সহকারী শিক্ষক
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
২০২৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিন মাসের মধ্যে এসএসসিতে ফেলকরাদের পুনঃপরীক্ষা
এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি
এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। এ জন্য আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব বিষয়ে নয়, কেবল যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হবে, সেসব বিষয়েই পুনঃপরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, আমরা চাচ্ছি চলতি বছর থেকেই তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার বিষয়টি চালু করতে। কিন্তু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের প্রায় দুই মাস আগে ফল প্রকাশ হয়েছে। ফলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন বলে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আর এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলেছি।
জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গতকাল বলেন, ‘পুনঃপরীক্ষার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। আমরাও চাই এ রকম কিছু একটা হোক।
তাদের প্রশ্ন কখন হবে, কখন পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারা কিভাবে ভর্তি হবে, তাদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ কিভাবে সমন্বয় হবে—এসব বিষয় সমাধানের জন্য একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এই নীতিমালা প্রস্তুত করে চলতি বছরের এসএসসি অনুত্তীর্ণদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্যই শিক্ষা বোর্ড চাইছে, আগামী বছর থেকে এই পুনঃপরীক্ষা চালু করতে।
তিনি বলেন, যারা উত্তীর্ণ হতে পারে না, তারা যেন দুই-তিন মাসের মধ্যে আরেকটা সুযোগ পায়। কারণ পাস করতে না পেরে অনেকেরই শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে যায়। মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সাত কর্মদিবসের মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা করতে বলেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে পারব। এরপর সেটা ধরেই হয়তো মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা তৈরি করবে।’
গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হয়। এতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ ৫ পায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। পাসের হার ছিল ৬২.২৫ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩৮ শতাংশ।
জানা যায়, এসএসসিতে অনুত্তীর্ণ প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থীকে আগামী এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ আগামী বছর যখন এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তখন তাদের সঙ্গে তারা যে কয় বিষয়ে পাস করতে পারেনি সেই কয় বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারে। আর এই এক বছরে অনেক শিক্ষার্থী হারিয়ে যাবে। কেউ পড়ালেখা ছেড়ে দেবে। আবার কেউ কোনো কাজে ঢুকে যাবে। তবে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা হলে সব শিক্ষার্থীই পড়ালেখা চালিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আন্ত শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—যখন মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হবে, তখনই আরো এক সেট অতিরিক্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করে রাখা হবে। এরপর এসএসসি বা এইচএসসির ফল প্রকাশের পরপরই যারা অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা দিতে চায় তাদের ফের ফরম পূরণ করা হবে। সেই অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক কেন্দ্রে পুনঃপরীক্ষা নিয়ে অতিদ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।


৬
১০ মন্তব্য