Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এক শতাব্দীর শিশু শিক্ষার ঐতিহ্য

            কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এক শতাব্দীর শিশু শিক্ষার ঐতিহ্য

কচুয়া উপজেলায় শতবর্ষী যে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অব্যাহত সুনাম ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আজও চলে আসছে, তা হলো কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অসংখ্য শিক্ষিত নাগরিক তৈরির কারখানা হিসেবে অদ্যাবধি সম্মান ও ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যাপীঠটি। অসংখ্য জ্ঞানী, গুণী, সজ্জন ও ভবিষ্যৎ বিদ্যালয়টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত।

শতবর্ষী সে টিনের তৈরি স্কুলগৃহ থেকে আজ সুরম্য অট্টালিকা। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ আমলে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে। বর্তমানে সুযোগ্য প্রধান শিক্ষকসহ উচ্চশিক্ষিত ও শিশু শিক্ষায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত ১৩ শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত।ঐতিহ্য ও সাফল্যের মেলবন্ধনে শীর্ষ চূড়ায় শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত উপস্থিতি শিক্ষার অগ্রগতিকে বেগবান করতে সক্ষম হয়েছে শিক্ষকদের অক্লান্ত হোম ভিজিটের কার্যক্রমে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমে বিগত সময়ের মতো এবারও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ২৩ জন ট্যালেন্টপুল ও ৮ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

কাব স্কাউটিংয়ে অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছেন অত্র বিদ্যালয়ের কাব ইউনিট লিডার এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এ এল টি, এ-এর আন্তরিকতা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি সহযোগিতা অব্যাহত রেখে চলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল ও সহকারী শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়টি শুধু লেখাপড়ায় সাফল্যের শিখরে নয়, নানা সৃজনশীল কার্যক্রম, মেধা, নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।জাহাঙ্গীর হোসেন, এ এল টি, কচুয়া উপজেলায় ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শ্রেষ্ঠ কাব ইউনিট লিডার নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতি বছরের মতো ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় পর্যায়ে ৭ জন শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করছেন।

বিদ্যালয়টির সম্মুখে বিশাল মাঠ, দক্ষিণ পাশে বৃহৎ পুকুর। এ যেন লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার অনন্য পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলায় চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দাবা, সাঁতার প্রতিযোগিতা প্রতি বছর সাফল্যের স্বীকৃতি অর্জন বয়ে আনছে। এ জন্য সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন।এ ছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও প্রতি বছর গান, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, হামদ-নাত, নৃত্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অর্জন করে আসছেন।

দুর্বল ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠে অগ্রগতির লক্ষ্যে সব শিক্ষক কর্তৃক নিয়মিত হোম ভিজিট করা হয়ে থাকে। এতে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠে ঘাটতিসহ নানা সমস্যা দূরীকরণের জন্য প্রতিনিয়ত স্টাফ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বর্তমান বিদ্যালয়ের সভাপতি সেলিম বাকীসহ সব সদস্য শিক্ষার্থীদের পাঠের অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনে আন্তরিক।বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঐতিহ্য রক্ষার জন্য শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিক শ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতাই আজকের এ অবস্থানে।

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাহিরে গতানুগতিক শ্রেণির পাঠের ভিন্নতা আনয়নের জন্য প্রকৃতির মাঝে আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠদান করার উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে পুকুরপাড়ে মনোরম পরিবেশে কাঠ ও ছন দিয়ে তৈরি হবে আউটডোর ক্লাসরুম, যার চারপাশে ফুলের বাগান থাকবে। প্রতিজন ছাত্র-ছাত্রী ফুল গাছ লাগাবে ও পরিচর্যা করবে।

প্রাকৃতিক পরিবেশের সান্নিধ্যে গড়ে উঠবে জেলা প্রশাসক, চাঁদপুরের এ ব্যতিক্রমী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম, ২য় ও প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র করার দক্ষতা শিক্ষকদের মাঝ থেকে অনেকটা লোপ পেয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদান করে থাকেন, অথচ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে থাকেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্ধারিত কতিপয় শিক্ষক, যা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ সব দায়িত্ব হোক বিদ্যালয়ের। রিডিং স্কিল প্রায় ৯০ ভাগ শিশু দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

মন্তব্য করুন