Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

আজান শুনেও আমরা কেন থেমে যাই না?

                 আজান শুনেও আমরা কেন থেমে যাই না?

ভোরের নীরবতা ভেঙে ভেসে আসে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।” দুপুরের ব্যস্ততা, বিকেলের ক্লান্তি কিংবা সন্ধ্যার কোলাহলের মাঝেও বারবার ধ্বনিত হয় আজানের সুমধুর আহ্বান। এই আহ্বান আমাদের রবের দিকে ফিরে আসার ডাক, দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুক্ষণের জন্য সরে এসে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ডাক। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আমরা আজান শুনি, কিন্তু থামি না। কানে শব্দ পৌঁছায়, কিন্তু হৃদয়ে তার প্রতিধ্বনি জাগে না। কেন এমন হয় আমাদের?

আমরা কি সত্যিই এত ব্যস্ত যে কয়েক মিনিট সময় বের করতে পারি না? নাকি আমাদের ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে উদাসীনতা? যে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে সময় কাটাতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডুবে থাকতে পারে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারে, সে কি সত্যিই পাঁচ-দশ মিনিট সময় দিতে অক্ষম? বাস্তবতা হলো, সময়ের অভাবের চেয়ে অনেক সময় আমাদের কাছে বেশি প্রকট হয়ে ওঠে ইবাদতের প্রতি অনীহা এবং দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ।

আজান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা এই পৃথিবীতে চিরকাল থাকার জন্য আসিনি। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একদিন শেষ হয়ে যাবে। যে শরীর নিয়ে আজ আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটছি, একদিন সেই শরীরই মাটির নিচে শুয়ে থাকবে। যে অর্থ, সম্পদ, সম্মান আর সাফল্যের জন্য আমরা নামাজের সময়ও ব্যস্ত থাকি, সেগুলোর কোনোটিই আমাদের সঙ্গে কবরে যাবে না। আমাদের সঙ্গে থাকবে আমাদের আমল, আমাদের ঈমান এবং আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্য।

তবু আমরা আজান শুনে বলি, “আরেকটু পরে নামাজ পড়ব।” সেই আরেকটু পরে কখনো এক ঘণ্টা হয়ে যায়, কখনো পুরো ওয়াক্তই শেষ হয়ে যায়। কখনো আবার এক ওয়াক্তের অবহেলা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। আমরা ভুলে যাই, মৃত্যু আমাদের কাছে কোনো আগাম বার্তা পাঠিয়ে আসবে না। আগামীকাল নামাজ পড়ব, আগামীকাল তওবা করব, আগামীকাল আল্লাহর পথে ফিরব, এই আগামীকাল দেখার নিশ্চয়তা আমাদের কারও নেই।

কেন আমাদের হৃদয় আজানের ডাকে আগের মতো সাড়া দেয় না? কারণ, গুনাহের পুনরাবৃত্তি, দুনিয়ার মোহ এবং ইবাদতে অবহেলা ধীরে ধীরে হৃদয়কে কঠিন করে দিতে পারে। যে হৃদয় একসময় কোরআনের আয়াত শুনে কেঁদে উঠত, সেই হৃদয়ই একসময় আজানের শব্দ শুনেও নির্বিকার থাকতে পারে। তাই শুধু আজান শোনা যথেষ্ট নয়, আজানের অর্থ উপলব্ধি করা এবং সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়াও জরুরি।

মনে রাখতে হবে, নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়; এটি বান্দার সঙ্গে তার রবের সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়লে, জীবনের পথে অসহায় বোধ করলে, কিংবা পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ মনে হলে, সিজদায় মাথা রেখে আমরা আমাদের রবের কাছে মনের কথা বলতে পারি। নামাজ আমাদের আত্মাকে প্রশান্তি দেয়, ভুল থেকে ফিরে আসার পথ দেখায় এবং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে দেয়।

তাহলে পরিবর্তন শুরু হবে কীভাবে? খুব সহজ একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে। আজান হলে অপ্রয়োজনীয় কাজ থামানোর চেষ্টা করি। মোবাইল ফোনটি পাশে রাখি, দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিই এবং অজু করে নামাজে দাঁড়াই। দীর্ঘদিন নামাজে অনিয়মিত হয়ে থাকলেও হতাশ না হয়ে আজ থেকেই শুরু করি। একদিনে সবকিছু বদলে না গেলেও আন্তরিক প্রচেষ্টা, নিয়মিত তওবা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।

আসুন, একবার নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করি, যে আল্লাহ আমাদের জীবন দিয়েছেন, রিজিক দিচ্ছেন, অসংখ্য বিপদ থেকে রক্ষা করছেন, তাঁর ডাকে সাড়া দিতে আমাদের এত দ্বিধা কেন? আমরা কি দুনিয়ার মানুষের ডাকে সাড়া দিতে যতটা ব্যস্ত, আমাদের সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিতে ততটাই উদাসীন?

আজানের প্রতিটি ধ্বনি আমাদের জন্য একটি সুযোগ। ফিরে আসার সুযোগ, ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ, নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ। এই সুযোগকে অবহেলা করে যেন একদিন আফসোস করতে না হয়।

আজান শুনে শুধু ঘড়ির দিকে তাকাব না, নিজের হৃদয়ের দিকেও তাকাব। কারণ, আজানের ডাক থেমে যায় কয়েক মিনিট পর, কিন্তু সেই ডাকে সাড়া না দেওয়ার হিসাব আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিই, আজান হলে আমরা থামব, আল্লাহর ডাকে সাড়া দেব এবং নামাজের মাধ্যমে তাঁর আরও কাছে যাওয়ার চেষ্টা করব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রবন্ধটি ৭০০ শব্দে সম্পূর্ণ করুনপুনরাবৃত্তি কমিয়ে ভাষা মসৃণ করুন

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ