সহকারী অধ্যাপক
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
সূরা আল-জিনের আলোকে - মোঃ মুজিবুর রহমান
সূরা আল-জিনের আলোকে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যাঁর কৃপায় প্রাণে জাগে আশার নবোদয়,
যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়।
তাঁরই নামে হৃদয় জাগে সত্যের আলোর টানে,
তাঁরই বাণী পথ দেখায় দুঃখ-সুখের গানে।
কুরআন হলো হিদায়াতের অমলিন এক আলো,
অন্ধকারে পথ দেখায়, শেখায় জীবন ভালো।
ভ্রান্ত পথে হারিয়ে গেলে ডাকে আপন করে,
সত্যের পথে নিয়ে আসে মমতা ভরা স্বরে।
মানুষ শুধু নয়—জিনও শুনে কুরআন বাণী,
সত্যের আলো চিনে নিয়ে হলো তারাও জ্ঞানি।
শুনে তারা বলল—“এ তো বিস্ময়কর বাণী,
সঠিক পথে ডাকে যে সে, সত্য যার নিশানি!”
“এই কুরআন পথ দেখায় সত্য ও ন্যায়ের পথে,
তাই তো আমরা ঈমান আনলাম রবের প্রতি সাথে।
রবের সাথে শরিক করব—এমন নয় আমাদের মন,
তিনি এক, অদ্বিতীয়—তাঁরই তরে জীবন।”
তারা বুঝল আল্লাহ মহান, সর্বশক্তিমান,
তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তিনি চিরঅম্লান।
স্ত্রী-সন্তান নেই তাঁর, নেই কোনো অংশীদার,
তাঁরই হাতে সৃষ্টিজগত, তিনিই পরমধার।
যে হৃদয়ে তাওহিদের দীপ জ্বলে অবিরত,
সে হৃদয়ে মিথ্যা ভয় পায় না কোনো ক্ষত।
সৃষ্টির কাছে মাথা নত নয় মুমিনের প্রাণ,
আল্লাহরই সামনে শুধু নত হয় ঈমান।
কিছু মানুষ বিপদে পড়ে জিনের কাছে যায়,
অদৃশ্য শক্তির ভরসাতে সত্য পথ হারায়।
মানুষ যখন জিনকে দেয় অতিরিক্ত মান,
তখন বাড়ে তাদের মাঝে অহংকারের টান।
উপকারের মালিক যিনি, ক্ষতির মালিক যিনি,
তিনি ছাড়া কেউই নয় প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী।
ভয় পেলে তাঁরই কাছে করো প্রার্থনা,
তাঁরই ওপর ভরসা রাখো—তাঁতেই মনের আশা।
কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস দূরে সরাও ভাই,
আল্লাহ ছাড়া সত্য আশ্রয় আর তো কোথাও নাই।
শিরকের কালো ছায়া মুছে তাওহিদের আলো,
রবের পথে চললেই জীবন হবে ভালো।
জিনদের মাঝে কেউ তো সৎ, কেউ বা পথভ্রষ্ট,
কেউ আল্লাহর অনুগত, কেউ অবাধ্য দুর্বিনীত।
কেউ বা ইসলাম গ্রহণ করে সত্য পথে রয়,
কেউ সীমালঙ্ঘন করে হারায় নিজের জয়।
মানুষ যেমন পরীক্ষা দেয় জীবনেরই ঘরে,
জিনও তেমনি জবাব দেবে রবের দরবারে।
বংশ নয়, বাহ্যিক গৌরব নয়—মূল্য ঈমানেতে,
তাকওয়া যার অন্তরে, সে-ই সম্মান পেতে।
ধন-সম্পদ, রূপের গর্ব ক্ষণিকেরই ছায়া,
সৎ আমলই সঙ্গী হবে পরকালের মায়া।
আজ যে মানুষ অহংকারে ভুলে রবের নাম,
কাল সে বুঝবে কর্মফলের কঠিন পরিণাম।
জিনেরা বলল—“আকাশপানে উঠতে গিয়ে দেখি,
কঠিন প্রহরা চারদিকে, উল্কা ছুটে রেখি।
আগের মতো সংবাদ শোনার সুযোগ আর নেই,
প্রহরীদের বাধা পেয়ে ফিরে আসতে হয় সেই।”
অদৃশ্য জগত আল্লাহরই জ্ঞানের অধীন,
মানুষের জ্ঞান সীমিত, তাঁর জ্ঞান অসীম।
যা গায়েব, তার পূর্ণ জ্ঞান রবের কাছেই রয়,
নিজ ক্ষমতায় গায়েব জানে—এ দাবি সত্য নয়।
তাই মুমিন ভিত্তিহীন কথা বিশ্বাস করে না,
কুসংস্কারের অন্ধ পথে কখনো পা বাড়ায় না।
কুরআন-সুন্নাহ যেদিকে দেয় সত্যেরই দিশা,
সেই পথেই চলতে হবে—সেটাই ঈমানের শিক্ষা।
অদৃশ্যের জ্ঞানী যিনি, তিনিই পরম রব,
তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছু নেই—নেই কোনো অবকাশ।
গোপন যত বিষয় আছে, প্রকাশ্য যত কথা,
সবই তাঁর জ্ঞানের মাঝে—নেই কোনো অজানা ব্যথা।
তিনি যাকে রাসুল করেন, ওহির মাধ্যমে দেন
প্রয়োজনীয় গায়েব-সংবাদ, সত্য জ্ঞান দেন।
রাসুল নিজের শক্তিতে গায়েব জানেন না,
রবের দেওয়া ওহি ছাড়া কিছুই বলেন না।
তাই আকিদা শুদ্ধ রাখো, সত্যকে আঁকড়ে ধরো,
আল্লাহরই বিশেষ গুণে কাউকে অংশী করো না।
রবের গুণে রব একা, তিনি এক ও মহান,
তাঁরই সামনে নত হয়ে রাখো পবিত্র প্রাণ।
মসজিদ হলো সিজদার স্থান, রবের ঘরের নাম,
তাঁরই জন্য ইবাদত হবে—এই তো ইসলামের বিধান।
দোয়া, সালাত, মানত, কুরবানি—সবই তাঁর তরে,
ইখলাস নিয়ে আমল করো তাঁরই সন্তুষ্টির তরে।
আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডেকে চেয়ো না কোনো কিছু,
তাঁরই দরবারে তুলে ধরো হৃদয়ের সব কিছু।
তিনি শোনেন বান্দার দোয়া, জানেন মনের কথা,
তাঁর রহমত পেলে দূর হয় জীবনের সব ব্যথা।
যে হৃদয়ে রবের স্মরণ জাগে সকাল-সাঁঝে,
সে হৃদয়ের অন্ধকারও নূরের মাঝে সাজে।
জীবন যত কঠিন হোক, ভেঙো না আশা,
আল্লাহর রহমতের প্রতি রাখো দৃঢ় ভরসা।
আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, মুহাম্মদ ﷺ মহান,
তাঁর মাধ্যমে পৌঁছেছে কুরআনেরই বাণীদান।
তিনি বলেন—“আমি শুধু রবকেই ডাকি,
তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না, সত্য আঁকি।”
তিনি বলেন—“নিজ ক্ষমতায় ক্ষতি-লাভের নয়,
আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নয়।
রবের আযাব থেকে আমায় রক্ষা করার কে?
তিনি ছাড়া আশ্রয় কোথায়—বল তো পৃথিবীতে?”
এ শিক্ষা শেখায় মানুষকে বিনয়েরই গান,
ক্ষমতা সব আল্লাহর—তিনিই মহিমান্বিত মহান।
রাসুলের প্রতি ভালোবাসা ঈমানেরই অংশ,
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে জীবন পায় আদর্শ রং।
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয় যে গ্রন্থ,
এতে আছে জীবন গড়ার সত্য ও সুন্দর মন্ত্র।
পড়ো তাকে, বোঝো তাকে, হৃদয়ে নাও বাণী,
কর্মের মাঝে ফুটিয়ে তোলো কুরআনেরই জ্ঞানি।
জিনেরা শুনে বদলে গেল, হলো সত্যের সাথী,
আমরা কেন শুনেও থাকি গাফেল হয়ে রাতি?
কুরআনের আয়াত যদি হৃদয় ছুঁয়ে যায়,
তবে কেন সে শিক্ষা জীবন বদলে না দেয়?
মুখে শুধু কুরআন থাকলে পূর্ণ হয় না সাধ,
চরিত্রে তার ছাপ না থাকলে অপূর্ণ থাকে সাধ।
কথায় সত্য, কাজে ন্যায়, অন্তরে তাকওয়া,
এভাবেই কুরআনের আলো জীবন জুড়ে ছড়ানো।
সঠিক পথে যারা থাকে, রবের পথে চলে,
তাদের জন্য অনুগ্রহের দরজা যায় খুলে।
প্রাচুর্য এলে কৃতজ্ঞ হবে, থাকবে না অহংকার,
নিয়ামতকে আমানত ভেবে করবে উপকার।
সম্পদ পেলে ভুলবে না যে রবই দিয়েছেন ধন,
সুস্থতা পেলে ভুলবে না তাঁরই অনুগ্রহ-গুণ।
জ্ঞান পেলে মানুষের মাঝে ছড়াবে জ্ঞানের আলো,
ক্ষমতা পেলে দুর্বলদের করবে তুমি ভালো।
নিয়ামত যেমন পরীক্ষা, দুঃখও তেমনি পাঠ,
সবর রেখে রবের পথে এগিয়ে চলো অবিরত।
তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা—এ শিক্ষা নয়,
চেষ্টা করে রবের ওপর ভরসাতেই মুমিনের জয়।
যে হৃদয় রবের স্মরণ থেকে দূরে সরে যায়,
দুনিয়ার সব প্রাচুর্যও শান্তি এনে না দেয়।
আল্লাহর স্মরণে হৃদয় পায় প্রশান্তির ছোঁয়া,
তাঁর পথে চললে মুছে যায় অন্তরেরই ক্ষোভ-দুঃখ-ব্যথা।
সালাত হবে জীবনেরই আলোর প্রদীপ,
দোয়া হবে বিপদকালে হৃদয়ের নিকট সঙ্গী।
তিলাওয়াতে জাগবে প্রাণে ঈমানেরই আলো,
জিকিরে মন হবে নির্মল, চরিত্র হবে ভালো।
রবকে মনে রাখো সদা সুখের ও দুঃখের দিনে,
তাঁরই রহমত চেয়ে নাও প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে।
যে বান্দা রবের দিকে ফিরে আন্তরিক প্রাণে,
রহমতের দরজা খোলে তারই আশার টানে।
একদিন আসবে সেই দিন—হবে সব হিসাব,
লুকানো যত কর্ম ছিল, খুলবে সেদিন বইখাতা।
কথা, কাজ ও নিয়ত—সবই থাকবে জানা,
রবের কাছে গোপন কিছু থাকবে না আর কোনোখানা।
যে ঈমান নিয়ে বাঁচবে, সৎকর্ম করবে,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে সত্যের পথে চলবে,
তার জন্য রয়েছে রবের রহমতের আশা,
চিরস্থায়ী সফলতার সোনালি ভালোবাসা।
আর যে সত্য অস্বীকার করে, অবাধ্যতায় রয়,
আখিরাতে তার জন্য কঠিন পরিণাম হয়।
তাই আজই প্রস্তুত হও, কাল তো জানা নেই,
মৃত্যুর পরে ফিরে এসে সংশোধনের সময় নেই।
হে মানুষ, হে জিন, শোনো কুরআনের বাণী,
এ আলোতে দূর হবে জীবনের অন্ধকারখানি।
শিরক ছেড়ে তাওহিদ ধরো, সত্য পথে চলো,
রবের হুকুম মেনে নিয়ে জীবনটাকে গড়ো।
অহংকার ছেড়ে দাও, বিনয় হৃদয়ে ধরো,
অন্যের হক নষ্ট করে নিজের জীবন ভরো না।
মিথ্যা, জুলুম, হিংসা ছেড়ে ন্যায়ের পথে চলো,
কুরআনের শিক্ষা নিয়ে মানুষকে ভালোবাসো।
হৃদয় যদি পবিত্র হয়, পথও হবে নির্মল,
ঈমান যদি দৃঢ় থাকে, জীবন হবে সফল।
রবের ওপর ভরসা রেখে করো সৎ প্রচেষ্টা,
সুন্নাহরই আলোয় গড়ো জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা।
ভয় যদি আসে—বলবে, “আমার রব তো আছেন,”
দুঃখ যদি নামে—বলবে, “তিনি সবই জানেন।”
পথ যদি কঠিন হয়, তবু থামবে না আর,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যাবে বারবার।
সূরা আল-জিন শেখায়—রব এক, তাঁরই বন্দনা,
তাঁরই পথে শান্তি মেলে, তাঁরই মাঝে প্রার্থনা।
কুরআনের আলো ধরো, সত্যকে করো সাথী,
তাওহিদের পতাকা নিয়ে হও ন্যায়ের পথযাত্রী।
গায়েবের জ্ঞান আল্লাহর, তিনি সর্বজ্ঞ মহান,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, তাঁরই হাতে প্রাণ।
রাসুল ﷺ-এর সুন্নাহ ধরে আলোর পথে চলো,
দুনিয়া-আখিরাতের পথে জীবনটাকে গড়ো ভালো।
জিনেরা শুনে কুরআন, ঈমান পেল প্রাণে,
আমরাও যেন ফিরে আসি রবেরই দরবারে।
ভ্রান্তি ছেড়ে সত্য ধরি, মুছে যাক সব ভয়,
তাওহিদেরই আলোয় হোক জীবনের মহাজয়।
হে আল্লাহ, অন্তর ভরে দাও ঈমানের আলোয়,
তাওহিদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখো হৃদয় ভালোয়।
শিরকের সব অন্ধকার থেকে রেখো আমাদের দূরে,
কুরআনের হিদায়াত দাও জীবনজুড়ে নূরে।
কুসংস্কার ও ভ্রান্তি থেকে রাখো নিরাপদ,
সত্য পথে অবিচল রাখো—করো না পথভ্রষ্ট।
রাসুল ﷺ-এর সুন্নাহ মেনে চলার শক্তি দাও,
হালাল পথে জীবন গড়ার সুন্দর তাওফিক দাও।
শেষ নিশ্বাসে ঈমান রেখো, আমল করো কবুল,
ভুলত্রুটি ক্ষমা করে করো অন্তর নির্মল।
দুনিয়াতে দাও হিদায়াত, আখিরাতে দাও নাজাত,
তোমার রহমতের ছায়াতলে দাও চিরশান্তির স্বাদ।
হে পরম দয়াময়! কুরআনের আলোয় আমাদের জীবন আলোকিত করো, তাওহিদের ওপর অটল রাখো এবং ঈমানের সঙ্গে তোমার কাছে ফিরে যাওয়ার তাওফিক দাও। আমিন।
১৮
২৮ মন্তব্য