Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

সূরা নূহের আলোকে তাওহিদ, তাওবা, ধৈর্য ও আখিরাতের সফলতার পথ -মোঃ মুজিবুর রহমান


সূরা নূহের আলোকে তাওহিদ, তাওবা, ধৈর্য ও আখিরাতের সফলতার পথ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যাঁর কৃপায় প্রাণে জাগে আশার নবোদয়,
যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়;
যাঁর হুকুমে আকাশ হাসে, ধরায় নামে আলো,
তাঁরই নামে জাগুক হৃদয়, তাঁরই পথে চলো।

যিনি রব, যিনি স্রষ্টা, বিশ্বজগতের নাথ,
তাঁরই দিকে ফিরুক প্রাণ, তাঁরই হোক সব পথ;
তাঁরই ইবাদত, তাঁরই আনুগত্য—জীবনের পরিচয়,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনেই মুমিনের পরম জয়।

কুরআন হলো হিদায়াত, সত্যের আলোকধারা,
ভ্রান্তির আঁধার দূর করে, জাগায় প্রাণের তারা;
একেক সূরা একেক আলো, একেক শিক্ষা দান,
দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতে দেখায় সফলতার স্থান।

সূরা নূহ তারই মাঝে শিক্ষার দীপ জ্বালে,
তাওহিদের ডাক প্রতিধ্বনিত হয় হৃদয়ের অন্তরালে;
তাওবা, ধৈর্য, ইস্তিগফার—জীবনের পাথেয়,
সত্যের পথে অবিচল থাকাই মুমিনের আশ্রয়।

নূহ নবী এলেন যখন মানবজাতির মাঝে,
সতর্ক করলেন সবাইকে আল্লাহর বিধান কাজে;
বললেন—শুধু আল্লাহর ইবাদত করো প্রাণে,
তাঁর ভয় রেখে সৎপথ চলো, তাঁরই হুকুম মানে।

এক আল্লাহ, এক উপাস্য, নেই তাঁর কোনো শরিক,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, তিনিই সর্বশক্তিমান মালিক;
সৃষ্টি তাঁর, রিযিক তাঁর, বিধান তাঁরই দান,
তাঁরই কাছে নত হবে মুমিনের হৃদয়-প্রাণ।

মূর্তির কাছে মাথা নত নয়, নয় কোনো উপাসনা,
আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে নয় প্রার্থনার বাসনা;
তাওহিদের এই নির্মল বাণী সত্যের চির আলো,
এই পথেই অন্তর পায় প্রশান্তি, জীবন পায় ভালো।

আল্লাহভীতি শুধু ভয় নয়, ভালোবাসার সাথি,
তাঁর আদেশ মানার মাঝে মুমিন খুঁজে শান্তি;
গোপন-প্রকাশ্য সব কর্মে থাকুক তাঁর ভয়,
তাকওয়ার আলোয় জীবন হলে দূর হয় অন্তরক্ষয়।

দিনের পরে রাত এসেছে, রাতের পরে দিন,
নূহ (আ.)-এর কণ্ঠে ছিল সত্যের অমলিন ঋণ;
কখনো প্রকাশ্যে ডাকেন, কখনো গোপন বাণী,
সত্যের পথে ডাকতে তিনি ছিলেন অটল প্রাণী।

কেউ শুনল না, কেউ ফিরল না, কেউ করল উপহাস,
তবু নবী থামেননি, রাখেননি আশা-নিরাশ;
কেউ কানে আঙুল দিয়েছে, কেউ ঢেকেছে মুখ,
সত্যের বাণী শুনতে তারা করেছে অন্তর দুঃখ।

অহংকারে চোখ ছিল বন্ধ, জেদের ছিল প্রাচীর,
সত্যের আলো সামনে এসেও হলো তাদের অন্ধকার ঘোর;
তবু নূহ (আ.) ধৈর্য ধরে ডাকলেন বারংবার,
কল্যাণেরই পথে যেন ফেরে অবাধ্য পরিবার।

এ শিক্ষা আজও জীবন্ত, যুগ বদলালেও তাই,
সত্যের পথে বাধা এলে পিছিয়ে পড়া নাই;
দাওয়াত হবে জ্ঞান ও হিকমত, সুন্দর ভাষার সুরে,
ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, সদাচরণ—মানুষকে নেবে ঘুরে।

হিদায়াত দেওয়া আল্লাহর, দায়িত্ব শুধু বলা,
সত্য পৌঁছে দিতে হবে, ফলের হিসাব নয় ভোলা;
আজ না বুঝে কালও বুঝবে—আশা রাখো মনে,
সৎ আহ্বান হারায় না কখনো মানুষের জীবনে।

 “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও”—ডাক,
গুনাহ ছেড়ে ফিরে এসো, খুলবে রহমতের পাক;
যিনি রব, তিনি গফুর, ক্ষমার সাগর মহান,
অনুতপ্ত বান্দার জন্য খুলে দেন রহমতের দ্বার।

ইস্তিগফার শুধু মুখের কথা নয় যে কেবল,
ভুল বুঝে ফিরে আসাই তার প্রকৃত অনুবল;
অন্যায় ছেড়ে সৎপথ ধরা, হৃদয় করা শুদ্ধ,
তাওবার পথে ফিরে এলে অন্তর হয় নির্মল-বুদ্ধ।

কারও হক নষ্ট করলে হক ফিরিয়ে দিতে হয়,
জুলুম করে ক্ষমা চেয়ে দায়িত্ব শেষ নয়;
অন্যায় যদি করে থাকি, তা ছেড়ে দিতে হবে,
সৎ সংকল্পে নতুন জীবন আল্লাহর পথে রবে।

গুনাহ যত বড়ই হোক, রহমত তার চেয়ে বড়,
তাওবার পথে ফিরে এলে অন্তর হয় নির্মল;
তবে তাওবা সত্য হতে চাই সংশোধনের সাধ,
পাপের পথে ফিরে না যাওয়াই তাওবার প্রকৃত স্বাদ।

ইস্তিগফার হৃদয় ধোয়, অহংকার করে ক্ষয়,
আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক করে নির্ভয়;
ভুলের পরে ফিরে আসা পরাজয়ের নাম নয়,
বরং তাওবার আলোকপথেই মুমিনের সত্য জয়।

ইস্তিগফারের সঙ্গে আসে রহমতেরই স্মরণ,
আল্লাহর দয়া পেতে চায় তওবাকারী মন;
বৃষ্টি নামে, জীবন জাগে, সবুজ হয় ধরাতল,
নিয়ামতের রূপে ফুটে ওঠে রবের দয়ার জল।

ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি—সবই আল্লাহর দান,
বাগান, নদী, ফলের ভাণ্ডার—তাঁরই অনুগ্রহ মহান;
তবু নিয়ামত পেলেই মানুষ যেন না হয় গর্বিত,
দাতাকে ভুলে নিয়ামতে মশগুল হওয়া বড়ই বিপদজনক।

কখনো দান, কখনো পরীক্ষা—জীবন এমনই ধারা,
সুখের দিনে শোকর করো, দুঃখে ধৈর্য ধরা;
প্রাপ্তিতে যেন অহংকার না আসে মনের ঘরে,
অপ্রাপ্তিতে যেন হতাশা না নামে অন্তরে।

ইস্তিগফার মানে এই নয়—দুঃখ থাকবে না আর,
বরং দুঃখের মাঝেও রবের রহমতেরই দ্বার;
মুমিন জানে—যা কিছু ঘটে, জ্ঞানে ঘটে তাঁর,
তাই সে রাখে রবের ওপর বিশ্বাস অপরিসীম ভার।

দেখো মানুষ—কোথা থেকে এলো তার জীবন,
ক্ষুদ্র অবস্থা পেরিয়ে পেল দেহ-মন-চেতন;
বুদ্ধি দিলেন, বিবেক দিলেন, দিলেন জ্ঞান-বোধ,
সৃষ্টির মাঝে ছড়িয়ে দিলেন কুদরতেরই জ্যোতি-রোদ।

আকাশ জুড়ে স্তরে স্তরে নিদর্শনের মালা,
সূর্য-চন্দ্র নিয়ম মেনে দেয় আলো আর জ্বালা;
দিনের বুকে সূর্য হাসে, রাতে চাঁদের আলো,
নিয়মময় এই বিশ্বজগৎ—কী যে অপার ভালো!

চাঁদের পথে মাসের হিসাব, সূর্যের আলোয় দিন,
রবের হুকুমে চলছে সব, নেই কোনো অনিয়মের ঋণ;
আকাশ-পৃথিবী, রাত-দিন, নক্ষত্রের সমারোহ,
সবই যেন বলে—স্রষ্টা মহান, তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয়।

পৃথিবীকে করেছেন বিস্তৃত, চলার উপযোগী,
নিয়ামতের এই বিশাল ভাণ্ডার কতই না অনুপম রূপী;
তাই নিয়ামত ভোগ করো, কিন্তু রেখো কৃতজ্ঞ প্রাণ,
অপচয় নয়, অন্যায় নয়—সুন্দর হোক জীবনযাপন।

প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব হোক আমানতের মতো,
পৃথিবী নষ্ট করে যেন না করি নিজের ক্ষতি যত;
স্রষ্টার দান রক্ষা করা কৃতজ্ঞতার অংশ,
নিয়ামতের মর্যাদা রাখাই মুমিনের পরিচয়-গর্ব।

সম্পদ যার বেশি হলো, সে-ই সত্য নয়,
ক্ষমতা যার হাতে বেশি, সে-ই শ্রেষ্ঠ নয়;
সন্তান, পদ, প্রভাব, যশ—সবই ক্ষণিক ধন,
সত্যের মাপকাঠি হলো ঈমান, ন্যায় ও সৎকর্ম।

নূহের কওম দেখেছিল প্রভাবশালীদের দিকে,
সত্যের বদলে নেতার কথা ধরেছিল তারা বুকে;
অন্ধ অনুসরণ মানুষকে সত্য থেকে করে দূর,
বিবেক যখন ঘুমিয়ে যায়, ভুল পথ হয় মধুর।

ওয়াদ্দ, সুয়াআ, ইয়াগুস, ইয়াউক, নাসরের নাম,
মূর্তিপূজার পথে তারা হারিয়েছিল ঈমান;
মানুষকে সম্মান করা ইসলামের সুন্দর রীতি,
কিন্তু ইবাদত কেবল আল্লাহর—এটাই তাওহিদের নীতি।

কোনো নেক মানুষ স্মরণীয় হতে পারেন যুগের পরে,
তাঁর সৎগুণ থেকে শিক্ষা নেব, ভালোবাসব অন্তরে;
কিন্তু তাঁকে উপাসনা করা ইসলামে নয় বৈধ,
স্রষ্টা আর সৃষ্টির মাঝে রাখতে হবে সত্য সীমারেখা দৃঢ়।

বারবার যখন সত্য এলো, ফিরল তারা মুখ,
অবাধ্যতার পথে চলল, বাড়ল অন্তরের দুঃখ;
সতর্কবাণী উপেক্ষা করে আঁকড়ে ধরল পাপ,
অবশেষে এল তাদের ওপর নির্ধারিত পরিণাম-চাপ।

পানির ঢেউ উঠল যখন আল্লাহর হুকুমে,
রক্ষা পেল না অবাধ্য কেউ নিজের শক্তি-গর্বে;
যাদের ওপর ভরসা ছিল, কেউ হলো না সহায়,
স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টির ভরসা শেষতক কোথায়?

আল্লাহর ফয়সালা সত্য, তাঁর বিচার ন্যায়,
জুলুম-অবাধ্যতা কখনো স্থায়ী হয় না ভাই;
তবু দুনিয়ার কোনো বিপদ দেখে বলো না তৎক্ষণাৎ—
“
এ শাস্তি”—যদি না থাকে শরিয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণসাথ।

কার বিপদ পরীক্ষা, কার ফল নিজের কর্মের,
পূর্ণ রহস্য জানেন কেবল জ্ঞানী রব অন্তরের;
তাই বিপদে অহংকার নয়, করো সাহায্যের হাত,
নিজের ভুলের হিসাব নাও, রবের কাছে চাও নাজাত।

সত্যের পথে চলতে গেলে আসবে কত বাধা,
কখনো নিন্দা, কখনো কষ্ট, কখনো বিরূপ ধারা;
তবু মুমিন ভেঙে পড়ে না সাময়িক আঘাতে,
রবের ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলে পথে।

ধৈর্য মানে বসে থাকা, এমন কথা নয়,
সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ধৈর্যের পরিচয়;
চেষ্টা করে ফল না এলে রবের ফয়সালা মানি,
দায়িত্ব পালন করাই মুমিনের সত্য বাণী।

বীজ বুনে কৃষক যেমন অপেক্ষাতে থাকে,
মুমিন তেমনি সৎকর্ম করে ফলের আশায় থাকে;
আজ যদি না ফুটে ফুল, কাল ফুটবে তারই রূপ,
আল্লাহর কাছে হারায় না কোনো সৎকর্মের ধূপ।

কথায় যদি কষ্ট আসে, ধৈর্য ধরো ভাই,
রাগের আগুন বাড়িয়ে দিয়ে লাভ তো কিছু নাই;
ক্ষমা, সংযম, ন্যায় ও হিকমত হোক জীবনের ঢাল,
এভাবেই তো মুমিন গড়ে সুন্দর সমাজ-ভাল।

সত্য কথা বলতে হবে কোমল ভাষার টানে,
মানুষ যেন সত্য শুনে ভাবতে পারে প্রাণে;
অপমান নয়, বিদ্বেষ নয়, নয় তাচ্ছিল্যের বাণী,
সুন্দর ব্যবহারে জাগুক সত্য গ্রহণের পানি।

পরিবারে, বিদ্যালয়ে, সমাজের প্রতিটি ঘরে,
কল্যাণের কথা বলতে হবে ভালোবাসার তরে;
শিক্ষক, পিতা, সন্তান, বন্ধু—সবার প্রতি মান,
উপদেশে থাকুক মমতা, সম্মান আর জ্ঞান।

কেউ যদি ভুল করে থাকে, তাকে ঘৃণা নয়,
সংশোধনের পথ দেখানো উত্তম কাজ হয়;
তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া কোনো নীতি নয়,
ন্যায় রক্ষা, জুলুম রোধ—মুমিনের দায়িত্ব হয়।

হৃদয় জয় করা যায় না কেবল কঠোর কথায়,
সত্যের সঙ্গে সৌন্দর্য মেশে উত্তম আচরণে;
নূহ (আ.)-এর দাওয়াত শেখায় ধৈর্য ধরে ডাক,
হিদায়াতের আশা রেখে খুলে দাও সত্যের পাক।

নূহ (আ.)-এর দোয়ায় ছিল নিজের জন্য প্রার্থনা,
ছিল মাতা-পিতা, মুমিনদের জন্য ক্ষমার বাসনা;
এ শিক্ষা আজও হৃদয়জুড়ে জাগুক নতুন আলো,
নিজের সঙ্গে অন্যের জন্য চাওয়াই তো বড় ভালো।

মা-বাবার জন্য দোয়া করো, রাখো তাঁদের মান,
জীবিত হলে সেবা করো, মৃত্যুতেও করো দোয়া-দান;
তাঁদের প্রতি সদাচরণ হোক সন্তানের গৌরব,
মা-বাবার সন্তুষ্টিতে থাকুক জীবনের সৌরভ।

পরিবারের প্রতিটি প্রাণে দাও মমতার ছোঁয়া,
বিরোধ এলে ন্যায় ধরে শান্তির পথে যাওয়া;
সন্তানের সামনে গড়ে তোলো ঈমানি পরিবেশ,
তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সুন্দর আবেশ।

মুমিন নারী, মুমিন পুরুষ—সবার জন্য দোয়া,
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়, হৃদয়ে থাকুক মায়া;
সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক ক্ষমা ও কল্যাণ,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে হোক সুন্দর মানবজীবন-প্রাণ।

জুলুম দেখলে চুপ থাকা মুমিনের কাজ নয়,
অন্যায় রুখতে ন্যায়পথে দৃঢ় হওয়া চাই;
তবে ব্যক্তিগত ক্রোধকে ধর্মের নামে সাজিয়ে,
কারও ধ্বংস কামনা নয়—ন্যায়ের পথে দাঁড়িয়ে।

যে কষ্ট দিয়েছে, তারও বিচার রবের হাতে,
নিজ হাতে প্রতিশোধ নিতে যেও না অন্ধ আঘাতে;
অধিকার যদি নষ্ট হয়, ন্যায়সঙ্গত পথ ধরো,
সত্য, প্রমাণ, ন্যায়বিচারে নিজের অধিকার চাও।

ক্ষমা মহৎ, তবে জুলুমকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়,
ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই মুমিন জীবনের জয়;
রবের কাছে সোপর্দ করে অন্তর রাখো শান্ত,
জুলুমের আঁধার কাটবেই—যদি সত্য থাকে অটুট।

আজও পৃথিবী ব্যস্ত কত সম্পদ আর যশে,
কত মানুষ হারায় নিজেকে দুনিয়ার মোহে ভেসে;
পদ-পদবি, অর্থ-বিত্ত, নামের মিথ্যা মান,
এসব পেরিয়ে ভুলে যায় আখিরাতের জ্ঞান।

কেউ অহংকার করে ধনে, কেউ করে পদে,
কেউ বা নিজের মতকে রাখে সত্যের ওপরে;
নূহের কওমের ইতিহাস দিক আমাদের জ্ঞান—
সত্যের কাছে নত না হলে আসে কঠিন পরিণাম।

তাই আগে শুদ্ধ করো ঈমান, শুদ্ধ করো মন,
হালাল পথে উপার্জন হোক জীবনের পণ;
অন্যের হক নষ্ট কোরো না, রেখো আমানত ঠিক,
মিথ্যা, প্রতারণা, জুলুম ছেড়ে সত্যকে করো সঙ্গী।

জিহ্বা হোক সত্যভাষী, হাত হোক কল্যাণে,
চোখ থাকুক পবিত্র পথে, মন থাকুক ঈমানে;
কর্মে থাকুক ইখলাস, কথায় থাকুক মান,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে মুমিনের জীবন-প্রাণ।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের, আখিরাত অনন্ত,
এ সত্য মনে রাখলে জীবন হবে প্রশান্ত;
আজ যে সময় চলে যায়, ফিরে আসে না আর,
প্রতিটি নিঃশ্বাস লিখে রাখে কর্মের হিসাব ভার।

ধন যাবে, মান যাবে, যাবে দেহের শক্তি,
সঙ্গে যাবে না প্রাসাদ, যাবে না দুনিয়ার ভক্তি;
সঙ্গে যাবে ঈমান, সৎকর্ম, ন্যায় ও আমল,
আখিরাতের সেই সফরেই প্রকাশ পাবে আসল ফল।

তাই সালাত হোক জীবনের আলো ও পরিচয়,
সিয়াম, যাকাত, সৎকর্মে বাড়ুক ঈমানের জয়;
হালাল-হারামের সীমা মেনে চলুক প্রতিদিন,
রবের সন্তুষ্টির আশায় হোক জীবন আমলময় ঋণ।

মানুষের হক আদায় করো, অন্যায় থেকে ফেরো,
পাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাওবার পথে চলো;
হৃদয় যদি কাঁদে গুনাহে, সেই কান্না হোক দান,
রবের কাছে ফিরে আসাই মুমিনের সম্মান।

তাওহিদ শেখায়—আল্লাহ এক, নেই তাঁর কোনো শরিক,
তাঁরই ইবাদত, তাঁরই আনুগত্য—এ পথ অমলিন ঠিক;
তাওবা শেখায়—ভুল হলে ফিরে এসো তাঁর দ্বারে,
ইস্তিগফার শেখায়—রহমতের আশা রাখো অন্তরে।

ধৈর্য শেখায়—বাধা এলে সত্যপথে থেকো স্থির,
দাওয়াত শেখায়—সুন্দর ভাষায় করো কল্যাণের নীর;
সৃষ্টি শেখায়—নিদর্শনে রবের কুদরত চিনো,
নিয়ামতের শুকরিয়া করে জীবনপথে চলো।

অহংকার শেখায় পতন, অন্ধ অনুসরণ ক্ষয়,
সত্যকে অস্বীকার করলে আসে ভয়াবহ পরিণয়;
সম্পদ, ক্ষমতা, সন্তান—কেউ নয় চিরস্থায়ী ঢাল,
রবকে ভুলে যে বাঁচে, তার জীবন হয় নিঃস্ব-কাল।

নূহের কণ্ঠ আজও যেন হৃদয়ের মাঝে বাজে—
“
রবের দিকে ফিরে এসো, কল্যাণ আছে তাতে”;
দুনিয়ার মোহ পেরিয়ে চলো আখিরাতের পথে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজো প্রতিটি কর্মের সাথে।

হে আল্লাহ, দাও আমাদের তাওহিদের নির্মল আলো,
শিরকের সব অন্ধকার থেকে রাখো দূরে ভালো;
তোমারই ইবাদতে যেন জীবন করি সঁপে,
তোমার সন্তুষ্টির আশায় চলি সত্য রূপে।

হে আল্লাহ, গুনাহ হলে ফিরিয়ে দিও তোমার দ্বারে,
তাওবার অশ্রু দিও আমাদের অন্তরেরই ধারে;
ইস্তিগফারের মাধুর্যে ধুয়ে দিও মনের কালো,
পাপের পথ থেকে ফিরিয়ে দাও, করো জীবন আলো।

হে আল্লাহ, নূহ (আ.)-এর মতো ধৈর্য দাও প্রাণে,
সত্যের পথে দৃঢ় রেখো বিপদ-আপদ টানে;
দাওয়াতের ভাষায় দাও হিকমত, দাও সুন্দর বাণী,
মানুষের কল্যাণে যেন কাটে জীবনের নিশানি।

হে আল্লাহ, অহংকার থেকে রাখো আমাদের দূরে,
অন্ধ অনুসরণ থেকে বাঁচাও সত্যের নূরে;
ধন-সম্পদ, পদ-পদবি যেন না হয় অহংকার,
সব নিয়ামতের শুকরিয়া দাও, করো অন্তর উদার।

হে আল্লাহ, মা-বাবাকে দাও রহমতের ছায়া,
পরিবারে দাও শান্তি, ভালোবাসা আর মায়া;
মুমিন নারী-মুমিন পুরুষ—সবার করো মাগফিরাত,
জীবনভর নেক আমল দাও, দাও উত্তম পরিণাম-সওগাত।

হে আল্লাহ, জুলুম থেকে বাঁচাও, ন্যায়ের পথে রাখো,
অন্যের অধিকার রক্ষার শক্তি অন্তরে দাও;
বিপদে দাও সবর, সুখে দাও শুকরিয়ার প্রাণ,
দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতে দাও নাজাতের স্থান।

হে আল্লাহ, কুরআনের শিক্ষা জীবনে করো জীবন্ত,
সুন্নাহর সুন্দর পথে রাখো আমাদের অবিরত;
তোমার রহমতের ছায়ায় কাটুক জীবনের প্রতিটি ক্ষণ,
ঈমান নিয়ে মৃত্যু দিও—এই আমাদের আর্ত নিবেদন।

দুনিয়ার মায়া পেরিয়ে যখন আসবে শেষ বিদায়,
তখন যেন তোমার রহমত থাকে আমাদেরই সহায়;
হাশরের সেই কঠিন দিনে দাও নিরাপদ ছায়া,
সৎকর্মের আলোয় ভরিয়ে দাও মুমিনের মায়া।

জান্নাতের অনন্ত সুখে দাও আমাদের স্থান,
রহমতের সাগরে ভাসুক আমাদের ঈমান-প্রাণ;
সূরা নূহের শিক্ষা যেন জীবনে থাকে অটুট,
তাওহিদ, তাওবা, ধৈর্য, তাকওয়া—হোক জীবনসঙ্গী অটুট।

হে পরম রব, তোমার পথে রাখো আমাদের অবিচল,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের চূড়ান্ত সফল।
পাপ ক্ষমা করো, রহমত দাও, দাও হিদায়াতের আলো—
দুনিয়া ও আখিরাতে করো আমাদের জীবন সুন্দর ও ভালো।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ