Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

ই-পাসপোর্ট ফি ২০২৬: ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদের সম্পূর্ণ তালিকা | E-Passport Fee Bangladesh 2026

👉ই-পাসপোর্ট ফি ২০২৬-এর সম্পূর্ণ তালিকা PDF আকারে ডাউনলোড করুন


👉৫ বছর না ১০ বছর — আপনার জন্য কোনটা সাশ্রয়ী? হিসাব দেখুন


👉অনলাইনে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার ধাপগুলো এক নজরে



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































ই-পাসপোর্ট ফি ২০২৬: ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদের সম্পূর্ণ তালিকা | E-Passport Fee Bangladesh 2026

পাসপোর্ট করতে যাবেন, কিন্তু প্রথম প্রশ্নটাই হলো — ফি কত? ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে তিনটা জিনিসের উপর: পাসপোর্টে কত পাতা থাকবে (৪৮ না ৬৪), মেয়াদ কত বছরের হবে (৫ না ১০), আর কত তাড়াতাড়ি হাতে চান (রেগুলার, এক্সপ্রেস না সুপার এক্সপ্রেস)। এই তিনটা মিলিয়ে মোট ১২টা ক্যাটাগরি, আর প্রতিটার ফি আলাদা। এই পোস্টে ২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি ফি-এর পুরো তালিকা এক জায়গায় দিলাম — যাতে আবেদন করার আগেই ঠিক কত টাকা লাগবে, সেটা হিসাব করে নিতে পারেন।

একনজরে ই-পাসপোর্ট ফি ২০২৬ (সম্পূর্ণ তালিকা)

বাংলাদেশের ভেতর থেকে আবেদন করলে নিচের ফি প্রযোজ্য। সবগুলো ফি-এর মধ্যে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত — অর্থাৎ টেবিলে যা দেখছেন, এটাই চূড়ান্ত অঙ্ক, এর বাইরে আর কোনো সরকারি চার্জ নেই।


পাতা

মেয়াদ

রেগুলার ডেলিভারি

এক্সপ্রেস ডেলিভারি

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি

৪৮ পাতা

৫ বছর

৪,০২৫ টাকা

৬,৩২৫ টাকা

৮,৬২৫ টাকা

৪৮ পাতা

১০ বছর

৫,৭৫০ টাকা

৮,০৫০ টাকা

১০,৩৫০ টাকা

৬৪ পাতা

৫ বছর

৬,৩২৫ টাকা

৮,৬২৫ টাকা

১২,০৭৫ টাকা

৬৪ পাতা

১০ বছর

৮,০৫০ টাকা

১০,৩৫০ টাকা

১৩,৮০০ টাকা


সবচেয়ে কম ফি: ৪৮ পাতা, ৫ বছর, রেগুলার — মাত্র ৪,০২৫ টাকা। আর সবচেয়ে বেশি: ৬৪ পাতা, ১০ বছর, সুপার এক্সপ্রেস — ১৩,৮০০ টাকা। মাঝের সব অপশন উপরের টেবিলে দেখে নিন।

৫ বছর বনাম ১০ বছর মেয়াদ — কোনটা নেবেন?

এটাই এখন সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন, কারণ গুগলে "১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট ফি" লিখে খোঁজার হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। সিদ্ধান্তটা সহজ করে দিই:


১০ বছর মেয়াদ নিন, যদি আপনার বয়স ১৮ বা তার বেশি হয় এবং ঘনঘন বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। ৪৮ পাতার ক্ষেত্রে ৫ বছর থেকে ১০ বছরে যেতে অতিরিক্ত লাগে মাত্র ১,৭২৫ টাকা (৪,০২৫ বনাম ৫,৭৫০)। অথচ মেয়াদ দ্বিগুণ! পাঁচ বছর পর আবার নবায়নের ঝামেলা, আবার ফি, আবার অফিসে যাওয়া — সব মিলিয়ে ১০ বছরের পাসপোর্টই লাভজনক।


৫ বছর মেয়াদ নিন, যদি আপনার বয়স ১৮-এর নিচে হয় — কারণ ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট দেওয়া হয় না, তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর। এছাড়া যারা একবারের জন্য বিদেশ যাবেন (যেমন হজ, চিকিৎসা বা একটা নির্দিষ্ট কাজে), তাদের জন্যও ৫ বছরের পাসপোর্ট যথেষ্ট।


একটা হিসাব মাথায় রাখুন: ৪৮ পাতা রেগুলারে ৫ বছরের ফি ৪,০২৫ টাকা মানে বছরে প্রায় ৮০৫ টাকা; আর ১০ বছরের ফি ৫,৭৫০ টাকা মানে বছরে মাত্র ৫৭৫ টাকা। দীর্ঘমেয়াদে ১০ বছরের পাসপোর্ট সস্তা।

৪৮ পাতা বনাম ৬৪ পাতা — পার্থক্য কী?

পাতা বেশি মানে ভিসার স্ট্যাম্প ও ইমিগ্রেশন সিল লাগানোর জায়গা বেশি। সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য ৪৮ পাতাই যথেষ্ট — বছরে দু-একবার বিদেশ গেলে ১০ বছরেও ৪৮ পাতা শেষ হওয়ার কথা নয়।


৬৪ পাতা নিন, যদি আপনি ঘনঘন ভ্রমণ করেন — যেমন ব্যবসায়ী, প্রবাসী শ্রমিক, এয়ারলাইন্স ক্রু, বা যাদের পাসপোর্টে অনেকগুলো দেশের ভিসা লাগে। ৬৪ পাতার ফি ৪৮ পাতার চেয়ে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ২,৩০০ টাকা বেশি (যেমন ১০ বছর রেগুলারে ৫,৭৫০ বনাম ৮,০৫০)।

ডেলিভারি টাইপ: রেগুলার, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস

ফি-এর তৃতীয় ভাগটা হলো কত তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট হাতে চান। বায়োমেট্রিক (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্বাক্ষর) দেওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়:


  • রেগুলার ডেলিভারি: ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ প্রায় ২১ দিন। সবচেয়ে কম ফি।

  • এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৭ কর্মদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ প্রায় ১০ দিন। রেগুলারের চেয়ে ২,৩০০ টাকা বেশি।

  • সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: মাত্র ২ কর্মদিবসের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি ফি — জরুরি প্রয়োজনে।


একটা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা: সরকারি চাকরিজীবী যাদের এনওসি বা পিআরএল (অবসর-উত্তর ছুটির) কাগজ আছে, তারা রেগুলার ফি দিয়েই এক্সপ্রেস সুবিধা পাবেন; আর এক্সপ্রেস ফি দিয়ে সুপার এক্সপ্রেস সুবিধা পাবেন।

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন করার পর ফি জমা দিতে হয়। ফি জমার মাধ্যম:


  • অনলাইন পেমেন্ট: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি দেওয়া যায়। পেমেন্ট সফল হলে রসিদ সংরক্ষণ করুন — বায়োমেট্রিকের দিন লাগতে পারে।

  • ব্যাংকে সরাসরি জমা: সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়াসহ নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় গিয়ে টাকা জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করা যায়। ব্যাংক ডিপোজিট ফর্মে আপনার নাম আর পাসপোর্ট আবেদনে দেওয়া নাম হুবহু এক হতে হবে — একটা অক্ষরের অমিল হলেও সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে নিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি আর অনলাইন আবেদনের সামারি কপি।


মনে রাখবেন: ফি জমা না দিলে বায়োমেট্রিকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন না। তাই আবেদনের পর দেরি না করে ফি জমা দিন।

ভ্যাট কি ফি-এর বাইরে দিতে হবে?

না। উপরের টেবিলের প্রতিটি অঙ্কের মধ্যে ১৫% ভ্যাট আগে থেকেই ধরা আছে। অর্থাৎ ৫,৭৫০ টাকা লেখা থাকলে আপনাকে ঠিক ৫,৭৫০ টাকাই দিতে হবে — এর উপর আর ভ্যাট যোগ হবে না। তবে সতর্ক থাকুন: দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে করলে তারা নিজেদের সার্ভিস চার্জ আলাদা নেবে, সেটা সরকারি ফি-এর বাইরে।

শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট ফি

১৮ বছরের নিচে সবার পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর — এটাই নিয়ম। তাই শিশুদের জন্য প্রযোজ্য শুধু ৫ বছরের ফি-এর টেবিল:


  • ৪৮ পাতা, ৫ বছর: রেগুলার ৪,০২৫ / এক্সপ্রেস ৬,৩২৫ / সুপার এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা

  • ৬৪ পাতা, ৫ বছর: রেগুলার ৬,৩২৫ / এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ / সুপার এক্সপ্রেস ১২,০৭৫ টাকা


শিশুদের জন্য আলাদা কোনো ছাড়ের ফি নেই — একই টেবিল প্রযোজ্য। শুধু মনে রাখবেন, শিশুর আবেদনে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ লাগে (কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে আমাদের পাসপোর্ট ডকুমেন্টস গাইডে বিস্তারিত আছে)।

পাসপোর্ট রি-ইস্যু ও নবায়ন ফি

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে, হারিয়ে গেলে, ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তথ্য পরিবর্তন করতে হলে রি-ইস্যু (নবায়ন) করতে হয়। সুখবর হলো — রি-ইস্যুর ফি নতুন পাসপোর্টের ফি-এর সমান; আলাদা কোনো "নবায়ন ফি" নেই। অর্থাৎ ৪৮ পাতা ১০ বছর মেয়াদে রি-ইস্যু করলে রেগুলার ডেলিভারিতে ৫,৭৫০ টাকাই লাগবে। রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্টটি সঙ্গে নিতে হয়।

প্রবাসে বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদনের ফি

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন থেকে আবেদন করলে ফি ডলারে দিতে হয়। সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য:


পাতা ও মেয়াদ

রেগুলার

এক্সপ্রেস

৪৮ পাতা, ৫ বছর

১০০ ডলার

১৫০ ডলার

৪৮ পাতা, ১০ বছর

১২৫ ডলার

১৭৫ ডলার

৬৪ পাতা, ৫ বছর

১৫০ ডলার

২০০ ডলার

৬৪ পাতা, ১০ বছর

১৭৫ ডলার

২২৫ ডলার


প্রবাসী শ্রমিক ও ছাত্রদের জন্য ছাড়ের হার আছে (যেমন ৪৮ পাতা ৫ বছর রেগুলার মাত্র ৩০ ডলার) — সংশ্লিষ্ট মিশনের নোটিশ দেখে নিন।

পাসপোর্ট ফিতে টাকা বাঁচানোর ৫টি টিপস

  1. ১০ বছরের পাসপোর্ট নিন: বছরে হিসাব করলে ১০ বছরের মেয়াদ সস্তা, আর নবায়নের ঝামেলা অর্ধেক।

  2. রেগুলার ডেলিভারি বেছে নিন: তাড়া না থাকলে এক্সপ্রেসের ২,৩০০ টাকা বাড়তি খরচ বাঁচান।

  3. নিজে আবেদন করুন: দালাল বা এজেন্সিকে ২-৩ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ না দিয়ে নিজে অনলাইনে আবেদন করুন — প্রক্রিয়াটা এখন বেশ সহজ।

  4. ৪৮ পাতাই যথেষ্ট কিনা ভাবুন: ঘনঘন ভ্রমণ না করলে ৬৪ পাতার বাড়তি ২,৩০০ টাকা খরচ করার দরকার নেই।

  5. সরকারি চাকরিজীবী হলে এনওসি ব্যবহার করুন: রেগুলার ফি দিয়ে এক্সপ্রেস সুবিধা পাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

৪৮ পাতার ক্ষেত্রে রেগুলার ৫,৭৫০ টাকা, এক্সপ্রেস ৮,০৫০ টাকা, সুপার এক্সপ্রেস ১০,৩৫০ টাকা। ৬৪ পাতার ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৮,০৫০, ১০,৩৫০ ও ১৩,৮০০ টাকা। সব ফি-তে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।


২. ৫ বছরের ই-পাসপোর্ট ফি কত?

৪৮ পাতায় রেগুলার ৪,০২৫, এক্সপ্রেস ৬,৩২৫, সুপার এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা। ৬৪ পাতায় যথাক্রমে ৬,৩২৫, ৮,৬২৫ ও ১২,০৭৫ টাকা।


৩. ই-পাসপোর্ট ফি কি বিকাশে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অনলাইন পেমেন্টের সময় বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়।


৪. রেগুলার ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে কতদিন লাগে?

বায়োমেট্রিক দেওয়ার তারিখ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ প্রায় ২১ দিন। এক্সপ্রেসে ৭ কর্মদিবস (প্রায় ১০ দিন), সুপার এক্সপ্রেসে ২ কর্মদিবস।


৫. ফি-এর সাথে কি আলাদা ভ্যাট দিতে হবে?

না। প্রকাশিত সব ফি-এর মধ্যে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত আছে।


৬. শিশুদের পাসপোর্ট ফি কি কম?

না, শিশুদের জন্য আলাদা ছাড় নেই। তবে ১৮ বছরের নিচে শুধু ৫ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়, তাই তাদের জন্য ৫ বছরের ফি-এর টেবিল প্রযোজ্য।


৭. পাসপোর্ট নবায়ন করতে কত টাকা লাগে?

নতুন পাসপোর্টের সমান ফি — আলাদা নবায়ন চার্জ নেই। যে ক্যাটাগরিতে রি-ইস্যু করবেন, সেই ক্যাটাগরির ফি দিতে হবে।


৮. ৪৮ পাতার পাসপোর্ট কি এখন পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, ৪৮ ও ৬৪ পাতা — দুটো অপশনই চালু আছে। সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য ৪৮ পাতাই যথেষ্ট।


৯. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কি ফিতে ছাড় আছে?

সরাসরি ছাড় নেই, তবে এনওসি বা পিআরএল কাগজ থাকলে রেগুলার ফি দিয়ে এক্সপ্রেস ডেলিভারি, আর এক্সপ্রেস ফি দিয়ে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি পাওয়া যায়।


১০. ফি জমার পর কাগজপত্রে ভুল ধরা পড়লে কী হবে?

বায়োমেট্রিকের সময় সংশোধনের সুযোগ থাকে, তবে বড় ভুলে আবেদন বাতিলও হতে পারে। তাই ফি জমা দেওয়ার আগেই সব তথ্য মিলিয়ে নিন — আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা আমাদের পাসপোর্ট ডকুমেন্টস গাইড থেকে দেখে নিতে পারেন।


মন্তব্য করুন