Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:১০ অপরাহ্ণ

ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি ভালোলাগা এবং দ্যা সিক্রেট রিভার

ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি ভালো লাগা এবং ‘দ্য সিক্রেট রিভার’


যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকেই ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি একটু একটু করে ভালো লাগা তৈরি হতে শুরু করে। আমাদের সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই Rapid Reader পড়ানো হতো। পড়তাম, ভালো লাগত। তবে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি সেই ভালো লাগা যেন আরও একটু গভীর হতে শুরু করল। এসএসসি পাস করার পর কলেজে পড়ার সময় সেই ভালো লাগার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। ইংরেজি সাহিত্যের গল্প, চরিত্র আর তাদের জীবনবোধ আমাকে ধীরে ধীরে আকৃষ্ট করতে লাগল।

তখন একটি গল্প ছিল The Ancient Mariner। আরেকটি গল্পের নাম আজও মনে পড়ে—A Mother in Mannville। গল্পটির লেখক মারজোরি কিনান রোলিংস। তাঁরই আরেকটি শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম The Secret River। সত্যি বলতে, সে সময় গল্পটির কথা জানলেও পড়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একদিন গল্পটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। গল্পটি পড়ে আমার মনে হয়েছিল, শিশুতোষ সাহিত্যও কত গভীর জীবনবোধ ও মানবিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে পারে!

The Secret River গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্যালপুরনিয়া। সে কবিতা লিখতে ভালোবাসে। তার ছোট্ট কুকুর বাগি-হর্সও তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু একসময় তাদের জীবনে নেমে আসে চরম অভাব। বনের নদী-খালে মাছ পাওয়া যায় না। তার বাবা মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাছের অভাবে তাঁর আয় বন্ধ হয়ে যায়, আর এর সঙ্গে দেখা দেয় খাদ্যসংকট। শুধু তাদের পরিবারেই নয়, আশপাশের অনেক মানুষের জীবনেও নেমে আসে দুর্দশা।

মানুষের এই কষ্ট ক্যালপুরনিয়ার মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। অন্যদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করার তাগিদে সে সাহায্যের পথ খুঁজতে থাকে। বৃদ্ধা মাদার আলবার্থার পরামর্শে সে রহস্যময় এক নদীর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। অবশেষে খুঁজে পায় মাছভরা সেই নদী। মাছ ধরার অনুমতি পেতে সে নিজের গোলাপি ফিতাটিও কাজে লাগায়। সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মাছ ধরে সে বাড়ির পথে রওনা হয়।

ফেরার পথে তাকে পেঁচা, ভালুক ও অন্যান্য বন্য প্রাণীর মুখোমুখি হতে হয়। নিজের সংগ্রহ করা মাছের কিছু অংশ সে তাদেরও দেয়। পরে সেই মাছ নিয়ে সে ফিরে আসে মানুষের কাছে। তার বাবা মাছগুলো অভাবী মানুষদের মধ্যে বিতরণ করেন। খাবার পেয়ে মানুষ আবার নতুন করে কাজ করার শক্তি ফিরে পায়। এভাবেই ছোট্ট ক্যালপুরনিয়ার সাহস, বুদ্ধি ও সহমর্মিতা একটি বিপর্যস্ত জনপদে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

গল্পটি শিশুতোষ হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর। এখানে শুধু একটি রহস্যময় নদীর সন্ধান পাওয়ার গল্প বলা হয়নি; বরং মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা, বিপদের সময় সাহসী হয়ে ওঠা, অন্যের কষ্ট অনুভব করা এবং নিজের সামর্থ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

আমার কাছে গল্পটির সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো এই উপলব্ধি—মানুষের বয়স বড় কথা নয়, তার হৃদয়ের বিশালতাই বড় কথা। একটি ছোট্ট মেয়েও তার মমতা, বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে অনেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

হয়তো এ কারণেই ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি সেই কৈশোরের ভালো লাগা আজও আমার মধ্যে বেঁচে আছে। কিছু গল্প শুধু পড়ার জন্য নয়; কিছু গল্প আমাদের ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়, মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। The Secret River আমার কাছে তেমনই একটি গল্প।

মন্তব্য করুন