সহকারী অধ্যাপক
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬ | eTaxNBR e-Return
📌 অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬
📌 এক ক্লিকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন
📌 অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ২০২৬
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬ | eTaxNBR e-Return
প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এলে অনেকেই অফিসে ভিড়, দালালের ঝামেলা আর ফরম পূরণের জটিলতা নিয়ে চিন্তায় পড়েন। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ই-রিটার্ন সিস্টেমে ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায় — etaxnbr.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে। রেজিস্ট্রেশন থেকে রিটার্ন সাবমিট, এমনকি কর পরিশোধ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল।
এই লেখায় etaxnbr-তে রেজিস্ট্রেশন, ধাপে ধাপে ই-রিটার্ন দাখিলের নিয়ম, ২০২৬-২৭ করবর্ষের নতুন আয়কর স্ল্যাব, কাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক এবং জরিমানা এড়ানোর উপায় — সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
এক নজরে: ই-রিটার্ন ২০২৬
বিষয় | তথ্য |
পোর্টাল | etaxnbr.gov.bd (ইট্যাক্স) |
সিস্টেম | e-Return (ই-রিটার্ন) |
রেজিস্ট্রেশনে যা লাগে | ১২ ডিজিটের TIN + নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল |
করমুক্ত আয়সীমা (২০২৬-২৭) | বার্ষিক ৩,৭৫,০০০ টাকা |
ন্যূনতম কর | ৫,০০০ টাকা |
রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় | সাধারণত ৩০ নভেম্বর (করদিবস) |
কাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
আয়কর আইন অনুযায়ী নিচের ব্যক্তিদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক:
যাদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমা (৩,৭৫,০০০ টাকা) অতিক্রম করে
১২ ডিজিটের TINধারী ব্যক্তি (বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত)
সরকারি কর্মচারী — বিশেষ করে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আয়কর সার্কেলের অধিক্ষেত্রভুক্ত সব সরকারি কর্মচারী
সব তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী
মোবাইল টেলিকম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী
ইউনিলিভার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ম্যারিকো, বার্জার পেইন্টস, রাটা, নেসলে বাংলাদেশে কর্মরতরা
কোম্পানির পরিচালক, অংশীদারি ফার্মের অংশীদার
উল্লেখ্য, সরকার ধাপে ধাপে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করছে — উপরোক্ত শ্রেণির করদাতাদের ম্যানুয়াল (কাগজে) রিটার্ন আর গ্রহণ করা হয় না, শুধুমাত্র ই-রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
২০২৬-২৭ করবর্ষের নতুন আয়কর স্ল্যাব
২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের নতুন করকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে:
আয়ের স্তর (বার্ষিক) | করহার |
প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা | ০% (করমুক্ত) |
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা | ১০% |
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা | ১৫% |
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা | ২০% |
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা | ২৫% |
অবশিষ্ট আয় | ৩০% |
দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
আগের ৫% এর প্রথম করধাপ বাদ দিয়ে এখন ১০% থেকে করহার শুরু হয়েছে।
আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে হিসাব অনুযায়ী কর কম হলেও ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা আয়কর দিতে হবে।
উদাহরণ: বার্ষিক আয় ৬,০০,০০০ টাকা হলে — প্রথম ৩,৭৫,০০০ করমুক্ত, বাকি ২,২৫,০০০ টাকার ওপর ১০% = ২২,৫০০ টাকা কর।
etaxnbr.gov.bd-তে রেজিস্ট্রেশন: ধাপে ধাপে
ই-রিটার্ন দাখিলের আগে একবার রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। যা লাগবে:
১২ ডিজিটের TIN নম্বর
নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর — মোবাইল নম্বরটি আপনার নামে নিবন্ধিত কিনা *16001# ডায়াল করে যাচাই করতে পারেন। TIN খোলার সময় যে নম্বর দিয়েছিলেন সেটা না থাকলেও সমস্যা নেই — নিজের নামে নিবন্ধিত যেকোনো নম্বর দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
রেজিস্ট্রেশনের ধাপ:
যেকোনো ব্রাউজার থেকে etaxnbr.gov.bd-তে যান
মেনু থেকে eReturn-এ ক্লিক করুন
Registration বাটনে ক্লিক করুন
১২ ডিজিটের TIN ও মোবাইল নম্বর দিন, ক্যাপচা টাইপ করে Verify করুন
মোবাইলে আসা ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোড দিন
পাসওয়ার্ড সেট করুন — কমপক্ষে ৮ ক্যারেক্টার, যার মধ্যে অন্তত একটি ছোট হাতের অক্ষর, একটি বড় হাতের অক্ষর, একটি সংখ্যা ও একটি স্পেশাল ক্যারেক্টার (@ # % & *) থাকতে হবে
Submit করুন — রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম: পুরো প্রক্রিয়া
রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে এবার রিটার্ন দাখিল করুন:
ধাপ ১: সাইন ইন
etaxnbr.gov.bd → eReturn → ১২ ডিজিটের TIN, পাসওয়ার্ড ও ক্যাপচা দিয়ে Sign in করুন।
ধাপ ২: Return Submission
বাম পাশের মেনু থেকে Return Submission-এ ক্লিক করুন। করদাতার প্রাথমিক তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে।
ধাপ ৩: আয়ের তথ্য পূরণ
প্রযোজ্য অপশনগুলোতে টিক চিহ্ন দিন — বেতন আয়, বাড়ি ভাড়া আয়, ব্যবসায়িক আয়, পেশাগত আয়, কৃষি আয়, অন্যান্য উৎসের আয়। প্রতিটি ধাপে তথ্য পূরণ করে Save & Continue চাপুন। সিস্টেম অনেক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দেবে।
ধাপ ৪: কর পরিশোধ (Tax & Payment)
রিটার্ন প্রস্তুত হয়ে গেলে Tax & Payment পেজে যান। প্রদেয় কর থাকলে Pay বাটনে ক্লিক করে অনলাইনে (কার্ড/মোবাইল ব্যাংকিং/ইন্টারনেট ব্যাংকিং) কর পরিশোধ করুন।
ধাপ ৫: রিটার্ন যাচাই ও সাবমিট
View Return-এ ক্লিক করে পুরো রিটার্ন একবার মিলিয়ে নিন। সব ঠিক থাকলে শেষ পর্যায়ে Verification-এ টিক দিয়ে Submit Return চাপুন। সফলভাবে দাখিল হলে একটি একনলেজমেন্ট স্লিপ পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন, এটিই আপনার রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ।
আয়কর রিটার্ন ফরম: কোন ফরম কাদের জন্য
ই-রিটার্ন সিস্টেমে করদাতার ধরন অনুযায়ী ফরম নির্বাচন করতে হয়। সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য নির্ধারিত রিটার্ন ফরম সিস্টেমেই পাওয়া যায় — আলাদা করে ফরম ডাউনলোড বা প্রিন্টের ঝামেলা নেই। সিস্টেমে তথ্য দিলেই ফরম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায়।
জরিমানা এড়াতে যা মনে রাখবেন
সময়মতো দাখিল করুন: ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ সাধারণত ৩০ নভেম্বর (জাতীয় করদিবস)। দেরি করলে জরিমানা ও অতিরিক্ত কর গুনতে হতে পারে।
সঠিক তথ্য দিন: আয় গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে পরে অডিটে ধরা পড়লে জরিমানাসহ বকেয়া আদায় করা হয়।
প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন: বেতন স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণ — সব কাগজ অন্তত কয়েক বছর সংরক্ষণ করুন।
TIN থাকলেই রিটার্ন: আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও TIN থাকলে রিটার্ন দাখিল করা নিরাপদ — এতে ভবিষ্যতে ঋণ, ভিসা বা অন্য কাজে "করদাতা" হিসেবে সুবিধা পাবেন।
ই-রিটার্নে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
OTP আসছে না: মোবাইল নম্বরটি নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত কিনা *16001# ডায়াল করে যাচাই করুন। নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।
পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে: লগইন পেজের "Forgot Password" অপশন থেকে TIN ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন।
পুরনো মোবাইল নম্বর নেই: TIN-এর সাথে নিবন্ধিত পুরনো নম্বর হারিয়ে গেলেও সমস্যা নেই — নিজের নামে নিবন্ধিত নতুন নম্বর দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
সাপোর্টিং ডকুমেন্ট কোথায় আপলোড করবো: ই-রিটার্নে সাধারণত ডকুমেন্ট আপলোডের প্রয়োজন হয় না — তথ্য দিলেই চলে। তবে অডিটের জন্য কাগজপত্র নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
etaxnbr-তে রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী লাগে?
১২ ডিজিটের TIN নম্বর এবং আপনার নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বর। মোবাইলে ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোড আসবে।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল কি বাধ্যতামূলক?
সরকারি কর্মচারী, ব্যাংক ও টেলিকম কর্মীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক — তাদের ম্যানুয়াল রিটার্ন গ্রহণ করা হয় না। অন্যদের জন্য দুটো মাধ্যমই চালু আছে, তবে অনলাইনই সহজ।
করমুক্ত আয়সীমা কত ২০২৬?
২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার বার্ষিক ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।
আয় ৩,৭৫,০০০ টাকার কম হলে কি রিটার্ন দিতে হবে?
TIN থাকলে রিটার্ন দাখিল করাই নিরাপদ ও ভালো অভ্যাস। কর না লাগলেও "শূন্য রিটার্ন" দাখিল করে করদাতা হিসেবে সক্রিয় থাকুন।
রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ কবে?
ব্যক্তি করদাতাদের জন্য সাধারণত ৩০ নভেম্বর (জাতীয় করদিবস)। এনবিআরের নোটিশে তারিখ বাড়ানো হলে তা etaxnbr.gov.bd-তে জানিয়ে দেওয়া হয়।
অনলাইনে কর পরিশোধ করা যায়?
হ্যাঁ। Tax & Payment পেজের Pay বাটনে ক্লিক করে কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদেয় কর পরিশোধ করা যায়।
ই-রিটার্নের একনলেজমেন্ট স্লিপ কী?
রিটার্ন সফলভাবে সাবমিট হলে সিস্টেম যে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেয়, সেটিই একনলেজমেন্ট স্লিপ। এটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন — ভিসা, ঋণ বা অন্য কাজে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ হিসেবে লাগে।
ভুল রিটার্ন দাখিল করে ফেললে কী হবে?
সংশোধিত (revised) রিটার্ন দাখিলের সুযোগ আছে। দ্রুত সংশোধন করে নিন — দেরি করলে জরিমানার ঝুঁকি বাড়ে।
করযোগ্য আয়ের খাতসমূহ: কী কী আয়ের ওপর কর
ই-রিটার্নে নিচের খাতগুলো থেকে আয় থাকলে ঘোষণা করতে হয়:
বেতন আয়: মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বোনাস, ওভারটাইম
বাড়ি সম্পত্তির আয়: বাড়ি/ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে আয়
ব্যবসায়িক আয়: ব্যবসা বা পেশা থেকে মুনাফা
পেশাগত আয়: ডাক্তার, আইনজীবী, পরামর্শকদের ফি
কৃষি আয়: কৃষি থেকে আয় (আংশিক ছাড় আছে)
অন্যান্য উৎস: ব্যাংক সুদ, ডিভিডেন্ড, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা
সব উৎসের মোট আয় থেকে অনুমোদিত খরচ ও ছাড় বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় নির্ধারণ হয়।
কর রেয়াত: বিনিয়োগে কর ছাড় পান
করযোগ্য আয়ের ওপর কর হিসাবের পর কর রেয়াত (tax rebate) পাওয়া যায় — অর্থাৎ প্রদেয় কর থেকে ছাড়:
সরকারি সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামে বিনিয়োগ
স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) জমা
নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগের ওপর রেয়াত প্রযোজ্য
ই-রিটার্ন সিস্টেমে বিনিয়োগের তথ্য দিলে রেয়াত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবে যুক্ত হয়। তাই কর পরিকল্পনায় বছরজুড়ে বৈধ খাতে বিনিয়োগ রাখুন।
TIN খোলার সংক্ষিপ্ত নিয়ম
ই-রিটার্নের জন্য ১২ ডিজিটের TIN (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক। TIN না থাকলে:
NBR-এর ওয়েবসাইট থেকে ই-TIN রেজিস্ট্রেশন করুন
NID, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করুন
যাচাই শেষে ১২ ডিজিটের TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন
TIN সার্টিফিকেট অনেক কাজে লাগে — ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক ঋণ, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, জমি কেনাবেচায়।
ম্যানুয়াল বনাম অনলাইন রিটার্ন
দিক | ই-রিটার্ন (অনলাইন) | ম্যানুয়াল (কাগজে) |
সময় | ২৪ ঘণ্টা, ঘরে বসে | অফিস সময়ে সার্কেলে গিয়ে |
হিসাব | সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করে | নিজে/আইনজীবী দিয়ে |
প্রাপ্তি স্বীকার | সাথে সাথে স্লিপ | সিলমোহর নিতে হয় |
ভুলের ঝুঁকি | কম (গাইডেড ফরম) | বেশি |
বাধ্যতামূলক | নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য | ক্রমান্বয়ে উঠে যাচ্ছে |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (আরও)
আয়কর রিটার্ন ফরম কোথায় পাবো?
ই-রিটার্ন সিস্টেমে আলাদা ফরম ডাউনলোডের দরকার নেই — তথ্য পূরণ করলেই ফরম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়। ম্যানুয়াল রিটার্নের ফরম NBR ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
শূন্য রিটার্ন কী?
করযোগ্য আয় না থাকলেও TINধারী হিসেবে "শূন্য কর" দেখিয়ে যে রিটার্ন দাখিল করা হয়, তাই শূন্য রিটার্ন। এতে করদাতা হিসেবে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
রিটার্নে ভুল তথ্য দিলে শাস্তি কী?
ভুল বা মিথ্যা তথ্যে জরিমানা, অতিরিক্ত কর এবং ক্ষেত্রবিশেষে মামলার বিধান আছে। সন্দেহ থাকলে কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কি রিটার্ন দিতে হয়?
বাংলাদেশে করযোগ্য আয় থাকলে (যেমন বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা) প্রবাসীদেরও রিটার্ন দাখিল করতে হয়। শুধু রেমিট্যান্স আয়ে সাধারণত কর নেই।
অগ্রিম কর ও উৎসে কর কর্তন: যা জানা জরুরি
উৎসে কর কর্তন (TDS): বেতন, ব্যাংক সুদ, ঠিকাদারি বিল থেকে আগেই কর কেটে রাখা হয়। রিটার্নে এই কাটা কর "পরিশোধিত কর" হিসেবে দেখাতে হয় — তাহলে চূড়ান্ত হিসাবে তা বাদ যায়।
অগ্রিম কর: ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট কিস্তিতে আগাম কর দিতে হয়। ই-রিটার্নে অগ্রিম পরিশোধের চালান নম্বর উল্লেখ করুন।
বছর শেষে হিসাব করে দেখুন মোট কাটা/দেওয়া কর বনাম প্রকৃত প্রদেয় কর — বেশি দিলে ফেরত (refund) পাবেন, কম দিলে বাকিটা পরিশোধ করতে হবে।
করদাতার অধিকার ও সুবিধা
নিয়মিত করদাতা হিসেবে আপনি পান:
সম্মাননা: নিয়মিত করদাতাদের এনবিআর সম্মাননা ও সনদ দেয়
ঋণ সুবিধা: ব্যাংক ঋণে করদাতার রিটার্ন স্লিপ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট
ভিসা: অনেক দেশের ভিসা আবেদনে ট্যাক্স রিটার্ন চাওয়া হয়
সরকারি কাজ: ঠিকাদারি, লাইসেন্স নবায়নে হালনাগাদ রিটার্ন বাধ্যতামূলক
কর পরিকল্পনার টিপস
অর্থবছরের শুরুতেই (জুলাই) কর পরিকল্পনা করুন, শেষ মুহূর্তে নয়
বৈধ খাতে বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নিন
সব আয়ের রেকর্ড (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্লিপ) বছরজুড়ে সংরক্ষণ করুন
জটিল আয় থাকলে (ব্যবসা, বিদেশি আয়) কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন — ভুলের জরিমানা ফির চেয়ে বেশি
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (আরও)
ই-রিটার্নে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা যায়?
পোর্টাল মূলত ইংরেজিতে, তবে নাম-ঠিকানা বাংলায় লেখার অপশন আছে। সংখ্যা ইংরেজি সংখ্যায় দিতে হয়।
একবার সাবমিটের পর সংশোধন করা যায়?
হ্যাঁ, সংশোধিত রিটার্ন (revised return) দাখিল করা যায়। তবে মূল রিটার্নের ভুল দ্রুত সংশোধন করাই ভালো।
কর না দিলে কী শাস্তি?
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে জরিমানা, মাসিক অতিরিক্ত কর এবং ক্ষেত্রবিশেষে মামলার বিধান রয়েছে।
জাতীয় করদিবস ও কর মেলা
প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর জাতীয় করদিবস পালিত হয় — এদিনই ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ। করদিবস উপলক্ষে এনবিআর কর মেলার আয়োজন করে, যেখানে:
স্পটে রিটার্ন দাখিল করা যায়
কর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ পাওয়া যায়
TIN রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা দেওয়া হয়
নতুন করদাতাদের জন্য কর মেলা ভালো শুরু হতে পারে।
এনবিআর হেল্পলাইন ও সহায়তা
ই-রিটার্নে সমস্যা হলে:
এনবিআরের ওয়েবসাইটের হেল্পডেস্ক
সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসে সরাসরি যোগাযোগ
কর আইনজীবীর পরামর্শ (জটিল ক্ষেত্রে)
মনে রাখবেন — কর দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব, আর সঠিকভাবে দিলে তা আপনার ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।
উপসংহার
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন আর জটিল কিছু নয় — etaxnbr.gov.bd-তে একবার রেজিস্ট্রেশন করে নিলে প্রতিবছর ঘরে বসেই রিটার্ন দেওয়া যায়। নতুন করস্ল্যাব অনুযায়ী নিজের কর হিসাব করে সময়মতো রিটার্ন দিন, জরিমানা এড়ান। এই লেখাটি শেয়ার করে অন্যদেরও ই-রিটার্নে উৎসাহিত করুন।
১৮
২৯ মন্তব্য