প্রভাষক
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
কোরআন মুখস্থ করা কেন প্রয়োজন
কোরআন আল্লাহর কিতাব। এটি সুদৃঢ় রজ্জু। এটিই সরল পথ, পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ। কোরআনের বিস্ময় কখনো শেষ হয় না। বারবার পাঠ করলেও এর আবেদন পুরোনো হয় না। আলেমরা এর জ্ঞান থেকে কখনো পরিতৃপ্ত হন না। কোরআন মুখস্থ করা প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.), সাহাবি, তাবেয়ি এবং উম্মাহর সম্মানিত আলেম ও ইমামদের অভ্যাস। কাজেই কোরআন মুখস্থ করব, কারণ যার অন্তরে কোরআনের কোনো অংশ নেই, সে যেন একটি পরিত্যক্ত ও বিরান ঘরের মতো।
কোরআন মুখস্থ করব, কারণ কিয়ামতের দিন কোরআনের ধারককে বলা হবে—পড়তে থাকো এবং মর্যাদার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে থাকো। দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে, সুন্দরভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে, সেভাবেই তিলাওয়াত করো। তোমার মর্যাদা নির্ধারিত হবে তোমার পাঠ করা সর্বশেষ আয়াতের স্থানে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৬৪; তিরমিজি, হাদিস : ২৯১৪)
কোরআন মুখস্থ করব, কারণ এটি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভের অন্যতম কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআন যদি কোনো চামড়ার থলির মধ্যে সংরক্ষিত থাকত, তবে আল্লাহ তাকে আগুনে দগ্ধ করতেন না।’ (সহিহুল জামি, হাদিস : ৫২৬৬)
কোরআন মুখস্থ করব, যাতে শ্রেষ্ঠত্ব ও কল্যাণের মর্যাদা অর্জন করতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)
কোরআন মুখস্থ করব, কারণ কিয়ামতের দিন কোরআন তার অধিকারীর জন্য সুপারিশ করবে।
কোরআন মুখস্থ করব, যাতে এর হেদায়েত ও বরকত লাভ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের দিশা দেয়, যা সর্বাধিক সরল ও সুদৃঢ়। আর যেসব মুমিন সৎকর্ম করে, তাদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত : ৯)
কোরআন মুখস্থ করব, যাতে এর অফুরন্ত বরকত লাভ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত : ২৯)
কোরআন মুখস্থ করব, যাতে এটি আমার জন্য জ্যোতি, রহমত ও শিফা হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর এভাবেই আমি আমার নির্দেশে আপনার প্রতি ওহি প্রেরণ করেছি। আপনি তো জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী! কিন্তু আমি একে করেছি জ্যোতি, যার মাধ্যমে আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিশা দেন।’ (সুরা আশ-শূরা, আয়াত : ৫২)
কোরআন মুখস্থ করব, যাতে এর তিলাওয়াত, অনুধাবন ও গভীর চিন্তা-ভাবনার কাজে নিজেকে আরও বেশি নিয়োজিত করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরং এটি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, যা জ্ঞানপ্রাপ্তদের অন্তরে সংরক্ষিত। আর জালিমরা ছাড়া কেউ আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে না।’ (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৯)
কোরআন মুখস্থ করা কি সত্যিই কঠিন?
আল্লাহ তাআলার এই বাণী গভীরভাবে চিন্তা করুন—‘আর নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। অতএব, উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা আল-কামার, আয়াত : ২২)
একই সুরায় এই আয়াতটি চারবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে যে, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কোরআন মুখস্থ করতে চায়, তার জন্য আল্লাহ কোরআনকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন।
সুতরাং কোরআন মুখস্থ করা থেকে বিরত থাকার পক্ষে কারো কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সীমিত সামর্থ্য, অতিরিক্ত ব্যস্ততা কিংবা এ ধরনের দুর্বল অজুহাত দিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন—‘আর নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি।’
কোরআন মুখস্থ করার সহজতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, অসংখ্য মানুষ সম্পূর্ণ কোরআন অত্যন্ত দৃঢ় ও নির্ভুলভাবে মুখস্থ করেছেন, যদিও তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব বেশি নয় কিংবা অসাধারণ মেধার অধিকারীও নন। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের বয়স অনেক বেড়ে গেছে; এমনকি ৭০/৮০/৯০ বছর বয়সেও কেউ কেউ কোরআন মুখস্থ করেছেন। আবার অনেক অনারব মানুষও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেছেন, অথচ আরবি ভাষার কোনো জ্ঞানই তাঁদের নেই।
এসব ঘটনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করার সংকল্প করে এবং এ পথে দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে যায়, আল্লাহ তার জন্য কোরআনকে সহজ করে দেন।
১
২ মন্তব্য