প্রধান শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ণ
শুধু কর্মসংস্থানই নয় বরং নৈতিকতা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য: প্রধানমন্ত্রী
শুধু কর্মসংস্থানই নয় বরং নৈতিকতা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার। কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন তবে আমাদেরকে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন অবশ্যই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যানেরও কারণ হতে পারে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, সুতরাং, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা এবং অন্যের প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধ আমাদের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষা-শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
দেশের শিক্ষক সমাজ বিশেষ করে স্কুল মাদ্রাসার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ এবং সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দিবসগুলোতে আমন্ত্রিতদের তালিকায় একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলতি বছর থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের কমপক্ষে একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিচ্ছি।
আমি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছি, একজন শিক্ষক শুধুমাত্র তার বেতন কিংবা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘোরার প্রয়োজন নেই। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্ত টাকা ব্যাংকের মাধ্যমেই তাকে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের শিক্ষকরাই হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র-সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকতা কখনো উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। বরং সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যেনো শিক্ষকতাকে প্রথম পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কিংবা বিজয় দিবসসহ প্রতিবছর বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। শুভেছা বিনিময় করে থাকেন। এ ধরনের জাতীয় দিবসগুলোতে আমন্ত্রিতদের তালিকায় একটি নীতিমালার ভিত্তিতে চলতি বছর থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের কমপক্ষে একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিচ্ছি। একজন শিক্ষক তিনি কর্মরত কিংবা অবসর জীবনে যেভাবেই থাকুনা তার সুমহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে অবশ্যই সম্মানীয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমি বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের শিক্ষক সমাজের প্রতি আবারো বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
২
২ মন্তব্য