Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

"প্রেসিডেন্ট জিয়া মানুষটা সৎ ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
"প্রেসিডেন্ট জিয়া মানুষটা সৎ ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। লোক দেখানো সৎ না, আসলেই সৎ"
প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান যে হাতঘড়িটি ব্যবহার করতেন, সেটির দাম ছিল মাত্র তিনশত থেকে চারশ টাকা এবং ঘড়িটি বায়তুল মোকাররম মার্কেট থেকে কেনা।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার এডিসি ছিলেন ক্যাপ্টেন মাযাহার। রুটিন মাফিক সকালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একই গাড়ীতে অফিসে যাওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট জিয়া এডিসিকে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করতেন--'ঘড়িতে এখন কটা বাজে'।
এডিসি মনে মনে ভাবতেন প্রেসিডেন্ট কেন তাঁকে মাঝেমধ্যে সময়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, এর রহস্যটা কী ? কেননা প্রেসিডেন্টের হাতেও তো ঘড়ি আছে।
অবশেষে একদিন সেই রহস্যের উদঘাটন হলো, যখন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার সাদেকুর রহমান চৌধুরী তাঁকে ডেকে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অচল ঘড়িটি দিলেন।
অচল ঘড়িটি এডিসিকে দিয়ে সচিব বললেন ---- 'এটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘড়ি, ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই ঘড়ির মেকানিককে তড়িৎ খবর দাও। এটা যেন আজকের মধ্যেই ঠিক করে দেয়।'
এডিসি অচল ঘড়িটি হাতে নিয়ে দেখেন যে একটা সাধারণ মানের পুরনো ক্যামি ব্রান্ডের ঘড়ি। দামও খুব বেশী না, সর্বোচ্চ তিনশত থেকে চারশত টাকা।
এরপর এডিসি অতি দ্রুত বায়তুল মোকারমের এক ঘড়ির দোকানের মালিককে খবর দিতেই তিনি এসে বঙ্গভবনে হাজির হয়ে ঘড়ির সমস্যার কথা শুনলেন।
এবং তিনি ঘড়িটি হাতে নিয়ে এডিসিকে বললেন--- 'এই ঘড়ি তো অতি পুরাতন। তাই ব্যবহার না করাই উত্তম। এটা ফেলে দিয়ে নতুন একটি ঘড়ি কিনে নেন।'
এডিসি তখন তাকে জানায় যে এটা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের ঘড়ি এবং তিনি এই ঘড়িটিই ব্যবহার করতে চান।
এই কথা শুনে ঘড়ির দোকানের মালিক নির্বাক হয়ে, বিস্মিত চোখে এডিসির মুখের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
মন্তব্য করুন