে আতঙ্কিত না হয়ে পড়ার গতিটা ধরে রাখুন; শেষ মুহূর্তের ধারাবাহিকতাই ফল নির্ধারণ করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬ কি প্রকাশিত হয়েছে?
না। ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেনি। রুটিন অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা কবে শুরু হবে?
আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। আগের পরীক্ষার ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য সময় নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বর ২০২৬ — তবে এটা অনুমান, অফিসিয়াল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন।
অনার্স ৩য় বর্ষ ফরম পূরণের সময় কি বাড়ানো হয়েছে?
১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়া যায়নি। তবে সময় বাড়ার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। nu.ac.bd-তে নিয়মিত নজর রাখুন।
"honours 3rd year routine 2025" লিখে সার্চ করলে কি এই পরীক্ষার রুটিন পাবো?
হ্যাঁ, একই পরীক্ষা। এই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নাম "২০২৫ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা" বলে অনেকে ২০২৫ লিখে খোঁজেন। পরীক্ষা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রুটিন কোথা থেকে ডাউনলোড করবো?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এর নোটিশ সেকশন থেকে। এটাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
পরীক্ষা প্রতিদিন কয়টায় শুরু হয়?
তত্ত্বীয় পরীক্ষা সাধারণত প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়। পূর্ণ কোর্সের পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা, অর্ধ কোর্সের আড়াই ঘণ্টা।
৩য় বর্ষে পাস নম্বর কত?
প্রতিটি পত্রে পূর্ণমানের ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। ইনকোর্সের ২০ নম্বরসহ মোট হিসাব করা হয়।
প্রবেশপত্র কবে পাবো?
রুটিন প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোর মাধ্যমে প্রবেশপত্র বিতরণ করে। সাধারণত পরীক্ষা শুরুর ৭-১০ দিন আগে কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যায়। কলেজের নোটিশ বোর্ডে চোখ রাখুন।
অনার্স ৩য় বর্ষে কয়টি পত্রের পরীক্ষা হয়?
বিভাগভেদে সাধারণত ৮টি পত্র থাকে। প্রতিটি পূর্ণ পত্র ৪ ক্রেডিটের এবং পূর্ণমান ৮০।
গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা কি একই রুটিনে পরীক্ষা দেবে?
হ্যাঁ। নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন — সব পরীক্ষার্থীর জন্য একই রুটিন প্রযোজ্য হয়। শুধু ফরম পূরণের ফি-তে পার্থক্য থাকে।
শেষ কথা
অনার্স ৩য় বর্ষের রুটিন ২০২৬ নিয়ে অপেক্ষা স্বাভাবিক, কিন্তু এই অপেক্ষার সময়টাই আসলে আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। রুটিন প্রকাশের পর হাতে যে সময় থাকবে, তা দিয়ে নতুন করে সিলেবাস শেষ করা কঠিন — তাই এখনই প্রস্তুতিটা এমন জায়গায় নিয়ে যান, যেন রুটিন হাতে পাওয়ার পর শুধু রিভিশন আর মডেল টেস্ট বাকি থাকে। রুটিন প্রকাশিত হওয়ামাত্র আমরা এই পোস্টটি হালনাগাদ করে দেব, তাই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন এবং অফিসিয়াল নোটিশের দিকে নজর রাখুন। সবার পরীক্ষা ভালো হোক — শুভকামনা রইল!
১৭
২৭ মন্তব্য