সহকারী শিক্ষক
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ নিয়োগে আবেদনের নিয়ম ২০২৬ | CCJ Job Apply 2026
ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোরের প্রভাষক (ইংরেজি) ও প্রভাষক (অর্থনীতি) পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬। এই নিয়োগে অনলাইনে আবেদনের কোনো ব্যবস্থা নেই — আবেদন করতে হবে ডাকযোগে অথবা সরাসরি কলেজে গিয়ে। ফি ১,০০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে দিতে হবে।
অনেক যোগ্য প্রার্থী শুধু আবেদনপত্রে ছোটখাটো ভুলের কারণে বাদ পড়ে যান — ভুল নামে ড্রাফট, খামে তথ্য না লেখা, বন্ধ মোবাইল নম্বর দেওয়া। এই পোস্টে আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে, এবং প্রতিটি ধাপে কোন ভুলগুলো এড়াতে হবে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আবেদনের আগে জেনে নিন — সংক্ষিপ্ত তথ্য
বিষয় | তথ্য |
পদ | প্রভাষক (ইংরেজি), প্রভাষক (অর্থনীতি) — মোট ২টি |
বেতন | ৯ম গ্রেড (২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা) |
ফি | ১,০০০ টাকা প্রতি পদে (ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার, অফেরতযোগ্য) |
আবেদনের মাধ্যম | ডাকযোগে বা সরাসরি হাতে হাতে (অনলাইন নয়) |
শেষ তারিখ | ২৯ অক্টোবর ২০২৬ (এই তারিখের মধ্যে পৌঁছাতে হবে) |
ঠিকানা | অধ্যক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর, যশোর সেনানিবাস |
ধাপ ১: যোগ্যতা যাচাই করে নিন
আবেদনপত্র তৈরি করার আগে নিশ্চিত হোন:
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (ইংরেজি/অর্থনীতি) স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স আছে
শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ নেই
অনার্স/মাস্টার্সে সিজিপিএ ২.২৫ বা তার বেশি; এসএসসি/এইচএসসিতে জিপিএ ৩.০০ বা তার বেশি
১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বয়স ৩২ বছরের মধ্যে (অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য)
এই শর্তগুলোর যেকোনো একটিও না মিললে আবেদন করে ১,০০০ টাকা ফি নষ্ট করবেন না — কারণ ফি অফেরতযোগ্য।
ধাপ ২: জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ছক বা ফরম্যাটে পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে হবে। এতে যা যা থাকবে:
প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ বিবরণ (পরীক্ষার নাম, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়, পাসের সন, শ্রেণি/বিভাগ/সিজিপিএ)
অভিজ্ঞতা থাকলে তার বিবরণ
সচল মোবাইল নম্বর (এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — বাছাই পরীক্ষার তারিখ এসএমএসে আসবে)
মোবাইল নম্বর লেখার সময় দুবার মিলিয়ে নিন। ভুল বা বন্ধ নম্বর দিলে পরীক্ষার তারিখ জানতে পারবেন না, আর কর্তৃপক্ষের দায় থাকবে না।
ধাপ ৩: কাগজপত্র গুছিয়ে নিন
আবেদনপত্রের সাথে নিচের প্রতিটি কাগজ সংযুক্ত করতে হবে — একটিও বাদ পড়লে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হতে পারে:
পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত (নির্ধারিত ছক অনুযায়ী)
শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি — এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্সের সনদ
নাগরিকত্ব সনদপত্র (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা থেকে নেওয়া)
জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (সাম্প্রতিক তোলা)
১,০০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার
সনদপত্রের ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে — প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়ন নিন। ছবি পুরনো বা অস্পষ্ট হলে নতুন করে তুলুন।
ধাপ ৪: ব্যাংক ড্রাফট করুন — সতর্কতার সাথে
এই ধাপেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন:
যেকোনো সিডিউল ব্যাংক থেকে ড্রাফট বা পে-অর্ডার করা যাবে।
ড্রাফট করতে হবে এই নামে: "অধ্যক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, যশোর সেনানিবাস শাখা"
নামের প্রতিটি শব্দ হুবহু মিলিয়ে লিখুন। বানান ভুল হলে ড্রাফট গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
টাকার অঙ্ক: ১,০০০ টাকা প্রতি পদের জন্য।
মনে রাখুন: এই ফি অফেরতযোগ্য — আবেদন বাতিল হলেও টাকা ফেরত পাবেন না।
ড্রাফট হাতে পাওয়ার পর প্রাপকের নাম ও টাকার অঙ্ক আবার মিলিয়ে নিন, তারপর আবেদনের সাথে সংযুক্ত করুন।
ধাপ ৫: খাম প্রস্তুত করুন
বিজ্ঞপ্তিতে খামের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে, যা অনেকেই এড়িয়ে যান:
খামের বাম দিকে উপরে লিখুন: পদের নাম (প্রভাষক), বিষয় (ইংরেজি/অর্থনীতি), আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর।
এই তথ্য না লিখলে বাছাই প্রক্রিয়ায় আপনার খাম শনাক্ত করতে সমস্যা হতে পারে।
সব কাগজপত্র খামের ভেতর সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিন, ড্রাফটটি যেন ভাঁজ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ধাপ ৬: আবেদন পাঠান বা জমা দিন
আবেদনপত্র পাঠাতে হবে এই ঠিকানায়:
অধ্যক্ষ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর, যশোর সেনানিবাস
দুটি উপায় আছে:
ডাকযোগে: রেজিস্ট্রি ডাক বা কুরিয়ারে পাঠান। সাধারণ ডাকে পাঠালে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ২৯ অক্টোবরের অন্তত ৪–৫ দিন আগে পাঠিয়ে দিন, যাতে ডাক বিলম্ব হলেও সময়মতো পৌঁছায়।
সরাসরি: অফিস চলাকালীন সময়ে কলেজে গিয়ে হাতে হাতে জমা দিন। এতে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকে। যশোর শহরের কাছাকাছি থাকলে এটাই নিরাপদ উপায়।
যারা বর্তমানে চাকরিরত, তারা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের (বর্তমান প্রতিষ্ঠানের প্রধান) মাধ্যমে আবেদন করবেন — সরাসরি আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের পর কী হবে
বাছাই পরীক্ষার তারিখ ও সময় আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই নম্বরটি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সচল রাখুন।
বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো টিএ বা ডিএ দেওয়া হবে না — যাতায়াত খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে।
নির্বাচিত প্রার্থীকে নির্ধারিত তারিখে অধ্যক্ষের কাছে যোগদান করতে হবে।
যেসব ভুলে আবেদন বাতিল হতে পারে
ভুল নামে বা ভুল অঙ্কের ব্যাংক ড্রাফট
সনদপত্রের অসত্যায়িত ফটোকপি জমা দেওয়া
খামের ওপর পদের নাম, বিষয় ও মোবাইল নম্বর না লেখা
ভুল বা বন্ধ মোবাইল নম্বর দেওয়া
২৯ অক্টোবরের পর আবেদন পৌঁছানো
শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত (সিজিপিএ/জিপিএ/তৃতীয় শ্রেণি) পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও আবেদন করা
চাকরিরত হয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন না করা
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: আবেদন ফরম কোথায় পাবো?
উত্তর: কলেজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ccj.edu.bd থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন সংক্রান্ত ফরম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া নির্ধারিত ছকে নিজে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করেও আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: ড্রাফট কোন ব্যাংক থেকে করতে হবে?
উত্তর: যেকোনো সিডিউল (তফসিলি) ব্যাংক থেকে করা যাবে। তবে ড্রাফটের প্রাপকের নামে "ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, যশোর সেনানিবাস শাখা" উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রশ্ন: ফি কি ফেরত পাবো?
উত্তর: না। ১,০০০ টাকা ফি সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য।
প্রশ্ন: কুরিয়ারে পাঠালে কি গ্রহণযোগ্য হবে?
উত্তর: বিজ্ঞপ্তিতে "ডাকযোগে" বলা আছে — রেজিস্ট্রি ডাক বা নির্ভরযোগ্য কুরিয়ারে পাঠানোই নিরাপদ, যাতে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে পৌঁছায়।
প্রশ্ন: সরাসরি জমা দিতে গেলে কখন যাবো?
উত্তর: অফিস চলাকালীন সময়ে কলেজ কার্যালয়ে গিয়ে জমা দিন।
প্রশ্ন: পরীক্ষার তারিখ কীভাবে জানবো?
উত্তর: আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন: ছবি কয় কপি লাগবে?
উত্তর: ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
যোগ্য হলে আজই প্রস্তুতি শুরু করুন — সনদ সত্যায়ন, নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ ও ব্যাংক ড্রাফটে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় ভুল হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাই ২৯ অক্টোবরের আগেই আবেদন পৌঁছে দিন।
১৮
২৮ মন্তব্য