সহকারী অধ্যাপক
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
অন্যের ক্ষতি নয়, কষ্টে ধৈর্য : মহৎ জীবনের জয় - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
অন্যের ক্ষতি নয়, কষ্টে ধৈর্য : মহৎ জীবনের জয়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যাঁর কৃপায় প্রাণে জাগে আশার নবোদয়,
যাঁর দানে জীবন ভরে শান্তি ও নির্ভয়;
সেই মহান আল্লাহর নামে রাখি হৃদয় নত,
তাঁরই পথে চলার মাঝে জীবনের সার্থকতা।
মানুষ হওয়া শুধু নয় বাহ্যিক পরিচয়,
মানুষ হওয়া অন্তরজুড়ে মানবতার জয়;
অন্যের মুখে হাসি ফোটে আমার আচরণে,
সার্থক জীবন গড়ে ওঠে ভালোবাসার বন্ধনে।
ধনসম্পদে বড় হলেই বড় হওয়া নয়,
ক্ষমতারই দম্ভ দেখিয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া নয়;
বড় সে-ই, যার হৃদয়েতে সত্যের দীপ জ্বলে,
অন্যের দুঃখ দেখে যার মমতা প্রাণে দোলে।
নিজের সুখে মত্ত থেকে ভুলে গেলে পর,
শূন্য হয়ে যায় জীবনের মহৎ অন্তঃস্থল;
অন্যের প্রতি দয়া, ন্যায়, সহমর্মিতার টানে,
মানবতার ফুল ফোটে মানুষেরই প্রাণে।
আমার হাতে ভাঙবে না কারও স্বপ্নেরই ঘর,
আমার কথায় কাঁদবে না কোনো আপন-পর;
আমার কাজে হারাবে না কারও ন্যায্য অধিকার,
আমার জন্য বাড়বে না কারও দুঃখের ভার।
জিহ্বা যেন সত্য বলে, মিথ্যা থেকে দূরে,
হাতটি যেন অন্যায় থেকে থাকে বহুদূরে;
চোখে যেন পরের দোষে না জাগে অহংকার,
মনে যেন স্থান না পায় হিংসা-বিদ্বেষ আর।
রাগের বশে বলব না আর কঠিন কোনো কথা,
অন্যের বুকে জাগাব না অকারণের ব্যথা;
নিজের স্বার্থ পূরণ করতে করব না অবিচার,
পরের অশ্রু মুছতে হবে—এও যে দায় আমার।
রাসুলেরই শিক্ষা মোদের চরিত্র গড়ার আলো,
জিহ্বা-হাতে নিরাপদ থাকুক মানুষ ভালো;
প্রকৃত মুসলিম সেই, যার আচরণে কল্যাণ,
যার ব্যবহারে নিরাপদ হয় মানুষের প্রাণ।
কেউ যদি মোর হৃদয় ভাঙে কঠিন কথার ঘায়ে,
তবু যেন মন্দ আচরণ না জাগে প্রতিঘাতে;
কেউ যদি মোর বিশ্বাস ভাঙে ছলনারই ছলে,
আমি যেন ন্যায়ের পথ না হারাই তারই ফলে।
কেউ যদি মোর সরলতাকে দুর্বলতা ভাবে,
কেউ যদি মোর নীরবতায় অবজ্ঞা দেখাবে;
তবু আমি অন্যায় দিয়ে জবাব দেব না আর,
সত্যের পথে রাখব অটুট বিবেকেরই দ্বার।
কষ্ট পেলে কষ্ট লাগে—এটাই মানবধর্ম,
অশ্রু ঝরে, মনও কাঁদে—এতে নেই অধর্ম;
তবু কষ্টের অজুহাতে অন্যায় করা নয়,
নিজের নীতি অটুট রাখাই প্রকৃত মনের জয়।
যে আঘাতে মনটি কাঁদে, সে আঘাতের ক্ষণ,
শিখিয়ে যাক বিবেক দিয়ে চিনতে আপনজন;
যে অবহেলা ব্যথা দেয় আর ভেঙে দেয় বিশ্বাস,
সেই অভিজ্ঞতা শেখাক সতর্কতার পাঠ।
ধৈর্য মানে দুর্বল হয়ে সবই মেনে নেওয়া নয়,
ধৈর্য মানে রাগের কাছে বিবেক বিকিয়ে নয়;
ধৈর্য মানে ঝড়ের মাঝে স্থির রাখা মন,
সত্যের পথে অটল থাকা—এই তো শক্তিধন।
রাগের আগুন জ্বলে যখন বুকের গভীর কোণে,
সংযম যেন দাঁড়ায় তখন বিবেকেরই সনে;
কথার আঘাত ফিরিয়ে দেওয়ার আগে ক্ষণেক থামি,
ভুলের পথে পা বাড়ানোর আগে নিজেকে সামলাই।
পবিত্র কুরআন শেখায় ধৈর্যের মহিমা,
আল্লাহর সাহায্য চাও—এটাই মুমিনের প্রেরণা;
বিপদ এলে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়ব না,
ন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে অন্যায় করব না।
আল্লাহ আছেন—এই বিশ্বাস সাহস জোগায় মনে,
সত্যের পথে চলার শক্তি জাগে প্রতিক্ষণে;
ধৈর্য ধরে চেষ্টা করি, রাখি তাঁরই ভরসা,
দুঃসময়েও নিভতে দেব না আশার আলোকশিখা।
মহাকাশের কৃষ্ণগহ্বর মহাকর্ষের টানে,
আলো পর্যন্ত ফিরতে পারে না নির্দিষ্ট সীমার মানে;
সেই উপমায় ভাবি আমি জীবনেরই কথা,
কীভাবে থামাই মন্দের পথে মন্দেরই প্রবাহ।
কেউ যদি দেয় কষ্ট আমায়, কষ্টেরই ভার,
তাই বলে কি ছড়িয়ে দেব কষ্ট চারিধার?
কেউ যদি মোর মনে জাগায় বিদ্বেষেরই ছায়া,
আমি কেন সেই বিদ্বেষে হারাব মমতামায়া?
কৃষ্ণগহ্বর নয় তো মন, নয় অনুভূতিহীন,
কষ্ট জমলে অন্তর হয় ক্লান্ত, ভারাক্রান্ত, মলিন;
তাই তো আমি কষ্টগুলো চেপে রাখব না,
সুস্থ পথে মনের ব্যথা প্রকাশ করতে ভয় পাব না।
লিখব কথা ডায়েরিতে, সৃজনেরই সুরে,
বিশ্বস্ত কারও কাছে বলব মনের কথা খুলে;
দোয়া, সালাত, কুরআন তিলাওয়াত হৃদয়ে আনবে আলো,
প্রয়োজনে জ্ঞানীজনের পরামর্শও ভালো।
অন্যের মন্দ থামিয়ে দেব নিজের আচরণে,
নতুন কোনো মন্দের বীজ বুনব না জীবনে;
কষ্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে হব আরও সচেতন,
বিদ্বেষ নয়, প্রজ্ঞা হবে আমার পথের পাথেয়।
রাগের মাঝে সংযম রাখা মহৎ গুণের পরিচয়,
ক্ষমার মাঝে ফুটে ওঠে অন্তরেরই জয়;
ভুলের জন্য ক্ষমা চায় যে অনুতপ্ত প্রাণ,
সংশোধনের সুযোগ দেওয়া মানবতার দান।
আলে ইমরানের বাণী শেখায় রাগ সংবরণ,
ক্ষমার গুণে সুন্দর হয় মানুষেরই জীবন;
যারা ক্ষমা করে মানুষকে, সৎকর্মে হয় রত,
আল্লাহর প্রিয় হতে পারে তাদের মহৎ পথ।
ক্ষমা মানে অন্যায়কে সঠিক বলা নয়,
ক্ষমা মানে অধিকার ছেড়ে অসহায় হওয়া নয়;
ক্ষমা মানে বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হওয়ার সাধনা,
ন্যায়ের পথে থেকে মনের অশান্তি কমানো।
কেউ যদি ভুল শুধরে নেয়, বদলায় তার আচরণ,
তাকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
কিন্তু যদি বারবার সে অন্যায় করে যায়,
সতর্ক থেকে দূরত্ব রাখা যুক্তির পথ দেখায়।
প্রতিশোধের আগুন দিয়ে আগুন বাড়ে শুধু,
ন্যায়ের পথে সমাধানেই শান্তি আসে তবু;
ক্ষমা যদি কল্যাণ আনে, ক্ষমাই হোক পথ,
অন্যায় রোধে দৃঢ় থাকাও ন্যায়েরই শপথ।
আমি যেমন অন্যের প্রতি করব না অবিচার,
তেমনি নিজের অধিকার রাখব না বিসর্জন আর;
নিজের প্রতি অন্যায় করে মহান হওয়া নয়,
আত্মমর্যাদা রক্ষা করাও দায়িত্বের পরিচয়।
নীরব থাকা সব সময়ে সমাধান আনে না,
অন্যায়কারীর অন্যায়ও তাতে থামে না;
প্রয়োজনে তাই স্পষ্ট ভাষায় বলব নিজের কথা,
শান্তভাবে জানাব আমি কোন আচরণে ব্যথা।
সীমারেখা টেনে দেওয়া শত্রুতা তো নয়,
নিজের শান্তি রক্ষা করা অপরাধও নয়;
অন্যায় হলে প্রমাণ রাখি, খুঁজি ন্যায়ের পথ,
বিচার চাইব সংযম রেখে—এটাই হোক শপথ।
দৃঢ় হব, তবু কারও প্রতি করব না অবিচার,
সত্য বলব, তবু রাখব শালীনতার ভার;
নিজের মর্যাদা রক্ষা, অন্যের সম্মান,
দুইয়ের মাঝে ভারসাম্যেই সুন্দর জীবনদান।
কেউ যদি দেয় কাঁটার আঘাত, ফুল ফোটানো কঠিন,
তবু মন্দের জবাব মন্দে করি না রঙিন;
কেউ যদি দেয় অপবাদ আর মিথ্যা অভিযোগ,
সত্যের পথে প্রমাণ দিয়ে করব তারই মোকাবিলা।
কেউ যদি করে প্রতারণা, কেড়ে নেয় অধিকার,
ন্যায়ের পথে দাবি জানানো হবে দায় আমার;
তবু মিথ্যা সাক্ষ্য দেব না, করব না ছলনা,
সত্যের প্রতি বিশ্বস্ততাই আমার সাধনা।
কেউ যদি করে অপমান, রাখব সংযম মনে,
প্রয়োজনে প্রতিবাদ করব যুক্তি ও বচনে;
অন্যায়কারীর অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না,
প্রতিশোধের নেশায় পড়ে সীমা লঙ্ঘব না।
কুরআন শেখায় মন্দের জবাব সমপরিমাণে হতে পারে,
ক্ষমা ও সংশোধনের পথও মহৎ ফল ধরে;
তাই পরিস্থিতি বুঝে নেব ন্যায়ের সঠিক দিশা,
আল্লাহরই সন্তুষ্টি হবে আমার জীবনের আশা।
জীবনজুড়ে সব প্রত্যাশা পূর্ণ হয় না শেষে,
কেউবা থাকে দূরে সরে, কেউবা আসে কাছে;
কখনো শ্রমের যথাযথ মূল্য মেলে না,
কখনো সত্য বলেও মানুষ স্বীকৃতি পায় না।
তবু আমি থামব না আর হতাশারই ঘোরে,
শিক্ষা নেব অভিজ্ঞতার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে;
কোথায় ছিল ভুলের ছাপ, কোথায় ছিল ফাঁক,
বুঝে নিয়ে নতুন করে গড়ব জীবনের বাঁক।
কষ্ট যদি শেখায় আমায় মানুষ চিনতে ভালো,
সেই শিক্ষায় জ্বালব আমি বিবেক-প্রদীপের আলো;
বেদনা যদি শেখায় আমায় সংযম আর ধৈর্য,
সেই শিক্ষায় গড়ব আমি চরিত্রেরই ঐশ্বর্য।
তবে সব কষ্টের ভেতর খুঁজব না মহিমা,
অন্যায় সহ্য করাকেই বলব না গরিমা;
কিছু ক্ষতকে সারাতে হয় সময় ও যত্ন দিয়ে,
কিছু সমস্যা মেটাতে হয় সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে।
নিজের প্রতি দয়াশীল হই, রাখি মনের খেয়াল,
প্রয়োজনে নিই সাহায্য, দূর করি জঞ্জাল;
কষ্টকে আর কষ্ট দিয়ে বাড়াব না তার ভার,
সুস্থতারই পথে খুঁজব নতুন জীবনের দ্বার।
যখন দেখি পথের শেষে ঘন অন্ধকার,
যখন মনে জমে থাকে দুঃখেরই পাহাড়,
তখন আমি রবের কাছে খুলে বলি ব্যথা,
তাঁরই কাছে চাই যে শক্তি, সঠিক পথের কথা।
আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্তি খুঁজে পায়,
ঈমানেরই আলো মুমিনকে সাহস জোগায়;
সালাতের মাঝে নত হয়ে চাই হিদায়াত,
কুরআনেরই বাণী শেখায় সত্যের সঠিক পথ।
তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা নয় যে নিরুপায়,
চেষ্টা করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা যায়;
সঠিক পথে শ্রম দিয়ে ফলের জন্য দোয়া,
আল্লাহরই সিদ্ধান্তে মনকে স্থির রাখা।
অন্যায় হলে প্রতিকার চাই, রাখি ন্যায়ের মান,
নিজের ভুলও স্বীকার করি, করি না অভিমান;
রবের কাছে প্রার্থনা করি, শুদ্ধ হোক মন,
তাঁরই সন্তুষ্টি হোক আমার জীবনের ধন।
সব সম্পর্ক সমান নয়, সব বিশ্বাসও নয়,
কেউবা ভালো, কেউবা ভুলে কষ্ট দিতে পারে;
তাই তো ভালোবাসার সঙ্গে বিবেক রাখতে হয়,
অন্ধ বিশ্বাস কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনে।
যে সম্পর্ক শ্রদ্ধা দেয়, রাখে ন্যায়ের মান,
সেই সম্পর্কে প্রস্ফুটিত হয় ভালোবাসার গান;
যে সম্পর্কে অবজ্ঞা আর নির্যাতনের ছায়া,
সেখানে শুধু নীরব থাকা নয় সমাধানের মায়া।
ভুল বোঝাবুঝি হলে আগে কথা বলি খোলে,
অভিমানকে বাড়তে না দিই বিদ্বেষেরই ছলে;
সম্মান দিয়ে শুনি সবার কথা, বুঝি তার মন,
ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতেই হোক সম্পর্ক গঠন।
তবু যদি আর সম্ভব না হয় নিরাপদ সহাবস্থান,
প্রয়োজনমতো দূরত্ব রাখি, খুঁজি সমাধান;
কারও প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে নয়, বিদ্বেষ জাগিয়ে নয়,
শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষাই তখন যুক্তিসংগত হয়।
যে হাত ধরে অসহায়কে, সে হাত হোক পবিত্র,
যে মুখ বলে সত্য কথা, সে মুখ হোক চরিত্র;
যে হৃদয়ে দয়া জাগে, সে হৃদয় হোক উদার,
যে বিবেকে ন্যায়ের দীপ, সে জীবন আলোকধার।
পরের সুখে ঈর্ষা নয়, হোক আনন্দ ভাগ,
পরের দুঃখে মুখ ফিরিয়ে নয়, সহমর্মিতার জাগ;
সামর্থ্য যতটুকু আছে, করি ততটুকু দান,
কথায়, কাজে, ব্যবহারে রাখি মানবতার মান।
কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, অন্যায়েরই বিরোধ,
সত্যের পথে চলার মাঝে দূর হোক সব ক্রোধ;
ক্ষমা, ধৈর্য, ন্যায়বোধে গড়ি সুন্দর সমাজ,
মানুষ যেন মানুষ পায়, মুছে যায় অবসাদ।
নিজের দ্বারা ক্ষতি নয়, কল্যাণ হোক দান,
কষ্ট পেলেও নষ্ট হবে না চরিত্রের সম্মান;
প্রয়োজনে প্রতিবাদ করি, ন্যায়ের পথে থাকি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য সৎকর্মে মন রাখি।
আমি কারও অশ্রু হয়ে নামব না নয়নে,
আমি কারও ক্ষত বাড়াব না কথার আঘাতে;
আমি কারও অধিকার নেব না অন্যায়ের বলে,
সত্যের পথে চলব আমি বিবেককে সম্বলে।
কেউ যদি মোর কষ্টের কারণ হয় কোনো দিন,
তবু আমি অন্যায় দিয়ে করব না মন মলিন;
ক্ষমার পথে কল্যাণ থাকলে ক্ষমা করব প্রাণে,
ন্যায়ের দাবি তুলব আমি সঠিক বিধান মেনে।
মনের মাঝে ব্যথা এলে লুকাব না তা জোরে,
বিশ্বস্তজনের সহায়তা নেব প্রয়োজনে পরে;
নিজের যত্ন, আত্মসম্মান রাখব হৃদয়জুড়ে,
সত্যের আলো জ্বালব আমি জীবনেরই ঘরে।
ব্ল্যাক হোলের রূপক নিয়ে শিখব একটি বাণী,
মন্দের প্রবাহ থামিয়ে রাখি, মন্দের স্রোত না টানি;
তবে মনকে বন্দী করে রাখব না যে ব্যথায়,
প্রজ্ঞা দিয়ে মুক্ত হব দুঃখেরই দুর্যোগে।
হে আল্লাহ, দাও গো আমায় সত্যের পথে চলার শক্তি,
অন্যায় থেকে বাঁচার তাওফিক, অন্তরে দাও ভক্তি;
রাগের মাঝে সংযম দাও, দুঃখে ধৈর্যধারণ,
ক্ষমার মাঝে কল্যাণ দেখার দাও নির্মল বিবেক-জ্ঞান।
হে আল্লাহ, আমার হাতে কেউ যেন না পায় ব্যথা,
আমার মুখে জাগুক সত্য, মুছে যাক মিথ্যা;
অন্যায়ের শিকার হলে দাও ন্যায়ের পথ,
প্রতিশোধের সীমা পেরিয়ে যেন না করি ক্ষত।
অন্যের দোষে অন্ধ না হয়ে নিজের ভুলও দেখি,
সত্যের কাছে মাথা নত করে সঠিক শিক্ষা নিই;
ক্ষমা, দয়া, ন্যায়বিচারে গড়ি জীবনের ঘর,
মানবতার আলো ছড়াক আমার আপন-পর।
হে আল্লাহ, অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করো,
কষ্ট সইবার শক্তি দাও, প্রজ্ঞায় ভরো;
নিজের যত্ন নিতে শেখাও, অন্যের হক বুঝি,
তোমার সন্তুষ্টির পথেই যেন জীবনটাকে খুঁজি।
জীবন হোক শান্তিময়, হোক না কারও ক্ষতি,
সত্যের পথে অটল থাকুক বিবেকেরই জ্যোতি;
দুনিয়াতে সৎকর্ম দিয়ে অর্জন করি মান,
আখিরাতে তোমার রহমত হোক পরম সম্মান।
আমিন, হে রব, দাও তাওফিক সুন্দর জীবন গড়ার,
অন্যায় ছেড়ে ন্যায়ের পথে মানুষের পাশে দাঁড়াবার;
নিজে ভালো, অন্যের প্রতি কল্যাণময় হই,
তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সত্যের পথে রই।
নীতিবাণী:
“অন্যের কষ্টের জবাবে কষ্ট নয়, অন্যায়ের জবাবে অন্যায় নয়—ধৈর্য, ন্যায়, ক্ষমা ও আত্মমর্যাদায় গড়ে উঠুক মহৎ জীবনের জয়।”
৮
৮ মন্তব্য