Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৫১ পূর্বাহ্ণ

সূরা আল-মুদ্দাসসিরের আলোকে - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                সূরা আল-মুদ্দাসসিরের আলোকে

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যাঁর দানে প্রাণে জাগে আশার আলোকময়,

যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়।
তাঁরই নামে জাগুক প্রাণ, দূর হোক সব ভয়,
তাঁরই পথে চললে মানুষ সত্য সফল হয়।

হে বস্ত্রাবৃত! ওঠো জেগে, ঘুমের আবরণ সরাও,
সত্যের বাণী হৃদয় দিয়ে মানুষের কাছে শোনাও।
রবের মহিমা ঘোষণা করে আঁধার দূরে হটাও,
ভুলের পথে যারা হারায়, সত্যের পথে আনাও।

উঠে দাঁড়াও, সতর্ক করো, সত্যের আলো দাও,
মিথ্যা, শিরক, পাপের পথে আর কাউকে না যাও।
নিজে আগে সত্যের পথে দৃঢ়ভাবে চল,
তারপর তুমি কল্যাণেরই বাণী সবার বল।

রবের মহিমা সর্বোচ্চ—হৃদয়জুড়ে মানো,
তাঁরই হুকুম জীবনজুড়ে ভালোবেসে জানো।
ধন-সম্পদ, মান-সম্মান ক্ষণিক দুনিয়ার,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই তো সফলতার দ্বার।

পোশাক রাখো পবিত্র, পবিত্র রাখো মন,
কথা-কাজে ফুটুক যেন ঈমানেরই ক্ষণ।
বাহির যদি পরিচ্ছন্ন, অন্তর যদি কালো,
সে পরিচ্ছন্নতায় কি আর হবে জীবনে আলো?

হিংসা-বিদ্বেষ দূরে সরাও, অহংকারও ছাড়ো,
লোভ-লালসার শিকল কেটে সত্যপথে বাড়ো।
রিয়া, গীবত, মিথ্যা কথা অন্তর থেকে তাড়াও,
তাকওয়ার আলোয় নিজের জীবন সুন্দর করে গড়াও।

অপবিত্রতা বর্জন করে পবিত্র হও প্রাণে,
হারাম ছেড়ে হালাল পথে চলো ন্যায়-জ্ঞান মানে।
আল্লাহ যেটি নিষেধ করেছেন, দূরে থাকো তাই,
তাঁর বিধানের বাইরে গিয়ে শান্তি কোথাও নাই।

কাজ করো, কিন্তু তার বদলা চেয়ো না বেশি,
মানুষ যদি না-ও বোঝে, রবের কাছে রেশি।
মানুষের প্রশংসা ক্ষণিক, রবের দান অশেষ,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই জীবনেরই শেষ।

সত্যের পথে বাধা এলে ভেঙো না আর মন,
ধৈর্য ধরে এগিয়ে চলো, রব আছেন আপন।
দুঃখ এলে ধৈর্য ধরো, সুখে কৃতজ্ঞ হও,
প্রতিটি অবস্থায় রবের দিকেই ফিরে রও।

দুনিয়ার এই জীবন যেন ক্ষণিকেরই ছায়া,
আজ যে মানুষ রাজাসনে, কাল সে শূন্য মায়া।
ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, যতই থাকুক কাছে,
মৃত্যু এলে সবকিছুই পেছনে পড়ে আছে।

যাকে দেওয়া হয় সম্পদ, দেওয়া হয় মান,
সে যেন না ভুলে যায় রবের মহাদান।
সম্পদ যদি অহংকারে হৃদয় করে অন্ধ,
তবে সে সম্পদই শেষে হতে পারে বন্ধ।

আরও চাই, আরও চাই—লোভের শেষ কোথায়?
দুনিয়ার সব পেলেও কি তৃপ্তি হৃদয় পায়?
লোভের আগুন যত বাড়ে, তৃষ্ণা তত বাড়ে,
আখিরাতের কথা ভুলে মানুষ নিজেই হারে।

সত্য যখন সামনে আসে, অহংকারে ফিরো না,
নিজের মত বড় ভেবে আল্লাহর বাণী হারিও না।
জ্ঞান যদি বিনয় না আনে, সে জ্ঞান বড় নয়,
সত্য মেনে নত হওয়াই মুমিনের পরিচয়।

যে কুরআনের সত্য বাণী অস্বীকার করে,
সে নিজ হাতে নিজের পথ অন্ধকারে ভরে।
আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিদ্রূপ করো না আর,
সত্যের সামনে নত হও—এটাই শ্রেষ্ঠ ভার।

সামনে আছে সাকার—ভয়ংকর সেই স্থান,
অবাধ্যতার পরিণতি, কঠিন যার বিধান।
চামড়া জ্বালায়, ছাড়ে না সে—ভয়াবহ তার রূপ,
পাপের পথে যারা চলে, তাদের জন্য ধ্রুব সতর্করূপ।

উনিশজন নিয়োজিত—আল্লাহরই বিধান,
অদৃশ্য জগতের জ্ঞান তাঁরই অবাধ জ্ঞান।
ওহির বাণী মেনে নাও, তর্কে নয় কল্যাণ,
সীমিত জ্ঞানে বিচার কোরো না অসীমের বিধান।

চাঁদের শপথ, রাতের শপথ, যখন যায় সরে,
সকালের আলো ফুটে যখন আঁধার যায় ঝরে।
এসব নিদর্শন মনে করায় মহান এক দিন,
যেদিন প্রকাশ পাবে সবার কর্মের আমলনামা ঋণ।

কিয়ামতের দিনটি হবে কঠিন ও ভয়ংকর,
সেদিন মিথ্যা অজুহাতে হবে না কোনো ফল।
মানুষ তখন বুঝবে কত মূল্যবান ছিল সময়,
কত সুযোগ হারিয়ে গেছে, কত গুনাহময় ক্ষয়।

প্রত্যেক প্রাণ তার কর্মের কাছে বন্ধক যেন হয়,
কাজের ফলই সামনে এসে সত্য পরিচয় দেয়।
তাই হে মানুষ, আজই নিজেকে হিসাবের মাঝে আনো,
মৃত্যুর আগে আমলনামায় নেক আমল তুমি গাঁথো।

সেদিন থাকবে না কোনো মিথ্যা পরিচয়ের জোর,
না থাকবে দুনিয়ার ধন, না ক্ষমতার ঘোর।
ঈমান আর নেক আমল হবে সেদিন সম্বল,
আল্লাহর রহমতই হবে মুমিনের আসল বল।

জান্নাতবাসী জিজ্ঞেস করবে অপরাধীদের কাছে—
কোন কারণে সাকারেতে আজ তোমাদের বাসে?
তখন তারা বলবে কেঁদে—ছিলাম না সালাতে,
অভাবীকে দিতাম না খাবার, ছিলাম পাপের রাতে।

অর্থহীন কথার স্রোতে থাকতাম নিমগ্ন,
সত্য থেকে দূরে ছিলাম, অন্তর ছিল ভগ্ন।
প্রতিদান দিবস মানিনি—এ ছিল বড় ভুল,
মৃত্যু এসে থামিয়ে দিল জীবনের সব মূল।

সালাত ছেড়ে কীভাবে মানুষ সফল হবে বলো?
রবের সঙ্গে সম্পর্কহীন হৃদয় কোথায় আলো?
সালাত হলো বান্দার জন্য রবের কাছে ফেরার দ্বার,
তাই তো সালাত যত্নে রাখো, এ দায়িত্ব সবার।

অভাবী যখন পাশে আসে, ফিরিয়ে দিও না,
ক্ষুধার্ত মুখ দেখে তুমি মুখ ফিরিয়ে নিও না।
সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করো, ভালোবাসা দাও,
মানুষের দুঃখে পাশে থেকে মানবতার মান বাড়াও।

এতিম, মিসকিন, অসহায়—তাদের কথা ভাবো,
নিজের সুখের পাশাপাশি তাদের দুঃখও দেখো।
আল্লাহ যাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, সে যেন দেয় দান,
মানুষের কল্যাণে ব্যয় হোক রবের দেওয়া প্রাণ।

মিথ্যা কথা, গীবত, অপবাদ—সবকিছুই ছাড়ো,
অশ্লীলতা ও অনর্থকতায় নিজেকে আর হারিও না।
জিহ্বা যেন কল্যাণ বলে, হাতে হোক উপকার,
মুমিনের আচরণে ফুটুক ইসলামেরই ভার।

আজকের দিনে কথার সাথে লিখিত কথাও দায়,
ডিজিটালের প্রতিটি কর্ম আল্লাহর কাছে যায়।
কী লিখলে, কী বললে, কাকে দিলে কষ্ট—
সবকিছুরই হিসাব হবে, মনে রেখো স্পষ্ট।

আখিরাতকে ভুলে গেলে দুনিয়া হয় সবকিছু,
লোভ তখন গ্রাস করে, হারায় সত্যবোধটুকু।
মৃত্যু এসে মনে করাবে—ফিরতে হবে শেষে,
কোন আমল নিয়ে দাঁড়াবে রবের দরবারে এসে?

উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে পালিয়ে যেও না,
সত্য শুনে রাগ করে হৃদয় বন্ধ কোরো না।
কুরআন যখন ডাকে তোমায়, মন দিয়ে তা শোনো,
জীবন যদি ভুল পথে যায়, ফিরে এসে তা গড়ো।

ভীত হরিণের মতো কেন সত্য থেকে পালাও?
আল্লাহর দেওয়া হেদায়াত আঁকড়ে ধরে চলো।
সত্য কখনো ভয় নয়, সত্য মুক্তির আলো,
সত্যের পথে জীবন দিলে পরিণাম হয় ভালো।

কেউ কি চায় আকাশ থেকে লিখিত পত্র হাতে,
তবেই শুধু মানবে সত্য, চলবে তারই সাথে?
না, বরং কুরআনই তো যথেষ্ট পথের আলো,
যে হৃদয় সত্য চায়, তার জন্য এ আলো ভালো।

এ কুরআন উপদেশ—যে চায় সে শিক্ষা নিক,
অন্ধকারের পথ ছেড়ে সত্যের পথে ফিরুক।
কিন্তু হেদায়াত আল্লাহরই মহান অনুগ্রহ,
তাই তাঁর কাছে চাইতে হবে অন্তরভরা প্রার্থনাস্বর।

হে আল্লাহ, অন্তর আমার সত্যের আলোয় ভরো,
গুনাহের অন্ধকার থেকে দয়া করে আমায় ধরো।
সালাতের প্রতি ভালোবাসা দাও অন্তরের মাঝে,
কুরআনের শিক্ষা ফুটুক আমার প্রতিটি কাজে।

অহংকার থেকে রক্ষা করো, রক্ষা করো লোভ,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও অন্তরের সব ক্ষোভ।
হারাম থেকে বাঁচিয়ে রেখো, হালাল পথে চালাও,
সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় পদক্ষেপ দাও।

যখন দুঃখ আসবে প্রভু, ধৈর্য ধরার শক্তি দাও,
সুখের দিনে কৃতজ্ঞ হয়ে তোমার শুকরিয়া গাও।
মানুষের হক নষ্ট না করি, জুলুম থেকে বাঁচি,
অসহায়ের অশ্রু মুছে ভালোবাসার হাত বাড়াই।

ধন দিলে যেন অহংকারে তোমাকে না ভুলে যাই,
দারিদ্র্য এলে হতাশ হয়ে তোমার রহমত না হারাই।
জ্ঞান দিলে বিনয় দাও, ক্ষমতা দিলে ন্যায়,
জীবনের প্রতিটি পথে থাকুক তোমার ভয়।

কিয়ামতের কঠিন দিনে যখন হবে হিসাব,
সেদিন যেন নেক আমল হয় আমাদের জবাব।
সাকার থেকে রক্ষা করো, জান্নাত দাও স্থান,
ঈমান নিয়ে যেন শেষ হয় আমাদের জীবনপ্রাণ।

দুনিয়ার মোহ পেরিয়ে যেন আখিরাতের পথে,
তোমার সন্তুষ্টি খুঁজি জীবনের প্রতিটি রথে।
তোমার হুকুম মেনে যেন জীবন করি পার,
তোমার রহমত ছাড়া প্রভু নেই কোনো উদ্ধার।

জাগো মানুষ, জাগো এবার, সময় অতি ক্ষণ,
মৃত্যু কখন এসে থামায় জীবনের স্পন্দন!
ঘুমিয়ে থেকো না আর, খুলে দাও অন্তরদ্বার,
কুরআনের আলোয় গড়ো জীবন বারবার।

উঠে দাঁড়াও সত্য নিয়ে, ন্যায়ের পথে চলো,
আল্লাহর মহিমা হৃদয়জুড়ে ভালোবেসে বলো।
নিজে শুদ্ধ হও, অন্যকেও কল্যাণের পথ দেখাও,
দয়া, মায়া, সত্য, ন্যায়—জীবনে ফুটিয়ে তোলো।

সূরা আল-মুদ্দাসসিরের এ আহ্বান মনে রাখো—
গাফিলতির ঘুম ভেঙে সত্যের পথে হাঁটো।
পবিত্র হৃদয়, সালাত, ধৈর্য, মানবসেবার জয়,
আখিরাতের সফলতাতেই জীবনের সত্য পরিচয়।

আল্লাহর ভয় হৃদয়ে রেখে রহমতের আশা করি,
তাঁরই বিধান মেনে যেন জীবনটাকে গড়ি।
শেষ নিশ্বাসে ঈমান রেখে ফিরতে চাই তাঁর দ্বার,
হে দয়াময়, কবুল করো—এই প্রার্থনা বারবার।

হে আল্লাহ, সত্যের পথে অটল থাকার তাওফিক দাও,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় আমাদের জীবন সাজাও।
গুনাহ মাফ করে দাও, রহমতের ছায়ায় রাখো,
দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার সন্তুষ্টি দাও।

হে রব, আমাদের জাগাও—গাফিলতির ঘোর থেকে,
সত্যের আলোয় ফিরিয়ে নাও মিথ্যার সব চোরাস্রোত থেকে।
ঈমান, আমল, তাকওয়া দিয়ে জীবন করো ধন্য,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের চরম পুণ্য।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ