Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বয়সসীমা পার, মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৪০ বছর। তবে সোনিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। সে হিসাবে তার বয়স ৪০ বছরের বেশি।

#মৌখিক পরীক্ষা #বিএনপি

নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় এমন এক প্রার্থীর নাম এসেছে, যিনি বয়সসীমা অতিক্রম করায় মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। ওই প্রার্থীর দাবি, পরীক্ষার দিন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা ওই প্রার্থীর নাম সোনিয়া খাতুন। তিনি লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম জেনেটের স্ত্রী। লালপুর সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

ideal College

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৪০ বছর। তবে সোনিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। সে হিসাবে তার বয়স ৪০ বছরের বেশি।

সোনিয়া খাতুন বলেন, বয়স বেশি হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষার দিন তার পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষক তাকে জানান, বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি পরীক্ষা না দিয়েই ফিরে যান। কিন্তু পরে চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখতে পান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও একজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসায় নিয়োগে বয়স যাচাই ও মৌখিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সোনিয়া খাতুনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কারণ এবং তাঁর আবেদন ও মৌখিক পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবীর হোসেন বলেন, বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার পরও কীভাবে সোনিয়া খাতুনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় এসেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে এর আগেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। নিয়োগে আওয়ামী লীগের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট ফল প্রকাশের পর বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই ঘটনার পর নাটোর জেলার ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি সেই নিয়োগের ফল প্রকাশের পর লালপুরে চূড়ান্ত তালিকায় সোনিয়া খাতুনের নাম থাকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মন্তব্য করুন