Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ | TCB Job Circular 2026

টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ | TCB Job Circular 2026

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারগুলোর একটি। রমজান মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল-চিনি-ডাল কেনার জন্য ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন, কিংবা দুর্যোগের সময় ওএমএসের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রি — এই সব কার্যক্রমের পেছনে যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে, তার নামই টিসিবি। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর এই প্রতিষ্ঠান সহকারী আইন কর্মকর্তা (Assistant Law Officer) পদে একজন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। স্মারক নম্বর ২৬.০৫.০০০০.০০৫.১১.০৯৮.২৬-৩৪৪-এ জারি হওয়া এই টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ ইতিমধ্যেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে, কারণ এতে আবেদন ফি নেই, আবেদন পদ্ধতি সরাসরি, এবং মাসিক বেতন ৩৫,৬০০ টাকা।


একটি মাত্র পদের এই নিয়োগ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা — বিশেষ করে টিসিবির মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রমসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে — আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়া যে কারো জন্য মূল্যবান পুঁজি। চাকরিটি চুক্তিভিত্তিক: ৬ মাসের চুক্তি, যা সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। স্নাতক পাস যেকোনো প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন, বয়স হতে হবে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে, এবং বাংলাদেশের সকল জেলার প্রার্থীর জন্য আবেদন উন্মুক্ত। আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) — প্রতিষ্ঠান পরিচিতি

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (Trading Corporation of Bangladesh) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান কার্যালয় ঢাকার কাওরান বাজারে অবস্থিত টিসিবি ভবনে। প্রতিষ্ঠানটির মূল দায়িত্ব দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য — ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, চাল, পেঁয়াজসহ নানা পণ্য — যুক্তিসঙ্গত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা করা। যখন বাজারে কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন টিসিবি আমদানি বা মজুদ থেকে পণ্য ছেড়ে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে। এই কারণে টিসিবি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় — এটি সরকারের খাদ্য ও বাজার নিরাপত্তা কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।


সাধারণ মানুষের কাছে টিসিবি সবচেয়ে বেশি পরিচিত এর ট্রাক সেল কার্যক্রমের মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় টিসিবির ট্রাক থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়, বিশেষ করে রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো সময়ে যখন চাহিদা তুঙ্গে থাকে। পাশাপাশি ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে সারাদেশে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। এই বিশাল ডিলার নেটওয়ার্ক পরিচালনা, পণ্য ক্রয় ও আমদানি সংক্রান্ত চুক্তি, এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া — সব মিলিয়ে টিসিবির দৈনন্দিন কার্যক্রমে আইনি বিষয়াদির পরিমাণ কম নয়। প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ, টেন্ডার ও নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয় — টিসিবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ — একনজরে সম্পূর্ণ তথ্য

নিচের টেবিলে এই TCB Job Circular 2026-এর সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো, যাতে এক নজরেই সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যান।


বিষয়

বিবরণ

প্রতিষ্ঠানের নাম

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)

প্রতিষ্ঠানের ধরন

সরকারি (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান)

পদের নাম

সহকারী আইন কর্মকর্তা (Assistant Law Officer)

পদ সংখ্যা

১টি (একটি ক্যাটাগরি)

চাকরির ধরন

চুক্তিভিত্তিক — ৬ মাস, নবায়নযোগ্য

মাসিক বেতন

৩৫,৬০০ টাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা

স্নাতক পাস

বয়সসীমা

সর্বোচ্চ ৩২ বছর (২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে)

আবেদনযোগ্য এলাকা

সকল জেলার প্রার্থী

আবেদন পদ্ধতি

সরাসরি (সিভি ও কাগজপত্রসহ জমা)

আবেদন ফি

নেই

জমার ঠিকানা

টিসিবি ভবন, ১ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫

আবেদনের শেষ তারিখ

২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা

স্মারক নম্বর

২৬.০৫.০০০০.০০৫.১১.০৯৮.২৬-৩৪৪

বিজ্ঞপ্তি জারি ও প্রকাশ

৮ অক্টোবর ২০২৬

সহকারী আইন কর্মকর্তা পদের বিস্তারিত বিবরণ

সহকারী আইন কর্মকর্তা (Assistant Law Officer) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি টিসিবির আইন সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন। একটি বাণিজ্যিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব বহুমুখী — শুধু মামলা দেখাই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের পেছনে আইনি যাচাইয়ের কাজ থাকে। এই পদের কর্মপরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আবেদনকারী বুঝতে পারবেন এই চাকরিটি তার ক্যারিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে কিনা।


সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের পদের প্রচলিত দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী, সহকারী আইন কর্মকর্তার কাজের মধ্যে থাকতে পারে: প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দায়েরকৃত বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার নথিপত্র প্রস্তুত, হালনাগাদ ও তদারকি করা; প্যানেল আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আদালতের শুনানির তারিখ, অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ব্যবস্থাপনা; বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, টেন্ডার ডকুমেন্ট ও ক্রয়-সংক্রান্ত নথির খসড়া প্রণয়ন ও যাচাই (ভেটিং); ডিলার নিয়োগ, পণ্য সরবরাহ চুক্তি ও আমদানি-সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ প্রদান; এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আইনি মতামত ও নোট প্রস্তুত করা। এখানে উল্লেখ্য, এই দায়িত্বের তালিকা বিজ্ঞপ্তিতে শব্দে শব্দে লেখা নেই — এগুলো এই শ্রেণির পদের প্রচলিত কর্মপরিধি হিসেবে বর্ণনা করা হলো।


টিসিবির প্রেক্ষাপটে এই কাজের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বড় অঙ্কের পণ্য ক্রয়, আমদানি, পরিবহন চুক্তি ও হাজারো ডিলারের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। একটি চুক্তির ছোট্ট ফাঁকও কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হতে পারে — ফলে আইন কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থরক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখে। যারা বাণিজ্যিক আইন, চুক্তি আইন বা প্রশাসনিক আইনে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হাতে-কলমে শেখার চমৎকার ক্ষেত্র।

টিসিবি চাকরির যোগ্যতা ও শর্তাবলী — বিস্তারিত ব্যাখ্যা

টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ সহকারী আইন কর্মকর্তা পদের যোগ্যতা ইচ্ছাকৃতভাবেই সহজ রাখা হয়েছে, যাতে ব্যাপক সংখ্যক প্রার্থী আবেদন করতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে স্নাতক পাস — অর্থাৎ যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (পাস/অনার্স) ডিগ্রি থাকলেই ন্যূনতম শর্ত পূরণ হবে। তবে বাস্তবতা হলো, পদের নাম "আইন কর্মকর্তা" হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আইন বিষয়ে ডিগ্রি (এলএলবি) বা আইনি কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকবেন। যারা আইন পেশায় আছেন বা বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী, তাদের জন্য এটি সরাসরি প্রাসঙ্গিক সুযোগ।


বয়সের শর্তটি নির্ভুলভাবে বোঝা জরুরি: ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। অর্থাৎ ওই তারিখে যার বয়স ৩২ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে বা তার কম, তিনি যোগ্য; ৩২ বছর পেরিয়ে গেলে যোগ্য নন। জন্মতারিখ হিসাব করে দেখুন — ১৯৯৪ সালের ২৬ অক্টোবর বা তার পরে জন্ম নেওয়া প্রার্থীরা এই শর্ত পূরণ করবেন (সাধারণ বয়স গণনা অনুযায়ী)। বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যই সাধারণত গ্রহণযোগ্য হয়।


আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক — সকল জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। অনেক সরকারি নিয়োগে জেলাভিত্তিক কোটা বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার থাকে, কিন্তু এই টিসিবি আবেদনে সেই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। ফলে ঢাকার বাইরের জেলা — চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহসহ সারাদেশের প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্ত — সৎ ও বিস্তারিত আলোচনা

এই নিয়োগটি চুক্তিভিত্তিক — মেয়াদ ৬ মাস, এবং সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে চুক্তি নবায়নযোগ্য। চুক্তিভিত্তিক চাকরি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে পরে হতাশা তৈরি হতে পারে, তাই এই অংশটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।


প্রথমত, চুক্তিভিত্তিক মানে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিয়োগ। ৬ মাস শেষে চুক্তির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না — কর্তৃপক্ষকে সক্রিয়ভাবে নবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিজ্ঞপ্তিতে "সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য" বলা হয়েছে, অর্থাৎ আপনার কাজের মানই নবায়নের প্রধান মাপকাঠি। ৬ মাসে যদি আপনি দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিতে পারেন, নবায়নের বাস্তব সম্ভাবনা থাকে — সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের বারবার নবায়ন পাওয়ার নজির প্রচলিত বাস্তবতায় দেখা যায়।


দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সাধারণত স্থায়ী পদের মতো পেনশন, গ্রাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা চাকরির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা থাকে না। বেতন হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের — এখানে মাসে ৩৫,৬০০ টাকা। এই কথাগুলো বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধৃত শর্ত নয়; চুক্তিভিত্তিক সরকারি নিয়োগের সাধারণ বাস্তবতা হিসেবে বলা হলো, যাতে আপনি পূর্ণ তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


তৃতীয়ত, ইতিবাচক দিকটি ভুলবেন না। ৬ মাস টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা মানে সিভিতে একটি শক্তিশালী লাইন, বাস্তব আইনি দক্ষতা, এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক — যা পরবর্তীতে বেসরকারি করপোরেট লিগ্যাল পদ, ব্যাংকের আইন বিভাগ বা অন্য সরকারি নিয়োগে সরাসরি কাজে লাগবে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে বেকার বা ক্যারিয়ারের শুরুতে আছেন, তাদের জন্য এটি আয় ও অভিজ্ঞতা — দুটোই একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ।

টিসিবি আবেদন পদ্ধতি — সরাসরি জমার ধাপে ধাপে নিয়ম

এই নিয়োগে অনলাইন আবেদনের কোনো ব্যবস্থা নেই — পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি। প্রার্থীকে নিজে (অথবা প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে) সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত ঠিকানায় জমা দিতে হবে। নিচে পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:


  1. পেশাদার সিভি তৈরি করুন: একটি পরিষ্কার ও সুসংগঠিত জীবনবৃত্তান্ত বানান। নাম, বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা (সর্বশেষ ডিগ্রি সবার আগে), কর্মঅভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রেফারেন্স — এই ক্রমে সাজান। আইন-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা বা ড্রাফটিং-ভেটিংয়ের কাজ থাকলে তা বিস্তারিত লিখুন।

  2. আবেদনপত্র/কভার লেটার লিখুন: একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র লিখুন যেখানে পদের নাম (সহকারী আইন কর্মকর্তা), স্মারক নম্বর (২৬.০৫.০০০০.০০৫.১১.০৯৮.২৬-৩৪৪) এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ (৮ অক্টোবর ২০২৬) স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

  3. কাগজপত্র প্রস্তুত ও সত্যায়িত করুন: শিক্ষাগত সনদের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দিয়ে সত্যায়িত করান। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (২-৪ কপি) প্রস্তুত রাখুন।

  4. খাম প্রস্তুত করুন: সব কাগজপত্র একটি খামে ভরে খামের ওপরে বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে লিখুন — "সহকারী আইন কর্মকর্তা পদে আবেদন"।

  5. নির্ধারিত ঠিকানায় জমা দিন: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে টিসিবি ভবন, ১ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫-এ গিয়ে আবেদন জমা দিন।

  6. প্রাপ্তি স্বীকার সংগ্রহ করুন: জমা দেওয়ার সময় রিসিট বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে ভুলবেন না — এটি পরে আপনার আবেদনের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


ঢাকার বাইরে থেকে যারা আসবেন, তারা শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে অন্তত ২-৩ দিন আগে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করুন। শেষ দিনে ভিড়, যানজট বা অপ্রত্যাশিত জটিলতায় আবেদন মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে — আর নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও প্রস্তুতির টিপস

সরাসরি আবেদনে সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো লাগে। এটি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড চেকলিস্ট — মূল বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিন:


  • হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) — ভুল বানানমুক্ত ও হাল তথ্যসমৃদ্ধ

  • সকল শিক্ষাগত সনদপত্র ও মার্কশিটের সত্যায়িত ফটোকপি

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (২-৪ কপি)

  • অভিজ্ঞতার সনদপত্র (যদি থাকে — আইনি কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অবশ্যই যোগ করুন)

  • নাগরিকত্ব/চারিত্রিক সনদ (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন থেকে, প্রয়োজনে)


কাগজপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যবহারিক টিপস: সত্যায়নের জন্য আগেভাগে গেজেটেড কর্মকর্তার শরণাপন্ন হোন — শেষ মুহূর্তে কাউকে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সিভিতে মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই সচল রাখুন, কারণ মৌখিক পরীক্ষা বা পরবর্তী যোগাযোগের ডাক এই নম্বরেই আসতে পারে। ছবি যেন সাম্প্রতিক ও স্পষ্ট হয় — পুরোনো বা ঝাপসা ছবি অপেশাদার ছাপ ফেলে। মূল বিজ্ঞপ্তিতে ঠিক কোন কোন কাগজ চাওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত সার্কুলার দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

বেতন কাঠামো ও আর্থিক দিক

সহকারী আইন কর্মকর্তা পদের মাসিক বেতন ৩৫,৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে এন্ট্রি-লেভেল লিগ্যাল পদের বেতন সাধারণত ২৫,০০০–৩০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে — সেই তুলনায় এই অঙ্ক প্রতিযোগিতামূলক। মাসে ৩৫,৬০০ টাকা মানে বছরে ৪,২৭,২০০ টাকা আয়। ঢাকায় একজন একক ব্যক্তি সচেতনভাবে খরচ করলে মাসে ১০,০০০ টাকার ওপর সঞ্চয় করাও সম্ভব।


তবে মনে রাখবেন, এটি চুক্তিভিত্তিক পদের নির্দিষ্ট বেতন — স্থায়ী সরকারি পদের মতো গ্রেড-ভিত্তিক বেতন স্কেল, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা উৎসব ভাতার নিশ্চয়তা এখানে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না (প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী)। বেতনের সঠিক কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মূল বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ — একনজরে

ইভেন্ট

তারিখ

বিজ্ঞপ্তি জারি ও প্রকাশ

৮ অক্টোবর ২০২৬

বয়স গণনার নির্ধারিত তারিখ

২৫ অক্টোবর ২০২৬

আবেদন জমার শেষ তারিখ ও সময়

২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা

চুক্তির মেয়াদ

৬ মাস (সন্তোষজনক কর্মদক্ষতায় নবায়নযোগ্য)

স্মারক নম্বর

২৬.০৫.০০০০.০০৫.১১.০৯৮.২৬-৩৪৪

আবেদনের আগে যেসব বিষয় যাচাই করে নিন

আবেদন জমা দেওয়ার আগে এই ছোট্ট তালিকাটি মিলিয়ে নিন — এতে ভুলের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে। প্রথমে নিশ্চিত হোন ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আপনার বয়স ৩২ বছরের মধ্যে আছে। দ্বিতীয়ত, স্নাতক ডিগ্রির সনদ হাতে আছে কিনা দেখুন। তৃতীয়ত, আবেদনপত্রে পদের নাম ও স্মারক নম্বর সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কিনা যাচাই করুন। চতুর্থত, খামের ওপরে পদের নাম লিখেছেন কিনা নিশ্চিত করুন। পঞ্চমত, জমা দেওয়ার শেষ সময় (২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টা) মাথায় রেখে যাতায়াতের পরিকল্পনা করুন। সবশেষে, মূল বিজ্ঞপ্তি আরেকবার পড়ে নিন — বিস্তারিত সার্কুলার দেখতে এখানে ক্লিক করুন — এবং প্রয়োজনে টিসিবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

টিসিবি নিয়োগ ২০২৬ — সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. টিসিবি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে?

সহকারী আইন কর্মকর্তা (Assistant Law Officer) পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে — একটি ক্যাটাগরিতে একটি পদ।


২. TCB Job Circular 2026-এ আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

স্নাতক পাস — যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই আবেদন করা যাবে। আইন বিষয়ক পড়াশোনা বা অভিজ্ঞতা থাকলে নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


৩. বয়সসীমা কীভাবে গণনা করা হবে?

২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।


৪. টিসিবি চাকরিতে আবেদন ফি কত?

কোনো আবেদন ফি নেই — আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।


৫. টিসিবি আবেদন কীভাবে করতে হবে?

অনলাইনে নয় — সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি টিসিবি ভবন, ১ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ ঠিকানায় জমা দিতে হবে।


৬. আবেদনের শেষ তারিখ কবে?

২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা। এর পর জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।


৭. চাকরিটি কি স্থায়ী নাকি চুক্তিভিত্তিক?

এটি ৬ মাস মেয়াদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, তবে সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে চুক্তি নবায়নযোগ্য।


৮. কোন কোন জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন?

বাংলাদেশের সকল জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন — কোনো জেলাভিত্তিক সীমাবদ্ধতা নেই।


মন্তব্য করুন