Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১ অপরাহ্ণ

শটি হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ ও একটি স্মৃতি

রহস্যময় উদ্ভিদের কথা

শটি—বৈশাখের ভোরে মাটি ফুঁড়ে ওঠা এক হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য

কিছু উদ্ভিদকে আমরা বই পড়ে চিনিনি; চিনেছি মাটির কাছ থেকে, শৈশবের কাছ থেকে। তাদের বৈজ্ঞানিক নাম জানতাম না, পরিবার-পরিচয় জানতাম না; জানতাম শুধু স্থানীয় নাম—শটি, কোথাও কুরুক পাতা।

এমনই এক উদ্ভিদ শটি—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাহাড়ের মাটি, বৈশাখের ভোর, শালবনের ছায়া, গ্রামের হাট, গুড়ের গন্ধ এবং আমার শৈশবের এক টুকরো পৃথিবী।

একসময় কক্সবাজারের পাহাড়ি জমির আইলে, বনপ্রান্তে, শালবনের ফাঁকে বৈশাখ এলেই তার দেখা মিলত। আজ সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই মুছে গেছে। কোথাও কোথাও হয়তো এখনও আছে; কিন্তু আগের মতো সহজে চোখে পড়ে না। যেন পাহাড়ের বুক থেকে একটি ছোট্ট ঋতুর ভাষা হারিয়ে গেছে।

পরিচিতি

শটি দেখতে প্রথমে যতটা সাধারণ, তার আবির্ভাব ততটাই রহস্যময়।

মাটির নিচে বছরের বড় একটি সময় নীরবে পড়ে থাকে তার রাইজোম। বাইরে থেকে তাকালে মনে হতে পারে—এখানে তো কিছুই নেই। অথচ মাটির অন্ধকারে তার জীবন থেমে থাকে না; সে অপেক্ষা করে উপযুক্ত ঋতুর।

বৈশাখের উষ্ণতা, মাটির আর্দ্রতা আর ঋতুর সামান্য পরিবর্তন পেলেই হঠাৎ একদিন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে তার পুষ্পমঞ্জরি। সবুজ ঘাসের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়ায় গোলাপি, বেগুনি, হলুদাভ রঙের অপূর্ব সমাবেশ।

এই আকস্মিক আবির্ভাবই শটির প্রথম রহস্য।

বিস্তৃতি

শটি উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশের উদ্ভিদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে Curcuma গণের উদ্ভিদ পাওয়া যায়। পাহাড়ি বন, বনপ্রান্ত, অপেক্ষাকৃত খোলা জমি এবং উপযুক্ত আর্দ্র মাটিতে এ ধরনের উদ্ভিদের জন্ম হয়।

আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় সিলেটের পাহাড়ি সমতল জমির আইল ও শালবন, আর শৈশবের স্মৃতিতে কক্সবাজারের পাহাড়ি জমি ছিল শটির পরিচিত আবাস।

একসময় কক্সবাজারের পাহাড়ে এটি এতটাই পরিচিত ছিল যে আলাদা করে খুঁজতে হতো না। পথের পাশে, জমির আইলে, বনের কিনারে—বৈশাখ এলে হঠাৎ চোখে পড়ত তার রঙিন পুষ্পমঞ্জরি।

আজ সেই দৃশ্য অনেক জায়গায় আর নেই।

তবে কক্সবাজার থেকে শটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে—এ কথা বৈজ্ঞানিকভাবে বলার আগে বিস্তৃত মাঠ জরিপ প্রয়োজন। বরং বলা নিরাপদ—যে উদ্ভিদটি একসময় সহজে চোখে পড়ত, তার উপস্থিতি এখন অনেক এলাকায় অত্যন্ত কমে গেছে বা স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বৈজ্ঞানিক পরিচিতি

আপনার দেওয়া ছবির গঠন, স্থানীয় নাম শটি, আবাসস্থল এবং বৈশাখে ফুল ফোটার বিবরণ মিলিয়ে উদ্ভিদটি শটি (Curcuma zedoaria) হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বৈজ্ঞানিক পরিচয়—

বৈজ্ঞানিক নাম: Curcuma zedoaria

গণ: Curcuma

পরিবার: Zingiberaceae — আদা পরিবার

প্রকৃতি: বহুবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ

প্রধান ভূগর্ভস্থ অঙ্গ: রাইজোম

তবে মাঠপর্যায়ে প্রজাতি নিশ্চিত করার জন্য রাইজোম, পাতা, পুষ্পমঞ্জরি ও ফুলের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশে Curcuma গণের একাধিক প্রজাতি রয়েছে এবং স্থানীয় নামে কাছাকাছি প্রজাতির উদ্ভিদও পরিচিত হতে পারে।

স্বভাব

শটির স্বভাব অনেকটা নিভৃতচারী মানুষের মতো।

সে বিশাল বৃক্ষ নয়, বনের রাজাও নয়। মাটির কাছাকাছি তার জীবন। বছরের একটি সময় তাকে দেখে মনে হতে পারে—সে বুঝি হারিয়ে গেছে। আসলে সে তখন দৃশ্যমান নয়; মাটির নিচে তার রাইজোমে পরবর্তী ঋতুর গল্প জমা হচ্ছে।

উপযুক্ত পরিবেশ পেলে রাইজোম থেকে নতুন অঙ্কুর বের হয়। প্রথমে দেখা দিতে পারে পুষ্পমঞ্জরি; পরে ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় সবুজ পাতা।

অর্থাৎ শটির জীবনে ফুল আর পাতার আবির্ভাব একই দৃশ্যের অংশ নয়। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।

রহস্য—বৈশাখের ভোরে মাটি ফুঁড়ে ফুল

শটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্যটি ঘটে তার ফুল ফোটার সময়।

বৈশাখের কোনো এক ভোরে, যখন পাহাড়ের বাতাসে রাতের শিশিরের শেষ আর্দ্রতা রয়ে গেছে, তখন হঠাৎ দেখা যায়—গতকাল যেখানে কিছুই ছিল না, আজ সেখানে মাটির বুক ফুঁড়ে উঠে এসেছে এক গুচ্ছ রং।

গোলাপি।

বেগুনি।

হলুদ।

সবুজের গভীরে যেন কেউ রঙের ছোট্ট প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছে।

দূর থেকে মনে হয়, রাতারাতি পাহাড়ের ঘাসের মধ্যে কোনো অদৃশ্য শিল্পী ফুলের বাগান এঁকে দিয়ে গেছে।

অথচ এই সৌন্দর্যের প্রস্তুতি চলছিল অনেক আগে—মাটির নিচে, অদৃশ্য রাইজোমের নিঃশব্দ জগতে।

যে সৌন্দর্য আমরা সকালে দেখি, তার জন্ম আসলে হয়েছিল মাটির অন্ধকারে।

আরও বিস্ময়ের বিষয়—দূর থেকে যে রঙিন অংশকে আমরা ফুল মনে করি, তার বড় অংশই আসলে পুষ্পমঞ্জরির রূপান্তরিত পত্র বা bract। প্রকৃত ছোট ফুলগুলো সেই রঙিন পত্রের ভেতর জন্ম নেয়।

কয়েক দিন পর দৃশ্যটি আবার বদলে যায়।

রঙিন পুষ্পমঞ্জরির পাশে কিংবা পরে বেরিয়ে আসে সবুজ পাতা। তখন শটি যেন তার দ্বিতীয় পরিচয় প্রকাশ করে।

প্রথমে ফুল—তারপর পাতা।

প্রকৃতি যেন তাকে দিয়ে বলেছে—

“আমাকে চিনতে চাইলে শুধু আমার রঙ দেখো না; আমার অপেক্ষাটাও দেখো।”

শৈশবের শটি-বাগান

শটির সঙ্গে আমার পরিচয় কোনো উদ্ভিদবিজ্ঞানের বই থেকে নয়—শৈশবের মাটি থেকে।

আমাদের শৈশবে এই ফুল শুধু পাহাড়ের বুকে ফুটত না; আমাদের শৈশবও যেন তার চারপাশে ফুটে থাকত।

বৈশাখে যখন শটির রঙিন পুষ্পমঞ্জরি একসঙ্গে মাথা তুলত, তখন সেগুলোকে আমাদের চোখে কোনো বিরল উদ্ভিদ মনে হতো না। মনে হতো—এ তো আমাদেরই ফুল, আমাদের পাহাড়ের ফুল, আমাদের পথের ধারের ফুল।

সেই ফুলের বাগানে বসে আমরা গল্প করতাম। কত অজানা গল্প, কত হাসি, কত স্বপ্ন—আজ তার কোনো হিসাব নেই। ফুলগুলো হয়তো আমাদের গল্প শুনত।

আমরা তখন জানতাম না, একদিন সেই বাগান থাকবে না।

জানতাম না, বড় হয়ে একদিন ফিরে এসে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদেরই শৈশবকে খুঁজতে হবে।

শটির পাতায় হাটের গল্প

শটির সঙ্গে ছিল আমাদের ছোট্ট এক গ্রামীণ অর্থনীতিও।

শটির পাতা আমরা তুলে নিতাম। হাটবারে সেগুলো নিয়ে যেতাম। বেপারীরা সেই পাতা কিনতেন।

তখন সেটি আমাদের কাছে ছিল সামান্য উপার্জন। কয়েকটি পাতা, সামান্য কয়েকটি টাকা—শৈশবের কাছে সেটিও কম আনন্দের ছিল না।

কিন্তু আজ ফিরে তাকালে বুঝি, সেই পাতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি সম্পূর্ণ লোকজ ব্যবহারিক সংস্কৃতি।

হাটুরেরা বাজারে আসতেন। কেনাকাটা করতেন। কেউ গুড় কিনে বাড়ির পথে ফিরতেন। সেই গুড় মুড়িয়ে নেওয়া হতো শটির পাতায়।

কাগজের প্যাকেট নয়। প্লাস্টিকের ব্যাগ নয়।

প্রকৃতিই যেন মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল তার নিজস্ব প্যাকেট।

শটির পাতা, হাটের পণ্য, গুড় এবং বাড়ি ফেরার পথ—এই সামান্য দৃশ্যের মধ্যে লুকিয়ে ছিল আমাদের এক স্বাভাবিক, পরিবেশবান্ধব গ্রামীণ জীবন।

তখন আমরা জানতাম না, একদিন প্লাস্টিক পৃথিবীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের তত্ত্বও জানতাম না।

আমরা শুধু জানতাম—

গুড় মুড়িয়ে বাড়ি নেওয়ার জন্য শটির পাতা ভালো।

প্রকৃতি তখন আমাদের জীবনের বাইরে ছিল না;

প্রকৃতি ছিল আমাদের সংসারেরই একজন সদস্য।

গুরুত্ব

শটি শুধু সৌন্দর্যের উদ্ভিদ নয়। এটি একটি পাহাড়ি পরিবেশের ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত উপাদান।

প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন অসংখ্য ছোট ভেষজ উদ্ভিদ মাটির আবরণ, ক্ষুদ্র প্রাণীর আশ্রয়, পোকামাকড়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের অংশ হয়ে থাকে।

কিন্তু শটির গুরুত্ব শুধু পরিবেশগত নয়।

এর সঙ্গে যুক্ত আছে লোকজ জ্ঞান, স্থানীয় নাম, গ্রামীণ ব্যবহার ও মানুষের স্মৃতি।

“শটি” বা “কুরুক পাতা”—এই নামগুলো অভিধানের নিছক শব্দ নয়। এগুলো একটি অঞ্চলের মানুষ কীভাবে প্রকৃতিকে চিনত, ব্যবহার করত এবং তার সঙ্গে বসবাস করত—তার সাক্ষ্য।

শটির পাতায় গুড় মুড়িয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য তাই কেবল একটি পুরোনো বাজারব্যবস্থার স্মৃতি নয়; এটি ছিল প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক সরল উদাহরণ।

হারিয়ে যাওয়ার কারণ

কক্সবাজারের পাহাড়ে শটি কমে যাওয়ার পেছনে কোনো একক কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

তবে এর আবাসস্থল পরিবর্তন সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হতে পারে।

পাহাড় কাটা, বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণ, বনভূমি খণ্ডিত হওয়া, পাহাড়ি জমির ব্যবহার পরিবর্তন, জমি পরিষ্কারের সময় নিচু স্তরের উদ্ভিদ তুলে ফেলা, অতিরিক্ত চাষাবাদ এবং প্রাকৃতিক বনভূমির পরিবর্তে একজাতীয় রোপণ—সব মিলিয়ে এমন ক্ষুদ্র ভেষজ উদ্ভিদের অস্তিত্ব সংকুচিত হতে পারে।

বন হারানো মানেই শুধু বড় গাছ হারানো নয়।

বনের নিচে জন্মানো ছোট্ট শটিও তখন তার ঠিকানা হারায়।

একটি বড় গাছ পড়ে গেলে আমরা শব্দ শুনি।

একটি ছোট উদ্ভিদ হারিয়ে গেলে কোনো শব্দ হয় না।

এই নীরবতাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

ঝুঁকি

শটির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো মানুষের চোখে তার “মূল্যহীনতা”।

যে গাছ কাঠ দেয় না, বড় ছায়া দেয় না, বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য নয়—তার অস্তিত্বকে আমরা সহজেই অপ্রয়োজনীয় মনে করি।

কিন্তু প্রকৃতির কাছে কোনো প্রজাতির গুরুত্ব শুধু তার বাজারমূল্যে নির্ধারিত হয় না।

আজ একটি ছোট উদ্ভিদ কমে যাবে।

কাল আরেকটি।

তারপর কোনো একটি পতঙ্গ তার খাদ্য হারাবে, কোনো ক্ষুদ্র প্রাণী হারাবে আশ্রয়, মাটির একটি ক্ষুদ্র পরিবেশ বদলে যাবে।

প্রকৃতি এভাবেই নিঃশব্দে তার হিসাব বদলায়।

আর আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি তখন, যখন ফিরে যাওয়ার পথ আর থাকে না।

আমাদের করণীয়

শটিকে বাঁচানোর প্রথম কাজ বড় কোনো প্রকল্প নয়—

তাকে আবার চিনে নেওয়া।

যেখানে এখনও শটি আছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করতে হবে। স্থানীয় মানুষের স্মৃতি সংগ্রহ করতে হবে। পুরোনো বনাঞ্চল, পাহাড়ি জমি ও শালবনে এর উপস্থিতির তথ্য নথিবদ্ধ করতে হবে।

কোনো এলাকায় পাওয়া গেলে অযথা রাইজোম তুলে নেওয়া বা ফুলের সৌন্দর্যের জন্য গাছ ধ্বংস করা উচিত নয়।

স্থানীয় বিদ্যালয়, বন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, হারবারিয়াম এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের সমন্বয়ে স্থানীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণের ছোট ছোট জীবন্ত সংরক্ষণক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে।

শিশুদের শেখাতে হবে—

যে ফুলের নাম তুমি জানো না, সেটিও তোমার প্রকৃতির অংশ।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা।

কারণ শটিকে বাঁচানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হয়তো শুধু শটি রোপণ করা নয়;

যে পাহাড়ে সে নিজে থেকে জন্মাত, সেই পাহাড়টিকে বাঁচানো।

শেষ কথা

শটি আমাদের শেখায়—প্রকৃতির অনেক রহস্য চোখের সামনে নয়, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে।

বৈশাখের ভোরে যে রঙিন পুষ্পমঞ্জরি মাটি ফুঁড়ে উঠে আসে, তার গল্প শুরু হয়েছিল অন্ধকারে। কয়েক দিন পর ফুল মুছে যায়, পাতা আসে; ঋতু বদলায়, দৃশ্য বদলায়। কিন্তু মাটির নিচে রাইজোম অপেক্ষা করে পরবর্তী ঋতুর।

হয়তো কক্সবাজারের কোনো পাহাড়ে আজও একটি শটির রাইজোম নিঃশব্দে বেঁচে আছে।

হয়তো কোনো পুরোনো শালগাছের ছায়ায়।

হয়তো কোনো পরিত্যক্ত পাহাড়ি জমির আইলে।

আমরা শুধু তাকে দেখতে পাচ্ছি না।

হয়তো কোনো এক বৈশাখের ভোরে, বহু বছর পর, কোনো পথিক আবার পাহাড়ি আইলের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে বলবে—

“আরে! কুরুক পাতা—শটি তো!”

সেদিন হয়তো শুধু একটি ফুলকে খুঁজে পাওয়া হবে না।

ফিরে পাওয়া হবে একটি শৈশব, একটি হাট, একটি লোকজ স্মৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হারিয়ে যাওয়া এক পুরোনো সম্পর্ক।

আর তখন মনে হবে—

সব হারিয়ে যায়নি।

মাটির গভীরে প্রকৃতি এখনও তার কিছু স্মৃতি লুকিয়ে রেখেছে।

মন্তব্য করুন