প্রধান শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মহাসাগরে বিলীণ রবির তেজ
মহাসাগরে বিলীণ রবির তেজ
কমে এসেছে রবির কিরণের তেজ। সাদা বালুর সৈকতে বাচ্চাদের নিয়ে খেলছে মায়েরা। এখানে ওখানে বিচ ভলিমহাবলের উৎসব। লাল গালিচার মতো রাস্তাটায় অগণিত মানুষের হাঁটাহাঁটি। লাল গোলকটা মেঘের সঙ্গে লড়াই করে দৃশ্যমান হলো। একটু পরই ডুব দিলো ভারত মহাসাগরে বুকে।
সানসেট দেখার জন্য এখানে, কলম্বো পোর্ট সিটিতে প্রতিদিনেই ভিড় করে অগণিত মানুষ। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকূলে ভারত মহাসাগরের বুক চিরে বালি ভরাট করে তৈরি ২৬৯ হেক্টরের এই বিশাল কৃত্রিম ভূমি। এটিই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। শ্রীলঙ্কা সরকার ও চীনের হাবারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ২০১৪ খিষ্টাব্দে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কলম্বোকে দুবাই বা সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক হাব হিসেবে গড়ে তোলা। সমুদ্রের ওপর জেগে ওঠা এই নতুন শহরটি কলম্বোর মূল বাণিজ্যিক এলাকার একটি আধুনিক সম্প্রসারণ, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।এই সম্পূর্ণ পরিকল্পিত শহরটিকে প্রধান পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট শহরের মূল বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে সেন্ট্রাল পার্ক লিভিং ও আইল্যান্ড লিভিং অঞ্চল। কর্মব্যস্ত পরিবেশের মাঝেও আছে মনোরম সবুজ পার্ক, হাঁটার পথ ও ভারত মহাসাগরের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য সংবলিত বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা। সঙ্গে মেরিনা অঞ্চলে থাকছে প্রমোদতরী ভেড়ানোর আধুনিক সুবিধা। ইন্টারন্যাশনাল আইল্যান্ডে গড়ে উঠছে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও বিনোদনমূলক কনভেনশন সেন্টার।আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার বিশ্বমানের মাইস অবকাঠামো, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আকর্ষণীয় বিনোদনমূলক অফারগুলো সরাসরি ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা পাবেন।
২০২১ খ্রিষ্টাব্দে একটি ভার্চুয়াল উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘এসএল মাইস এক্সপো’ বর্তমানে একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য শ্রীলঙ্কার অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর ভৌগোলিক সংক্ষিপ্ততার সুবিধা। খুবই অল্প দূরত্বের ব্যবধানে এই দ্বীপে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব—যার মধ্যে রয়েছে মনোরম সৈকত, প্রাণবন্ত শহর, প্রাচীন রাজ্য, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পাহাড়ি চা বাগান। এগুলোর একটি থেকে অন্যটিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায়। এই আকর্ষণগুলো প্রাক-ইভেন্ট এবং ইভেন্ট-পরবর্তী ট্যুরের সাথে চমৎকারভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
২
২ মন্তব্য