প্রভাষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
তুমি কি রাত জাগো, নাকি তুমি ভোরের পাখি
রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে। সবাই ঘুমাতে গেলেও তোমার চোখে ঘুম নেই। বরং এখনই যেন মাথায় আসছে নতুন নতুন ভাবনা! পড়তে বসলে, বই পড়লে কিংবা নিজের পছন্দের কাজ করলে সময় কীভাবে কেটে যায়, টেরই পাও না। আবার সকালে অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ার অভ্যাসও তোমার থাকতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই মন ফুরফুরে, মাথাও বেশ পরিষ্কার। তোমার কোন অভ্যাসটা বেশি পরিচিত? তুমি কি রাত জাগো, নাকি ভোরেই ঘুম থেকে উঠে যাও?
মানুষের ঘুমানোর ও ঘুম থেকে জেগে ওঠার স্বাভাবিক সময়ের এ পার্থক্যকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ক্রোনোটাইপ’। কেউ স্বাভাবিকভাবেই সকালে বেশি সতেজ থাকে, কেউ রাতে। আবার অনেকের অভ্যাস এই দুইয়ের মাঝামাঝি। এটি শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। শরীরের ভেতরের দেহঘড়ি, বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
শরীরের ভেতরে যে ঘড়ি আছে
ধরো, তোমার ঘুমানোর সময় প্রতিদিন রাত ১১টা। কিন্তু ছুটির দিনে কোনো অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুমাতে গেলে দেখা গেল, রাত ২টার আগে ঘুমই আসছে না। সকালে আবার দেরি করে ঘুম ভাঙছে। এর মানে কি তুমি অলস? মোটেও নয়! এর পেছনে কাজ করতে পারে তোমার শরীরের নিজস্ব সময়ের ছন্দ।
আমাদের শরীরে রয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি অভ্যন্তরীণ সময়ব্যবস্থা, যাকে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’। কখন ঘুম পাবে, কখন সতেজ লাগবে, শরীরের তাপমাত্রা কখন বাড়বে বা কমবে, এমনকি বিভিন্ন হরমোন কখন নিঃসৃত হবে—এসবের অনেক কিছুই এই ছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। দিনের আলো ও রাতের অন্ধকার দেহঘড়িকে সময় বুঝতে সাহায্য করে। খাবার খাওয়া, ব্যায়াম ও ঘুমানোর সময়ও এ ছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে।
পৃথিবীর সব মানুষকে রাত জাগা ও ভোরের পাখি হিসেবে ভাগ করা যায় না। অনেকেই মাঝামাঝি ধরনের। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের সময়ও বদলাতে পারে। যেমন কিশোর-কিশোরীদের অনেকেরই স্বাভাবিকভাবে রাতে দেরিতে ঘুম আসে এবং সকালে দেরিতে ঘুম ভাঙে। তাই রাতে দেরি করে ঘুমানো মানেই যে কারও ঘুমের সমস্যা আছে, এমন নয়।
১৮
২৮ মন্তব্য