সহকারী শিক্ষক
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও যে পড়া আজও ভুলিনি—সেটি একজন শিক্ষকের ভালোবাসারই স্মারক!
আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন।
মসজিদের দক্ষিণ কোণের দরজাটিই ছিল যেন তাঁর অস্থায়ী ব্ল্যাকবোর্ড। দরজায় লিখে লিখে তিনি আমাদের অংক শেখাতেন। ১ থেকে ১০০—
১, ২, ৩, ৪… ৯৯, ১০০।
আবার উল্টো করে—
১০০, ৯৯, ৯৮… ২, ১।
জোড় সংখ্যা, বিজোড় সংখ্যাও শেখাতেন ঠিক সেই একই ছন্দে। তাঁর পড়ানোর ধরন ছিল এমন প্রাণবন্ত, এমন অভিনব—যে পড়া শুধু খাতায় লেখা থাকেনি, গেঁথে গিয়েছিল আমাদের মনের গভীরে। দ্রুত পড়তে হতো, ভুল করার সুযোগ ছিল না। যোগ-বিয়োগ শেখার জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হতো বাঁশের কাটি। সেই বাঁশের কাটি আর মসজিদের দরজার ওপর লেখা সংখ্যাগুলো আজও যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
তিনি ছিলেন আমার প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের গুরু।
আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগের সেই পড়াগুলো—সময় যতই গড়িয়েছে, স্মৃতির পাতা ততই পুরোনো হয়েছে; অথচ তাঁর শেখানো অনেক কিছুই আজও হুবহু মনে আছে। একজন প্রকৃত শিক্ষকের সার্থকতা বোধহয় এখানেই—তিনি চলে যান, কিন্তু তাঁর শিক্ষা থেকে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
মাত্র ৫০০ টাকা বেতনের চাকরি করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর স্বপ্নের পরিধি ছিল বেতনের অঙ্কের চেয়ে অনেক বড়। তিনি নিজের প্রাপ্তির দিকে না তাকিয়ে তাকিয়েছিলেন এলাকার সন্তানদের ভবিষ্যতের দিকে। জ্ঞানের প্রদীপ হাতে নিয়ে অন্ধকার দূর করার যে মহান ব্রত তিনি নিয়েছিলেন, তা হয়তো কোনো বেতন দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
তিনি শুধু পড়াননি—
তিনি মানুষ গড়েছেন।
তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন।
তিনি একটি প্রজন্মকে আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। অনেক দিন হয়ে গেল তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেও স্মৃতি থেকে কখনো বিদায় নেন না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা আরও গভীর হয়।
মসজিদের সেই দরজা, বাঁশের কাটি, ১ থেকে ১০০—সবকিছু আজও আমার স্মৃতির পাতায় অমলিন।
বারবার মনে হয়—কত অল্প দিয়ে কত বড় মানুষ গড়ে গিয়েছিলেন তিনি!
পশ্চিম কলাউজান শাহ ফতেহ আলী হোছাইনিয়া ইবতেদায়ি মাদরাসার আমার সেই শ্রদ্ধেয় প্রাথমিক শিক্ষাগুরু, মরহুম আব্দুর রহমান স্যার—
আপনার ঋণ কোনোদিন শোধ করার নয়। আপনার শেখানো প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি সংখ্যা, প্রতিটি শিক্ষা আজও আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ।
আল্লাহ তাআলা আমার প্রিয় শিক্ষক মরহুম আব্দুর রহমান স্যারকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন। আমিন।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতায়—
-মু. নাজিম উদ্দীন
#kalauzan #Lohagara #Chattogram #remember
৮
৮ মন্তব্য