Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রের উদ্ভব ও ইতিকথা

রাষ্ট্রের উদ্ভব 

একটা সময় পৃথিবীতে আসলে কোনো রাষ্ট্রই ছিল না। ছিল না নাগরিকত্বের আধুনিক ধারণাও। মানুষ তখন ছোট ছোট গোষ্ঠী, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বসবাস করত। তবে হ্যাঁ, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার বছর আগে নদীর তীরে কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির বিকাশের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীন নগরসভ্যতা এবং নগররাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। মেসোপটেমিয়ার সুমেরীয় সভ্যতায় পৃথিবীর প্রাচীনতম নগররাষ্ট্রগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রাচীন গ্রিসেও বেশ কিছু নগররাষ্ট্র গড়ে ওঠে, যেগুলো গ্রিক ভাষায় ‘পলিস’ নামে পরিচিত।

তবে রাষ্ট্র গঠনের জন্য কিছু মৌলিক উপাদান থাকা অপরিহার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্রের চারটি প্রধান উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো—জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করে। সরকার রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে। অন্যদিকে, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও স্বাধীন কর্তৃত্ব, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাধীন সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতএব, জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব—এই চারটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয় ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সত্তাকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।


মন্তব্য করুন

ব্লগ