Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সূরা আল-মুরসালাতের আলোকে কিয়ামতের মহাপ্রলয়, বিচার দিবস ও পরকালীন জীবনের চিরন্তন পরিণতি - মোঃ মুজিবুর রহমান

সূরা আল-মুরসালাতের আলোকে কিয়ামতের মহাপ্রলয়, বিচার দিবস ও পরকালীন জীবনের চিরন্তন পরিণতি

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যাঁর কৃপায় প্রাণে জাগে আশার নবোদয়,
যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়।
যাঁর ইশারায় বিশ্বজুড়ে সৃষ্টির আয়োজন,
যাঁর বিধানে আবর্তিত হয় সকল গ্রহ-নক্ষত্রগণ।
সেই মহান আল্লাহর নামে হোক কাব্যের সূচনা,
তাঁরই মহিমায় জাগুক মনে সত্যের প্রেরণা।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীর পবিত্র প্রাণে,
যাঁর আদর্শ আলোক ছড়ায় মানবতার টানে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর, সৃষ্টির অধিপতি,
তাঁরই দানে জীবন জাগে, মুছে আঁধার-ভীতি।
তাঁরই হুকুমে বায়ু বয়, মেঘের আনাগোনা,
তাঁরই দয়ায় শস্য ফলে, সজীব হয় ধরণীখানা।
আকাশজুড়ে নক্ষত্ররাজি, চাঁদ ও সূর্য হাসে,
তাঁরই বিধান বিশ্বজুড়ে অপরূপের বাসে।
পাহাড়, সাগর, নদী, বন—সবই তাঁর দান,
তাঁরই কুদরতে গড়ে ওঠে সৃষ্টির সম্মান।

প্রেরিত বায়ু ছুটে চলে দিগন্তেরই পথে,
মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে প্রকৃতিরই রথে।
কখনো মৃদু সমীরণ, কখনো ঝড়ের বেগ,
প্রকৃতিজুড়ে ফুটিয়ে তোলে কুদরতের অনুরাগ।
মেঘমালা ছড়িয়ে পড়ে নীল আকাশের বুকে,
বৃষ্টি নামে শীতল ধারা, তৃপ্তি জাগে সুখে।
শুকনো মাঠে প্রাণের স্পন্দন, সবুজ পাতার দোলা,
আল্লাহরই দয়ায় আবার প্রকৃতি ওঠে ভোলা।

ফেরেশতারা পালন করেন আল্লাহরই হুকুম,
ওহির বাণী পৌঁছে দেন, সত্যের আলোকধাম।
নবী-রাসুলের মাধ্যমে এলো হিদায়াতের বাণী,
সত্য-মিথ্যার ভেদ বুঝিয়ে দিলেন রহমানি।
অন্ধকারে পথ হারালে কুরআন আলোর দিশা,
সত্যের পথে চলার মাঝে জীবনেরই আশা।
ওহির আলো হৃদয়জুড়ে জাগায় সত্যজ্ঞান,
আল্লাহরই বিধান মেনে পায় যে সম্মান।

যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আল্লাহ, সত্য হবে তাই,
কিয়ামতের সেই মহাদিন এড়ানোর পথ নাই।
সময় শেষে থেমে যাবে পৃথিবীরই খেলা,
মুছে যাবে পার্থিব যত আনন্দ-উৎসব-মেলা।
যে আকাশে নক্ষত্র জ্বলে অপরূপের আলো,
সেদিন নিভে যাবে সবই, থাকবে না সে ভালো।
বিদীর্ণ হবে আকাশপট, ভাঙবে সৃষ্টির বাঁধ,
মহাপ্রলয়ের তীব্রতায় স্তব্ধ হবে সাধ।

পর্বতমালা চূর্ণ হয়ে উড়বে ধূলির মতো,
পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে মহাভয়ের ক্ষত।
যে পাহাড়কে অটল ভেবে মানুষ করে গর্ব,
সেদিন তারও রইবে না আর দৃঢ়তারই পর্ব।
সাগর, নদী, আকাশজুড়ে বদলাবে সব রূপ,
আল্লাহরই নির্দেশে হবে মহাপ্রলয়ের ধূপ।
বিশ্বজগতের চিরচেনা নিয়ম যাবে থেমে,
কেউ পারবে না রক্ষা পেতে আপন শক্তি নিয়ে।

রাসুলগণকে সমবেত করা হবে সেদিন,
প্রকাশ পাবে সত্যের কথা, মিথ্যা হবে ক্ষীণ।
কোন সে দিন, কী তার পরিচয়, কী তার মহিমা,
ফয়সালার দিন—সেদিনই হবে কর্মের পরিণাম।
যে দিন হবে ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত আয়োজন,
প্রত্যেক প্রাণী পাবে সেদিন কর্মের প্রতিফলন।
সেদিন কারও থাকবে না আর অন্যায়ের আশ্রয়,
আল্লাহরই ন্যায়বিচারে সত্যের হবে জয়।

ফয়সালার সেই মহাদিনে সবাই হবে একত্র,
প্রকাশ পাবে কর্মের খাতা, লুকানো যত পত্র।
রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র, একই ময়দানে,
দাঁড়াবে সবাই নিজ নিজ কর্মের মূল্যদানে।
থাকবে না আর বংশের গৌরব, সম্পদের অহংকার,
থাকবে না কোনো ক্ষমতাবলে মুক্তির অধিকার।
পৃথিবীতে যে যতই হোক প্রভাবশালী জন,
সেদিন কেবল আল্লাহরই হবে চূড়ান্ত শাসন।

যে করেছে জুলুম-অত্যাচার, কেড়ে নিয়েছে হক,
যে মিথ্যারই আশ্রয় নিয়ে করেছে অন্যায় শত,
যে দুর্বলের অশ্রু ঝরায়, ভাঙে মানুষের মন,
সেদিন তাকে দিতেই হবে কর্মের প্রতিফলন।
যে গোপনে অন্যায় করে, ভাবে কেউ জানে না,
আল্লাহর কাছে গোপন কিছুই থাকে না অজানা।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আচরণ,
সবই থাকবে আল্লাহর কাছে পূর্ণ বিবরণ।

সেদিন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পাবে না কেউ রেহাই,
অন্যায়ের সব কৌশল সেদিন কোনো কাজে নাই।
ক্ষমতার দম্ভ, সম্পদের গর্ব, থাকবে না আর পাশে,
নিজের কর্মের ফল ভোগে দাঁড়াবে সবাই শেষে।
যে করেছে সৎকর্ম, সত্যের পথে ছিল,
আল্লাহর রহমতের আশায় জীবনখানি দিল,
তার জন্যও রয়েছে সেদিন অনুগ্রহের দ্বার,
আল্লাহরই করুণায় মিলবে মুক্তির উপহার।

অতীতের কত জাতি ছিল ক্ষমতারই বলে,
সত্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অহংকারে চলে।
নবী-রাসুলের বাণী শুনে করেনি সম্মান,
অন্যায়েরই পথ বেছে হারিয়েছে ঈমান।
অবাধ্যতার সীমা পেরিয়ে করেছে কত পাপ,
নিজের কর্মে নিজেরাই ডেকেছে দুর্দৈব-তাপ।
ইতিহাসের পাতায় আজও রয়েছে তাদের চিহ্ন,
অহংকারের পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ, তা স্পষ্ট।

যে জাতি সত্য অস্বীকারে ছিল অবিচল,
অন্যায়েরই পথে তারা করেছে জীবন সফল—
পার্থিব সুখের মোহে তারা ভুলেছে আল্লাহর নাম,
অবশেষে ধ্বংস ডেকে হয়েছে পরিণামের সম্মুখীন।
পূর্ববর্তীদের পরিণতি শিক্ষা দেয় যে আজ,
অন্যায়ের পথে চললে আসে বিপদেরই সাজ।
ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে সত্যের পথে চলো,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি পেতে ন্যায়ের প্রদীপ জ্বালো।

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে গড়ি আগামীর পথ,
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রাখি দৃঢ় শপথ।
জুলুম-নির্যাতন, অহংকার আর মিথ্যার পরিহার,
মানবতার কল্যাণে হোক জীবনের অঙ্গীকার।
আল্লাহর বাণী মেনে চলি, রাখি অন্তর শুদ্ধ,
সৎকর্মেরই আলোয় হোক জীবন সমৃদ্ধ।

একটি ক্ষুদ্র বীর্যবিন্দু থেকে মানবজীবন শুরু,
আল্লাহরই কুদরতে গড়ে ওঠে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
সুরক্ষিত এক আধারে থাকে নির্দিষ্ট কাল,
আল্লাহরই নির্ধারিত পথে জীবনের জাল।
কত নিপুণ তাঁরই সৃষ্টি, কত অপরূপ দান,
ক্ষুদ্র থেকে মানুষ পায় দেহ ও প্রাণ।
মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠে জীবনেরই কুঁড়ি,
আল্লাহরই অনুগ্রহে পৃথিবীতে আসে ভরি।

কে দিয়েছে চোখের আলো, কে দিয়েছে প্রাণ,
কে দিয়েছে বুদ্ধি-বিবেক, জ্ঞান ও সম্মান?
কে দিয়েছে হৃদয়জুড়ে ভালোবাসার টান,
কে দিয়েছে পৃথিবীজুড়ে বেঁচে থাকার দান?
সেই মহান আল্লাহ যিনি সৃষ্টির অধিপতি,
তাঁরই দয়ায় জীবন চলে, তিনিই জীবনদাতা।
তুচ্ছ উৎসের মানুষ কেন করে অহংকার,
নিজের সৃষ্টির কথা ভেবে হোক বিনয়ী বারবার।

যিনি প্রথম সৃষ্টি করেছেন শূন্য থেকে প্রাণ,
তাঁরই পক্ষে পুনরায় সৃষ্টি করা সহজ বিধান।
মৃত্যুর পরে মানুষ আবার হবে পুনরুত্থিত,
আল্লাহরই নির্দেশে হবে সবাই সমবেত।
যে মাটিতে দেহ মিশে যায়, সেই মাটির বুকে,
আল্লাহ চাইলে জাগবে মানুষ নতুন জীবনের সুখে।
পুনরুত্থানের সত্য বাণী কুরআনে ঘোষিত,
তাই তো মুমিন রাখে মনে পরকালের স্মৃতি।

পৃথিবী হলো মানুষের এক আবাসভূমি,
আল্লাহরই দানে এখানে জীবন চলে ভূমি।
জীবিতদের জন্য আশ্রয়, মৃতের জন্য স্থান,
তাঁরই অনুগ্রহে পূর্ণ হয় পৃথিবীর অবদান।
উঁচু উঁচু পর্বতশ্রেণি দাঁড়িয়ে রয়েছে,
প্রকৃতিরই সৌন্দর্য নিয়ে পৃথিবী সেজেছে।
নদী বয়ে যায় আপন পথে, সাগর বিশাল নীল,
আল্লাহরই সৃষ্টির মাঝে প্রকৃতি চিরস্নিগ্ধ।

সুপেয় পানি দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে,
বৃষ্টি ঝরে শস্য ফলে তাঁরই বিধানে।
ফলমূল আর শস্যদানা, অন্নের অফুরান,
পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নিয়ামত-দান।
সবুজ মাঠে সোনার ফসল দোলে হাওয়ার তালে,
কৃষকের ঘাম ঝরে পড়ে ফসল ফলার কালে।
পশুপাখি, বৃক্ষলতা, প্রকৃতিরই রূপ,
সবই যেন আল্লাহরই কুদরতের অনুপম ধূপ।

নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি মনে,
অপচয় আর অবহেলা না করি জীবনে।
পানি, মাটি, বনভূমিকে রাখি যত্ন করে,
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি ঘরে ঘরে।
আল্লাহর দেওয়া সম্পদ যেন হয় কল্যাণে,
মানুষ ও জীবের উপকার হোক তার ব্যবহারে।
যে নিয়ামত পেয়েছি মোরা মহান রবের দানে,
কৃতজ্ঞতার আলো জ্বালি প্রতিটি কর্মখানে।

সেদিন বলা হবে তাদের, যারা সত্য করেনি মান্য,
যে সংবাদে করেছিলে মিথ্যারোপ, তারই হবে সম্মুখে গমন।
চলো এবার সেই পথে, যা ছিল অবহেলা,
আজ আর কোনো অবকাশ নেই, শেষ হয়েছে খেলা।
তিন শাখাবিশিষ্ট ধোঁয়ার ছায়া হবে সামনে,
শান্তি দেবে না সে আশ্রয়, আগুন জ্বলবে তাতে।
ছায়া নয় সে শান্তির নীড়, নয় কোনো বিশ্রাম,
জাহান্নামের ভয়াল রূপে হবে কঠিন পরিণাম।

প্রাসাদের মতো স্ফুলিঙ্গ ছড়াবে আগুনের,
হলুদ উটের দলের মতো দৃশ্য হবে তারই।
ভয়াবহ সেই আগুন থেকে নেই কোনো অবকাশ,
অপরাধের পরিণামে ঘিরে ধরবে সর্বনাশ।
পৃথিবীতে যারা করেছিল সত্যের অবমাননা,
আজ তাদের নেই কোনো উপায়, নেই মুক্তির ঠিকানা।
সেদিন মিথ্যারোপকারীর হবে কঠিন দুর্ভোগ,
অবাধ্যতার পরিণামে ভোগ করবে শোক।

পার্থিব জীবনে যারা অন্যায় করেছে,
সত্যের বাণী উপেক্ষা করে অবাধ্যতায় মেতেছে,
তাদের জন্য রয়েছে কঠিন সতর্কবাণী,
আল্লাহর বিধান অমান্য করা নয় যে কল্যাণী।
তাই তো মানুষ ফিরে আসুক সত্যের আলোর পথে,
তওবার দুয়ার খোলা আছে জীবনেরই সাথে।
রহমতেরই প্রত্যাশা নিয়ে শুদ্ধ করুক মন,
সৎকর্মে সাজিয়ে তুলুক জীবনেরই ক্ষণ।

এমন এক দিন আসবে, কথা বলার সুযোগ,
থাকবে না আর অজুহাতে মুক্তির কোনো যোগ।
অপরাধের সত্য তখন হবে প্রকাশিত,
মিথ্যার সব আবরণ যাবে চিরতরে বিলুপ্ত।
কর্মের হিসাব সামনে এসে দাঁড়াবে সবার,
কেউ পারবে না গোপন করতে অপরাধের ভার।
আল্লাহরই বিচার হবে পরিপূর্ণ ন্যায়,
সত্যের কোনো অবমাননা সেদিন হবে না হায়।

সেদিন একত্র হবে সকল পূর্বাপর,
কেউ পারবে না পালিয়ে যেতে, যতই হোক প্রভাব।
যদি থাকে কোনো কৌশল, করো প্রয়োগ আজ,
আল্লাহরই হুকুমে হবে ফয়সালার কাজ।
মানুষের সব শক্তি সেদিন হবে যে নিষ্ফল,
আল্লাহরই ক্ষমতার কাছে সবই হবে তুচ্ছতর।
পৃথিবীর সব অহংকার মিশে যাবে ধূলায়,
কেবল সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে হায়।

অন্যদিকে মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে সুখের ধাম,
ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশ, জান্নাত তারই নাম।
ঝরনাধারার মধুর ধ্বনি, সুশীতল বাতাস,
ফলমূলের অফুরন্ত ভান্ডার, আনন্দেরই বাস।
যা কিছু তারা পছন্দ করে, পাবে আপন মনে,
আল্লাহরই অনুগ্রহে সুখের জীবন পাবে।
থাকবে না কোনো দুঃখ সেখানে, থাকবে না আর ভয়,
চিরস্থায়ী শান্তির মাঝে হবে সুখের উদয়।

বলা হবে, পানাহার করো আনন্দিত প্রাণে,
সৎকর্মের প্রতিদান আজ পেয়েছ আপন দানে।
দুনিয়াতে যে আমল করেছ আল্লাহরই তরে,
আজ তারই প্রতিদান পেলে জান্নাতেরই ঘরে।
যে ধৈর্য ধরে সত্য পথে ছিল অবিচল,
আল্লাহরই রহমতে তার হবে জীবন সফল।
যে ইবাদতে একনিষ্ঠ, সৎকর্মে মহান,
তার জন্যই রয়েছে জান্নাতের সম্মান।

পৃথিবীতে কত দুঃখ ছিল, কত ব্যথার ভার,
কত বাধা পেরিয়ে মানুষ করেছে অঙ্গীকার।
কত অশ্রু ঝরেছে চোখে, কত বেদনা বুকে,
তবু যারা সত্যের পথে থেকেছে অবিচল সুখে,
তাদের জন্য আল্লাহ রাখেন রহমতেরই দান,
জান্নাতেরই অনন্ত সুখ, চিরশান্তির স্থান।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি,
তাঁরই রহমতে মুমিন পাবে পরম পরিতৃপ্তি।

দুনিয়ার এ জীবনখানি ক্ষণিকেরই মেলা,
কিছুদিনের সুখের মাঝে কেটে যায় যে বেলা।
কেউ বা ধনের অহংকারে ভুলে যায় রব,
কেউ বা ক্ষমতার মোহে হারায় সত্যের পথ।
কেউ বা শুধু ভোগের আশায় ছুটে অবিরাম,
ভুলে যায় যে পরকালে দিতে হবে হিসাব।
দুনিয়ার এই মোহজাল বড়ই ক্ষণস্থায়ী,
আখিরাতের জীবন কিন্তু চিরন্তন যে ভাই।

বৈধ সুখে বাধা নেই, নেই হালাল ভোগে মানা,
তবে যেন ভুলে না যাই আল্লাহরই বাণীখানা।
পরিমিতির শিক্ষা নিয়ে চলি জীবনের পথে,
অপচয় আর লোভকে রাখি দূরে সব কাজে।
সম্পদ যেন মানুষের কল্যাণে লাগে,
সৎ উপার্জন জীবনের প্রতিটি ধাপে জাগে।
দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য রক্ষা করে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজি প্রতিটি কর্মে।

পৃথিবীর এই জীবনখানি পরীক্ষারই স্থান,
কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে ঈমানের প্রমাণ।
কেউ পাবে সুখ, কেউ পাবে দুঃখ, আসবে কত ঝড়,
ধৈর্য ধরে সত্য পথে পাড়ি দিতে হবে পর।
বিপদে ধৈর্য, সুখে কৃতজ্ঞতা হোক জীবনের বাণী,
আল্লাহরই ওপর ভরসা রাখি, তিনিই অন্তর্যামী।
সৎকর্মের পথে চলাই হোক জীবনের ব্রত,
আখিরাতের সফলতার এটাই মূল শর্ত।

যখন বলা হয়, রুকু করো, আল্লাহর সামনে নত,
অহংকারে যারা অস্বীকারে থাকে অবিরত,
তাদের জন্য সতর্কবাণী এসেছে কুরআনে,
বিনয়ী হও, আনুগত্য রাখো মহান রবের টানে।
রুকু হলো বিনয়ের চিহ্ন, সিজদা আত্মসমর্পণ,
নামাজেরই মাধ্যমে জাগে আল্লাহর স্মরণ।
যে নামাজে একনিষ্ঠ, তার অন্তর হয় শুদ্ধ,
আল্লাহরই আনুগত্যে জীবন হয় সমৃদ্ধ।

ফজরের আলো ফুটে যখন পূর্ব আকাশে,
মুমিন তখন রবের ডাকে নামাজে আসে।
যোহর, আসর, মাগরিব, এশা—ইবাদতের ধারা,
আল্লাহরই স্মরণে কাটে জীবনেরই সারা।
নামাজ শুধু আনুষ্ঠানিক কাজের নাম নয়,
আত্মশুদ্ধির পথ দেখায়, নৈতিকতার জয়।
অন্যায় থেকে দূরে রাখে, সত্যের পথে টানে,
আল্লাহরই ভালোবাসা জাগায় মুমিনের প্রাণে।

নামাজে যে নত হয়, সে বিনয়ী হোক,
মানুষেরও অধিকার রক্ষায় তার মন জাগুক।
অহংকার আর হিংসা-বিদ্বেষ দূরে রাখি প্রাণে,
সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা ধারণ করি মনে।
লোকদেখানো ইবাদত নয়, চাই একনিষ্ঠতা,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে হোক সকল সাধনা।
নামাজেরই শিক্ষায় গড়ি সুন্দর জীবন,
ইবাদত ও মানবতায় পূর্ণ হোক ভুবন।

কুরআন হলো হিদায়াতের চিরন্তন আলো,
অন্ধকারে পথ দেখায়, করে জীবন ভালো।
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখায়, ন্যায়ের দেয় বাণী,
মানবতার কল্যাণে এ গ্রন্থ পথপ্রদর্শনী।
আল্লাহরই বাণী নিয়ে নবী দেখালেন পথ,
সুন্নাহরই আদর্শে গড়ি জীবনেরই রথ।
কুরআনের শিক্ষা মেনে চলি সকল কাজে,
শান্তি ও কল্যাণের আলো জ্বলুক সমাজে।

কেন তবে সত্য বাণী করব অবহেলা,
কেন তবে মিথ্যার পথে কাটাব জীবনের বেলা?
কেন ভুলে যাব আমরা সৃষ্টির উদ্দেশ্য,
কেন হারাব নৈতিকতার চিরন্তন সৌন্দর্য?
কুরআনেরই শিক্ষা হোক জীবনের পাথেয়,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হোক সকল কর্মের ধেয়।
তিলাওয়াতের পাশাপাশি বুঝি তারই মর্ম,
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে করি তারই কর্ম।

সত্যবাদিতা, আমানত, ন্যায়পরায়ণতা,
ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, দয়া, মানবিক উদারতা।
কুরআনেরই শিক্ষায় গড়ি সুন্দর চরিত্র,
অন্যায়ের পথ পরিহার করে হই সত্যের মিত্র।
সুন্নাহরই আলোয় জীবন হোক সুন্দর,
নৈতিকতার সৌরভ ছড়াক ঘরে ঘরে অন্তর।
কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ জীবনে করি ধারণ,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে হোক সকল আচরণ।

মানুষ মাত্রই ভুল করে, হয় যে ত্রুটি,
কখনো ভুলে পথ হারিয়ে ভাঙে নীতির খুঁটি।
তবু আল্লাহর রহমতের দুয়ার রয়েছে খোলা,
তওবার আলোয় শুদ্ধ হতে পারে জীবনভেলা।
ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসি পথে,
অন্যায় ছেড়ে সৎকর্ম করি আল্লাহরই তরে।
মানুষের হক নষ্ট হলে ফিরিয়ে দিই তা,
ক্ষমা চেয়ে সংশোধনের পথ করি রচনা।

হিংসা-বিদ্বেষ, মিথ্যা কথা রাখি দূরে সরিয়ে,
অহংকারের কালো মেঘ দিই যে মন থেকে হারিয়ে।
জুলুম-নির্যাতন পরিহার করে গড়ি ন্যায়ের ঘর,
সত্যের পথে অবিচল থাকি, হই না টলমল।
দুর্বলের পাশে দাঁড়াই, দুঃখীর মুখে হাসি,
মানবতার কল্যাণে যেন থাকি ভালোবাসি।
অন্যের প্রতি দয়া রেখে করি সদাচার,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হোক জীবনের অঙ্গীকার।

প্রতিটি দিন আত্মসমালোচনায় কাটুক,
নিজের ভুলের সংশোধনে মনটি জেগে থাকুক।
সৎকর্মের পথে চলার দৃঢ় হোক প্রত্যয়,
আল্লাহরই রহমতে আসুক জীবনে কল্যাণময়।
তওবা, ইস্তিগফার, নামাজ হোক জীবনের সাথি,
কুরআনেরই আলোয় মুছে যাক মনের রাতি।
আল্লাহরই করুণা চেয়ে বিনয়ী হই সদা,
তাঁরই পথে জীবন কাটুক, এটাই মনের সাধনা।

পরিবার হলো ভালোবাসার শান্তির এক নীড়,
স্নেহ-মমতার বন্ধনে হয় জীবন সুধাময় ধীর।
স্বামী-স্ত্রীর আস্থা, বিশ্বাস, আন্তরিকতার বাঁধন,
ভালোবাসায় গড়ে ওঠে সুখের আপন ভুবন।
পারস্পরিক সম্মান আর দায়িত্বেরই টানে,
শান্তির ফুল ফোটে তাদের সংসার-উদ্যানে।
সন্তানেরা বেড়ে ওঠে নৈতিকতার আলোয়,
আদর্শেরই বীজ বোনা হয় স্নেহ-মমতার ছায়ায়।

মাতা-পিতার স্নেহধারা সন্তানেরই বল,
তাঁদের সেবায় জীবন পায় সৌন্দর্য অমল।
শিক্ষকের আদর্শে শিক্ষার্থী পায় জ্ঞান,
নৈতিকতার আলোয় গড়ে সুন্দর সম্মান।
সহকর্মীর সঙ্গে থাকুক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য,
সত্যের পথে গড়ে উঠুক বিশ্বাসেরই বন্ধন।
প্রতিবেশীর দুঃখে যেন কাঁদে সবার মন,
সহমর্মিতায় গড়ে উঠুক মানবিক জীবন।

এতিম, অসহায়, দরিদ্র, দুঃখী মানুষের পাশে,
সহানুভূতির হাত বাড়াই ভালোবাসার আশে।
অন্যের অধিকার রক্ষা করি ন্যায়বিচারের টানে,
সত্যের কথা বলি সদা নির্ভীক হৃদয়খানে।
বৈষম্য আর অবিচারকে প্রশ্রয় না দিই,
মানবতার কল্যাণে সদা দায়িত্ব পালন করি।
সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধন হোক দৃঢ়,
ন্যায় ও সততায় সমাজ হোক সমৃদ্ধির নীড়।

জ্ঞান অর্জন মানুষের জীবনেরই আলো,
সুশিক্ষারই স্পর্শে মানুষ হয় যে ভালো।
শুধু পুঁথির জ্ঞান নয়, চাই নৈতিকতার শিক্ষা,
সততা আর শৃঙ্খলায় হোক জীবনের দীক্ষা।
শিক্ষকের আদর্শে জাগুক শিক্ষার্থীর প্রাণ,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় বাড়ুক সত্যজ্ঞান।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে হোক দক্ষতার বিকাশ,
নৈতিকতার বন্ধনে হোক জ্ঞানের পরিপ্রকাশ।

শিশুর মনে সত্যের বীজ বপন করি আজ,
মানবতার শিক্ষা দিয়ে গড়ি আগামীর সমাজ।
বিনয়, ধৈর্য, পরোপকার, ন্যায়পরায়ণতা,
সততা ও শৃঙ্খলাই হোক জীবনের বারতা।
মিথ্যা ছেড়ে সত্য বলুক, রাখুক সবার মান,
অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অর্জন করুক জ্ঞান।
আল্লাহরই সন্তুষ্টি যেন থাকে তাদের ধ্যানে,
সৎকর্মের আলো জ্বলুক তাদের জীবনে।

ভবিষ্যতের প্রজন্ম হবে নৈতিকতার ধারক,
সত্য ও ন্যায়ের পথে হবে কল্যাণের কারক।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি হোক মানবতার তরে,
সৎচিন্তার বীজ বপন হোক প্রতিটি অন্তরে।
কুরআনেরই মূল্যবোধে গড়ি আগামী দিন,
আল্লাহরই অনুগ্রহে হোক জীবন রঙিন।
সুশিক্ষা আর উত্তম চরিত্রের হোক সমন্বয়,
মানবতার কল্যাণে আসুক শান্তিময় জয়।

মৃত্যু একদিন আসবেই, এ যে চিরসত্য,
কেউ পারে না এড়াতে, যতই থাকুক শক্তি।
রাজপ্রাসাদে থাকুক কেউ, কিংবা কুটিরঘরে,
মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিতে হবে সবাই পরে।
যৌবনেরই গর্ব একদিন হবে যে অবসান,
পার্থিব যত অর্জন সবই থাকবে ধূলির সমান।
মাটির বুকে দেহ মিশে থেমে যাবে শ্বাস,
পরকালের পথে তখন শুরু হবে নতুন বাস।

মৃত্যু মানে শেষ নয়, আছে পরের জীবন,
পুনরুত্থানে জেগে উঠবে সকল মানবগণ।
কর্মের হিসাব দিতে হবে মহান রবের কাছে,
কোনো কিছুই গোপন থাকবে না তাঁরই দৃষ্টির মাঝে।
যে জীবনকে সাজিয়েছে ঈমান ও আমলে,
আল্লাহরই রহমত আশা তার অন্তরে জ্বলে।
যে করেছে অন্যায়, করেছে অধিকার হরণ,
তাকে দিতে হবে সেদিন কর্মের বিবরণ।

আজই সময় সংশোধনের, আজই তওবার ক্ষণ,
আগামী দিনের নিশ্চয়তা জানে না কোনো জন।
সৎকর্মের পাথেয় নিয়ে চলি জীবনের পথে,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি চাই প্রতিটি কর্মে।
পরকালীন মুক্তির আশায় হই যে সচেতন,
ইবাদত ও মানবতায় সাজাই জীবন।
মৃত্যুচিন্তা জাগাক মনে দায়িত্ববোধের আলো,
সত্যের পথে চলতে শেখাক, করুক জীবন ভালো।

ঈমান নিয়ে বাঁচতে চাই, ঈমান নিয়ে মরি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি পেতে জীবনখানি গড়ি।
তাকওয়ার আলো হৃদয়জুড়ে জ্বলুক নিরবধি,
সৎকর্মে হোক জীবনখানি সুন্দর ও সমৃদ্ধি।
দুঃখ-সুখে আল্লাহর ওপর রাখি দৃঢ় ভরসা,
তাঁরই রহমত লাভের আশায় জাগুক মনে আশা।
বিপদ এলে ধৈর্য ধরি, সুখে কৃতজ্ঞ হই,
সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে কল্যাণময় জীবন গড়ি।

জান্নাতেরই প্রত্যাশা নিয়ে করি ইবাদত,
আল্লাহরই ভালোবাসায় হোক হৃদয় পবিত্র।
লোকদেখানো কর্ম নয়, চাই একনিষ্ঠ প্রাণ,
তাঁরই সন্তুষ্টি হোক জীবনের সম্মান।
পার্থিব সুখের মোহে যেন না হারাই পথ,
আখিরাতের সফলতাই হোক জীবনের শপথ।
ক্ষমা চাই রবের কাছে, চাই তাঁরই দয়া,
তাঁরই অনুগ্রহে দূর হোক সকল মনের মায়া।

জান্নাতেরই সুশীতল ছায়া, ঝরনাধারার গান,
ফলমূলের অফুরন্ত সুখ, শান্তিরই সম্মান।
সেখানে নেই কোনো ব্যথা, নেই বিচ্ছেদের ভয়,
আল্লাহরই অনুগ্রহে চিরসুখের জয়।
সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে মহান রবের সন্তুষ্টি,
তাঁরই রহমতে পূর্ণ হবে মুমিনের পরিতৃপ্তি।
সেই অনন্ত সুখের আশায় রাখি ঈমান দৃঢ়,
আল্লাহরই আনুগত্যে জীবন হোক সমৃদ্ধ।

বারবার সেই সতর্কবাণী ধ্বনিত হয় কানে,
মিথ্যারোপকারীর দুর্ভোগ লেখা রয়েছে বাণীতে।
সত্য অস্বীকার করে যারা চলে অবাধ্যতায়,
তাদের জন্য কঠিন সতর্কতা কুরআনের পাতায়।
তাই তো মানুষ সত্যের পথে ফিরে আসুক আজ,
আল্লাহরই নির্দেশ মেনে গড়ুক জীবনের সাজ।
কিয়ামতের মহাসত্য মনে রাখুক প্রাণ,
সৎকর্মে গড়ে তুলুক জীবনের সম্মান।

আকাশ ভাঙবে, পাহাড় গুঁড়ো হবে একদিন,
পৃথিবীরই সব আয়োজন হবে সেদিন বিলীন।
কেউ থাকবে না শক্তিমান, থাকবে না অহংকার,
আল্লাহরই বিচার হবে সেদিন সবার।
সৎকর্ম আর ঈমান হবে মুক্তির প্রত্যাশা,
আল্লাহরই রহমত হবে মুমিনের ভরসা।
পার্থিব জীবনের শেষে আসবে সেই দিন,
কর্মের প্রতিফল পাবে প্রত্যেক মানবগণ।

কুরআনেরই বাণী মেনে গড়ি জীবনের পথ,
সুন্নাহরই আদর্শ নিয়ে হই সত্যের রথ।
সততা আর ন্যায়বিচারে গড়ি সমাজখানি,
মানবতার কল্যাণে হোক জীবনের বাণী।
জুলুম, হিংসা, বিদ্বেষ ছেড়ে ভালোবাসা জাগাই,
অন্যের অধিকার রক্ষা করে সত্যের পথে যাই।
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হোক জীবনেরই লক্ষ্য,
দুনিয়া ও আখিরাতে হোক কল্যাণের রক্ষক।

হে আল্লাহ, তুমি দয়াময়, তুমি করুণাময়,
তোমারই রহমতে জগৎ আলোকময়।
তোমার দানে পেয়েছি প্রাণ, পেয়েছি জীবন,
তোমারই অনুগ্রহে পূর্ণ হোক মন।
আমাদের অন্তরে দাও ঈমানের আলো,
সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার শক্তি ভালো।
তাকওয়া ও ইখলাস দাও, দাও সৎকর্মের জ্ঞান,
তোমারই সন্তুষ্টিতে কাটুক আমাদের প্রাণ।

হে আল্লাহ, মুছে দাও মনের সব আঁধার,
অন্যায় থেকে রক্ষা করো, দাও সঠিক বিচার।
মিথ্যা, প্রতারণা, অহংকার থেকে রেখো দূরে,
মানবতার ভালোবাসা জাগুক অন্তঃপুরে।
মা-বাবার সেবা করার তৌফিক দাও মোরে,
পরিবারে শান্তি দাও ভালোবাসার ঘরে।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি দাও প্রাণে,
সত্যের পথে অবিচল রাখো তোমারই দানে।

হে আল্লাহ, কিয়ামতের কঠিন সেই দিনে,
ক্ষমা করে রেখো মোরে তোমারই করুণায়।
হিসাবের দিনে সহজ করো সকল কর্মের হিসাব,
জাহান্নামের আগুন থেকে দাও নিরাপদ আশ্রয়।
কবরের জীবন শান্তিময় করো আপন দয়ায়,
পরকালের প্রতিটি ধাপে রেখো রহমতছায়ায়।
জান্নাতুল ফিরদাউস দাও তোমারই অনুগ্রহে,
প্রিয় নবীর সুন্নাহ মেনে চলি যেন জীবনে।

হে আল্লাহ, আমাদের দাও কল্যাণময় জীবন,
সত্য ও ন্যায়ের পথে রাখো অবিচল মন।
কুরআনেরই আলো দিয়ে আলোকিত করো প্রাণ,
সুন্নাহরই আদর্শে গড়ি জীবন ও সম্মান।
দুনিয়া ও আখিরাতে দাও কল্যাণের দান,
তোমারই রহমতে পূর্ণ হোক সকল ঈমান।
আমাদের সব নেক আমল কবুল করো, হে রব,
তোমারই সন্তুষ্টি হোক জীবনেরই সব।

কিয়ামতের সেই মহাদিন আসবে অবধারিত,
আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি সত্য, সুনিশ্চিত।
সৃষ্টির সব আয়োজন একদিন যাবে থেমে,
মানুষ হবে সমবেত বিচার দিবসের ভূমে।
সত্যের পথে যারা ছিল, আল্লাহর অনুগত,
তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।
অবাধ্যতার পথে যারা করেছে জীবন ক্ষয়,
তাদের জন্য সতর্কবাণী, কঠিন পরিণয়।

তাই তো এসো, সত্যের পথে জীবনখানি গড়ি,
আল্লাহরই নির্দেশ মেনে সকল কাজে চলি।
সৎকর্মেরই আলো জ্বালি প্রতিটি হৃদয়ে,
মানবতার ফুল ফুটুক ভালোবাসার ছোঁয়ায়।
অন্যায়ের সব পথ ছেড়ে ন্যায়ের পথে যাই,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় জীবন সাজাই।
ঈমান, তাকওয়া, সৎকর্ম হোক জীবনের পরিচয়,
আল্লাহরই রহমতে আসুক চিরকল্যাণময় জয়।

দুনিয়ার এ ক্ষণিক জীবন আমানত মহান,
সৎকর্মে তা সাজিয়ে তোলাই হোক সম্মান।
মৃত্যুর পরে পরকালের অনন্ত সেই পথে,
আল্লাহরই রহমত চাই বিনীত হৃদয়েতে।
জান্নাতেরই প্রত্যাশা নিয়ে থাকি অবিচল,
সত্য ও ন্যায়ের আলোয় হোক জীবন সফল।
কিয়ামতের সেই বাণী রাখি হৃদয়জুড়ে,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি খুঁজি জীবনের প্রতিটি সুরে।

হে মহান আল্লাহ! সূরা আল-মুরসালাতের শিক্ষা উপলব্ধি করে ঈমান, তাকওয়া, ইবাদত ও সৎকর্মে জীবন গড়ার তৌফিক দাও। কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করে তোমার রহমতে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করো। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন