Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে চাকরি

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে চাকরি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মিশন আচার্য। তবে নিজের নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এখনো নিয়োগপত্র পাননি তিনি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা মিশন চাকরির নিয়োগপত্রের আশায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন।মিশন আচার্যের মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তও হন তিনি।

মিশন জানান, তার সঙ্গে একই পদে মোট ১৮৩ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮০ জন ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাঁর নিয়োগপত্র আটকে আছে।

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরির আবেদনের সময় তিনি ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন।

মিশন বলেন, তারা দুই ভাই। বড় ভাই শৈলেন আচার্য অন্য একজনের সঙ্গে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তাদের বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি যশোরে। ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি ঝিনাইদহে বসবাস করতেন। তবে স্ত্রীকে কখনো যশোরে নিয়ে যাননি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসাতেই তাদের সংসার চলত।

মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহে থাকা অবস্থায় তাঁর বড় ভাইয়ের জন্ম হয়। পরে তিনি মায়ের গর্ভে এলে বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।বাবা চলে যাওয়ার পর ময়না আচার্য দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। সংসার চালাতে তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। সেই আয় দিয়েই দুই ছেলেকে বড় করেন। সংসারের চাপের কারণে বড় ভাই শৈলেন বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। অন্যদিকে মিশন পড়াশোনা চালিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

মন্তব্য করুন